ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি থেকে সরে এসেছে। এ কারণে ১১ দলীয় জোট থেকে অন্যান্য ইসলামি দলগুলোকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইসলামপন্থি দলগুলোর জন্য আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে।
জামায়াতকে নিয়ে অভিযোগ তুলে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে কথা বলছেন। এর অর্থ হলো—জামায়াত সমঝোতার নির্বাচনের পথে হাঁটছে। দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছিল, কিন্তু এতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
ইসলামের নীতি থেকে জামায়াত সরে এসেছে দাবি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলটি জানিয়েছে, তারা ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে। বাকি আসনগুলোতে বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো ধরনের আসন সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়েছে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, সামনে আমাদের পথচলা হয়তো মসৃণ নাও হতে পারে, কারণ আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি না। আমাদের মূল লক্ষ্য ইসলাম। আমরা নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করি। নীতি, আদর্শ ও ইনসাফের প্রশ্নে আমরা নানা বৈরিতার শিকার হয়েছি।
তিনি আরও জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। এর মধ্যে আপিলে দুজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তারা কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না এবং সবাই নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আজ। সেই লক্ষ্যে সারাবিশ্ব থেকে আগত হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পরই হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে মুসল্লিরা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন। শরীয়তের বিধান অনুসারে, হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর হতে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওয়ানা দিবেন হাজিরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজিরা এবং শুধু বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কুরবানি দেবেন ও মাথা মুণ্ডন কিংবা চুল ছোটো করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা। চলতি বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বাংলাদেশ থেকে এ বছর সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করতে সৌদি আরব গেছেন। এদিকে হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন, এ বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থাগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে আল্লাহর মেহমানরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ পালন করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই সংখ্যা পার হয়ে যাওয়ায় এবারের হজ গত বছরের তুলনায় হতে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রোববার (২৪ মে) ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা যায়। ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ বিকৃত করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এদিকে শনিবার (২৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রামিসাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান তিনি। পরে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই কক্ষে ছিলেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, নিহত রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকালে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ চলছে। সোমবার অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত কমিটির এক বৈঠকে সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের আগামী বাজেট অধিবেশনের আগে এই মন্ত্রিসভার একটি কাঠামো দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসার পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলে আসছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা আছে। তারা সরকারকে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে থাকে। বাংলাদেশের বিরোধী দল এ ধরনের উদ্যোগ নিলে তা রাজনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমান জাপান সফরে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সভায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশে ফেরার পর তিনি আবারও বিষয়টির দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সোমবার অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছায়া মন্ত্রিসভার একটি সম্ভাব্য তালিকা ছড়িয়ে পড়লেও দলীয়ভাবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রায় সবাই এতে যুক্ত হবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতারাও এই কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। সম্ভাব্য তালিকায় দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, আব্দুল হালিম এবং এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-সহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের অনেক সদস্যের নাম রয়েছে। এছাড়া ছাত্রশিবিরের সাবেক কয়েকজন কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। একাধিক অমুসলিম প্রতিনিধিকেও এই কাঠামোয় রাখার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা করব—এ কথা আগেই জানিয়েছি। এখন এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমিরে জামায়াত এ ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস।” দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “বাংলাদেশে যেহেতু এই ধারণাটি নতুন, তাই আমরা বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছি। তাড়াহুড়া করছি না।” তিনি জানান, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন করে ছায়ামন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী থাকবেন। তারা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন, অসংগতি চিহ্নিত করবেন এবং প্রয়োজন হলে পরামর্শ বা বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তিনি আরও বলেন, “ছায়া মন্ত্রিসভা শুধু সরকারের সমালোচনার জন্য নয়; এটি একটি বিকল্প শাসন-প্রস্তুতির কাঠামো। এতে সংশ্লিষ্ট নেতারা প্রশাসনিক বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তা সহজ হবে।” ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন হলেও বিশ্বের বিভিন্ন সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য-এর ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক ছায়া মন্ত্রিসভা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ড-সহ বিভিন্ন দেশেও এ ধরনের কাঠামো রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভা সংসদীয় গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং বিকল্প নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি বিরোধী দলকে কেবল সমালোচকের ভূমিকায় সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগও তৈরি করে।