আন্তর্জাতিক

ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে: বিশ্লেষক

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

চলমান ছয় মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে ইরান; এমন কথাই বলেছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মারান্দি। আল মায়াদিনের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট স্ট্যান্ডঅফ: ইরান অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ তিনি জানান, তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মানব ইতিহাসের নজিরবিহীন।

 

পেন্টাগনের সাবেক সিনিয়র সিকিউরিটি পলিসি অ্যানালিস্ট মাইকেল মালোফের সঙ্গে এই আলোচনায় মারান্দি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিগত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধাপে এই সংঘাত চালিয়ে আসছে, যার মধ্যে বর্তমান যুদ্ধ গত ছয় মাস ধরে চলছে। বর্তমান যুদ্ধের পর্যায়টিকে তিনি অবরোধ যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে একে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, সরাসরি বোমা হামলা চালিয়ে স্কুল বা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে শিশুদের হত্যার পরিবর্তে অবরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে দেশের সমস্ত কিশোর ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

 

মারান্দি বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞাগুলোর তীব্রতা মানব ইতিহাসে তুলনাহীন, তবুও ইরানিরা অটল রয়েছে এবং আগ্রাসীদের শাস্তি দেবে। এর আগে ৪০ দিনের যুদ্ধ, অবরোধ যুদ্ধ এবং ১৩ দিনের সংঘাতেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরিহার করে টিকে ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান অবরোধের কারণে জনজীবন কঠিন হলেও ইরান তার প্রতিরোধ এবং মিত্রদের নিয়ে টিকে থাকার অনন্য ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। 

 

এছাড়া নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য বলে সতর্ক করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং আঞ্চলিক সরকারগুলো তাতে সহযোগিতা করে, তবে তেহরানের জবাব হবে দ্রুত ও চূড়ান্ত। ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে যোগসূত্র টেনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে রাশিয়া ও ইরান উভয়েই একে অপরের প্রতিরোধ থেকে লাভবান হয়েছে।

 

অন্যদিকে, সাবেক পেন্টাগন বিশ্লেষক মাইকেল মালোফ এই সংঘাতকে ত্রুটিপূর্ণ ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মার্কিন নীতির সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিণতি বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ভুল করেছে এবং এই যুদ্ধ মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেখানে সামরিকভাবে তুলনামূলক কম সক্ষম একটি দেশ পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে অচলাবস্থা তৈরি করেছে।

 

মালোফের মতে, ইরান, রাশিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এবং নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করে টিকে থাকতে শিখেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিচ্ছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও এখন মার্কিন ঘাঁটিগুলোর উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ এই ঘাঁটিগুলো সুরক্ষার বদলে নিজেদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

সূত্র: আল মায়াদিন 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাই। ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানা যায় না: নাভি পিল্লাই

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে 'নজিরবিহীন' ও অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নাভি পিল্লাই।   দক্ষিণ আফ্রিকার বংশোদ্ভূত জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রাখার জন্য এ বছর মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। নরওয়ের নোবেল কমিটি জানায়, তার এই অবদান এক সুসংহত বৈশ্বিক আইনি কাঠামোর পথ সুগম করেছে।   তবে বিজয়ী হিসেবে আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণার পরপরই ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওয়াশিংটন আইসিসির বিরুদ্ধে কঠোর ও নিষেধাজ্ঞা জারি করে।    মার্কিন এই পদক্ষেপকে আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মূল ভিত্তির ওপর মারাত্মক আঘাত বলে অভিহিত করেছে আইসিসি।   শনিবার অসলোর নোবেল পিস সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুালি যুক্ত হয়ে ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাই বলেন, 'আন্তর্জাতিক বিচারালয়গুলো, বিশেষ করে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো— কেবল বিচারিক আদেশ বা রায় দেওয়ার অপরাধে একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে বিচারকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। এমন ঘটনা ইতিহাসে নজিরবিহীন ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে জানান, আইসিসির সঙ্গে মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির মূল উদ্দেশ্য হলো 'আমেরিকার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা'। তিনি আদালতটির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন।   এর আগেও আইসিসির ১৭ বিচারক ও কর্মকর্তার ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এবার সরাসরি পুরো আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।   নতুন নিষেধাজ্ঞার কিছু শর্ত পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হওয়ার আগে ৬ মাসের ছাড় দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর অর্থ দাঁড়ায়, সদস্য রাষ্ট্রগুলো আপাতত সংস্থাটির কার্যক্রম চালানোর তহবিল দিয়ে যেতে পারবে। ওয়াশিংটনের দাবি, তাদের উদ্বেগগুলো সমাধানে সমঝোতায় পৌঁছার জন্য সদস্য দেশগুলোকে সময় দিতে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আইসিসি পরিচালনা করছে একদল 'বিশ্বায়নবাদী', যারা মার্কিন সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি।   এর আগে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিসি প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার নোটিশে ওই পরোয়ানা প্রত্যাহার করতে হবে- এমন শর্ত দেওয়া হয়নি।   জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ওপর মারাত্মক আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তে তীব্র দ্বিমত প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস।   বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সাবেক আইনজীবী নাভি পিল্লাই তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রুয়ান্ডা, মিয়ানমার ও গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো স্পর্শকাতর ঘটনা তদন্তে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণাকে 'লজ্জাজনক ও অপমানজনক' বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে 'নরওয়ের গায়ে এক চিরস্থায়ী দাগ' বলে অভিহিত করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তারই পাওয়া উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সৌদির কিং খালিদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা, দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

