ইরানের সঙ্গে জড়িত আরও ৯টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরকারের বিরুদ্ধে নতুন দফায় নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাহাজগুলো শ্যাডো ফ্লিটের অংশ হওয়ায় তাদের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস নয়টি জাহাজসহ এর মালিক ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নৌযানগুলো ব্যবহার করে বিদেশে লাখ লাখ ডলারের তেল রফতানি করছে তেহরান যা থেকে আয়ের অর্থ মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে নাগরিকদের দমন-পীড়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তেহরানের অর্থ জোগানোর ক্ষমতা সীমিত করবে।
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইরানি শাসকরা বর্তমানে আত্মঘাতী পন্থা অবলম্বন করছে। নিজ দেশের জনগণের চেয়ে সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেওয়ার তেহরানের সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানকে তলানিতে ঠেলে দিয়েছে। আজকের এই নিষেধাজ্ঞা ইরানের সেই আয়ের উৎসে আঘাত হানবে, যা তারা নিজ দেশের মানুষকে দমনে ব্যবহার করে।'
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য দায়ী ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ট্রেজারি বিভাগ।
এছাড়াও কিছুদিন আগে ইরানের পাশাপাশি ভেনিজুয়েলা থেকে তেল পরিবহনকারী ট্যাঙ্কারগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির তেলের ওপর অবরোধ কার্যকর করতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্তত সাতটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় বিশ্বের বড় বড় এয়ারলাইনস বিভিন্ন দেশে ফ্লাইট স্থগিত বা কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী অনেক ফ্লাইট এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই, বাগদাদ, এরবিল, তেল আবিব, বৈরুত, দোহা, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করেছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। গ্রিসের এজিয়ান এয়ারলাইনস আগস্টের শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ের ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে ইরাকের বাগদাদ ও এরবিল রুটেও জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। তুরস্কের পেগাসাস এয়ারলাইনস ইরাক, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে। জার্মানির লুফথানসা গ্রুপও বাগদাদ, তেহরান, বৈরুত, দুবাই ও রিয়াদসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধের সময়সীমা বাড়িয়েছে। এছাড়া এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম, জাপান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও এয়ার কানাডাও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল বা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন প্রদেশের একটি কাগজের কারখানায় রাসায়নিকের একটি ট্যাংক বিস্ফোরণে একাধিক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) ওয়াশিংটনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে এবিসি টেন ও সিবিএস নিউজ। এক যৌথ বিবৃতিতে নিপ্পন ডিনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানি ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, এ ঘটনায় একাধিক গুরুতর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলে, এখনও সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। হতাহতদের পরিবারের সম্মতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত আহত বা নিহতের কোনো তথ্য এখন প্রকাশ করা হবে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। জানা গেছে, তাৎক্ষণিক উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে আহতদের লংভিউ ও ভ্যাংকুভারের হাসপাতালগুলোতে নিয়ে গেছেন। বিস্ফোরণ হওয়া ট্যাংকটিতে কী ধরনের রাসায়নিক ছিল সে বিষয়টি এখনও জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ৪০ জন ফায়ারফাইটার ও প্যারামেডিক গেছেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৯ মিনিটে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
নতুন বিমান হামলার আগে কিয়েভে অবস্থানরত বিদেশি ও কূটনীতিকদের দেশ ছাড়তে রাশিয়ার হুমকির পরদিন জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের রুশ রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র আনিতা হিপার রাশিয়ার কূটনীতিক ও বিদেশি নাগরিকদের প্রতি হুমকিকে "গ্রহণযোগ্য নয় এমন উত্তেজনা বৃদ্ধি" বলে আখ্যায়িত করেন। হিপার এক পোস্টে আরও জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে এবং মস্কোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে "বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং পূর্ণ ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতি দিয়ে আসল শান্তি আলোচনা শুরু করতে"। মে মাসের শুরুতে রাশিয়া ও ইউক্রেন ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে বিজয় উদ্যাপনের জন্য মস্কোর তিন দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তবে দুই পক্ষ পরস্পরকে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে দ্রুতই যুদ্ধ পুনরায় শুরু করে। সোমবার মস্কো জানায়, সপ্তাহান্তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র হামলায় চারজন নিহত হওয়ার পর কিয়েভে আরও হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে তারা। রাশিয়ার হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে ছিল ওরেশনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের গতির ১০ গুণ বেগে উড়তে পারে। এই হুমকি এলো রাশিয়ার দখলকৃত লুহানস্ক অঞ্চলে গত সপ্তাহে একটি পেশাগত বিদ্যালয়ে হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করার পর। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার এই হামলার জবাব দিতে সামরিক প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। "বর্তমান পরিস্থিতিতে, রুশ সশস্ত্র বাহিনী কিয়েভের সামরিক-শিল্প সুবিধাগুলোতে পরিকল্পিত হামলা শুরু করছে," সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়। "হামলাগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্র ও কমান্ড পোস্টগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করবে... আমরা বিদেশি নাগরিক, কূটনৈতিক মিশনের কর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীদের যত দ্রুত সম্ভব শহর ছেড়ে যাওয়ার সতর্ক করছি," এতে আরও বলা হয়। কিন্তু দেশ ছাড়ার আহ্বানের জবাবে জার্মানির ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার জানায়, মস্কো "হুমকি, সন্ত্রাস ও উত্তেজনা বৃদ্ধিতে" অবতীর্ণ হয়েছে, যার কারণেই তারা রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। "আমরা আজ রাশিয়াকে স্পষ্ট করে দিয়েছি : হুমকিতে আমরা ভয় পাব না এবং পূর্ণ শক্তিতে ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাব," মন্ত্রণালয় এক পোস্টে লেখে। নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসও কিয়েভে হামলার হুমকির জবাবে তাদের রুশ রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। যুদ্ধের স্পষ্ট সমাপ্তি না দেখা গেলেও, মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেন যে আলোচনা থমকে যাওয়ায় ওয়াশিংটন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত রয়েছে।