খেলাধুলা

যে কারণে ফিফা শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন ট্রাম্প

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ০৫, ২০২৫

২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বক্তব্য দেবেন। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি অনুষ্ঠানের আগে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ গ্রহণ করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে প্রায় দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে কয়েক মিনিট বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হবে। সংগঠন তার বক্তব্যের সময় খুব কঠোরভাবে সীমিত করবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

 

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাম ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও অনুষ্ঠানে থাকবেন। তবে সবার নজর থাকবে ট্রাম্পের দিকেই, তা বলাই বাহুল্য।

 

ফিফা এই পুরস্কার ঘোষণা করে জানায়, ফুটবল শান্তির প্রতীক এবং যারা মানুষের মধ্যে ঐক্য ও শান্তি আনতে কাজ করেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘বিশ্ব যখন অস্থির, তখন যারা মানুষকে কাছাকাছি আনছেন, তাদের সম্মান জানানো জরুরি।’

 

এই পুরস্কার প্রতিবছর দেওয়া হবে। তবে প্রথমবারের পুরস্কারটি ওয়াশিংটনে ড্র অনুষ্ঠানের দিন দেওয়া হবে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের নাম ঘোষণা হয়নি, ফিফার ভেতরের একাধিক সূত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছে তিনিই পুরস্কার পাচ্ছেন।

 

ইনফান্তিনো আগে বলেছেন, ইসরায়েল–গাজা যুদ্ধবিরতির পর তিনি মনে করেন ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার মতো কাজ করেছেন। যদিও নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, ট্রাম্প আটটি যুদ্ধ শেষ করার দাবি করলেও অনেক ক্ষেত্রেই তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে।

 

ফিফা এই পুরস্কারের জন্য কাউকে কীভাবে মনোনীত করা হবে, কীভাবে বিচার হবে—এসব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ নিয়ে ফিফাকে চিঠি দিলেও কোনো জবাব পায়নি।

 

ফিফার এই অনুষ্ঠানটিও ট্রাম্পের পছন্দ অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। ‘ওয়াই.এম.সি.এ.’ গান গাওয়া ব্যান্ড ভিলেজ পিপল পারফর্ম করবে, যে গানটি ট্রাম্পের সমাবেশে জনপ্রিয় ছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে মুখ খুললেন রোনালদো, চাইলেন ক্ষমা ও নিজের শাস্তি, কিন্তু কেন?

