ইথিওপিয়া দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শহরমুখী মানুষের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের চাহিদাও তীব্র হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নেওয়া একটি নগর উন্নয়ন কর্মসূচি দেশটিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ইথিওপিয়া আরবান ইনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউআইআইডিপি)–এর আওতায় দেশের ১১৭টি শহরে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ৬৬ লাখ শহরবাসী।
ইথিওপিয়ার শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০১২ সালে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় কোটি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪ কোটি ২০ লাখ ছাড়াবে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইউআইআইডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাংক, ইথিওপিয়া সরকার এবং ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় প্রকল্পটিতে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
প্রকল্পটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। প্রশিক্ষণ ও আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরগুলোর রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। এর ফলে স্থানীয় সরকারগুলো নিজেরাই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষম হচ্ছে।
এর সুফল হিসেবে অনেক শহরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অর্থ দিয়ে নতুন সড়ক, নাগরিক সেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে শহরগুলোর আর্থিক স্বনির্ভরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ছিল প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। জনপরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করা হয়। এতে শহর প্রশাসনে নারী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন ছিল কর্মসূচির প্রধান কাজ। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি পরিকল্পিত নগর জমি উন্নয়ন করা হয়েছে।
এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি অস্থায়ী এবং ২ লাখের বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব চাকরির প্রায় অর্ধেকই পেয়েছেন নারীরা।
উন্নত সড়ক ও নগর সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা দ্রুত গড়ে উঠছে। শহরগুলো বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করছে।
করোনা মহামারি ও বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের মধ্যেও প্রকল্পটির কাজ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। নমনীয় পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ার এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন কর্মসংস্থানের বড় উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে এবং সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের মাকরান উপকূলে অবস্থিত চাবাহার বন্দরের একটি সামুদ্রিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। শুক্রবার (১৭ জুলাই) তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান জানায়, মার্কিন বাহিনী তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে সম্পূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এতে বন্দরের সামুদ্রিক নজরদারি ও নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত টাওয়ারটি ধ্বংস হয়ে যায়। ইরানের দাবি, এই হামলার ফলে শুধু জেলেদের জীবিকাই হুমকির মুখে পড়েনি, বরং ওই অঞ্চলে বেসামরিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে এই হামলা পশ্চিমা দেশগুলোর ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও নীতিমালার প্রতি ওয়াশিংটনের অবজ্ঞার আরেকটি উদাহরণ। তবে এ হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৃহস্পতিবার পূর্ব চীনের শাংহাইয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও পাকিস্তান সরকারের পক্ষে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডব্লিউএআইসিও) প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে ইসহাক দার বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন। ওয়াং ই বলেন, ডব্লিউএআইসিও-তে পাকিস্তানের যোগদান দেশটি ও এর জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল বৃহৎ দেশ হিসেবে চীন সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে মিলে এ সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। যেন সব দেশ, বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারে। জবাবে ইসহাক দার বলেন, ডব্লিউএআইসিও প্রতিষ্ঠা চীনের প্রস্তাবিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তিনি বলেন, এই সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে পাকিস্তান গর্বিত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন এগিয়ে নেবে। সূত্র: সিএমজি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অব্যাহত পালটাপালটি হামলার প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বেড়েছে। খবর আল জাজিরার। শুক্রবার (১৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের ওপরে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়ে প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে আগের দিনের দামের পতন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠেছে বাজার। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রেন্ট টানা তৃতীয় সপ্তাহ এবং ডব্লিউটিআই টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে। এদিকে, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার সকালে এশিয়ার কয়েকটি দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন নিম্নমুখী ছিল। জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই ২২৫ ৩ শতাংশের বেশি কমে দিনের লেনদেন শুরু করেছে। এদিকে, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের বান্দার-ই খামির সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ আরও জানিয়েছে, আহতদের জরুরি সেবা ও চিকিৎসাকর্মীরা চিকিৎসা দিচ্ছেন। হামলার পর এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহতের বিষয়টি স্বীকার করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া হামলার বিস্তারিত কারণ বা নিহতদের পরিচয়ও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।