হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাওয়া ও ধসে পড়ার ঘটনা ভবিষ্যতে ভয়াবহ বন্যার রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ গলার গতি বাড়ায় একদিকে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে আর অন্যদিকে নদীতীরবর্তী লাখ লাখ মানুষের বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব কান্নি উইগনারাজা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হিমবাহ-হ্রদে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি নিচের দিকে বিশাল নদী ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। এসব এলাকায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা ঝুঁকির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যথেষ্ট দ্রুত এগোতে পারছে না। তিনি জানান, হিমবাহজনিত দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ‘কয়েক মিলিয়নে’ পৌঁছেছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও সহযোগী সংস্থাগুলোর জুন মাসে সংকলিত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা জানান তিনি।
নেপালের ভয়াবহ বন্যা নতুন করে সতর্কবার্তা
গত সপ্তাহে নেপালে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। লাংটাং লিরুং পর্বতশৃঙ্গের কাছে একটি হিমবাহের অংশ ধসে উপত্যকার তলদেশে পড়ে যায়। এতে ভূমিধসের সৃষ্টি হয় এবং ত্রিশূলী নদী দিয়ে সেই ধসের প্রবল ঢেউ নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ধরনের দুর্যোগের ধরন একটিই নয়। হিমবাহ-হ্রদের আকস্মিক বাঁধভাঙা বন্যাও হিমালয় অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া পানি কোনো প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে জমতে জমতে একসময় সেখানে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। বাঁধ ভেঙে গেলে বা পানি উপচে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে নদীর নিম্নপ্রবাহে নেমে আসতে পারে বিশাল বন্যার ঢল। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এ দুই ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কাই বাড়ছে। বরফ গলার পাশাপাশি পাহাড়ের শিলাস্তর আলগা হয়ে যাচ্ছে এবং হিমবাহ-হ্রদের পানি আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাঁধগুলোর ওপরও চাপ বাড়ছে।
ঝুঁকিতে হিমালয়ের হিমবাহ-হ্রদ
২০২০ সালে গবেষকেরা নেপাল, চীন ও ভারতে সম্ভাব্য বিপজ্জনক ৪৭টি হিমবাহ-হ্রদ শনাক্ত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদের প্রকৃত সংখ্যা ওই হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। উইগনারাজা বলেন, হিমালয় অঞ্চলের পাহাড়গুলোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো তুলনামূলকভাবে নবীন। ফলে ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এসব এলাকায় নড়াচড়া ও ভূমির পরিবর্তনের প্রবণতা বেশি। এতে হিমবাহ কিংবা হিমবাহ-হ্রদের পানি আটকে রাখা প্রাকৃতিক বাঁধ হঠাৎ ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। হিন্দুকুশ পর্বতমালা ঘিরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েও গবেষকেরা সম্ভাব্য বিপজ্জনক বহু হিমবাহ-হ্রদের সন্ধান পেয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি চাপে নেপাল
হিমবাহের ওপর নির্ভরশীলতার দিক থেকে হিমালয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় নেপালের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করেন উইগনারাজা। পানি সরবরাহের পাশাপাশি মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির একটি বড় অংশও পর্বত ও হিমবাহনির্ভর হওয়ায় দেশটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের বড় একটি অংশের জন্য নিরাপদ উঁচু এলাকায় স্থানান্তরও সহজ হবে না। আর্থিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেই থেকে যেতে হতে পারে। এর পাশাপাশি সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা
নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতও হিমবাহজনিত বন্যার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বন্যায় চালু থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি নির্মাণাধীন ১৫টি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা অচল হয়ে পড়েছে। উইগনারাজার মতে, নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তোলা সম্ভব। তবে গত সপ্তাহে নেপালে যে মাত্রার কাদা, বরফ ও পানির প্রবল স্রোত নেমে এসেছিল, তা প্রচলিত অধিকাংশ প্রতিরোধব্যবস্থার সক্ষমতার বাইরে ছিল। তার ভাষায়, ওই ধরনের প্রবল ধস ও পানির ঢল ঠেকানোর মতো কোনো প্রচলিত নির্মাণ বা অবকাঠামো ছিল না।