পর্তুগাল জাতীয় দলকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার কারণ, কোচ জর্জে জেজুসের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, নরওয়ে ম্যাচে খেলানো নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এবং সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্যের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি।   রোনালদো জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি পর্তুগিজ জনগণের উদ্দেশে বিদায়ী চিঠিও লিখে রেখেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) সভাপতি তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। নতুন কোচের নাম নিয়েও তাঁর মতামত নেওয়া হয়েছিল বলে জানান রোনালদো।   জাতীয় দলের নতুন কোচের সঙ্গে আলোচনায় রোনালদোকে নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচে খেলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে নরওয়ে ও ডেনমার্কে দলের সঙ্গে না গিয়ে পর্তুগালে থাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। পরে নরওয়ে ম্যাচে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলে তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। এ ঘটনায় কোচের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানান রোনালদো।   রোনালদোর পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো: ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বক্তব্য   প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সর্বশেষ জাতীয় দলের ক্যাম্পে আসলে কী ঘটেছিল, তা এবার আমি সরাসরি এবং নিজের ভাষায় জানাতে চাই।   ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের জনগণের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেই চিঠি এখনো আমার কাছে আছে। জাতীয় দল থেকে চূড়ান্তভাবে বিদায় নেওয়ার সময় পর্তুগিজ জনগণকে যে কথাগুলো বলতে চাই, সেখানে সেগুলোই লিখেছি।   বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার বিমানে ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন এবং এ বিষয়ে জোরও দেন। কারণ, ফেডারেশন চেয়েছিল আমি জাতীয় দলে থেকে যাই।   এরপর তিনি বর্তমান প্রধান কোচের নাম নিয়ে আমার মতামত জানতে চান। আরও কয়েকজনের নামও তাঁর বিবেচনায় ছিল, তবে সেগুলো তিনি আমাকে জানাননি। আমি ফেডারেশন সভাপতিকে বলেছিলাম, আমার মতে বর্তমান কোচই সঠিক পছন্দ হবেন।   তাই বর্তমান কোচের নাম ঘোষণা করার দিন আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। আমার কাছে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল, যার প্রমাণ এখন ফলাফলেই দেখা যাচ্ছে।   কয়েক দিন পর জাতীয় দলের নতুন কোচ প্রথমবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হই এবং ছুটি শেষ হওয়ার সময় দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।   আমরা সিদাদে দো ফুটবলে দেখা করি, যেখানে আমার ক্লাবের প্রাক-মৌসুমের ক্যাম্প চলছিল। সেদিন প্রধান কোচ আমাকে বলেন, তিনি আমাকে তাঁর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চান এবং তাঁর প্রকল্পে আমার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। সেখানেই তিনি জাতীয় দলে আমার ভূমিকা নিয়ে একটি পরিকল্পনা আমার সামনে তুলে ধরেন।   তিনি জানান, আমি প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলব। শারীরিক সক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য প্রতিটি ম্যাচে তিন-চারজন করে খেলোয়াড় পরিবর্তন করবেন বলেও জানান তিনি।   এরপর তিনি প্রস্তাব দেন, আমি যেন দলের সঙ্গে নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে না যাই। তাঁর পরিকল্পনা ছিল, আমি প্রথম ম্যাচটি খেলব, এরপর পর্তুগালে থাকব এবং পোর্তোর দো দ্রাগাঁও স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেব।   আমি সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি। আমার কাছে বিষয়টি গ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। বিদেশে ম্যাচ খেলব না ঠিক আছে, কিন্তু আমি তখনও জাতীয় দলের অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে শুধু নিজের জন্য এই বিশেষ সুবিধা নেওয়া দলের জন্য ভালো উদাহরণ হতো না।   