সারাদেশ

এলপি গ্যাসের বাজারে সিন্ডিকেট, দামে আগুন

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০২, ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জে এলপি গ্যাসের বাজার কার্যত সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকারি ও কোম্পানি নির্ধারিত মূল্যকে তোয়াক্কা না করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে একপ্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১২০০ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ২০০০ থেকে ২১০০ টাকায় ঠেকেছে।

 

রান্নার মতো অতি প্রয়োজনীয় জ্বালানির এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে কেরানীগঞ্জের আটি বাজার, কলাতিয়া, রোহিতপুর, হাসনাবাদ, আগানগর, কালিন্দী, জিঞ্জিরা ও শুভাঢ্যা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একই কোম্পানির গ্যাস একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১৯৫০ টাকা, আবার পাশের দোকানেই ২১০০ টাকা। অধিকাংশ দোকানে কোনো মূল্য তালিকা নেই, কোথাও থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ক্রেতারা দাম জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতারা সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন— ‘নিতে হলে এই দামেই নিতে হবে’।

খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন বড় ডিলার ও পরিবেশকদের ওপর। তাদের ভাষ্য, বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়েই দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া ও পরিবহনসহ আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়াই সমস্যার মূল কারণ।

স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক সংকট নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটি কৃত্রিম সংকট। সব এলাকায় প্রায় একই সময়ে দাম বৃদ্ধি, সাপ্লাই কমে যাওয়া এবং ‘গ্যাস নেই’ বলে ভোক্তাদের ভয় দেখানো— সব মিলিয়ে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের কারসাজির দিকেই ইঙ্গিত করছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের বাইরে গ্যাস বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কেরানীগঞ্জে তার কোনো কার্যকর প্রয়োগ চোখে পড়ছে না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার শাক্তা ইউনিয়নের হিজলা স্কুলের পাশে সজল স্টোরের মালিক খুচরো গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা সমশের আলি জানান, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ডিলারের নিকট হতে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বিক্রি করে আসছি। কিন্তু এখন কোনো ডিলারের কাছেই গ্যাস পাচ্ছি না। গ্যাসের কথা বললেই গ্যাস নাই বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

কেরানীগঞ্জ এলপি গ্যাস ডিলার সমিতির সভাপতি নুর আলম আখি কালবেলাকে বলেন, সারা দেশের এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলো গ্যাস আমদানিতে সমস্যায় পড়েছে। ফলে আমাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিচ্ছে না। দিনের পর দিন মংলায় আমাদের গাড়ি বসে থাকে কিন্তু গ্যাসের খবর নাই। যেখানে আগে আমাকে ৮ হাজার বোতল গ্যাস দেওয়া হতো, এখন সেখানে মাত্র ২৫০০ থেকে ৩০০০ বোতল দেওয়া হচ্ছে। ডিলারশিপ চালাতে আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় আগের মূল্যের সঙ্গে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বাড়তি নিয়ে আমরা সমন্বয় করছি। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা মাত্রাতিরিক্ত লাভ করায় বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস) রুকুনুজ্জামান কালবেলাকে জানান, গত ১৩ দিন ধরে আমরা কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছি না। দেশের বেশিরভাগ এলপি গ্যাস কোম্পানিরই একই অবস্থা। আমাদের কাছে যে পরিমাণ গ্যাস ছিল, তা সরকার নির্ধারিত দামেই সরবরাহ করা হয়েছে। শীতের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তার সঙ্গে আমদানিতে বিভিন্ন সংকট সৃষ্টি হওয়ায় এই পরিস্থিতি।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক কালবেলাকে বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে জনভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকলে এই লুটপাট বন্ধ হবে না। দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় রান্নার আগুনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আগুনও যে জ্বলে উঠবে, সে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
মানিকগঞ্জ ডিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় কথা বলেন মন্ত্রী আফরোজা খান রিতা
আপনার নেগেটিভ মাইন্ড, আপনাকে নিয়ে আগাতে পারব না: এক্সেনকে মন্ত্রী

