বিধ্বংসী পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এই চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকায় দিন-রাত একটানা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন নেপালের প্রথম নারী হেলিকপ্টার ক্যাপ্টেন প্রিয়া অধিকারী। ৪১ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পাইলট মাত্র ৬ দিনে প্রায় ১০০টিরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার মিশন সম্পন্ন করেছেন। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া জেলার তিমুরে এলাকায় তিনি ক্রমাগত হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে জীবিতদের উদ্ধার ও মৃতদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অ্যান্ডারসন কুপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রিয়া অধিকারী এই উদ্ধার কাজকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের চেয়েও এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা বেশি জটিল হয়ে পড়েছে, কারণ ধ্বংসযজ্ঞের বড় একটি অংশ নদীর সংকীর্ণ উপত্যকায় সীমাবদ্ধ।
পরিবেশ বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষে প্রিয়া প্রথমে ক্যাবিন ক্রু হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে একটি হেলিকপ্টার জয়রাইড তার মনে বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন জাগায়, যা তাঁকে ফিলিপাইনে প্রশিক্ষণ নিতে উৎসাহিত করে। প্রয়োজনীয় ফ্লাইং আওয়ার সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে তিনি পূর্ণকালীন পাইলট হন এবং পরবর্তীতে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধার অভিযানে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি প্রায় ৬২০০ মিটার উচ্চতা থেকেও আহত পর্বতারোহীদের নিরাপদে উদ্ধার করেছেন।
বর্তমানে তিঙ্কুরে এলাকায় প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার অত্যন্ত অল্প আকাশসীমায় একযোগে কাজ করছে। কোনো কোনো সময় ৫ থেকে ৬টি হেলিকপ্টারকে একসাথে ল্যান্ড করতে হয়, যার জন্য পাইলটদের রেডিও বার্তার মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হচ্ছে। পাহাড়ের কাদা ও মাটির ওপর থেকে স্থানগুলোকে স্বাভাবিক মনে হলেও নিচে প্রকাণ্ড কাদা-ঝুঁকি থেকে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাদা এতই অস্থিতিশীল যে ইঞ্জিনের ক্ষমতা চালু রেখেই ক্ষিপ্রতার সাথে জীবিতদের বিমানে তুলতে হচ্ছে।
আকাশ থেকে দেখা ভয়াবহ দৃশ্য সম্পর্কে প্রিয়া বলেন, চারপাশে লাশের স্তূপের মাঝেই অনেককে বাঁচার আকুতি নিয়ে হাত নাড়তে দেখেছেন। প্রথম দুই দিনেই তিমুরে এলাকা থেকে ২০০ জনের বেশি মানুষকে নেপাল সেনাবাহিনীর অগাস্টা হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রিয়া বলেন, প্রতিবার যখন আমি অবতরণ করি এবং মানুষজনকে হাত নাড়তে দেখি, আমি শুধু তাদের বলি; আপনারা বেঁচে গেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। ড. খলিলুর রহমান নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্য তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকা নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন পায়নি। তাই আফ্রিকাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে যথাযথভাবে স্থান দিতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান তিনি। জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে তিনটি প্রধান কৌশলের ওপর জোর দেন খলিলুর রহমান—নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা। বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও সামরিক খাতের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, ঠিক তখনই ‘ওইসিডি’ দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এর বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কখনোই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির ও হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তিনি তুলে ধরেন। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে সাধারণ পরিষদের সভাপতি বলেন, জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (‘গার্ডরেল’) তৈরির তাগিদ দেন তিনি।
বায়োটেকনোলজি গবেষণায় আন্তর্জাতিক ‘ইয়ং এশিয়ান বায়োটেকনোলজিস্ট প্রাইজ-২০২৬’ অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ৭৮তম (এসবিজে) কনফারেন্সে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করে ‘দ্যা সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান’। সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌসের পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণার বিষয় হলো- ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ন্যানোজেল ডিসপারশন ফর অ্যাডভান্সড ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেমস’। উন্নত ও কার্যকর ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরিতে ন্যানোজেল ডিসপারশন নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘নিজের মেধা ও মনন দিয়ে বিশ্বের গবেষকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছি। আন্তর্জাতিক পুরস্কার অনুষ্ঠানে আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের নাম উচ্চারিত হওয়া অত্যন্ত গর্বের।’ পুরস্কার অর্জনের পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ তাকে অভিনন্দন জানান এবং তার এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন। সোমবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক বেন সল বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ৬৮টি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ২২৩ জন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও বেআইনি শক্তি প্রয়োগ করেছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের মতে, হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন- উভয়ের অধীনেই ন্যায্যতা পাওয়ার মতো নয়। প্রতিবেদনে এসব হামলাকে ‘ধারাবাহিক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এগুলো ‘সম্ভাব্যভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে’। কেন হামলাগুলোকে অবৈধ বলছে জাতিসংঘ? বেন সল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব নৌযানকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করছে, তাদের কেউ সংগঠিত অপরাধী বা ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীর সদস্য হলেও সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক হামলার বৈধ কারণ হয়ে যায় না। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নৌযান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বা অন্য কোনও রাষ্ট্রের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রক্সি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে- এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের আইনি ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। বেন সলের ভাষায়, মাদক পাচারকে সামরিক হামলার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এছাড়া পর্যবেক্ষকেরাও উল্লেখ করেছেন, যেসব নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলোর কোনওটি সত্যিই মাদক পাচার করছিল- এমন প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। ৭০ হামলায় নিহত ২৩৪ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আগস্ট পর্যন্ত ৬৮টি হামলায় ২২৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। এরপর চলতি সেপ্টেম্বরে আরও দুটি হামলা চালানো হয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং মোট হামলার সংখ্যা হয়েছে ৭০টি। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বরের প্রথম দফার হামলাগুলোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘ডাবল ট্যাপ’ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অর্থাৎ, একটি নৌযানে প্রথম হামলার পর জীবিতদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানোর অভিযোগ। ওই হামলায় ১১ জন নিহত হন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। আইনপ্রণেতারা পেন্টাগনের কাছে হামলার সম্পূর্ণ ভিডিও প্রকাশের দাবি জানান। এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘সবাইকে হত্যা করার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন- এমন অভিযোগও ওঠে। তবে পরে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, হেগসেথ এমন নির্দেশ দেননি। যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসন (ডিইএ)-এর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের সাবেক প্রধান মাইকেল ভিজিল কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, “এটি হত্যা।” তার মতে, এ ধরনের ঘটনা নৈতিক বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো গুরুতর। কেন নৌযানে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলা থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করা হচ্ছে- এমন অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানে হামলা শুরু করে। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। তবে হামলায় নিহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে তাদের মাদক পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণও প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পাচার হওয়া অধিকাংশ মাদক ভেনেজুয়েলা থেকে সমুদ্রপথে আসে না। বরং মেক্সিকো হয়ে স্থলপথে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক প্রবেশের পরিমাণ বেশি। নিহতদের পরিবারের অনেকেই দাবি করেছেন, তাদের স্বজনেরা মাদক পাচারকারী নন, বরং জেলে বা জেলে হিসেবে কাজ করা মানুষ ছিলেন। সর্বশেষ হামলায় চারজন নিহত সর্বশেষ শনিবারের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, নৌযানটি ‘মাদক পাচারের প্রতিষ্ঠিত রুটে’ চলছিল এবং গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে সেটি মাদক পাচারে সক্রিয়ভাবে জড়িত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এসব অভিযানকে মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে একটি ‘সশস্ত্র সংঘাতের’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করছে। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে মাদকের প্রবাহ বন্ধ করতে এসব হামলা প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জুলাইয়ে সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, প্রতিটি হামলার সময় জাহাজে একজন করে আইন কর্মকর্তা থাকেন, যিনি হামলাটি আইনসম্মত কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এসব হত্যাকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নিহতদের পরিবারও আদালতের দ্বারস্থ মার্কিন হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারিতে ত্রিনিদাদের দুই নাগরিক- ২৬ বছর বয়সী চ্যাড জোসেফ ও ৪১ বছর বয়সী রিশি সামারু- নিহত হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবার ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালতে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি আইনি সংগঠনের সহায়তায় করা মামলায় দাবি করা হয়, নিহত দুই ব্যক্তি ছিলেন জেলে। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে কলম্বিয়ার নাগরিক আলেহান্দ্রো কারানজা মেদিনার পরিবারও আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে। কমিশনটি অরগানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) একটি প্রতিষ্ঠান। ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলতে কী বোঝায়? জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ শব্দটি ব্যবহারের কারণে বিষয়টি আরও গুরুতর আইনি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধ বলতে সাধারণত বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হামলার অংশ হিসেবে সংঘটিত গুরুতর অপরাধ বোঝানো হয়। এর মধ্যে হত্যা, নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌযানে হামলাগুলো যদি কোনও পরিকল্পনা বা ধারাবাহিক নীতির অংশ হিসেবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সে বিষয়ে অবগত থাকেন, তাহলে সেগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ার প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকের প্রতিবেদন কোনও আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য পৃথক আইনি প্রক্রিয়া ও প্রমাণের প্রয়োজন হবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব? এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) একটি সম্ভাব্য আইনি মঞ্চ হতে পারে। আদালত কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বিবেচনা করলে হামলার প্রকৃতি, তা কোনও বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বা পদ্ধতিগত ছিল কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কী জানতেন- এসব বিষয় পরীক্ষা করতে পারে। তবে এখানে বড় একটি আইনি জটিলতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্যরাষ্ট্র নয়। ফলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির এখতিয়ার প্রয়োগের প্রশ্নটি জটিল। এখন পর্যন্ত কোনও মার্কিন নাগরিককে হেগের আইসিসিতে বিচার করা হয়নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ফেডারেল আইনে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ নামে নির্দিষ্ট কোনও অপরাধের বিধান নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মার্কিন আদালতেও এই নির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার করার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইসিসির সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত। গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর ওয়াশিংটন আদালতটির সমালোচনা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, আইসিসি এমন সব দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, যারা আদালতটির সদস্য নয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এক ডজনের বেশি আইসিসি বিচারক ও কৌঁসুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আদালতটির বিরুদ্ধেও আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে মার্কিন হামলা নিয়ে জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদন শুধু এসব অভিযানের বৈধতা নিয়েই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী সামরিক অভিযান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সূত্র: আল-জাজিরা