প্রধান কোচ শেষ পর্যন্ত আমার বক্তব্য মেনে নেন।   সেই আলোচনায় আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কুতিনিও উপস্থিত ছিলেন। গত মৌসুমে বর্তমান প্রধান কোচ তাঁর কাছেই রিপোর্ট করতেন এবং ২০২৫ সালে ক্লাবটিতে কোচকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।   ক্যাম্প শুরুর আগের দিন প্রধান কোচের অনুরোধে তিনি আমার লিসবনের বাসায় আসেন। আমাদের মধ্যে আরেকটি আলোচনা হয়। কথোপকথনটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগস্টে যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছিলাম, সেগুলোই বহাল থাকে।   আমি আলভালাদে ম্যাচটি খেলি। আমাকে বদলি করা হলেও আমি কোনো আপত্তি করিনি। নিজেই ব্রুনো ফার্নান্দেজের হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দিয়েছিলাম। তখনও ভাবিনি, জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে হয়তো সেটিই আমার শেষ সময়গুলোর একটি।   সেদিন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জয়। জয় সবসময়ই ভালো। আর পর্তুগালের হয়ে, দেশের জন্য জয় আরও বেশি আনন্দের।   নরওয়ে ম্যাচের দিন দুপুরে দলের সবাই যখন খাবার খাচ্ছিলাম, তখন প্রধান কোচের এক সহকারী আমার টেবিলে এসে জানান, কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান।   আমি ভীষণ অবাক হয়ে যাই। কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ৩০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত কি না। তখন আমি পুরোপুরি শারীরিক পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগী ছিলাম, সবসময়কার মতো সতীর্থদের সঙ্গে দলের অংশ হয়েই ছিলাম এবং ধরে নিয়েছিলাম সেদিন আমি খেলব না। তাতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।   এই প্রস্তাবটি আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার ও অনুশীলনের পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ, আমার শুধু ৪ তারিখ দো দ্রাগাঁওয়ের ম্যাচে খেলার কথা ছিল। তারপরও আমি অবশ্যই রাজি হই। তিনি আমাকে বলেন, প্রস্তুত থাকতে, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।   এরপর যা ঘটেছে, তা সবাই জানেন। দ্বিতীয়ার্ধের বিরতিতে আমি ওয়ার্ম-আপ করি। মিনিটের পর মিনিট চলে যায়, কিন্তু আমাকে মাঠে নামানো হয়নি।   প্রধান কোচ তাঁর দেওয়া কথা রাখেননি।   ম্যাচ শেষে আমার একমাত্র চাওয়া ছিল জয় নিয়ে সবকিছু শেষ হোক এবং আমাকে কিছু সময় একা থাকতে দেওয়া হোক। আমি দর্শকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এটি পুরোপুরি আমার ভুল এবং এমনটা হওয়া উচিত ছিল না।   সেখানে আমাদের সমর্থন করতে আসা পর্তুগিজ জনগণের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। যারা পর্তুগিজ না হয়েও আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং আমার কারণে হতাশ হয়ে থাকলে তাঁদের কাছেও ক্ষমা চাইছি।   ৪৮ ঘণ্টা পর আমাদের মধ্যে একটি আলোচনা হয়। সেখানে আমি, প্রধান কোচ এবং সিমাও কুতিনিও উপস্থিত ছিলেন। আগস্টের আলোচনাগুলোতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁকে রাখা হয়েছিল।   সেটি ছিল গভীর এবং অত্যন্ত খোলামেলা একটি আলোচনা। সেখানে কোনো কিছুই গোপন রাখা হয়নি।   আমরা একমত হয়েছিলাম, এই বিষয়টি শেষ করার একমাত্র উপায় হলো প্রধান কোচ ব্যক্তিগত আলোচনায় আমাকে যা বলেছিলেন, সেটিই সিমাও কুতিনিওর সামনে সংবাদ সম্মেলনে বলা।   আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, তা খুবই সহজ ছিল। প্রধান কোচ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং সত্যটা বলেই বিষয়টির ইতি টানবেন।   তিনি বলবেন, আমি কখনো কোনো মিনিট খেলার অনুরোধ করিনি। বরং তিনিই এই ক্যাম্পের জন্য আমার সঙ্গে খেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। আমাকে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানো তাঁর ভুল ছিল এবং এমন ঘটনা আবার ঘটলে তিনি তা করবেন না।   