যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। এগুলো হলো—বোস্টন লোগান, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ডের আওতাভুক্ত দেশগুলোর হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ মোট ৩৮টি দেশ রয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত জমা দিতে হতে পারে। ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত অবস্থা ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করতে পারবেন। এই জামানতের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ড একটি ফেরতযোগ্য জামানত। ভিসাধারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পেয়েও ভ্রমণ না করলে অথবা বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা পেলে এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন বা সেখানে গিয়ে ভিসা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, তাহলে বন্ডের অর্থ বাজেয়াপ্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই পাইলট কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের নিরুৎসাহিত করা। তবে এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌকায় হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক জলসীমায় এটি তাদের জাহাজে সর্বশেষ হামলা। ওয়াশিংটন বলছে এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক কার্যকলাপের জন্য দায়ী মার্কিন দক্ষিণ কমান্ড (সাউথকম) শুক্রবারের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। তারা এই অভিযানকে প্রশান্ত মহাসাগরের একটি অঞ্চলে ‘মারাত্মক হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। রুটটি পরিচিত মাদক-পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। তবে মার্কিন সেনাবাহিনী কোনো প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি যে, নিহত তিনজন মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শুক্রবারের এই হত্যাকাণ্ডের ফলে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে জাহাজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত প্রায় ৪৩টি হামলায় নিহত হয়েছে তারা। ল্যাটিন আমেরিকার নেতারা, আইন বিশেষজ্ঞ এবং মানবাধিকার কর্মীরা এ সামরিক অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মার্কিন বাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালানোর অভিযোগ করেছেন যেখানে ওয়াশিংটনের কোনো এখতিয়ার নেই। সাউথকম কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ছোট ভিডিও ক্লিপে দেখানো হয়েছে, মার্কিন গুলিবর্ষণের পর বহির্গামী ইঞ্জিনসহ একটি নৌকা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। এই সপ্তাহের শুরুতে, সাউথকম বলেছে, তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ক্যারিবীয় জাহাজে তিনটি হামলা চালিয়েছে, ওই হামলায় মোট ১১ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ক বিশেষ দূত বেন সল বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর জাহাজে হামলার ঘোষণা, সমুদ্রে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা স্বীকার করার সমান। তিনি বলেন, ‘মার্কিন নেতাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।’ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি জাহাজে প্রথম হামলায় একটি পরবর্তী হামলা অন্তর্ভুক্ত ছিল যেখানে একটি নৌকার ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের হত্যা করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং মার্কিন অ্যাডমিরাল ফ্রাঙ্ক ব্র্যাডলিসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদনের জন্য তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজডুবিতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হত্যা করে তবে তারা অপরাধ করেছে। সূত্র : আলজাজিরা।
বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বহুমাত্রিক’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। এছাড়া ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জয়সওয়াল জানান, ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি চিঠি তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই দেশের উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও গভীর করার আশা করছে নয়াদিল্লি। ব্রিফিংয়ে ভারত-বাংলাদেশ ভিসা কার্যক্রম সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে ধাপে ধাপে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইলেকশন কমিশন অব ইন্ডিয়াকে কটাক্ষ করায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যদিও অনেকেই সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলেন। নবান্নে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেখুন, বাংলাদেশ কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবাই ভেবেছিল সহিংসতা হবে, কিন্তু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও নির্বাচন কমিশনের ভয় দেখানোর সংস্কৃতি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে স্থগিত সাত কর্মকর্তার বিষয়ে মমতা বলেন, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি; তারা অন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন নিবন্ধন কর্মকর্তাদের কেন স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের অপরাধ কী। মমতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্র পাউল অভিযোগ করেন, মমতা বাংলাদেশের নির্বাচনের ফল নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাচ্ছেন এবং জামায়াতকে সমর্থন করছেন বলে দাবি করেন। বিজেপি সংসদ সদস্য সুধাংশু ত্রিভেদি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে হচ্ছে এবং এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়াও পরিষ্কার অবস্থান দিয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি
সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে সরকারি পদে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অন্যান্য অভিযোগের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকে পরে পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলমান থাকবে। টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে নরফোক থেকে ৬০ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বার্কশায়ার ও নরফোকের ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় রাজা চার্লস বলেছেন, ‘আইনকে অবশ্যই তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে। ’ পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অ্যান্ড্রু রাজা চার্লসের ছোট ভাই। পুলিশ আগে বলেছিল, তারা যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন-এর সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্কের অভিযোগ এবং গোপন তথ্য লেনদেনের অভিযোগ যাচাই করছে। মার্কিন সরকার সম্প্রতি প্রকাশিত ফাইলেও এ সম্পর্কের তথ্য এসেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং নরফোকে তাদের তল্লাশিও শেষ হয়েছে। আইলসহ্যাম থানা থেকে বের হয়ে অ্যান্ড্রুকে গাড়ির পেছনের সিটে বসে যেতে দেখা গেছে। প্রথমবার অ্যান্ড্র গ্রেপ্তার হলেন। যদিও তিনি সব সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ‘বিস্তারিত পর্যালোচনার’ পর একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি পৃথক অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালে এপস্টিন আরেকজন নারীকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য যুক্তরাজ্যে পাঠিয়েছিলেন। ওই নারীর বয়স তখন ২০-এর মধ্যে ছিল এবং তিনি ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন না। বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে টেমস ভ্যালি পুলিশ হোম অফিসকে আগাম জানিয়েছিল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্যান্ড্রিংহামে গ্রেফতারের ঘটনাটি যৌন অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ছিল না। উইন্ডসর গ্রেট পার্কে অ্যান্ড্রুর পুরনো বাড়ি ‘রয়েল লজ’-এও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। সেখানে গেটের বাইরে কয়েকজন ইউনিফর্মধারী অফিসার দেখা গেছে। ‘জাতীয় নির্দেশিকা অনুসারে’ গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। মামলা চলমান থাকায় আদালত অবমাননার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। সহকারী চিফ কনস্টেবল অলিভার রাইট বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। আমরা উপযুক্ত সময়ে নতুন তথ্য জানাবো।’ সাবেক ডিউক অ্যান্ড্রু ২০০১–২০১১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তখন বিশ্বজুড়ে সরকারি ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগও পেয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর এবং চীন সফরের সরকারি প্রতিবেদন এপস্টিনের কাছে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু। রাজা চার্লস বলেছেন, তিনি ভাইয়ের গ্রেপ্তারের খবর ‘গভীর উদ্বেগের সাথে’ জেনেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি পূর্ণাঙ্গ, ন্যায্য এবং যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে। আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে হবে।’ রাজা চার্লসের বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ওয়েলসের যুবরাজ এবং রাজকুমারী। অ্যান্ড্রুর ৬৬তম জন্মদিনে গ্রেপ্তারের আগে রাজা বা বাকিংহাম প্যালেস কাউকেই আগাম সতর্ক করা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের মধ্যেও রাজপরিবার তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো অন্যায় কাজের অভিযোগ সবসময় অ্যান্ড্রু অস্বীকার করেছেন। ২০২২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়ানি মামলা দায়ের হওয়ার পর তিনি সামরিক উপাধি ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারান। ২০২৫ সালের অক্টোবরে রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রেপ্তারের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি মনে করি এটা খুবই দুঃখজনক। আমার মনে হয় এটি রাজপরিবারের জন্য খুব খারাপ।’ সূত্র: বিবিসি বাংলা।