বিশ্ব

ইইউতে যোগদানের প্রায় ২০ বছর পর ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুত বুলগেরিয়া

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫ 0

বুলগেরিয়া আজ বুধবার রাতে ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশটি ২১তম ইউরোজোন সদস্য হওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই পদক্ষেপের ফলে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বলকান দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আজ বুধবার মধ্যরাতে বুলগেরিয়া ২০২৫ সাল এবং তার লেভ মুদ্রা উভয়কেই বিদায় জানাবে। লেভ মুদ্রা ১৯ শতকের শেষের দিক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৬৪ লাখ জনসংখ্যার দেশটির একাধিক সরকার ইউরো মুদ্রায় যোগদানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে এই আশায় যে, এটি ইইউর সবচেয়ে দরিদ্র সদস্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করবে এবং রাশিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করবে, কেউ কেউ এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

গত ২০০৭ সালে ইইউতে যোগদানকারী বুলগেরিয়া অন্যান্য চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ, যা সম্প্রতি একটি রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে, যার ফলে দেশটি পাঁচ বছরের মধ্যে অষ্টম নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী রোসেন জেলিয়াজকভ গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি মনে করেন তার মন্ত্রিসভা একটি মাইলফলক অর্জন করেছে।

তিনি একটি সরকারি সভার আগে বলেন, ‘বুলগেরিয়া বছর শেষ করছে ১১৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং তিন শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে, যা আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী দেশটির প্রায় ৩.৬ শতাংশের কাছাকাছি মুদ্রাস্ফীতি, যা, ‘বাড়তি ক্রয়ক্ষমতা’ এবং কম দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত

এবং এটি ইউরোর প্রবর্তনের সাথে কোনোভাবে সম্পর্কিত নয়।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত।
পূর্ব তেহরানে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৪০ নিহত

পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।   এ ছাড়া আল-জাজিরার প্রতিবেদকেরা ইরানের রাজধানী তেহরানে কিছুক্ষণ আগে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি। সোমবার সারা দিন ধরেই পরিস্থিতি এমন ছিল—প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা অন্তর এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটছে। সোমবার ইসফাহানসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি এলাকায় হামলা হওয়ায় সেখানে উদ্বেগ বাড়ছে। এ ছাড়া গভর্নরের কার্যালয়েও হামলা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদও বোমা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সূত্র: আল-জাজিরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১০, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় জ্বলছে তেহরানের জ্বালানি ডিপোগুলো। ছবি : সংগৃহীত

‘সবচেয়ে ভয়াবহ’ বিমান হামলার রাত, কাঁপছে তেহরান

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের হামলায় নিহত হলেন নেতানিয়াহুর ভাই

ছবি: সংগৃহীত

ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত

ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুদ্ধ: ট্রাম্প বিশ্বকে ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক সংকটে ঠেলে দিচ্ছেন