আলোচনা শেষে প্রধান কোচ আমাকে জড়িয়ে ধরার অনুরোধ করেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংবাদ সম্মেলনে আমার সঙ্গে যে কথা বলেছেন সেটিই বলবেন এবং এরপর বিষয়টি আমরা পেছনে ফেলে আসব। আমি ডেনমার্কে খেলব না এবং দো দ্রাগাঁওয়ের ম্যাচে খেলব। এসব কথাই সিমাও কুতিনিওর উপস্থিতিতে বলা হয়েছিল।   প্রধান কোচের অনুরোধে এরপর তাঁর সঙ্গে সিমাও কুতিনিও ও তিয়াগো ক্রাভেইরোর একটি ভিডিও বৈঠক হয়। সেখানে আমাদের আলোচনার বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়।   এরপর একটি ছোট নথি তৈরি করা হয়। আমি সেটি যাচাই করে অনুমোদন করি এবং আমার জ্ঞাতসারে নথিটি প্রধান কোচের কাছে দেওয়া হয়, কারণ তিনিই এটি চেয়েছিলেন।   কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছে, তা সবাই জানেন। তাঁর আচরণের সঙ্গে আমাদের আগের বৈঠকের কোনো মিল ছিল না।   আমি এমন কিছু কথা শুনেছি এবং এমন এক ধরনের আগ্রাসী আচরণ দেখেছি, যা আমার মনে হয় আমি প্রাপ্য ছিলাম না। সেখানে এমন একটি ‘সবজান্তা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ মনোভাব ছিল, যা আগের দিন ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি একবারও, সামান্যতমভাবেও দেখাননি।   আমি যে নোটটি অনুমোদন করেছিলাম, সেখানে লেখা ছিল:   ১. ডেনমার্ক নিয়ে কথা বলার আগে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোই সত্য। জাতীয় দলের এই মৌসুমের জন্য আমিই এককভাবে ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে একটি পরিকল্পনা করেছিলাম। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ ও খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছিল।   ২. আমি জানি, সে জাতীয় দলকে কতটা ভালোবাসে এবং জাতীয় দলের জন্য কতটা বাঁচে। বিশ্বে তার যে মর্যাদা, আর টানা ২৪ বছর জাতীয় দলে তার যে গুরুত্ব ও ইতিবাচক প্রভাব, সেটিও আমি জানি।   ৩. আমি ক্রিশ্চিয়ানোর জন্য যে পরিকল্পনা দিয়েছিলাম, সে সেটি গ্রহণ করেছিল।   ৪. সে কখনো আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। সে ছিল আদর্শ, বিশ্বস্ত ও পেশাদার।   ৫. নরওয়ের ম্যাচটি তার জন্য তৈরি করা পরিকল্পনার অংশ ছিল না। তবে আমার মনে হয়েছিল, প্রথম ম্যাচের পর সে শারীরিকভাবে ভালোভাবে সেরে উঠেছে। তাই তাকে বলেছিলাম, প্রয়োজন হলে তাকে খেলাতে হতে পারে। ক্রিশ্চিয়ানো তাতে রাজি হয়েছিল।   ৬. পেলের বা ম্যারাডোনার মতো মর্যাদার একজন খেলোয়াড়কে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানো আমার ভুল ছিল। আজ যদি একই পরিস্থিতি হতো, আমি এমনটা করতাম না।   ৭. বিষয়টি শেষ করার জন্য বলছি, আমি ক্রিশ্চিয়ানোকে জাতীয় দলে চাই। শুধু একটু চাই না, আমি তাকে অনেক বেশি চাই। সৌভাগ্যবশত, সেও আমার ওপর বিশ্বাস রাখে। সে আল নাসরে আমাকে বিশ্বাস করেছিল, এখানেও করছে।   ৮. সে কেন দর্শকদের অভিবাদন জানায়নি, সে বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে কথা বলেছি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা একজন মানুষকে পর্তুগালের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আমার কাছ থেকে কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। এটি ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত, যা তার ভালোবাসার কোনো কিছুই মুছে দেয় না। সে-ই এমন খেলোয়াড়, যে সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেয়, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলে এবং সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দেখায়। যেখানে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে সমস্যা তৈরি করা উচিত নয়। আমরা যখন খুশি থাকি না, তখন প্রতিক্রিয়া দেখাই। এটুকুই ঘটেছে।   এসব নোটে প্রধান কোচের পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা চাওয়ারও কোনো প্রয়োজন ছিল না।   কিন্তু এটি ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি আমার কাছে দেওয়া কথা রাখেননি।   আর কোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙার অপেক্ষায় না থেকে আমি ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার কাছে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সত্য যতই কষ্টদায়ক হোক, আমাকে সত্য বলুন।   