আন্তর্জাতিক

যুদ্ধে সব হারিয়ে ধ্বংসস্তূপেই সেলুন খুলে বেঁচে থাকার চেষ্টা গাজার বাসিন্দার

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬

যুদ্ধ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোরসেসের (আইডিএফ) হামলায় হারিয়েছে বাড়ি ও উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম নিজের সেলুন। এরপর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভবঘুরের মতো ছুটেছেন দিগ্বিদিক। তবুও বেঁচে থাকার চেষ্টা ছাড়েননি গাজার বাসিন্দা বাসেম আল-গাফারি।

 

পেশায় তিনি একজন নাপিত। তাই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত বছরের ১০ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ কার্যকরের পর নতুন করে জীবন শুরু করার কথা ভাবছিলেন গাফারি। কিন্তু কী করবেন! কোথায় জাবেন? পরিবারের সদস্যদের কি খাওয়াবেন! শুধু কি ত্রাণের ভরসায় বসে থাকবেন?

 

এমন সব চিন্তা যখন মাথায় ঘুরছিলো, তখনই গাফারি ভাবলেন, 'আমি তো পেশায় একজন নাপিত। কিন্তু এই ধ্বংসস্তূপের মাঝে নতুন করে কীভাবে দোকান খুলবেন। ভাবতে ভাবতে তিনি বের হলেন ধ্বংসস্তূপের মাঝে খুঁজে যদি কিছু পাওয়া যায়! 

 

Gaza barber

 

এরপর একে একে চুল-দাড়ি কাটার জন্য আয়না, বসায় জন্য চেয়ার আর সিরিয়ালে থাকা কাস্টমারদের জন্য বসার একটি পাটাতন নিয়ে এমন এক জায়গা খুঁজে পেলেন, যেখানে রোদ আছে, সাথে ছায়া।

 

Gaza barber

 

তবে, বিধ্বস্ত শহরে নেই পানির সুবিধা কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহ। তাই, সূর্যের আলোই ভরসা। আর চুল-দাড়ি কাটতে গুরুত্বপূর্ণ সেই আয়নাটিকে সুন্দর করে ধ্বংসস্তুপের দেয়ালে ধুলিয়ে দিলেন আর শুরু করলেন 'পোর্টেবল সেলুন'!

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা একটি অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি বাইরের বিশ্বের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বার্তা আদান-প্রদানের জন্য বিশেষ বার্তাবাহক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন।   মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ এ খবর জানিয়েছে।     প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নেতৃত্ব নতুন করে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। এই কারণে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।   এতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ সমস্যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   আলোচনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও নিজেদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারছেন না।   মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে জানিয়েছেন, তেহরানে কোনো প্রস্তাব পাঠানোর পর উত্তর পেতে অনেক সময় দেরি হয়। কারণ বার্তাগুলো প্রথমে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে হয়, তারপর সিদ্ধান্ত আসে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলার সময় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে হত্যা করা সম্ভব হয়েছিল।   এর পর থেকেই দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ অত্যন্ত সুরক্ষিত বাংকারে অবস্থান করছেন এবং সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন।   এতে আরো বলা হয়েছে, এখন ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সর্বোচ্চ নেতার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে জানেন না এবং তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কোনো মাধ্যম নেই। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বিশ্বস্ত বার্তাবাহকদের মাধ্যমে। তিনি শুধু সাধারণ নির্দেশনা দেন, কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাবে এবং কোন বিষয় আলোচনা থেকে বাদ থাকবে।   সিবিএস আরো জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি এ বছরের শুরুতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।   তিনি যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই জনসমক্ষে আসেননি এবং সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে আছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজা ফ্লোটিলা থেকে ফিরে নির্যাতনের অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ানদের

ছবি: সংগৃহীত

রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দিলো জার্মানি

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে আবারও বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, ১০ দিনে চতুর্থ দফা বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-সৌদি আরব হজ ব্যবস্থায় ‘ডিজিটাল করিডর’ চালুর উদ্যোগ

হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও আধুনিক করতে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন ‘ডিজিটাল করিডর’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে।   পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হজযাত্রীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে হজযাত্রীদের সেবা, যাতায়াত ও ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও সমন্বিত হবে।   এই প্রকল্পটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নির্দেশনায় নেওয়া হয়েছে। দেশটির তথ্যপ্রযুক্তি বোর্ড এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি বাস্তবায়নে কাজ করছে।   নতুন ব্যবস্থায় পাকিস্তানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যেমন জাতীয় ডাটাবেজ কর্তৃপক্ষ, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগ, ব্যাংক এবং বিমান সংস্থা একই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে। এতে হজযাত্রীদের সব তথ্য এক জায়গা থেকে সহজে পরিচালনা করা যাবে।   অন্যদিকে সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এই তথ্য সরাসরি যুক্ত থাকবে, যা হজ কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।   দুদেশের সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগ হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমাবে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করবে।

আক্তারুজ্জামান মে ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের এক মন্ত্রীকে নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স, ইইউকে একই পদক্ষেপের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

এবার ভারতের বাইরে তেলাপোকার 'বংশবিস্তার', আত্মপ্রকাশ করল 'ককরোচ আওয়ামি লিগ'

ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ভবন ধস, ১৯ জন আটকা পড়ার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
ঈদে টানা নয় দিনের ছুটিতে তুর্কিরা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা ৯ দিনের ছুটি ঘোষণা করে তুরস্ক সরকার। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ান সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন।   প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ছুটি যুক্ত করায় সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘ বিরতির সুযোগ পাবেন। তুরস্কে এবার ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের ছুটি শুরু হবে ২৬ মে মঙ্গলবার দুপুর থেকে।   সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, সোমবার (২৫ মে) পূর্ণ দিবস এবং মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল পর্যন্ত প্রশাসনিক ছুটি দেওয়া হবে। এরপর শুরু হবে ঈদের মূল সরকারি ছুটি। এর সঙ্গে আগে ও পরে থাকা সাপ্তাহিক ছুটি (শনিবার-রবিবার) যোগ হওয়ায় পুরো ছুটি মিলিয়ে টানা ৯ দিনের অবকাশ তৈরি হয়েছে।   সরকার মনে করছে, দীর্ঘ এই ছুটির ফলে মানুষ সহজে নিজ নিজ শহর ও গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ভ্রমণও বাড়বে। এতে অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   তুরস্কে ঈদুল আজহা, স্থানীয়ভাবে ‘কুরবান বায়রাম’ নামে পরিচিত, মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ সময় দেশজুড়ে ব্যাপক ভ্রমণ, পারিবারিক আয়োজন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।   সূত্র : আরব নিউজ

আক্তারুজ্জামান মে ২৪, ২০২৬
থালাপতি বিজয়। ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুতে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনে উত্তাল পরিস্থিতি, ক্ষোভ ঝাড়লেন বিজয়

কলকাতা হাইকোর্ট। সংগৃহীত ছবি

কুরবানির অনুমতি নিয়ে বিতর্ক, বিপাকে রাজ্য সরকার

পুলিশ, শান্তি কমিটি ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে রক্তক্ষয়, নিহত ২৯

0 Comments