ইরান যুদ্ধের আগে মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব ছিল ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের পরা একটি জ্যাকেটের স্লোগানের মতো আমি সত্যিই পরোয়া করি না তুমি করো?   ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন শুধু জোটকেই প্রত্যাখ্যান করেনি, তারা ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ কিংবা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের মতো কূটনৈতিক বৈধতার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেনি। তারা ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে হামলা শুরু করে মিত্রদের না জানিয়েই। উদাহরণ হিসেবে ইতালি সরকারের শীর্ষস্থানীয় এক সদস্যের প্রসঙ্গ তোলা যায়, যিনি হামলা শুরুর সময়টায় দুবাই সফরে ছিলেন। ইউরোপের যেকোনো দেশের তুলনায় ইতালি মতাদর্শিক জায়গা থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের খুবই ঘনিষ্ঠ। কিন্তু তারাও ইরান যুদ্ধের বিষয়ে কিছু জানত না। ইতালি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ওই সদস্যকে উপেক্ষা করার প্রসঙ্গ টেনে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সমন্বয়ের ঘাটতি কতটা ভেবে দেখুন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘটনাস্থলেই ছিলেন, অথচ যুদ্ধ শুরুর ব্যাপারে তার কোনো ধারণাই ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন লিখেছে, নয় দিনের মাথায় এসে ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে আরও গভীরভাবে সেই ঘূর্ণিপাকে টেনে নিয়েছে, যা ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মধ্যদিয়ে মূলত পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলো আচমকা এমন এক যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে, যা তাদের নিজেদের নয় এবং অধিকাংশই রাষ্ট্রই এ যুদ্ধ চায় না। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্ররা। মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা ঝকঝকে কাচের শহরগুলোর ‘বিলাসী আয়েশ’ ভেঙে পড়েছে; বন্ধ রয়েছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের একটা বিস্তৃত পথ। এসব দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া নিজেদের নাগরিকদের উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলোতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র দেশের কপালে ভাজ পড়েছে। তারা অর্থনৈতিক ক্ষতি, ইরান ভেঙে পড়লে সম্ভাব্য শরণার্থীর ঢল এবং নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আগামীতে কী ঘটবে, সেটাও তাদের আরেকটা দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কেউ বিজয়োল্লাস করছে, কেউ আবার ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে এই যুদ্ধের সমালোচনা করছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা বলার সময় এখনও আসেনি। সিএনএন তাদের বিশ্লেষণে লিখেছে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তেহরানের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা হয়ত ক্ষুণ্ন হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের স্বস্তি এনে দেবে। আবার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিমান নেতা হিসেবে ট্রাম্পের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে; ইসরায়েল একটি আঞ্চলিক হুমকি থেতে থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে। কিন্তু ইরানের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে না গেলে দেশটিতে শান্তি ফিরবে না। ট্রাম্পের এই যুদ্ধ যদি ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তছনছ করে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হবে। গভীর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও আছে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।   ‘শান্ত থাকছি, অপমান করছি না’ মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য ইরান যুদ্ধ নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। সেই বাস্তবতা হলো— তারা ট্রাম্পের সঙ্গেও চলতে পারে না, আবার ট্রাম্পকে ছাড়াও চলতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্ররা কেন এই যুদ্ধের আঁচ পায়নি, তা বোঝা কঠিন। এই যুদ্ধ মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির নতুন এক প্রকাশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থে সরাসরি বল প্রয়োগ করেছে। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করাও যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই নীতির কথা আগেই শোনা গিয়েছিল ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারের কণ্ঠে। গেল বছর সিএনএনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বিশ্বের কঠিন নিয়মটা হলো, শক্তিশালী দেশগুলো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শাসন করতে পারে। এই নীতি ট্রাম্পের উগ্র মেজাজ, বড় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা, কৌশলগত পরিকল্পনায় অনীহা ও সীমাহীন ক্ষমতা প্রদর্শনেরই প্রতিচ্ছবি। হাল আমলের সবচেয়ে খামখেয়ালি প্রেসিডেন্ট এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির অনুঘটক হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। ইউরোপীয় একজন কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা’। তবে কেউ কেউ মনে করেন, ট্রাম্পকে সামাল দেওয়াটাও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই পড়ে। ইউরোপীয় এক কূটনীতিক বলেন, এই মুহূর্তে আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করছি এবং তাদের অপমান করছি না। কারণ প্রকাশ্য বিরোধিতা উল্টো ফল দিতে পারে। ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক জুলিয়েন বার্নস-ডেসি বলেন, ইউরোপীয়রা একেবারে অপ্রস্তুত একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে। প্রতিদিন তাদেরকে এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের খেয়ালখুশি নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, যিনি ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করছেন। এই বিশ্লেষকের মতে, ইউরোপ একটি ‘কঠিন পরিস্থিতির’ মধ্যে পড়ে গেছে। একদিকে তারা আন্তর্জাতিক আইন বা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার কথা বলে, অন্যদিকে ট্রাম্পের সুনজরও তাদের চাই। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি ট্রাম্প অবজ্ঞা দেখালেও নিজেদের সামরিক দুর্বলতার কারণে ইউরোপকে সব সইতে হচ্ছে। কারণ, নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা শুরুর পর ইউরোপের নেতাদের যুদ্ধবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থান ছিল, তা ক্রমে নমনীয় হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। হরমুজ প্রণালিতে রণতরী পাঠানোর আভাস এসেছে ফ্রান্সের তরফে। ইরানের শাসক গোষ্ঠীকে ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে’ উৎখাতের কথা বলছেন জার্মান চ্যান্সেলর। ফলে ইউরোপকে চোখ বুঝে আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থক বলতে রাজি নন হেগভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কগিটোপ্র্যাক্সিসের’ প্রধান নির্বাহী নিকোলাস ডানগান। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের অবস্থান হলো, ‘আমরা তোমাদের পদ্ধতির সমালোচনা করব, কিন্তু তোমাদের উদ্দেশ্যকে মওকুফ করে দেব।’ এ কারণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইউরোপ যুদ্ধে জড়াবে না বলেও জড়িয়ে যাচ্ছে; প্রতিশ্রুতি না দিয়েও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী শক্তিশালী হওয়ায় ইউরোপের এই কূটনীতি ট্রাম্প তোয়াক্কাই করছেন না। ইউরোপের সহায়তা পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে শনিবার সিবিএসকে তিনি বলেন, আমার এতে কিছুই যায় আসে না। তাদের যা ইচ্ছা করুক।   মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ওপর হামলায় অবাক হোয়াইট হাউজ ইরানে হামলা শুরুর পর ইউরোপ যখন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলার কাজে হাত দেয়, তখন উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইউরোপকে একটা অন্য রকম পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। কারণ হামলার শিকার হওয়া কিছু দেশ ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক টাকাওয়ালা মানুষের নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত। এসব দেশে ইরানের হামলায় ‘অবাক হওয়ার’ কথা জানায় হোয়াইট হাউজ। যদিও যুদ্ধের আগে এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরানে হামলা হলে এ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা হতে পারে। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ইরানের জবাবটা কেমন হতে পারে, তা মার্কিন বাহিনী ঠিকঠাক অনুমান করতে পারেনি। ট্রাম্প প্রশাসন এটা ভেবে হতাশ যে, ইরানের শাসক গোষ্ঠীকে তারা ভেনিজুয়েলার মতো দ্রুত সময়ে উৎখাত করতে পারেনি। তিনি বলেন, ইরানিরা দোহা বা দুবাই ধ্বংস করেনি। কিন্তু হামলা হলে পাল্টা হামলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র শক্তিশালী রয়ে গেছে। শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ হয় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির। সেখানে তিনি সংকট নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর কথা বলেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা ওমানও যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সোমবার সকালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য একটি বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।   