অন্যান্য

জাবিতে ২০ বছরেও সৃষ্টি হয়নি নতুন চিকিৎসক পদ, অবকাঠামোগত উন্নয়নও স্থবির

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০২, ২০২৬


দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারটি প্রায় দুই দশক ধরে চলছে একই কাঠামো ও জনবল দিয়ে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারসহ বছরে কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসা চাহিদা সামলালেও গত ২০ বছরে এখানে নতুন কোনো চিকিৎসক পদ সৃষ্টি হয়নি, হয়নি উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়নও।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে সর্বশেষ চিকিৎসক পদ সৃষ্টি করা হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেলেও চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়েনি।

বরং একই জনবল দিয়েই বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা ও তিন শিফটে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার চেষ্টা চলছে। ফলে সীমিত কাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে চিকিৎসাসেবায়, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
চিকিৎসা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়মিত ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। অথচ অনুমোদিত চিকিৎসক পদের সংখ্যা ১১টি, যার মধ্যে একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

আরেকটি পদ পরিবর্তন করে রাত্রিকালীন ডিউটির জন্য খণ্ডকালীন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সহকারী নার্স রয়েছেন মাত্র চারজন। তার মধ্যে আর একজন রয়েছেন দিন-মজুরি হিসেবে। তাছাড়া ফার্মাসিস্ট ছয়জন, আয়া একজন ও ক্লিনার তিনজন।

রোগী পরিবহনের জন্য মাত্র সাতজন ড্রাইভার দিয়ে তিন শিফটে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে স্বীকার করছেন সংশ্লিষ্টরাই।

একই সঙ্গে রেডিওলজি, ইসিজি ও ডেন্টাল ইউনিট চালুর প্রয়োজন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে তা কার্যত অচল। ২০২০-২১ সালের দিকে ইসিজি মেশিন ক্রয় করা হলেও দক্ষ নার্স না থাকার কারণে সেটি এখনো চালু হয়নি।

সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ আসবাবপত্রসহ অনেক মেশিন চলছে অনুদানের টাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা জানান, মেডিক্যাল থেকে তারা বারবার উপাচার্য বরাবর বাজেট এবং লোকবল নিয়োগের জন্য চিঠি দিলেও তা প্রশাসন আমলে নেননি।

এদিকে ২০০৫ সালে জাবিতে আবাসিক হল ছিল ৯টি, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১টিতে। বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৭টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যাও চার গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে মেডিক্যাল সেন্টারের জন্য কোনো নতুন ভবন, শয্যা সম্প্রসারণ বা আধুনিক ডায়াগনস্টিক ইউনিট স্থাপন হয়নি।

মেডিক্যাল সূত্র জানায়, মেডিক্যালের ডাক্তার এবং স্টাফ থেকে তিন লাখের অধিক টাকা চাঁদা তুলে মেডিক্যালের বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে সেবা দেওয়া মেডিক্যাল ভবনটি ২০১৪ সালে উদ্বোধন করা হয় একতলা নিয়ে এবং এর দ্বিতীয় তলা তৈরি করা হয় ২০১৮ সালে।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালের সংকট গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওষুধ। আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু কয়েক ধরনের ওষুধ শুধু পাওয়া যেত। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে কোনো রোগের জন্য মেডিক্যালে গেলেই দেওয়া হতো নাপা। এই নিয়ে শিক্ষার্থীরা নানা সময় আওয়াজ তুললেও কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওষুধ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

জাকসু এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে নতুন একটি ওষুধ ক্রয় কমিটি গঠনের পর একই বাজেট কাঠামোর মধ্যে ওষুধের আইটেম সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

প্রথম ধাপে ৬ লাখ টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ইতোমধ্যে চার লাখ ২১ হাজার টাকার ৫৩ প্রকার ওষুধ কেনা হয়েছে। বাকি ৩২ প্রকার ওষুধ আসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তালিকায় যুক্ত হয়েছে উন্নতমানের অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশন, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও গ্যাস্ট্রিকের ওষুধসহ টিটেনাস ও র‍্যাবিস ভ্যাকসিন—যা আগে কখনো ছিল না।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে একই বাজেটে জাকসু ওষুধ সংখ্যা বাড়ালেও তা দীর্ঘস্থায়ী সেবা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।

চিফ মেডিক্যাল কর্মকর্তা বলেন, ‘একই বাজেটে বেশি আইটেম যুক্ত করলে প্রতিটি ওষুধের পরিমাণ কমে যায়। এতে মাসজুড়ে ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ বৈচিত্র্য বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সরবরাহের সংকট থেকেই যায়।’

জানা যায়, চলতি বছরে মেডিক্যালের ওষুধ এবং যন্ত্রাংশ সচল ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মেডিক্যাল থেকে যে বাজেট চাওয়া হয়েছিল সে পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ হয়নি।

মেডিক্যালের নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে মেডিক্যালের যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেড় লক্ষ টাকার চাওয়ার বিপরীতে বরাদ্দ এসেছে এক লাখ টাকা, ওষুধ ও ড্রেসিং দ্রব্যাদির জন্য চাওয়া ৬০ লাখ টাকার বিপরীতে বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ২৬ লাখ টাকা যা আগে ছিল ২৪ লাখ টাকায়। এছাড়া প্যাথলজি কীটস ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৩ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে চারটি। তার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য রয়েছে তিনটি, অপর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট সংরক্ষিত।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জরুরি সময়ে ঠিকমতো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। কখনো কখনো তিন থেকে চার ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তারা এই সমস্যার সমাধান চান।

