অন্যান্য

যেসব স্বাস্থ্যকর নাস্তা খেতে পারেন

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাধারণত নাস্তা বলতে আমরা ঝাল, ভাজাপোড়া কিংবা অতিরিক্ত লবণ ও চিনি দেওয়া খাবারকেই বুঝে থাকি। কিন্তু এসব মুখরোচক খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তাই বলে নাস্তা বাদ দেওয়া সমাধান নয়। বরং অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে বেছে নিতে হবে পুষ্টিকর ও উপকারী বিকল্প। চলুন জেনে নেওয়া যাক নাস্তায় কোন খাবারের জায়গায় কোন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যেতে পারে—


বিস্কুটের বদলে বাদাম ও বীজ
চায়ের সঙ্গে বিস্কুটের পরিবর্তে কাঠবাদাম, আখরোট, কুমড়ার বীজ বা সূর্যমুখী বীজ খাওয়া যেতে পারে। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ, যা দীর্ঘসময় শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।


চিপসের পরিবর্তে ভাজা ছোলা

অতিরিক্ত লবণ ও অস্বাস্থ্যকর তেলে ভাজা চিপসের বদলে ভাজা ছোলা হতে পারে ভালো বিকল্প। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই পেট ভরিয়ে রাখে।


চিনিযুক্ত দইয়ের বদলে টক দই

ফ্লেভারযুক্ত দইয়ে অতিরিক্ত চিনি থাকে। তার পরিবর্তে টক দইয়ের সঙ্গে পেঁপে বা বিভিন্ন বেরি মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রাকৃতিক মিষ্টতা পাওয়া যায় এবং প্রোবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।


চকোলেটের বদলে ফল ও পিনাট বাটার

মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হলে প্রসেসড চকোলেট বা ক্যান্ডির বদলে আপেল বা কলার সঙ্গে সামান্য পিনাট বাটার খেতে পারেন। এতে প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সুন্দর সমন্বয় পাওয়া যায়, যা হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।


ইনস্ট্যান্ট নুডলসের পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম বা পনির


ইনস্ট্যান্ট নুডলস দ্রুত প্রস্তুত হলেও এতে পুষ্টিগুণ খুবই কম। এর পরিবর্তে সেদ্ধ ডিম বা পনির খাওয়া ভালো, যা প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং দীর্ঘসময় মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
হাম কখন বিপজ্জনক, প্রতিরোধে অভিভাবকরা যা করবেন

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু স্থানে প্রাণহানির খবর আসায় অভিভাবকদের মধ্যে কাজ করছে তীব্র আতংক। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ে আতংকিত না হয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং সচেতন থাকাই এখন সবচেয়ে জরুরি। হাম কী এবং কেন ভয়ংকর? হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। একবার সংক্রমণ শুরু হলে আশপাশের অন্য শিশুর মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সর্দি-জ্বরের মতো—জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া। কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কখন বিষয়টি বিপজ্জনক হয়? সব শিশুর ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক না হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ঝুঁকি বেশি। হামের জটিলতায় রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ। এই জটিলতাগুলোই অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টিকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। টিকা শুধুমাত্র শিশুকে সুরক্ষিত রাখে না, পুরো সমাজকেও ভাইরাসের বিস্তার থেকে রক্ষা করে। অভিভাবকদের করণীয় সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন: শিশুর বয়স অনুযায়ী টিকা নেওয়া হয়েছে কিনা যাচাই করুন। প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।  লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসা নিন: জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।  আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখুন: হাম দ্রুত ছড়ায়, তাই আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি।  পুষ্টিকর খাবার দিন: শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পুষ্টিকর খাবার গুরুত্বপূর্ণ।  পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার পরিবেশ সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।  আতংক নয়, সচেতনতার সময় হাম নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ অবশ্যই আছে, কিন্তু অযথা আতংক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সময়মতো পদক্ষেপই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তাই ভয় নয়, দায়িত্বশীল আচরণই আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি।

মারিয়া রহমান মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ । ছবি: সংগৃহীত

তেল কিনতে গিয়ে হামলার শিকার চাকসু নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। ছবি : সংগৃহীত

‘দশ বছরের পাচারের টাকায় ২৫টি পদ্মা সেতু বানানো সম্ভব’

ছবি : সংগৃহীত

হত্যার মামলায় আইভী জেলে, আদালত নামঞ্জুর করল জামিন

স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ‘উইকিমিডিক্স’ নামের একটি হেলথ টেক অ্যাপ চালু করা হয়েছে | ছবি : সংগৃহীত
দেশে এআই নির্ভর হেলথ টেক অ্যাপ চালু, যেসব সুবিধা পাবেন