ছবি: সংগৃহীত

১০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ ককরোচ পার্টির শীর্ষ নেতারা

ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাইয়ে আটক ইমরান খান

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করল ব্লুমবার্গ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুত, নিজস্ব সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সমীকরণ ও পরিকল্পনাকে চরম জটিলতার মুখে ফেলেছে।    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল মায়াদিন জানিয়েছে, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলার পরও দেশটির প্রতিরোধ ও পুনরায় অস্ত্র তৈরির সামর্থ্য এখনো অটুট রয়েছে।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে ইরান তার শক্তিশালী পাল্টাহামলার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। দেশটির ভেতরে নিজস্ব প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সুবিধা থাকায় ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত পুনরুদ্ধার ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আবার পূর্ণ করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। ফলে কেবল সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেই ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কৌশলবিদদের হিসাব-নিকাশ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।   এই প্রতিবেদনটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের সাম্প্রতিক দাবিগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি ফুটিয়ে তোলে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন যে ওয়াশিংটন ইরানের সামরিক শিল্প সক্ষমতা এবং পুরো প্রতিরক্ষা ভিত ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বারবার দাবি করে আসছেন যে মার্কিন হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।    তবে চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত অপর এক পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধ বিরতির সুযোগে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র অর্ধেকেরও বেশি পুনর্গঠন করেছে এবং পূর্বের মজুতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ব্লুমবার্গের এই সাম্প্রতিক মূল্যায়নটি ওয়াশিংটনের সেই সব দাবির সত্যতাকে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দীপকে ও ধ্রুব ছাড়া ৩ হাজার বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দিল দিল্লি পুলিশ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ স্টেশন থেকে মুক্তি পাওয়ার পর যা বললেন মমতা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্টের কড়া হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত
সৌদির বিমানবন্দরে আবারও হামলা, বিকট বিস্ফোরণে কাঁপল এলাকা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বড় ধরনের এই বিস্ফোরণের পর পুরো বিমানবন্দর এলাকা থেকে যাত্রীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।    শনিবার বিকট একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই রিয়াদের মূল এই বিমানবন্দরটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনার পর এক ডজনেরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যাত্রীদের ভ্রমণে বের হওয়ার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এর আগে গত কয়েক দিনে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করে একাধিক সফল হামলার দাবি করেছিল। গত শুক্রবার হুথিদের চালানো দুটি পৃথক হামলায় এক পাইলটসহ তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন। এছাড়া গত ৬ ও ৭ অক্টোবর সৌদির দুটি বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় আরও তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।   ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং দেশটির উত্তর-পশ্চিমের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে তীব্র লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকেই এই হামলাগুলো ঘটছে। হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরব সরকারি বাহিনীকে যে সমর্থন দিয়ে আসছে, তারই প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো হুথিরা দখল করার পর থেকেই মূলত পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। এর মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এবং লোহিত সাগরের সংকীর্ণতম বিন্দু বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মোখা বন্দরও রয়েছে। পরবর্তীতে ইয়েমেনের সরকারপন্থী বাহিনী লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার দাবি করে।   সূত্র: বিবিসি 

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আটকের সময় ককরোচ-প্রধানের স্লোগান, ইনকিলাব জিন্দাবাদ

ছবি: সংগৃহীত

বিমানের ভেতর থেকেই গ্রেপ্তার সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা, বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ভারতে

ছবি: সংগৃহীত

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, ভারতে ‘কালো জরুরি অবস্থা’র অভিযোগ

0 Comments