বিশ্ব

ইরান একচুলও পিছু হটবে না কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ইরান একচুলও পিছু হটবে না কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির
ইরান একচুলও পিছু হটবে না কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির

গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে উঠেছে ইরানে। সরকার আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ হাজার ২ শতাধিক। এরই মধ্যে গতকাল দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ‘আন্দোলনকারীরা নাশকতা চালানো ব্যক্তি।

সরকার একচুলও পিছু হটবে না।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘এই আন্দোলন বিদেশি ষড়যন্ত্রে প্ররোচিত।’

খামেনি বলেন, ‘প্রতিবাদকারীরা নিজেদের রাস্তাঘাট ধ্বংস করছে শুধু যেন অন্য দেশের প্রেসিডেন্ট খুশি হয়। কারণ, সে বলেছে সাহায্য করবে।’ এ মন্তব্যে তিনি পরোক্ষভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করেন।

এই উত্তেজনার মধ্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আবারও ইরানের জনগণের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে আছে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের নেতৃত্বকে নতুন করে হুমকি দেন। তিনি বলেন, ‘গুলি চালানো শুরু না করাটাই আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক। কারণ আপনারা শুরু করলে আমরাও গুলি চালাব।’

এই হুমকির পর দেশটির সেনাবাহিনীও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি সুরক্ষায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ‘শত্রুর ষড়যন্ত্র’ নস্যাতে ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, ‘ইসরায়েল ও কিছু শত্রুভাবাপন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দেশের জননিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।’

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মুদ্রার মূল্যে ধস নামার পর। তবে খুব দ্রুতই তা রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয় এবং গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন এলাকার আন্দোলনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুক্রবার তেহরানের সাদাতাবাদ এলাকায় মানুষ হাততালি দেয় এবং হাড়ি-পাতিল বাজিয়ে ‘খামেনি নিপাত যাক’ স্লোগান দেয়।

এই আন্দোলনকে ২০২২-২৩ সালের বৃহৎ বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা বলছেন অনেকে। সে সময় মাশা আমিনির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর পর সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কারণ, অর্থনৈতিক সংকট ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার ফলে সরকার আরও দুর্বল এখন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘খামেনি এখন পালানোর পথ খুঁজছে। অবস্থা ভয়াবহ।’ এদিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মহসেনি এজেই হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।’

ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে। তারা বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর তারা নিন্দা করছেন। তারা বলেন, ইরানি জনগণের মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

ইরানের বেলুচ-সংখ্যাগরিষ্ঠ জাহেদানে শুক্রবার নামাজের পর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। মানবাধিকার সংস্থা হেংগাও জানিয়েছে, এতে অনেকেই আহত হন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে আসল সত্য গোপন করার চেষ্টা করছে ইরান সরকার। ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ আছে বলে জানিয়েছে নেটব্লকস।

নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৬২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু। বৃহস্পতিবার তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করে। সরকারি সম্প্রচার কেন্দ্রের একটি ভবনে আগুন দেয়। তারা পুরোনো আমলের ইরানি পতাকা (সিংহ-সূর্য চিহ্নযুক্ত) উড়িয়ে বিক্ষোভ করেন।

এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে রাজপথে নেমেছেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা সিরি পাহলাভি। বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাত ৮টায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘খামেনি এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ব্যবহার করে সাহসী তরুণদের হত্যা করতে চায়।’

রেজা সিরি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে আছেন। তিনি ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের আগে ইরানের যুবরাজ ছিলেন। তখন তাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে যান। সেই থেকে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন এবং বিভিন্ন সময় ইরানি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করে আসছেন।

তেহরানের ২৫ বছর বয়সী শিল্পী মরিয়ম জানান, পুলিশ আর মিলিশিয়া মোটরসাইকেলে জনতার মধ্যে ঢুকে পড়ে। চোখ লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’ তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট কখন যে কেটে যাবে জানি না। কিন্তু আমরা হাজার হাজার মানুষ রাস্তায়, আমি ভয় পাচ্ছি আগামীকাল অনেকের লাশ দেখতে হতে পারে।’

শুক্রবার ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো আন্দোলনের কথা স্বীকার করে, তবে একে ‘সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব’ বলে অভিহিত করে। তারা দাবি করে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টরা বিক্ষোভের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।

বৈরুতে শুক্রবার, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘এই বিক্ষোভে বিদেশি হস্তক্ষেপ আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছে।’ যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘বিভ্রমগ্রস্ত’।

তেহরানের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র হোসেইন বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের সময় যেমন বিকল্প পন্থায় তথ্য আদান-প্রদান করতাম, এবারও সেই চেষ্টা করছি। কিছু ‘গোপন চ্যানেল’ দিয়ে আমরা এখনো বার্তা পাঠাতে পারছি, যদিও মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা হচ্ছে।’

বিক্ষোভকারীদের অনেকে রেজা পাহলাভির ডাকে সাড়া দিয়েছেন। ৪৬ বছর বয়সী আন্দোলনকারী মেহনাজ বলেন, ‘২০২২ সালে আমরা একক নেতৃত্বে একত্র হতে পারিনি, কিন্তু এবার শিখেছি। আমাদের বাঁচার জন্য পাহলাভির পেছনে একত্র হতে হবে।’

পাহলাভি বলেছেন, ‘তোমরা সবাই বৃহস্পতিবার রাতে যেভাবে রাস্তায় নেমেছিলে, আমি গর্বিত। ইন্টারনেট বন্ধ হলেও তোমরা থেমে যাবে না।’ তার সংগঠন দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য বিদ্রোহ করতে চান। তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অনুরোধ আসছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী রাইফেল ও শটগানে ধাতব গুলি ব্যবহার করছে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩ জানুয়ারির মধ্যে কমপক্ষে ২৮ জন গুলিতে নিহত হয়েছেন।

সংগঠনের গবেষক বাহার সাবা বলেন, ‘২০১৯ সালের নভেম্বর এবং ২০২২ সালে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের সময় যেমন দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল, এবারও সেই চিত্রই আমরা দেখছি।’ ইসলামী প্রজাতন্ত্রবিরোধী ক্ষোভ সপ্তাহজুড়ে টগবগ করে ফুটছে। বুধবার গনাবাদ শহরের একটি শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ঢুকে মানুষ কর্মীদের মারধর করে, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
যেভাবেই হোক গ্রিনল্যান্ড দখলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আবারও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই আর্কটিক দ্বীপটি দখলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে সহজ বা কঠিন—উভয় পথেই এগোতে পারে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে তেল খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করব—তারা রাজি হোক বা না হোক।” এ বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্ত পথ বেছে নেওয়ার বিকল্পও খোলা থাকবে। তার মতে, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র উদ্যোগ না নিলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করতে পারে। তাই বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও, দ্বীপটি দখলের হুমকিতে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্ররা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, এমন আগ্রাসন ন্যাটো ও যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তবে ডেনমার্কের এই উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ট্রাম্প। তিনি বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হলেও কয়েকশ বছর আগে সেখানে জাহাজ ভেড়ানোই মালিকানার প্রমাণ হতে পারে না। এদিকে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

গৃহযুদ্ধের ছায়ায় মিয়ানমারে নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে

ইরান একচুলও পিছু হটবে না কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির

ইরান একচুলও পিছু হটবে না কঠোর হুঁশিয়ারি খামেনির

ব্রিটেনে ‘স্টর্ম গরেট্টি’র তাণ্ডব : একজনের মৃত্যু, অন্ধকারে দেড় লাখ পরিবার

তেহরানসহ অন্যান্য জায়গায় ফের জড়ো হচ্ছেন ইরানি বিক্ষোভকারীরা

টানা দুই রাত টানা আন্দোলনের পর আজ শনিবার রাত থেকে আবারও রাজপথে জড়ো হওয়া শুরু করছেন ইরানের বিক্ষোভকারীরা। লন্ডন থেকে পরিচালিত ইরান সরকারের বিরোধী সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দুটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।   এতে দেখা যাচ্ছে রাজধানী তেহরানের হেরাভিতে কয়েকশ মানুষ একত্রিত হয়েছেন।   এছাড়া তেহরানের পূর্বাঞ্চলের চিতগারেও অনেককে জড়ো হতে দেখা গেছেন। সেখানে তারা ক্ষমতাচ্যুত ও নির্বাসিত শাহ রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এছাড়া অনেকে ‘গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য’— এমন স্লোগানও দেন।   ইরান সরকার ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস ও লেবাননে হিজবুল্লাহকে সহায়তা করে থাকে। প্রতি বছর এ সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোকে কোটি কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম দেয় তারা। ইরানের কিছু মানুষ এসব সহায়তা বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তারা মূলত বলছেন আগে যেন দেশের অর্থনীতি ঠিক করা হয়।   সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0

পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে জমিয়ত নেতা নিহত

ছবি :সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’ পথে ব্যবস্থা নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ভয়াবহ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ায় ‘দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি: লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সামরিকভাবে কতোটা শক্তিশালী?

লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের 'নো মার্সি' মনোভাব নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার দক্ষিণের প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতার বিশাল পার্থক্য।    গত সপ্তাহে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয় এবং শতাধিক প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনায় লাতিন আমেরিকা জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, কলম্বিয়া, কিউবা ও মেক্সিকো 'নিজেদের সংশোধন' না করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।    ট্রাম্প দাবি করেন, মাদক পাচার ঠেকানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য।   যদিও লাতিন দেশগুলোর সরকার ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে খুব একটা খুশি নয়, কিন্তু সামরিক শক্তি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলার মতো অবস্থায় নেই দেশগুলো।   যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী। ২০২৫ সালে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট ছিল ৮৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের ১০টি দেশের মোট সামরিক ব্যয়ের চেয়েও ৩.১% বেশি।   ২০২৫ সালের গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্সের (জিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী ব্রাজিলের, যা বিশ্বে ১১তম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে মেক্সিকো রয়েছে ৩২তম। এরপর কলম্বিয়া ৪৬তম, ভেনেজুয়েলা ৫০তম এবং কিউবা ৬৭তম স্থানে।    সেনাসংখ্যা, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, নৌবহর এবং প্রতিরক্ষা বাজেট, সব সূচকেই এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। প্রচলিত যুদ্ধের ক্ষেত্রে যেখানে সেনা, বিমান, নৌবাহিনী ও ভারী অস্ত্র ব্যবহৃত হয়—যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য এক কথায় প্রশ্নাতীত।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাই : খামেনি

ছবি : সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি রয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে নিহত অর্ধশতাধিক

0 Comments