স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ‘উইকিমিডিক্স’ নামের একটি হেলথ টেক অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বাংলাভাষায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন। এতে উপসর্গ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা, সাধারণ চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিএমএ সভাককক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আসিফুর হাসান। অ্যাপটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আনিকা সাবরিনা আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, প্রকৌশলী রুদ্র সরকার প্রমুখ। আয়োজকরা জানান, অ্যাপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবহারকারীর অবস্থান অনুযায়ী নিকটবর্তী হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক খুঁজে বের করার সুবিধা। পাশাপাশি নিবন্ধিত ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো স্থান থেকে বাবহার করা যাবে। ‘আস্ক ইউর ডক্টর’ নামে একটি ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য-পরামর্শ পাওয়া যাবে। এছাড়া মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য দ্বিতীয় মতামত দেয়ার সুবিধাও এতে যুক্ত থাকবে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে। বিপুল জনগোষ্ঠির এই দেশে এখনো জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ওষুধের দোকানি, হাতুড়ে চিকিৎসক, কবিরাজ এসবের মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠির জীবনে অসুস্থতা স্থায়ীভাবে আসন গেড়ে নেয়। বাংলাদেশে চিকিৎসকদের রোগী দেখার সময় অনেক কম। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসকরা গড়ে ৪৮ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ ১ বা ২ মিনিট সময় দিয়ে থাকেন। অথচ সঠিক চিকিৎসার জন্য একজন রোগীর পেছনে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া প্রয়োজন। মানসম্মত সেবার জন্য বিশেষজ্ঞরা দিনে ২০ থেকে ৩০ জন রোগী দেখার পরামর্শ দেন। যদিও দেশের অনেক সরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসক প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ বা তারও বেশি রোগী দেখে থাকেন। এতে চিকিৎসকের কাছ থেকে রোগী সঠিক চিকিৎসা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হন। তাই সামগ্রীক দিক বিবেচনায় উইকিমিডিক্স অ্যাপটি দেশের চিকিৎসা সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে বলে দাবি আয়োজকদের।

মারিয়া রহমান মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: ঢাবি জনসংযোগ দপ্তর

ঢাবিতে দু’দিনব্যাপী ইয়াং স্কলার কনফারেন্স শুরু

ছবি : সংগৃহীত

ভালো ঘুম পেতে রাতে এড়িয়ে চলুন যেসব খাবার

ছবি : সংগৃহীত

৭ জুন শুরু হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষা, থাকছে অভিন্ন প্রশ্নপত্র

ছবি : সংগৃহীত
৪র্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলক ৭টি খেলা, নতুন সিদ্ধান্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে ৪র্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৭টি খেলা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু বইভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক সক্ষমতা, দলগত মানসিকতা এবং নেতৃত্বগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।   🎯 কেন এই সিদ্ধান্ত? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ও ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ফলে স্থূলতা, শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক চাপের মতো সমস্যাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।   🏃 কোন ৭টি খেলা থাকতে পারে? যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ হয়নি, তবে প্রাথমিকভাবে যেসব খেলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে— দৌড় লাফ ফুটবল ক্রিকেট ব্যাডমিন্টন কাবাডি ভলিবল   🏫 কীভাবে বাস্তবায়ন হবে? শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী— প্রতিটি স্কুলে নির্দিষ্ট সময় রাখা হবে খেলাধুলার জন্য শারীরিক শিক্ষকদের ভূমিকা বাড়ানো হবে প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন করা হতে পারে   📊 কী উপকার পাবে শিক্ষার্থীরা? এই উদ্যোগের ফলে— শারীরিক ফিটনেস বাড়বে পড়াশোনার চাপ কমবে মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে দলগত কাজের দক্ষতা তৈরি হবে   ⚠️ চ্যালেঞ্জ কী? তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। যেমন— অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত মাঠ নেই প্রশিক্ষিত ক্রীড়া শিক্ষক সংকট গ্রামীণ এলাকায় সরঞ্জামের অভাব এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আলাদা পরিকল্পনা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।   🔚 উপসংহার শিক্ষাব্যবস্থায় এই নতুন উদ্যোগকে সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিলে শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত হবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

টিকা ঘাটতিতে বাড়ছে হাম, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে

ছবি : সংগৃহীত

জবি অধ্যাপক হেনস্তার অভিযোগে তিন ছাত্রদল নেতা অভিযুক্ত

ছবি : সংগৃহীত

১৩৩ অধ্যাদেশে আপত্তি, গণভোটসহ ১৫ ইস্যুতে জামায়াতের প্রশ্ন

0 Comments