সত্যি বলতে, সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালে ফেডারেশনের সভাপতি ও প্রধান কোচের সঙ্গে আমার যে আলোচনা হয়েছিল, তাঁরা নিশ্চয়ই সেটি নিশ্চিত করতে পারবেন। সেখানেও আমি বলেছিলাম, তাঁরা যদি আমাকে দলে না চান, তাহলে সরাসরি যেন আমাকে বলেন।   শুধু আমার সঙ্গে সৎ হতে হতো। আমি সেটা মেনে নিতাম। এমনকি আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা মিলে একটি সুন্দর বিদায়ের আয়োজন করব, যেভাবে আমি স্বপ্ন দেখি। কেউ কারও ওপর রাগও করত না।   আজকের মতোই ঘটনাটি আমার মনে আছে। তাঁরা দুজন একসঙ্গে বলেছিলেন, ‘না।’ তাঁরা বলেছিলেন, জাতীয় দলেই আমার জায়গা।   প্রায় ২৫ বছরের ফুটবল জীবনে জাতীয় দলের কোনো কোচ বা ম্যানেজারের কোনো কৌশলগত বা কারিগরি সিদ্ধান্তে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করিনি। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটি আমার পছন্দ হোক বা না হোক, আমি শুধু সেটি মেনে নিই।   আমি সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। কিন্তু যখন আমার সঙ্গে দেওয়া কথা ভেঙে দেওয়া হয়, তখন আমি অনুভব করি, সেখানে আমার জায়গা নেই।   ক্যাম্প ছেড়ে আসার জন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধান কোচের কথায় যে আস্থার সম্পূর্ণ ভাঙন ঘটেছিল, আমাদের আলোচনার প্রত্যক্ষদর্শীরা তা জানেন। তারপরও আমার ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি। এর পুরো দায় আমার।   পর্তুগালের জনগণের কাছে আবারও ক্ষমা চাইছি। কিন্তু কারও দেওয়া কথা ভেঙে ফেলা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমার মনে হয়েছিল, এরপর আমি দলে থেকে গেলে পুরো দলেরই ক্ষতি হবে। তাই আমি সবসময় যা বলে এসেছি, সেটিই করেছি। যখন মনে হয়েছে আমি আর উপকারী নই, ব্যাগ গুছিয়ে চলে এসেছি।   আমার এই সিদ্ধান্তের পরিণতি পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের মূল্যায়ন ও শাস্তির আওতায় আসা উচিত। আমার বিশ্বাস, এখানে কোনো ধরনের ছাড় থাকা উচিত নয়। আমি শুধু আর দশজন খেলোয়াড়ের মতো নই। আমি দলের অধিনায়ক। সেটি বরং শাস্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।   আমি ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু আমি জানি, কাজের পরিণতি থাকতেই হয়। ফুটবলে আমার মতো দীর্ঘদিন থাকা যে কেউ জানেন, প্রত্যেকের অবস্থান বা মর্যাদা যা-ই হোক, নিয়ম সবার জন্য একই।   এ বিষয়ে আমি অনেক কথা শুনেছি, আমার বিদায়ী ম্যাচ হওয়া উচিত, আমাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো উচিত এবং ফেডারেশন আমাকে সেই সুযোগ দিতে চায়।   জীবনে ক্ষুধার্ত অবস্থায়, খাওয়ার মতো কিছু না থাকা অবস্থায় আমি শিখেছি, কেউ কাউকে বিনা কারণে কিছু দেয় না।   আমি আমার সব ভক্তকে, বিশেষ করে পর্তুগালের জনগণকে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, আমাদের একটি বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ হবে। এর জন্য সময় আছে।   কিন্তু জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমি যা ভাবি, তা হলো প্রতিযোগিতা করা। আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। যেদিন আমার বাবার মৃত্যুর খবর পেয়েছিলাম, সেদিনও আমি এটাই ভেবেছিলাম। আমি জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলাম এবং পরের দিনের ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।   আমার কোনো ক্লাবের জন্য যা করা সম্ভব নয়, দেশের জন্য আমি সেদিন সেটিই করেছিলাম। তাই আমি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকি, ক্লাবের হয়ে খেলি এবং আশা করি গোলও করি, এরপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে তা শেষ করার পর আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে প্রস্তুত থাকব। আজ পর্যন্ত আমি যেমন প্রস্তুত ছিলাম, তেমনই দেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং জিততে প্রস্তুত থাকব। বিশ্বাস করুন, এটাই সবচেয়ে নির্মল সত্য। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
এক গোলের পাশাপাশি জোড়া অ্যাসিস্ট করেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

