সারাদেশ

দেশে বছরে প্রায় ৪ হাজার হত্যা মামলা

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপরাধপ্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত এক বছরে শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৫১১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে সারা দেশে প্রায় চার হাজার হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য থেকে এসব চিত্র উঠে এসেছে।


তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ১৬৮ জন নিহত এবং ২৪৮ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫৩৯ জন সাংবাদিক। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা ও মব সন্ত্রাসের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অপরাধ দমন ও আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠা করা না গেলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে। গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, যা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। রাজধানীর পাশাপাশি শহর, বন্দর ও গ্রামাঞ্চলেও অপরাধমূলক ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।
বিশেষ করে গুলি করে হত্যার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। অনেক ক্ষেত্রে হামলাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর হচ্ছে। এমনকি নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও প্রাণ রক্ষা করতে পারেননি অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধীরা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকায় পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না। যদিও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো রয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—যশোরের মণিরামপুরে এক ব্যবসায়ীকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা, চট্টগ্রামের রাউজানে সাবেক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা এবং নরসিংদীতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা। এসব ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক হানাহানি, সামাজিক বিরোধ, বেকারত্ব ও মাদকাসক্তি অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার হত্যা মামলা হয়েছে। আগস্ট থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৩ মাসে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩৯ হাজার ৯৩৬টি মামলা হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭২টি মামলা।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক ও দলীয় সহিংসতা, নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘাত ও মব সন্ত্রাসে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন, শ্রমিক নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনাও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।


এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। এসব সমস্যা সমাধান না হলে দেশের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
প্রতীকী ছবি
বাসায় ডেকে নবম শ্রেণির ২ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে একই সঙ্গে নবম শ্রেণি পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অনিক নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে অনিক (২০) নামে এক যুবক তার বান্ধবী নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে তার বাসায় ডেকে নেয়। তবে অনিকের বাসায় যাওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থী তার আরেক সহপাঠী বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে যায়। সেখানে অনিক কৌশলে তাদের দুই বান্ধবীকেই ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। পালিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনায় অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাউফল থানার ওসি মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী থানায় এসে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
টেকনাফ সীমান্ত এলাকা। ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি কিশোরীর মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটের বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা, কমছে স্থানীয় উৎপাদন

ছবি: সংগৃহীত

আজ ঢাকার বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর

৬৪ জেলায় বন্ধের পথে প্রায় ১ হাজার অটোগ্যাস স্টেশন
এলপিজি সংকটে ৬৪ জেলায় বন্ধের মুখে প্রায় ১ হাজার অটোগ্যাস স্টেশন

চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশে প্রকট গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, যা শিগগির কাটার কোনো লক্ষণ নেই। বরং চাহিদা বাড়তে থাকায় সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। সরবরাহ কমে যাওয়া এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। একই সঙ্গে এলপিজির সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ দামে এলপিজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা। বারবার চেষ্টা করেও সরকার এই বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।   বাসাবাড়ির পাশাপাশি পরিবহন খাতেও এলপিজি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে। রান্নার গ্যাস না পেয়ে অনেক পরিবার হোটেল থেকেই খাবার কিনে খাচ্ছেন। পরিবহন খাতে এলপিজির সংকট নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। ২০২০ সালের পর থেকেই মূলত গ্যাস সংকটের শুরু। ওই সময় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এর বিপরীতে উল্লেখযোগ্য নতুন কোনো গ্যাস রিজার্ভ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে এলএনজি আমদানিই প্রধান ভরসা। এ ছাড়া শীতকালে ঠান্ডার কারণে পাইপলাইনের ভেতরে জলীয় বাষ্প ও অন্যান্য তরল পদার্থ জমে গ্যাসের চাপ কমে যায়। একই সময়ে বাসাবাড়িতে পানি গরমের ব্যবহার বাড়ায় চাহিদা সাধারণত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ২০১০ সাল থেকে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কয়েকগুণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তত ১৫ জানুয়ারির আগে এলপিজির এই সংকট কাটার সম্ভাবনা কম। গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলা–এর পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সংকট নিরসনে নতুন নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে দুটি নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে গ্যাসের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে আমদানিকৃত এলএনজিসহ সরবরাহ রয়েছে মাত্র আড়াই থেকে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। গত ডিসেম্বর থেকেই ধীরে ধীরে বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। চলতি মাসের শুরু থেকে তা আরও প্রকট হয়েছে। রাত ১টার পর কিছুটা চাপ বাড়লেও ভোর হতেই আবার গ্যাস মিলছে না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। পুরান ঢাকার ভূতের গলির ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিটের বাসিন্দা কামরুল শিকদার বলেন, গত ১৫ দিন ধরে বাসার সব খাবার হোটেল থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। গ্যাসের বিল ঠিকই নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। এতে সংসারের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মুগদা, বাড্ডা, শনিরআখড়া, রামপুরা, শান্তিবাগ, গুলবাগ, খিলগাঁও, শাজাহানপুর, জুরাইন, কেরানীগঞ্জ, সায়েদাবাদ, গ্রিন রোড, মহাখালী, আদাবর, মৌচাক, মগবাজার, কল্যাণপুর ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার বদলে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকায়। পান্থপথের খুচরা ব্যবসায়ী আহাদ মুনির বলেন, সরবরাহ কম এবং বেশি দামে কিনতে হওয়ায় দোকান বেশির ভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বেশি দামে বিক্রি করলে অভিযান ও জরিমানার ভয় থাকে। কিন্তু যেখানে নজরদারি দরকার, সেখানে তা হচ্ছে না। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা বলেন, এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারের উৎসাহে দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র সংকটে প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ।   এদিকে, এলপিজির মতো সিএনজি স্টেশনগুলোতেও একই চিত্র। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0

আনোয়ারার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান বদনী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে আলিফ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে

জমি নিয়ে বিরোধে ধস্তাধস্তি, একজনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ শ্রমিক

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে ৮ জন শ্রমিক দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বন্দর কদমরসূল এলাকার আকিজ কোম্পানির সিমেন্ট কারখানাতে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।   দগ্ধরা হলেন মো. হাবিব (৪৩), মো. খোরশেদ (২৯), রাকিবুল (২৫), মঞ্জু (২৮), তারেক (২১), ফেরদাউস (৩০), মো. বাবুল (২৯)। একজনের নাম পাওয়া যায়নি।   দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ বলেন, সন্ধ্যার পরে কারখানাটির বয়লার কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানা ভবনের কয়েকটি কক্ষের কাচের প্রাচীরও ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণে বয়লার কক্ষে কর্মরত ৮ জন শ্রমিকের শরীরের ‘সামান্য কিছু’ অংশ পুড়ে যায় এবং তাদের শরীর কাচের আঘাত লাগে।   আহতদের প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ্ আল আরেফীন বলেন, বয়লার রুমে থাকা হিট এক্সচেঞ্জার সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ৮ জন দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরণ করা হয়েছে।   জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ৮ জন দগ্ধকে কিছুক্ষণ আগে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছে। তাদের দগ্ধের পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা হয়নি। বর্তমানে ড্রেসিংয়ের কাজ চলছে।

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0

ফটিকছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি, নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গোলাগুলি, যুবক নিহত

0 Comments