সারাদেশ

কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ৩ নারীকে পুশইন করল বিএসএফ

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোরপূর্বক পুশইন করা দুই নারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেন বাহিনীর সদস্যরা।

 

আটকরা হলেন নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গা শোলপুর গ্রামের রানা মোল্লা (২৪), তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার লিমা (২২) এবং খুলনা জেলার বেজেরডাঙ্গা গ্রামের ময়না খাতুন (২০)।

 

স্থানীয় ও আনসার সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর দেবলছড়া বিওপির বকসিটিলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিএসএফ ওই ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনতা তাদের ঘিরে রাখে।

 

খবর পেয়ে উপজেলা আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেন। পরে পরিচয় শনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সকাল সোয়া ৯টায় তাদের কমলগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, জীবিকার সন্ধানে প্রায় দুই মাস আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। শনিবার ভোরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের চোখ বেঁধে বকসিটিলা সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়। পরে সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাদের কমলগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়।

 

কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন, আটকদের প্রাথমিক পরিচয় শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা বাংলাদেশি। কাজের তাগিদে কয়েক মাস আগে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। ইতোমধ্যেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পাঁচ বছরের মধ্যে শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে চলবে ট্রেন: হুইপ অপু

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর সরকারি কলেজে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।   হুইপ অপু বলেন, বিএনপি সরকারের মেয়াদেই আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকা থেকে শরীয়তপুর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজের উদ্বোধন করতে শিগগিরই যোগাযোগমন্ত্রী ও রেল সচিবকে শরীয়তপুরে নিয়ে আসা হবে।   তিনি বলেন, শরীয়তপুরকে আধুনিক ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। এর মধ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও রয়েছে।   শরীয়তপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে চান তারা। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতাও প্রয়োজন।   শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের আহ্বান   নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ অপু বলেন, শিক্ষাজীবন ভবিষ্যৎ কর্মজীবন গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।   তিনি শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্যারিয়ার গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।   শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি মো. সফিকুর রহমান কিরণ, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সরদার একেএম নাসিরউদ্দিন কালুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মোঃ নাহিদ হোসেন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরে তৌফিকের ওপর ভাড়াটে লোক দিয়ে হামলার অভিযোগ বন্ধুর

সংগৃহীত ছবি

হেমায়েতপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে আহত ওসি, থমথমে পরিস্থিতি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত ৫, আটক ১

পিরোজপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের ৫ জন জখম হয়েছে বলে জানা গেছে।    মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পৌর ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো. নাফিস নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।   ‎আহতরা হলেন, পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার মিজান মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর, পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামের মাহিদুলের ছেলে নাইম, মাছিমপুর গ্রামের শান, কালিবাড়ি এলাকার মিঠুর ছেলে তাশফি, শিকারপুর গ্রামের আউয়ালের ছেলে নিরব।   ‎পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ৭ টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের এক পক্ষ অপর এক পক্ষের উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়। গুরুতর আহত জিহাদকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।     পিরোজপুর পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান শাওন (বাবু) বলেন, ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নাফিস আহমেদ সিয়াম নামে একটা ছেলে আছে আমাদের ছাত্রদলের। ওরা ২০-২৫ জন সঙ্গবদ্ধভাবে পুরাতন বাস স্ট্যান্ডে এসে কুপিয়ে যখম করে। দুই পক্ষেরই আহত আছে। রাজনৈতিক গ্যাঞ্জামের কারণে হইছে। গ্যাঞ্জামের সূত্রপাত ধইরা নাফিজের নেতৃত্বে এ হামলা হইছে।   এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন কুমার জানান, আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। বিষয়টি আমি শুনেছি। যে ছেলেটির নাম এখানে এসেছে সিয়াম, তাকে আগেই ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপরেও যদি এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।    পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত আছে। এ ঘটনা একজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে ককটেল বিস্ফোরণ, একজন আহত

সংগৃহীত ছবি

আশুলিয়ায় এখনো বন্ধ শতাধিক কারখানা: এসপি মোমিনুল

মাইকে ঘোষণা দিয়ে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

মাইকে ঘোষণা দিয়ে দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

এমএম মনিরুল ইসলাম
বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ জামায়াত নেতা

খুলনার দিঘলিয়ায় মুড়ির প্যাকেটে রাখা বোমা বিস্ফোরণে জামায়াত নেতা এমএম মনিরুল ইসলাম (৬৩) আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সেনহাটি কলের পুকুরের পশ্চিম পাশে তার বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে।   বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্রে আগুন ধরে যায়। বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দিঘলিয়া উপজেলার ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরেন। এ সময় বসতঘরের দরজার সামনে পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি দেখতে পান তিনি। কেউ ভুল করে রেখে গেছেন ভেবে প্যাকেটটি ঘরের ভেতরে নিয়ে যান। পরে মেঝেতে রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেটটি বিস্ফোরিত হয়।   এতে মনিরুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। বিস্ফোরণের পর ঘরের আসবাবপত্রে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত মনিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।   দিঘলিয়া থানার ওসি অরূপ কুমার চৌধুরী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০৩, ২০২৬

চাঁদপুরে শব্দদূষণের দায়ে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুর বিআরটিএতে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান, দুজনকে কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

মাস শেষ হওয়ার আগেই ফুরায় বেতন, ধারদেনায় দিন কাটে অনেক চাকরিজীবীদের

0 Comments