অ্যাম্বুলেন্স সংকটের কারণ হিসেবেও লোকবল সংকটকে দায়ী করছে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ।

প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি ২০০০ সালে দেখেছি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে তিনটি। বর্তমানে ২০২৫ সালেও অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা তিনটি।’

এছাড়া তিনি জানান, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার রয়েছেন সাতজন। যাদের কেউ কেউ মাঝে মাঝে একাধারে ডিউটি করা লাগে। এভাবে সাধারণ একজন মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এত বিশাল একটা কমিউনিটিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স এবং সাতজন ড্রাইভার দ্বারা সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য খাত থেকে মেডিক্যাল খাতটা তুলনামূলক বেশি অবহেলিত।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে বাজেট অনুমোদন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অরগানোগ্রাম বেশ পুরোনো। এখনো ২০০৫ সালে তৈরি হওয়া অরগানোগ্রামে এটি চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অরগানোগ্রামের কাজ চলছে, আশা করি শিগগিরই তা শেষ হয়ে যাবে। নতুন অরগানোগ্রাম হয়ে গেলেই আশা করি আমরা আরেকটু সুযোগ-সুবিধা পাব।’

এদিকে গোপন একটি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে নাগাত আসতে পারে সে সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস

সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মির্জা আব্বাস এখন অনেকটা সুস্থ। মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি দেশে ফিরছেন।   বিস্তারিত আসছে...

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৫ জেলায় সংঘর্ষ, আহত শতাধিক

ছবি: সংগৃহীত

এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ কী, কেন বিমানবন্দরে আলাদা হচ্ছেন দম্পতিরা?

ছবি: সংগৃহীত
ডিসেম্বরে আ.লীগকে ফেরানোর ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত-এনসিপি : রাশেদ খাঁন

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যৌথভাবে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা এবং জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা একই ষড়যন্ত্রের অংশ।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   রাশেদ খাঁন বলেন, ১৯৯৬ সালের মতো আবারও আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মাঠে নামার ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করতেই এ অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   সাম্প্রতিক আলোচিত ‘মক্কা সামরিক চুক্তি’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল চুক্তিটির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। দেশের জনগণের একটি বড় অংশও এতে ইতিবাচক। দেশের সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক নীতি ও সামগ্রিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।   ডাকসুর জিএস পদ ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, তৎকালীন নির্বাচনে ভিপি পদে নুরুল হক নুর এবং জিএস পদে তিনি জয়ী হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের ইশারায় তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। পদ ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাজারো শিক্ষার্থীর ভোটাধিকারকে সম্মান জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলে ফেরার বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, যারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে দলে ফিরতে চাইবে, দলীয় হাইকমান্ড তাদের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

দুই মন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সাভারে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়ে যে কথা শুনলেন আমির হামজা

কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বলেছেন, ডিসি, এসপি বা ইউএনও—কারও কাছে তিনি কোনো অবৈধ সুপারিশ করবেন না। তিনি যা নিয়েই যান, তা জনগণের উপকারের জন্যই নিয়ে যান, যাতে জনগণ শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে আমির হামজা হাসতে হাসতে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সবাই দেখা করেছে, আমিও হাত মেলাতে গেছি। আমাকে তিনি বলেছেন, আপনিও তো প্রধানমন্ত্রী। আমি বললাম, এটা তো আমি রূপক অর্থে বলেছি।’ এ বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার কথা হলো, একটা দেশে প্রধানমন্ত্রী কয়জন থাকে! কুষ্টিয়া তো একটা দেশ নয়; একটা জেলা। এক আসনে প্রধানমন্ত্রী হয় কেউ! পাগলেও তো বলবে, এটা রূপক অর্থে বলা হয়েছে।’ হলফনামার প্রসঙ্গ টেনে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘হলফনামা দিয়েছি, পাঁচ বছরে আমার একটি টাকাও বাড়বে না। সুতরাং, আপনার কাছে অন্য কোনো আবদার নিয়ে আসব কেন!’ প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাজের জবাবদিহিতা নিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মুফতি আমির হামজা বলেন, ‘আমাদের ঘোষণা, যারা জনগণের জন্য কাজ করবে না, তাদের আমি রাখব না। বিকালে দুই ওসি-এসপি পাল্টিয়ে দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলাম। যদি না ধরেন, তাহলে ঘেরাও দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে ডিসি-এসপিরা ঝাড়িমারা কথা বলত, আর এখন কথা বললে ৬০ সেকেন্ডের ৪০ সেকেন্ড স্যার স্যার করে। কারণ, তিনি জানেন যে কিছু হলেই ১০ হাজার মানুষ দিয়ে ঘেরাও দিলে আমি আর থাকতে পারব না। তারা জানেন, আমি কোনো খারাপ আবদার নিয়ে আসব না।’ সারা দেশে এই ব্যবস্থা চালু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা যদি সারা বাংলাদেশে এই সিস্টেমটি চালু করতে পারি, সাড়ে চার বছর এখনও সময় আছে, এই সময়ে আল্লাহ এই জমিনটি আমাদের জন্য অনুকূল করে দেবেন।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

৭ বছর ৫ মাস পর ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস ঘোষণা রাশেদ খাঁনকে

ছবি: সংগৃহীত

এনএসআইয়ের সাবেক ২ কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা ক্লাবের ডেটা হ্যাক ও চাঁদা দাবি: সিইও রনি সিকদার রিমান্ডে

0 Comments