দেশ ক্রমেই গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সারকারখানা ও শিল্প খাতে গ্যাসের তীব্র সংকট নতুন নয়। এই সংকটের সূচনা হয়েছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, যখন স্থানীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদনে বিনিয়োগ না করে আমদানিনির্ভর নীতিতে ঝুঁকে পড়ে সরকার। তখন থেকেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে শুরু করে। অর্থনৈতিক চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের মধ্যেও আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে গিয়ে একের পর এক দফায় জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ চেইনের অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে আরও নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে। এরই মধ্যে দেশে এলপিজির বড় সংকট দেখা দিয়েছে। এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২৫৮ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১২২ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। শুধু তাই নয়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সরবরাহ আরও কমেছে প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। দেশে গ্যাস উত্তোলনে নিয়োজিত পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে চারটির উৎপাদন গত এক বছরে কমেছে। স্থানীয় উৎপাদনের এই ঘাটতি পূরণ করতে বিপুল ব্যয়ে আমদানি করা হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার ১১৫টি কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা নিয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫১ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরেও প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে এলএনজি কিনতে।
পেট্রোবাংলার হিসাব বলছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন এক বছরে কমেছে ৫২৩ এমএমসিএম। বাপেক্সের উৎপাদন কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। দেশের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী শেভরনের তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র থেকেও এক বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১ হাজার ৩৯ এমএমসিএম। শুধু সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের উৎপাদন সামান্য বেড়েছে।পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাকৃতিকভাবে পুরনো গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদন কমে যাচ্ছে। নতুন কূপ যুক্ত হলেও এই ঘাটতি পূরণ হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। অথচ এই বিপুল ব্যয়ের পরও গ্যাস সংকট কমেনি, বরং আরও তীব্র হয়েছে। এদিকে এলপিজি খাতেও সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সরবরাহ জটিলতার কারণে দেশে আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সংকট একদিনের সমস্যা নয়। বহু বছর ধরে স্থানীয় অনুসন্ধানে অবহেলার ফলেই আজ এই পরিস্থিতি।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল, তারা জ্বালানি খাতে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণ করবে। যাতে আমদানিনির্ভরতা কমে এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, গ্যাসের সরবরাহ সংকট আগের চেয়ে আরও প্রকট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের সরকারের আমলে এলএনজি আমদানিকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, যার কারণে স্থানীয় অনুসন্ধান কার্যত থমকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারও এখন পর্যন্ত সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার মতো দৃশ্যমান কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
দেশে বর্তমানে দুটি এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট। নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগের কথা বলা হলেও এখনো মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল চালু হতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে বহু শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। রফতানিমুখী শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমনকি অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেও গ্যাসের অভাবে চালানো যাচ্ছে না।
মুলত: দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এই খাতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর বিকল্প নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর নির্ভর করে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বড় সিদ্ধান্ত নেবে না। তারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখতে চায়। জ্বালানি বিভাগ অবশ্য বলছে, ২০২৮ সালের মধ্যে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাপেক্সকে পুরোপুরি অনুসন্ধান কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। এছাড়া এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে যাওয়া হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের জ্বালানি খাত এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বছরের পর বছর আমদানিনির্ভর নীতির ফলে অর্থনীতি বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দ্রুত ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দেয়ার বিকল্প নেই—এমনটাই মনে করছেন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
যশোরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফরকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরকালে যশোর মেডিকেল কলেজ এবং শার্শার উলাশীতে ‘জিয়া খাল’ খনন কাজের উদ্বোধন করবেন। এই সফর উপলক্ষে ২০ এপ্রিলের মধ্যে জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সভায় আরও জানানো হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে ২৫ থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত যশোর সদর, ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার প্রধান সড়কগুলোতে নির্মাণ সামগ্রী রাখা বা বাস, ট্রাক, ট্যাংকার ও পিকআপ পার্কিং করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত রুট, প্যারিস রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকার সব দোকানপাট ও জ্বালানি তেলের পাম্প ওই তিন দিন বন্ধ থাকবে। দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সভায় কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে যেসব মোটরসাইকেলে তিন লিটার বা তার বেশি তেল থাকবে, তারা পাম্প থেকে নতুন করে তেল নিতে পারবে না। তিন লিটারের কম তেল থাকলে পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বৈধ কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে তেল দেওয়ার অনুমতি দেবেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন এক মাসের জন্য জব্দ করা হবে। বাড়িতে তেল মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় বোরো মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে শহরের চেয়ে গ্রাম এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা সভায় গত মার্চের অপরাধচিত্র তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন ও প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, ছিনতাই বিরোধী অভিযান এবং সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্স ও প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কাজে গাফিলতি ও অনিয়মের প্রমাণ পেলে চাকরি থাকবে না, এক্ষেত্রে কাউকে ছাড়ও দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাবর বলেন, আমি আপনাদের সঙ্গে নিয়মিত মাসিক সভা করার চেষ্টা করব। সম্ভব না হলে জুম মিটিংয়ে যুক্ত হব। আপনারা মোবাইল নম্বর ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব। এ সময় মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদকসেবীর চেয়ে মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। এ কাজে দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির, রাজনৈতিক একান্ত সচিব মির্জা হায়দার আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফ আহম্মদ সেকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে এলাহী টোটন, শামছুল আলম লালুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ফেনীর ‘ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল’ সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান। এ সময় ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম সোহরাব আল হোসাইন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. এ কে এম ফাহাদ উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিদর্শন দল নিয়মিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে দুইটি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করা হয়। একই অভিযানে শহরের মুক্তবাজার এলাকার বায়েজিদ হেলথ কেয়ার সার্ভিস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অব্যবস্থাপনার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারাজ হাবিব খান বলেন, ‘বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। লাইসেন্স না থাকা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এটি বন্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, হাসপাতালটির ২০১৯ সাল থেকে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও তা নবায়ন না করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভর্তি রোগীদের নিরাপদভাবে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে শনিবার রাতে ফেনী শহরের ‘ওয়ান স্টোপস মেটারনিটি ক্লিনিক’-এ চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ জুন একই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল।