বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে নতুন করে আলোচনায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক।
শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতে আছেন এবং তার ঘোষণাটিও এসেছে ভারতের দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে।
বাংলাদেশের আপত্তির পরও তার এই সংবাদ সম্মেলন ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
এর পাঁচ দিন পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদিকে।
বৈঠকের পর সেদিনই তিনি উড়াল দেন দিল্লির উদ্দেশ্যে। দিল্লি পৌঁছে পরদিন তাকে আলোচনা করতে দেখা গেছে নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।
বাংলাদেশে বৈঠক শেষে দিনেশ ত্রিবেদিকে ঠিক কী কারণে দিল্লি ছুটে যেতে হলো সেটা অবশ্য পরিষ্কার নয়।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে হঠাৎ এই যে একধরণের টানটান পরিস্থিতি তার পেছনে দিল্লির প্রেস ব্রিফিংয়েরও যে একটা ভূমিকা আছে সেটা স্পষ্ট। কারণ ঐ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন।
কিন্তু সেখানে ডিসেম্বরে ঢাকায় ফেরার যে ঘোষণা সেটা আসলে কতটা সম্ভব? কিংবা তিনি চাইলেই কি ফিরতে পারবেন এমন প্রশ্নও আছে।
শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরা: স্বেচ্ছায় নাকি প্রত্যর্পণ?
শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি হচ্ছে, তার কাছে বৈধ কোনো পাসপোর্ট নেই। বাংলাদেশ সরকার তার পাসপোর্ট বাতিল করেছে। ফলে পাসপোর্ট ছাড়া তিনি কীভাবে ফিরবেন সেটা একটা প্রশ্ন।
আরেকটি বিষয় হচ্ছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন।
তবে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে এ দুটি বিষয়ও সরাসরি সেভাবে বাধা নয়।
মূল বিষয় হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরে তিনি সত্যিই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন কি-না এবং তখন বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরতে দেবে কি-না?
বাংলাদেশ অবশ্য শেখ হাসিনার বিষয়ে আগেই তার অবস্থান পরিস্কার করেছে। দেশটি শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চায়। কিন্তু তার ফেরার কী সুযোগ আছে? এখানেও দুটি পথ স্পষ্ট।
একটি হচ্ছে, তিনি ‘নিজের সিদ্ধান্তে নিজের পছন্দমতো সময়ে’ ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেন। তবে এটার জন্য তার দরকার হবে বৈধ পাসপোর্ট।
পাসপোর্ট না থাকলে উপায় হচ্ছে, ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে সীমান্ত পার হওয়া।
সাবেক কূটনীতিক ও বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি এম হুমায়ুন কবীর এ বিষয়ে বলেন, তিনি তো বাংলাদেশের নাগরিক। নিজ দেশে ফেরত আসতে চাইলে সেটা তার অধিকার। একইসঙ্গে পাসপোর্ট পাওয়াও তার অধিকার। তার যদি ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকে, তিনি সেটা ব্যবহার করতে পারবেন। না থাকলে তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ট্রাভেল পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সে আবেদনের ভিত্তিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত যদি ইতিবাচক হয় তাহলে তিনি পারমিট নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি শেখ হাসিনা নিজে ফিরে না আসেন তাহলে আরেকটি উপায় হচ্ছে, তার প্রত্যর্পণ।
অর্থাৎ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধের মামলা’য় অভিযুক্ত বা ফেরার আসামি ও বন্দিদের একে অপরের কাছে হস্তান্তরের জন্য যে চুক্তি আছে সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।
তবে চুক্তিতে নানা ফাঁক-ফোকড় আছে। ফলে চাইলেই যে সেই আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই, বাধ্যবাধকতাও নেই।