তথ্য সূত্র- দ্য গার্ডিয়ান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মূল ছবিটি এমনভাবে ক্রপ করা হয়েছে যাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ কয়েকজন বিশ্বনেতা বাদ পড়ে গেছেন এবং শেহবাজ শরিফকে ছবির কেন্দ্রে দেখা যায়। এ নিয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ছবিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিওয়েভ এবং কিরগিজ কর্নেল উলারবেক জারলিকোভিচ শারশিভকে দেখা যায়। ছবিটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের একটি অধিবেশনের আগে তোলা হয়েছিল। সেখানে সদস্য দেশগুলোর নেতারা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মূল ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মূল ছবিতে দেখা যায়, শেহবাজ শরিফ ডান দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন। পাকিস্তানের প্রকাশিত ছবিতে তাকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে দেখাতে বাঁ পাশের পাঁচজন বিশ্বনেতাকে ক্রপ করে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ১০টি সদস্য দেশ, ১৫টি অংশীদার দেশ এবং দুটি পর্যবেক্ষক দেশ অংশ নেয়। সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার প্রেক্ষাপটেও তিনি বক্তব্য দেন। মোদি এসসিওর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ নিরাপত্তা, সংযোগ ও সুযোগ নিয়ে আরও কার্যকর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। শুধু পরিকল্পনা বা লক্ষ্য নির্ধারণ নয়, পরিমাপযোগ্য ফলাফলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে এসসিও প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্য হয়। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হিসেবে যুক্ত হয়। সূত্র: এনডিটিভি
বিধ্বংসী পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকায় দিন-রাত একটানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। ৪১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পাইলট মাত্র ৬ দিনে প্রায় ১০০টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার মিশন সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় তিনি ক্রমাগত হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে জীবিতদের উদ্ধার ও মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অ্যান্ডারসন কুপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া অধিকারী এই উদ্ধার কাজকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের চেয়েও এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা বেশি জটিল হয়ে পড়েছে, কারণ ধ্বংসযজ্ঞের বড় একটি অংশ নদীর সংকীর্ণ উপত্যকায় সীমাবদ্ধ। পরিবেশ বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে প্রিয়া প্রথমে ক্যাবিন ক্রু হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি হেলিকপ্টার জয়রাইড তার মনে বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন জাগায়, যা তাঁকে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করে। প্রয়োজনীয় ফ্লাইং আওয়ার সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে তিনি পূর্ণকালীন পাইলট হন এবং পরবর্তীতে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধার অভিযানে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় ৬২০০ মিটার উচ্চতা থেকেও আহত পর্বতারোহীদের নিরাপদে উদ্ধার করেছেন। বর্তমানে তিঙ্কুরে এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার অত্যন্ত অল্প আকাশসীমায় একযোগে কাজ করছে। কোনো কোনো সময় ৫ থেকে ৬টি হেলিকপ্টারকে একসাথে ল্যান্ড করতে হয়, যার জন্য পাইলটদের রেডিও বার্তার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হচ্ছে। পাহাড়ের কাদা ও মাটির ওপর থেকে স্থানগুলোকে স্বাভাবিক মনে হলেও নিচে প্রকাণ্ড কাদা-ঝুঁকি থেকে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাদা এতই অস্থিতিশীল যে ইঞ্জিনের ক্ষমতা চালু রেখেই ক্ষিপ্রতার সাথে জীবিতদের বিমানে তুলতে হচ্ছে। আকাশ থেকে দেখা ভয়াবহ দৃশ্য সম্পর্কে প্রিয়া বলেন, চারপাশে লাশের স্তূপের মাঝেই অনেককে বাঁচার আকুতি নিয়ে হাত নাড়তে দেখেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে এলাকা থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে নেপাল সেনাবাহিনীর অগাস্টা হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রিয়া বলেন, প্রতিবার যখন আমি অবতরণ করি এবং মানুষজনকে হাত নাড়তে দেখি, আমি শুধু তাদের বলি; আপনারা বেঁচে গেছেন।
নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩ জনে। নেপালে জীবিত উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজের সংখ্যাও কমেছে। বর্তমানে দেশটিতে ৩ হাজার ৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৪৬। ফলে দুই অঞ্চলে মোট নিখোঁজের সংখ্যা ৪ হাজার ৪৬২। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সপ্তম দিনেও উদ্ধার অভিযান চলছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক। তারা বিশ্বের ৩০টি দেশ থেকে হিমালয়ের দেশটিতে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে বন্যায় নিহতদের মরদেহ ভেসে কয়েকশ মাইল দূরে চলে আসে। পর্যাপ্ত হিমায়িত সংরক্ষণাগার না থাকায় মরদেহ সংরক্ষণে সংকটে পড়ে নেপাল। এ কারণে আপাতত মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে গণকবরে দাফন করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে পরিচয় শনাক্ত হলে মরদেহ কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: এএফপি