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সেন) আজিজ খানকে উদ্দেশ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খান রিতা বলেছেন, ‘আপনাকে নিয়ে আগাতে পারবো না। আপনার যে কথাবার্তা, আপনার যে মেন্টালিটি, আপনি এই মানিকগঞ্জের জন্য কিছুই করতে পারবেন না। আপনি যে নেগেটিভ মাইন্ডে শুরু করেছেন; এই নেগেটিভ মাইন্ডের লোকদের কখনও পজিটিভ করা যায় না। সুতরাং এই বিষয়ে আমার অ্যাকশন নিতে হবে।’ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই ভালো লোক আসুক, ডাইনামিক লোক আসুক। যে সাহস নিয়ে কাজ করতে পারবে। সরকারি লোকদের তো চাকরি যাবার ভয় থাকে না, ম্যাক্সিমাম ওএসডি হয়। তাহলে তার কাজ করতে অসুবিধা কী? সরকারি লোকদের তো আরও অ্যাকটিভ হতে হবে। সরকারি লোক কেন অ্যাকটিভ হবে না? আমার জনগণের টাকায় আপনার বেতন হয়। আমার জনগণ সেবা পাবে না আর আপনারা নিশ্চিন্তে বসে কাজ করে যাবেন, তা হবে না। এটি আমরা কেউ মেনে নেবো না।’ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানাকে উদ্দেশ করে আফরোজা খান রিতা বলেন, ‘সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে টেন্ডারের কাজগুলো সব পড়ে আছে। এটা অনেক বেশি খারাপ অবস্থায় আছে, যেখানে প্রতিটা মুহূর্তেই জনগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যারা সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারবে না তাদের ব্ল্যাক লিস্ট করে দেবেন।’ এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সেন) মো. আজিজ খান বলেন, ‘সরকার দলীয় লোকজন ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত, আমি কি এখন তাদের সঙ্গে পারবো। মূলত তিনি (মন্ত্রী) আমাকে শক্ত হবার জন্য বলছে। এখানে সিস্টেমে যেতে হবে, এসেই তো কিছু করা যাবে না। এখন সব ভেবে চিনতে পা ফেলা লাগবে। মানুষ বলে পারবো কিন্তু দুই বছর ধরে কেউ পারছে না। দুই বছর ধরে না পেরে ইঞ্জিনিয়ার একাধিকবার চেঞ্জ হয়েছে। গ্যাঞ্জাম লাগলে সবসময় লোকাল লোকদের পক্ষেই বেশি রায় দেয়। মন্ত্রী ম্যাডাম, ডিসি ম্যাডাম, প্রশাসক ম্যাডাম ঠিকাদারকে ডেকে নিয়ে বলছে, তাদের কথা শোনে না। এখানে আমি কতটুকু পারবো? আমি একটু সত্যি কথা বলি তো, সত্যি কথা সবসময় বলা যায় না।’

মারিয়া রহমান জুন ১৫, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, নদী থেকে লাশ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার মৌলভীবাজার যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ১৬ বছরের বঞ্চনা ঘোচানোর আশা জেলাবাসীর

ছবি: সংগৃহীত
রূপগঞ্জে ময়লার ভাগাড় উচ্ছেদ, গাছ লাগালেন প্রতিমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ করে বালু ফেলে গাছের চারা রোপণ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে সবুজায়নের বিকল্প নেই। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো ময়লার ভাগাড় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপসারণ করতে হবে।   রোববার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া সড়কের পাশে গড়ে ওঠা আবর্জনার স্তূপ আংশিক অপসারণ ও বালু ভরাট করে ফুল, ফলদ, ওষুধি ও বনজ গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া (দিপু), রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাজি বাছির উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।   প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘শুধু ময়লার স্তূপ অপসারণ করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এসব স্থানে আবার বর্জ্য ফেলা না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। পরিবেশ রক্ষার এই আন্দোলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’   সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ শুধু সৌন্দর্যহানি নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। আজকের এই উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও সবাইকে নিতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব নয়।   রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারী, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসী অংশ নেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভুলতা গাউছিয়ার ময়লা-আবর্জনার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ শেষে বালু ভরাট করে সেখানে গাছের চারা রোপণ করা হবে। পরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের আংশিক সরিয়ে বালু ভরাট করে সেখানে গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি এমপির বাড়ির পর হাসপাতালসহ দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরি

ছবি: সংগৃহীত

মসজিদের ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি, আহত ২ মুসল্লি

ছবি: সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড ‘পাবেন না’ যারা

ছবি: সংগৃহীত
দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা বাগেরহাটের যুবকের

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় দুধ দিয়ে গোসল করে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী।   উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির বটতলা এলাকার বাসিন্দা শেখ খালিদ হাসান তারেকের (৩০) এমন কাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়েছে।   তারেক শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ২০১১ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঢাকায় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। বিগত জাতীয় নির্বাচনেও তিনি বুড়ির বটতলা কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর এজেন্ট ছিলেন।   কিন্তু দলে মূল্যায়ন পাইনি। মন্দির পাহারা দেওয়া নিয়ে আমি আপত্তি জানাইছিলাম। তাই নিয়ে ইউনিয়ন আমিরের সঙ্গে আমার একটা বিরোধ হইছিল। তার পর থেকে আমারে একটু অবহেলার পাত্র হিসেবে রাইখে দিছে। তাই ক্ষোভে-দুঃখে আমি ভাবলাম আর কী দল করবো? তখন সিদ্ধান্ত নেই, দুধ-পানি দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করব। প্রয়োজনে আর কোনো দলই করবো না।   তিনি বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে বুড়ির বটতলা এলাকায় সড়কের পাশে দুধ দিয়ে গোসল করে ভিডিও ধারণ করি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেই। ওই ভিডিওতে তারেককে বলতে শোনা যায়, “প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ করব, তো জামায়াত আর করব না। দল ত্যাগ করে দিছি, জামায়াত ইসলাম করতাম সারা জীবন। তবে তারেকের দাবির বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ফকিরহাট উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি আবুল আল মাসুম। তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তিনি জামায়াতকে ভালোবাসতেন মাত্র।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা, প্রথম স্ত্রীর ফোনে সব পণ্ড

বাগানে বিভিন্ন জাতের আম দেখাচ্ছেন রেজাউল করিম খন্দকার

মৌলভীবাজারে রেজাউলের শখের বাগানে ৫০-এর বেশি জাতের আম

ছবি : সংগৃহীত

ফতুল্লায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগের ২৭ জনের নামে মামলা

0 Comments