বিদায়ী ম্যাচে গোল করে শেষটা রাঙালেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

মেসির শেষ ম্যাচে ১০ মিনিটে বিশেষ শ্রদ্ধা, আবেগে কাঁদল মনুমেন্টাল

ছবি: সংগৃহীত

মেসির বিদায়ী ম্যাচে প্রথমার্ধ গোলশূন্য

ছবি: সংগৃহীত
হারমানপ্রিত নেতৃত্ব ছাড়ার দিনেই ভারতের নতুন অধিনায়ক মান্ধানা

হারমানপ্রিত কৌর অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর, নতুন অধিনায়ক বেছে নিতে বেশি সময় নিল না ভারত। অনুমিতভাবে ভারতের নারী দলের নেতৃত্ব পেলেন স্মৃতি মান্ধানা।   ৩৭ বছর বয়সি হারমানপ্রিত প্রায় এক দশকের নেতৃত্বের পথচলার ইতি টানার ঘোষণা দেন মঙ্গলবার সকালে। রাতে ৩০ বছর বয়সি মান্ধানাকে সব সংস্করণের অধিনায়ক করার কথা জানায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।   হারমানপ্রিতের অধিনায়কত্বের বড় একটা অংশে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মান্ধানা। ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে নানা সময়ে ১৮ টি-টোয়েন্টি ও চারটি ওয়ানডেতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাও আছে স্টাইলিশ এই ব্যাটারের।   গত কয়েক মাসে নেতৃত্বের প্রশ্নে তিনি বারবারই বলেছেন, নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন এই দায়িত্বের জন্য। উইমেন’স প্রিমিয়ার লিগে (নারী আইপিএল) তার নেতৃত্বে টানা দুবার শিরোপা জিতেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।   মান্ধানাকে মনে করা হয় এই সময়ে বিশ্বের সেরা ব্যাটার। গত সেপ্টেম্বরে মিতালি রাজকে ছাড়িয়ে নারী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি। নারী ক্রিকেটে তার ১৮টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিও সর্বোচ্চ। এছাড়া তিনিই প্রথম ভারতীয় নারী, যিনি সব সংস্করণেই সেঞ্চুরি করেছেন।   অধিনায়ক হিসেবে মান্ধানার প্রথম চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সীমিত ওভারের সিরিজ, যা ১৬ অক্টোবর রায়পুরে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। এই সিরিজের দল নির্বাচনের জন্য আমিতা শার্মার নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটির মঙ্গলবারের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন মান্ধানা।   অধিনায়কত্ব পাওয়াকে ‘বিশেষ সম্মান’ হিসেবে দেখছেন মান্ধানা। নিজের নতুন দায়িত্বের শুরুতে পূর্বসূরি হারমানপ্রিতের অবদানের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।   “হারমানপ্রিতের অবদান এবং অধিনায়ক হিসেবে বছরের পর বছর ধরে তার ভূমিকার কথাও স্বীকার করতে চাই আমি। তিনি খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আমাদের যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছেন।   “এই ভূমিকার সঙ্গে যে দায়িত্ব জড়িয়ে আছে, তা আমি বুঝি। দলের সঙ্গে কাজ করতে, কাজের মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে এবং ভারতীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।”   হারমানপ্রিতের নেতৃত্বে সম্প্রতি এশিয়া কাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের পর, এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সোনার পদক ধরে রাখে ভারত। এরপর হারমানপ্রিত, মান্ধানা ও কোচ অমল মজুমদারের সঙ্গে গুয়াহাটিতে সোমবার আলোচনায় বসেন ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া। সেখানে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় উইমেন’স চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকস সামনে রেখে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।   ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর খবর, হারমানপ্রিতকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিল নির্বাচক কমিটি। তবে বোর্ড কর্তার সঙ্গে বৈঠকের পরদিন নেতৃত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন হারমানপ্রিত নিজেই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদায়ের আগে বিশেষ সম্মান পেলেন মেসি

ছবি: সংগৃহীত

বিদায়ী মঞ্চে মেসির চোখে অশ্রু

ছবি: সংগৃহীত

মেসির শেষ ম্যাচের আগে নেইমারের আবেগঘন বার্তা, স্মৃতিচারণ পুরোনো দিনের

ছবি: সংগৃহীত
আইয়ারের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ভারতের দাপুটে জয়

শ্রেয়াস আইয়ারের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। আগে ব্যাট করে ১৭১ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা। জবাবে ৩২ বল হাতে রেখে জয় পায় স্বাগতিকরা।   ভারতের হয়ে অভিষিক্ত নমান ধীর ৩১ রানে ৩ উইকেট নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপ ৫২ ও শেরফাইন রাদারফোর্ড ৫৬ রান করেন।   রান তাড়ায় মাত্র ৪৩ বলে ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন আইয়ার। ইশান কিশান ২৭ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। দুজনের ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সহজ জয় পায় ভারত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মেসিকে ঘিরে অবাক করা পরিকল্পনা

সংগৃহীত ছবি

ভোরে মেসির শেষ ম্যাচ, বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন

সংগৃহীত ছবি

লাল কার্ড থেকে বিশ্বকাপ জয়: বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন মেসি

0 Comments