তাছাড়া বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের দুই বছর পরও যখন এই প্রক্রিয়ার কোন অগ্রগতি হয়নি, তখন সেটা অদূর ভবিষ্যতে আদৌ সম্ভব কি-না তা নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।
অতীতেও ভারত বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের সেদেশে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ পরবর্তীতে স্বইচ্ছায় ফিরে গেছেন, আবার কেউ কেউ এখনো অবস্থান করছেন।
তবে শেখ হাসিনা যেখানে নিজেই ফিরতে চান, সেখানে প্রত্যর্পণ আইন প্রয়োগের প্রয়োজন দেখছেন না জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন -এর চেয়ারপারসন এলিনা খান।
তিনি বলেন, উনি কিন্তু অলরেডি ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানেই অবস্থান করছেন। এটাকে আমরা জেল কাস্টোডি মনে করছি না। এখানে উনি নিজেই প্রত্যাবর্তনের সদিচ্ছা পোষণ করেছেন যে, উনি আসতে চান। বাংলাদেশ সরকারও বলছে, উনি আসুক, তাকে ফেরত পাঠানো হোক।
এলিনা খান বলেন, তাহলে সেখানে ভারতের কোন চুক্তি বা এ ধরনের কোন সমস্যা আছে বলি মনে করছি না। কারণ শেখ হাসিনা যদি বলতেন যে, আমি যাবো না। তাহলে একটা প্রশ্ন আসতো যে, ওই আইন অনুযায়ী তাকে পাঠানো হোক। কিন্তু উনিও আসতে চাচ্ছেন, এখানে সরকারও তাকে চাচ্ছে। সুতরাং উনার আসতে কোন বাধা আছে বলে আমি মনি করি না।
শেখ হাসিনা ফিরলে কী হবে?
এটা নির্ভর করছে, তিনি কীভাবে ফেরেন তার উপর।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, তিনি যদি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ কোন নেগোসিয়েশন’ করে আসতে পারেন, তাহলে তার ফেরাটা হবে একরকম।
তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় নেগোসিয়েশনের পরিস্থিতি সেভাবে দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
ফলে যদি ‘নেগোসিয়েশন ছাড়াই’ তিনি ফেরেন, তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে ফিরেই আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা গ্রেফতার হতে হবে।
কারণ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইতোমধ্যেই তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে।
এলিনা খান বলেন, আইন তো সবার জন্যই প্রযোজ্য। সুতরাং উনি আসা মাত্রই তো উনাকে গ্রেফতার করবে। এখানে আরেকটা বিষয় হচ্ছে, উনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার যে সময়সীমা সেটাও কিন্তু অলরেডি পার হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে তো উনাকে প্রথমেই আসলে কাস্টোডিতে নেবে। তারপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ চলতে থাকবে।
দেশে ফিরলেই মৃত্যুদণ্ডের সাজার মুখোমুখি কিংবা গ্রেফতারের যে ঝুঁকি সেটা নিশ্চিতভাবে শেখ হাসিনাও জানেন। কিন্তু তাহলে তার আসার কথা কেন বলা হচ্ছে?
এখানেই সামনে আসছে, দল হিসেবে ‘আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব সংকটের’ কথা।
বাংলাদেশে দলটির কার্যক্রম ইতোমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা নিজেসহ অন্য নেতারাও পলাতক।
ফলে দল বাঁচানোর জন্যই শেখ হাসিনা ফিরবেন এমন বক্তব্য আছে দলটির ভেতরে।
যদিও তার ফেরার বাস্তবতা দেখেন না রাজনীতি বিশ্লেষকদের অনেকেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, শেখ হাসিনাকে আমি আর ওরকম হিরোইক জায়গাতে দেখতে পাই না। যেভাবে উনাকে চলে যেতে হলো, আমার মনে হয় না যে, ওই সাহস নিয়ে উনি ফিরবেন এবং আত্মসমর্পণ করবেন।
তিনি বলেন, উনি যতো জোর গলায় বলছেন, আইনি পন্থায় এগুলোকে মোকাবেলা করার মতো বাস্তবতা তার নাই। আর বাংলাদেশেও বিচারকে আমরা এরকম পক্ষপাতহীন, প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বাইরে এসে ন্যায়বিচার আমরা দেখি না। এখানে শেখ হাসিনা নিজেও ন্যায়বিচার করেননি। উনি ন্যায়বিচার পাবেন -এই ভরসাও উনার নাই। ফলে উনি এখানে আসবেন না।
শেখ হাসিনা কি চাইলেই ফিরতে পারবেন?
