আন্তর্জাতিক

ইরানের নিরাপত্তার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যেকোন হাত কেটে ফেলা হবে: আলি শামখানি

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইরানের নিরাপত্তার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা যেকোন হাত কেটে ফেলা হবে'। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।

 

অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গত রোববার ইরানের রাজধানী তেহরানে ধর্মঘট শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। খুব দ্রুতই এই আন্দোলনে সাড়া দেয় সাধারণ মানুষ। দেশটির বিভিন্ন শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল সহিংস রূপ নেয়। 

 

টানা পঞ্চম দিনের মতো সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত ইরান। একদিনে নিরাপত্তাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ছয়জনের। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে অর্ধশত। এমন পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

 

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

 

ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির পরই মুখ খুলেছেন উপদেষ্টা আলি শামখানি। বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কোনভাবেই কাম্য নয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
ট্রাম্পের দাবি বহু যুদ্ধের সমাধান করেছেন—সত্যিই কি তাই?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং এজন্য তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। তবে যেসব ইস্যু থেকে এসব সংঘাতের জন্ম, তার অনেকগুলোই এখনো অমীমাংসিত; এমনকি কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তসহ কিছু অঞ্চলে আবারও সহিংসতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প যেসব আন্তর্জাতিক বিরোধে হস্তক্ষেপ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো- আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান গত বছরের ৮ আগস্ট ট্রাম্প আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতাদের একত্র করে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করান, যেখানে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়। ১৯৮০–এর দশকের শেষ দিক থেকে দুই দেশ বিরোধে জড়িয়ে আছে। ২০২৩ সালে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মার্চে খসড়া শান্তিচুক্তির পাঠে একমত হওয়ার পরও সেটি স্বাক্ষরিত হয়নি। হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় হওয়া ঘোষণাপত্রটি পূর্ণাঙ্গ, আইনগত বাধ্যবাধকতাসম্পন্ন শান্তিচুক্তি নয়। আর্মেনিয়ার সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তাসহ কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত। দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তিও করে, যার মাধ্যমে দক্ষিণ আর্মেনিয়ার একটি কৌশলগত করিডোরে উন্নয়নাধিকার পায় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এতে জ্বালানি রপ্তানি বাড়বে। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড দীর্ঘদিনের উত্তেজনা জুলাই মাসে পাঁচ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। ট্রাম্প দুদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখেন। অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে পড়ে। পরে ২৭ ডিসেম্বর নতুন করে যুদ্ধবিরতি হয়। তবু উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ইসরাইল, ইরান ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় সংঘাত থামাতে ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাস একটি ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তিতে সম্মত হয়। তবুও উভয় পক্ষ একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে এবং সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ সম্প্রসারণের চেষ্টাও করছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার চেষ্টা চলছিল। ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে এবং ২২ জুন ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলায় যোগ দেন। পরে কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা আবার বেড়েছে। রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী পূর্ব কঙ্গোতে বড় অংশ দখল করে। ট্রাম্পের চাপে ২৭ জুন রুয়ান্ডা ও কঙ্গো একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। কঙ্গো অভিযোগ করেছে, রুয়ান্ডা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরাও রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে এম২৩-কে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন, যদিও রুয়ান্ডা তা অস্বীকার করে। সংঘাতের শিকড় ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। পাকিস্তান ও ভারত মে মাসে ভারত-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এক হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। চার দিনের সংঘাতের পর ১০ মে যুদ্ধবিরতি হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়ে তিনি চুক্তি নিশ্চিত করেছেন, যদিও ভারত এ দাবি অস্বীকার করেছে। মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। মিসর ও ইথিওপিয়া গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মিসর মনে করে এটি তাদের নীলনদের পানির নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন, তবে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি। সার্বিয়া ও কসোভো ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চুক্তি করান। তিনি দাবি করেছেন, তিনি যুদ্ধ ঠেকিয়েছেন। তবে দুই দেশের মধ্যে এখনো পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নেই। কসোভোর স্বাধীনতাকে সার্বিয়া স্বীকৃতি দেয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেন নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এক দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। তবে প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে এখনো সমাধান আসেনি। তিনি রাশিয়ার বড় দুটি তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার চাপ সৃষ্টি করেন। কিন্তু আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকের আগ্রহ দেখিয়েছেন। প্রথম মেয়াদে তিনটি শীর্ষ বৈঠক হলেও পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া এ সময়ে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি আরও জোরদার করেছে। তাই বলা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থায়ী ও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক শান্তিচুক্তি এখনো হয়নি এবং অনেক অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে। সূত্র- জিও নিউজ

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন বাবা, হত্যা করে ড্রামে ভরল ছেলে

বয়সের মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও ৭০ বছর বয়সি বৃদ্ধ হাকিম বাবরের প্রেমে পড়েন ২২ বছরের তরুণী। ছবি: সংগৃহীত

ভালোবেসে ৭০ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে করলেন তরুণী

ছবি : সংগৃহীত

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোকে ট্রাম্পের হুমকি

ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধে নাকি সমঝোতা, কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর এ অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ বলে বিশ্লেষকদের মত। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি আকাশ নজরদারির জন্য একাধিক ই-৩ সেন্ট্রি সতর্কীকরণ বিমান পাঠানো হয়েছে।   এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কি সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটছে, নাকি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে?   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০-২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাপে পড়বে।   অন্যদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। এমন বক্তব্য প্রশাসনকে এক ধরনের চাপের মধ্যেও ফেলেছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও সংঘাত নিয়ে সতর্ক। দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও ব্যবস্থাপনার সমস্যায় দুর্বল। সাম্প্রতিক সময়ে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি তীব্র হয়েছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধ শুরু হলে তা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।   তবে ইরানের নেতৃত্ব প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। তারা বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, আলোচনায় ‘শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ বন্ধের কোনো শর্ত তোলা হয়নি। বরং আলোচনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখা।   এদিকে মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘সীমিত’ মাত্রায় প্রতীকী সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে, যদি তা থেকে বোমা তৈরির পথ বন্ধ থাকে।   বিশ্লেষকদের মতে, যদি সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পথ নিতে পারে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করা হবে। তবে এমন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানলে পরিস্থিতি দ্রুত বড় যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।   ফলে দুপক্ষই এখন বড় ঝুঁকির সামনে দাঁড়িয়ে। পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। সে কারণেই অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত হলেও একটি সমঝোতার সম্ভাবনাই তুলনামূলক বেশি।   সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঝাড়খণ্ডের চাত্রায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, সাতজন নিহত

ছবি : সংগৃহীত

আগের বৈশ্বিক শুল্ক নেওয়া বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ইরানে সীমিত হামলার পর বড় আক্রমণের কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকা’য় দেওয়া এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানান।     পোস্টে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

এল মেনচো কে ছিলেন? তাকে ঘিরে কেন উত্তাল মেক্সিকো

ছবি : সংগৃহীত

ইরানে ফের জেন-জি বিক্ষোভ

ছবি : সংগৃহীত

৫ বছরে ভারত থেকে সব অনুপ্রবেশকারীকে তাড়ানো হবে

0 Comments