ভারতের উত্তরাখণ্ডের হলদোয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে তথাকথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
তার অভিযোগ, ঘটনাটি শুধু খাড়গেকে অপমান করার বিষয় নয়; এর মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি দলিত মানুষের প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতারও বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
শনিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) বিরুদ্ধে সরব হন রাহুল।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তপশিলি জাতি ও উপজাতির ওপর নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে (এসসি-এসটি অ্যাক্ট) অবিলম্বে মামলা করার দাবিও জানান তিনি।
গত ৮ আগস্ট হলদোয়ানির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেসের একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, সমাবেশ শেষ হওয়ার পর শ্রীরাম সেনার পক্ষ থেকে ওই মাঠে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করা হয়। উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল প্রথম এ অভিযোগ সামনে আনেন।
কংগ্রেসের দাবি, খাড়গে দলিত সম্প্রদায়ের হওয়ায় তার সভাস্থলেই এ ধরনের তথাকথিত শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়।
রাহুল বলেন, ‘শুদ্ধিকরণ আসলে অস্পৃশ্যতারই অন্য নাম।’ ভারতের সংবিধানে অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ হলেও বিজেপির লোকজন প্রকাশ্যে এমন আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মল্লিকার্জুন খাড়গের মতো একজন প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতার সঙ্গে যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন দলিত শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে দলিত শিশুদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগও তুলে ধরেন রাহুল। তার দাবি, কোথাও দলিত শিশুদের দিয়ে শৌচাগার পরিষ্কার করানো হয়, কোথাও তাদের ঝাড়ু দিতে বাধ্য করা হয়। আবার কোনো কোনো চায়ের দোকানে তাদের জন্য আলাদা প্লাস্টিকের কাপ ব্যবহারের ঘটনাও ঘটে।
রাহুলের ভাষায়, বর্তমানে ভারতে দুটি চিন্তাধারার মধ্যে লড়াই চলছে। একদিকে রয়েছেন ড. ভীমরাও আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ও সর্দার প্যাটেল এবং তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সংবিধানের আদর্শ। অন্যদিকে রয়েছে বিজেপি ও আরএসএসের বিভাজনের রাজনীতি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উত্তরাখণ্ড সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রাহুল। পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে কংগ্রেস চুপ করে থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রয়োজনে দল ‘উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া’ জানাবে বলে উল্লেখ করেন কংগ্রেস নেতা।
ঘটনায় উত্তরাখণ্ড বিজেপির রাজ্য সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাহুল। তার বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনায় নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রাজ্যসভায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। সে সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা জানিয়েছিলেন, বিজেপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, এরপরও এ ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণেই ফের প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী।
হলদোয়ানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস এখন শুধু রাজনৈতিক অভিযোগই নয়, দলিত অধিকার ও সংবিধানের মর্যাদার প্রশ্নও সামনে আনতে চাইছে বলে দলটির নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন কাওয়াস। ভোট গণনার ৯০ শতাংশ শেষে নিউইয়র্ক টাইমস তার বিজয় ঘোষণা করে। কাওয়াসের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান। তার প্রতি সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব। রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করেছে ইরান। মঙ্গলবার রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত ইনকিলাব চত্বরে দেখা গেছে এই বিলবোর্ড। এতে ট্রাম্পকে কারাগারে বন্দি অবস্থায় দেখানোর পাশাপাশি বড় অক্ষরে লেখা হয়েছে, ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’। বিলবোর্ডটিতে ট্রাম্পকে মাথা নিচু করে কারাগারের গারদের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই দিন তেহরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি ব্যানার ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। কাছাকাছি আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে। জীর্ণ মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকার পটভূমিতে তাদের রক্তাক্ত মুখ ও ছেঁড়া পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়। ইনকিলাব চত্বরে ডজনখানেক মানুষ লাল পতাকা হাতে জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘রক্তের বদলা নেওয়া হবে’। এ সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জানান তারা। ওই হামলার মধ্য দিয়েই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। তেহরানে এর আগেও ট্রাম্পকে উপহাস করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও বিজয়ের অঙ্গীকার জানিয়ে বিভিন্ন বিলবোর্ড ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনীতে কখনো ট্রাম্পকে কফিনে, কখনো রক্তাক্ত অবস্থায়, আবার কখনো কারাগারে বন্দি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এদিকে, গত কয়েক সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের বিস্তার ঠেকানো এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়া রোধ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। যুদ্ধের কারণে ভোটারদের অসন্তোষের মধ্যে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই তিনি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে। উত্তর তেহরানের ব্যস্ত তাজরিশ স্কয়ারে খোলা আকাশের নিচে একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেখানে ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি ছবি রাখা হয়েছে। একটি ছবিতে তার মুখমণ্ডল রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একটি বুট জুতা তার মাথার ওপর চেপে রয়েছে। অন্য একটি ছবিতে বোমা দিয়ে তার মুখ ঢেকে রাখা হয়েছে। প্রদর্শনীর কাছেই মানুষের সমান আকৃতির একটি কৃত্রিম কারাগারের কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের রূপ ধারণ করা একজন অভিনেতা সারাদিন সময় কাটাচ্ছেন। পাশের একটি পর্দায় ইরানে মার্কিন বিমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বিভিন্ন দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল। তেহরানের দাবি, যুদ্ধ চলাকালে স্কুল ও বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন ট্রাম্প। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানের জনবহুল এলাকাগুলোতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিলবোর্ড ও দেওয়ালচিত্র নির্মাণ নিয়মিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। মিত্রদের সম্মান জানানো, সামরিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করা এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দিতে এসব প্রদর্শনী ব্যবহার করা হয়। সূত্রঃ ফোর্বস
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় সাতটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি উড়োজাহাজকে নিরাপত্তার কারণে অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উড়োজাহাজেই বিস্ফোরক বা বোমার সন্ধান পাওয়া যায়নি। ঘটনাগুলোর মধ্যে ইতালির রাজধানী রোমে অবতরণের পর রায়ানএয়ারের দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে ডাবলিন থেকে আসা একটি উড়োজাহাজকে ইতালির বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। পোল্যান্ডের ওয়ারশতে অবতরণ করা আরও দুটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। বোমার হুমকির পর সেটির গতিপথ পরিবর্তন করে ওয়ারশতে অবতরণ করানো হয়। এছাড়া বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় অবতরণ করা দুটি উড়োজাহাজেও নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। একই ধরনের ঘটনার মুখে পড়ে স্পেনের মুরসিয়া বিমানবন্দর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি উড়োজাহাজ সেখানে অবতরণের পর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা তল্লাশি চালান। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই উড়োজাহাজে কোনও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। মুরসিয়ায় অবতরণ করা উড়োজাহাজের এক যাত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি অবতরণের পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে সোমবার লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী একটি উড়োজাহাজ বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর জরুরি অবতরণ করে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে। ইউরোপের একাধিক দেশে একই সময়ে এ ধরনের হুমকির ঘটনায় বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব হুমকির উৎস বা এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। সূত্র: বিবিসি