শেখ হাসিনার আসা না আসার বিষয়টি যে শুধু তার একার উপর নির্ভর করছে তা নয়।
বাংলাদেশে যদি সত্যিই তিনি ফিরে আসতে পারেন তাহলে এরপর সেখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে সেটার মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া ইস্যুটির সঙ্গে এখন ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যতও জড়িয়ে গেছে।
ফলে শেখ হাসিনা চাইলেই যে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ুন কবীর সেটা মনে করেন না।
তিনি বলেন, তিনি তো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কাজেই এই ধরনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যাদের পেছনে লক্ষ মানুষের সমর্থন থাকে, বড় সংগঠন থাকে এবং যারা সামাজিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বা ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন, সেই ধরনের ব্যক্তিদের ব্যাপারে তো একক সিদ্ধান্তের বিষয় থাকে না। অনেক সময় এর সঙ্গে অন্যান্য অংশীদারেরা যুক্ত হয়ে যান।
কিন্তু এখানেই তাহলে আবার প্রশ্ন উঠছে ভারত কি তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে দরকষাকষির সুযোগ হিসেবে শেখ হাসিনা ইস্যুকে ব্যবহার করছে?
এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ভারত যদি এটাকে তার দরকষাকষির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, সেটা আমার ধারণা ইতিবাচকের বদলে নেতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
গত পাঁচ আগস্টে দিল্লিতে যে কাণ্ডটা (প্রেস ব্রিফিং) ঘটলো, তারপর আপনি রিঅ্যাকশনটা যদি খেয়াল করেন। এরকম ভাষায় প্রতিবাদ আমি কখনো দেখিনি। কীরকম বিক্ষুব্ধ হলে এমন প্রতিবাদের ভাষা আসতে পারে। এটা তো সরকারি পর্যায়ে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যারা আছেন, তারাও কিন্তু সরব প্রতিবাদ করেছেন।
এম হুমায়ুন কবীর বলেন, এখানে ভারত দরকষাকষি করেছে সেটা বলবো না। (শেখ হাসিনাকে ব্রিফিং করার) একটা সুযোগ হয়তো করে দিয়েছে। কিন্তু এ সুযোগ করে দেয়ার রিঅ্যাকশনটা আপনি পেয়েছেন। কাজেই এটা কিন্তু একটা ইন্ডিকেটর এটা বোঝার জন্য যে, ফারদার এটা নিয়ে মুভ করতে গেলে কীরকম রিঅ্যাকশন হতে পারে।
শেখ হাসিনা শেষপর্যন্ত কী করবেন সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে তার সমীকরণ যেমনটাই হোক, এটা স্পষ্ট যে, ফেরার সময়সীমা ঘোষণার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার জন্য নতুন করে একটা রাজনৈতিক ঝুঁকিও বটে।
বিশেষ করে ঘোষণা দিয়ে দেয়ার পর তিনি যদি না ফেরেন, তাহলে সেটা দলকে পুনরুজ্জীবিত করা তো দূরের কথা বরং সেটা নতুন সংকটের কারণও হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চলতি শীত মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ১ নভেম্বর প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদীর অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসে ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়। অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে। অক্টোবর মাসে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়। এ ছাড়া অক্টোবরের বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। সিলেটে ১৭ অক্টোবর ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়। মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বর মাসে দেশের মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিভাগভেদে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার এ পূর্বাভাস তৈরিতে প্রাপ্ত আবহাওয়া উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষণ, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে মুরাসু। এটি প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সর্বশেষ আপডেটে এমনটাই জানিয়েছে আইএমডি বা ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থা। আর এই ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের ওপর। সোমবার কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় মেঘলা থাকতে পারে আকাশ। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আর সময় নষ্ট না করে ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট থেকে শুরু করে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার বিষয়ে বিশদে জেনে নিন। সকালের আইএমডি জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর থাকা ঘূর্ণিঝড় মুরাসু গত ৬ ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। শক্তি বাড়িয়ে এটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে, অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে ২৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, মাচিলিপত্তনম থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৩১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, ওঙ্গোল থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। আবহাওয়া দপ্তরের দাবি, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে। আগামী ২ নভেম্বর মধ্যরাত (রাত ১১টা ৩০ মিনিট) থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। নির্দিষ্ট করে বললে, নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যে, ওঙ্গোলের কাছাকাছি উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। যখন ঝড়টি উপকূল অতিক্রম করবে, তখন ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। এছাড়া দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এটাই হল মুরাসুর লেটেস্ট আপডেট। এই বিষয়েও আপডেট দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তারা জানিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির মতো জেলাগুলোতে সোমবারও বৃষ্টি হতে পারে। তবে টানা নয়, বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। ওদিকে আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও আবহাওয়া থাকতে পারে একই রকম। সেই সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। ওদিকে আবার এক-দুই জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায়। আবার পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলাতেও সকালের দিকে হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে। এই বিষয়েও আপডেট চলে এসেছে। ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর উত্তরবঙ্গেও প্রভাব ফেলবে। একাধিক জেলাতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরে বিরল প্রজাতির ‘ব্যারেলআই’ মাছের দেখা পেয়েছেন একদল বিজ্ঞানী। মাছটির মাথা পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়ায় বাইরে থেকেই এর ভেতরের সবুজ চোখ দেখা যায়। মন্টেরে বে অ্যাকুরিয়াম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এমবিএআরআই) গবেষকেরা সম্প্রতি একটি সামুদ্রিক অভিযানের সময় মন্টেরে ক্যানিয়ন থেকে প্রায় ৫৫ মাইল দূরে মাছটির সন্ধান পান। গবেষক দলটি ‘ডেভিড প্যাকার্ড’ নামের একটি জাহাজে করে সমুদ্রের গভীরে তল্লাশি চালাচ্ছিল। গভীর সমুদ্রের প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ করতে তারা ‘ডক রিকেটস’ নামের রিমোট নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করেন। পানির প্রায় ১ হাজার ৯৭০ ফুট গভীরে মাছটি বিজ্ঞানীদের চোখে পড়ে এবং তারা প্রায় ২০ মিনিট ধরে এটিকে ক্যামেরায় ধারণ করেন। ভিডিওতে মাছটিকে পানির নিচে ভাসতে দেখা যায়। স্বচ্ছ মাথার ভেতর দিয়ে এর সবুজ চোখগুলো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। বিজ্ঞানসম্মতভাবে ‘ম্যাক্রোপিন্না মাইক্রোস্টোমা’ নামে পরিচিত এই মাছটি লম্বায় প্রায় ছয় ইঞ্চি হয়ে থাকে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৬০০ ফুট নিচে গোধূলি ও অন্ধকার অঞ্চলে এদের বসবাস। গভীর পানিতে বাস করার কারণে এই মাছ সচরাচর দেখা যায় না। এমবিএআরআইয়ের গবেষকেরা ৪০ বছরের সমুদ্র গবেষণায় মাত্র ১০ বার এই প্রজাতির দেখা পেয়েছেন। মাছটির স্বচ্ছ মাথার কারণেই এর চেহারা এতটা অনন্য। দলের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী স্টিভেন হ্যাডক একে একটি ‘অবিশ্বাস্য সৃষ্টি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, দেখে মনে হয় যেন কোনো কল্পনাবিলাসী শিশুর হাতে গড়া। তিনি জানান, আগে মাছ ধরার জালে আটকে পড়া এই মাছগুলোর যে ছবি আঁকা হতো, সেগুলোতে স্বচ্ছ মাথার অংশটি থাকত না। ফলে ছবিটি যে একই প্রজাতির, তা বোঝা কঠিন হতো। তাই স্বচ্ছ মাথাসহ মাছটিকে জীবন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়াটা তাদের জন্য সত্যিই বড় পাওয়া ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।