মিত্রদের কাছে কী চায় ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের শেষটাও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য কাঁটায় ভরা হতে পারে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি টিকে গেলেও তা হয়ত যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জন্য আগের মতো হুমকি হয়ে উঠবে না। কিন্তু তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও নিয়মিত সামরিক হামলার প্রয়োজন হতে পারে। ভবিষ্যতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের (আইআরজিসি) নেতৃত্বে যে সরকারই গঠন হোক, তারা দেশটির ভিন্নমত দমনকে অগ্রাধিকার দেবে। ইরানে সামাজিক ভাঙন বা বিশৃঙ্খলা হয়ত কেউই চায় না। আর সবাই এটা জানে, ট্রাম্প তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মতোই নিজেকে যেকোনো সময় বিজয়ী ঘোষণা করে এই যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। আর পরিণতি সামলানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন অন্যদের ঘাড়ে। লন্ডনের কিংস কলেজের ‘ওয়ার স্টাডিজ’ বিভাগের ‘সেন্টার ফর স্টেটক্রাফট অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটির’ জ্যেষ্ঠ গবেষক সোফিয়া গ্যাস্টন বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত তিনটি বিষয় আশা করে। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত ঐক্য; সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং সামরিক সক্ষমতা। সামরিক সক্ষমতা দেখাতে পারলে বাকি দুটি বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় মিলতে পারে। গ্যাস্টন বলেন, যুক্তরাজ্যের মতো একটি দেশ শক্তি-সামর্থ্যে যত বেশি বিনিয়োগ করবে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের প্রিয় অংশীদার হয়ে উঠবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলের মনোভাব কেমন হবে, তা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করেন মাসগ্রেভ। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের চোখে দেখলে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিরক্ত; ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ। কিন্তু তাদের দিকে গুলি আমেরিকা বা ইসরায়েল ছুড়ছে না, ছুড়ছে ইরান। ইরান হয়ত উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ফাটল ধরাতে চাইছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ইরানের প্রতি ক্ষোভ বাড়লে উপসাগরীয় কিছু দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে আরও ইতিবাচক হতে পারে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, এই যুদ্ধ সৌদি আরবে ‘শান্তির পথ খুলে দিতে পারে’। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে, ইসরায়েলের এমন দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে ‘বাড়তে থাকা উদ্বেগের’ কথা শুনছেন। একজন কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েল গত আড়াই বছরে সিরিয়া, লেবানন ও গাজার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তারা কাতারেও হামলা চালিয়েছে। আবার ইসরায়েল সরকারের কিছু কট্টরপন্থি মন্ত্রী ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদী পর্যন্ত দখলে নেওয়ার কথা বলছেন। তাই কিছু দেশ প্রশ্ন তুলেছে, ইরানকে সরিয়ে দিয়ে ইসরায়েলকে কি নতুন আঞ্চলিক প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথ তৈরি করা হচ্ছে? ট্রাম্পের স্বভাবসিদ্ধ কৌশল হলো, প্রচলিত কাঠামো ভেঙে ফেলা, তারপর গতিবিধি বুঝে নিজেকে কোনোভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের মতো সম্পর্শকাতর অঞ্চলে এই কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মিত্রদের পক্ষে এর পরিণতি অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। গত এপ্রিলে দ্য আটলান্টিককে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে তাকে দুটি কাজ করতে হয়েছিল— দেশ চালানো এবং টিকে থাকা। আর দ্বিতীয় মেয়াদে আমি দেশ ও বিশ্ব, দুটোই চালাব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১০, ২০২৬ 0

মোজতবাকে সুপ্রিম লিডার বানিয়ে ইরান ‘বড় ভুল করেছে’

দৌড়েও মিটিংয়ে ৫ মিনিট দেরি, পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন জাপানের প্রতিমন্ত্রী

ইরানে বিপ্লবী গার্ডের ড্রোন হেডকোয়ার্টারে হামলার দাবি ইসরায়েলের

সংগৃহীত ছবি
লেবানন থেকে ছোড়া মিসাইলে ইসরায়েলে ১৬ জন আহত

  লেবানন থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ছোড়া মিসাইলে ইসরায়েলে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সংস্থা মেগান ডেভিড অ্যাডম। সংস্থাটি বলেছে, রামলে অঞ্চলে তারা ১৪ জন আহতকে চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা ভালো আছে। মিসাইল একটি ডে কেয়ারে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে তারা। অপরদিকে মাতেহ নামে অপর এক এলাকায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থাও গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে অ্যাম্বুলেন্স সংস্থাটি। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর মিসাইলের আঘাতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরআগে হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, তারা হায়েলা উপত্যকার কাছে একটি ইসরায়েলি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন স্টেশনে ‘নির্ভূল মিসাইল’ দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

এবার তুরস্কে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত

কাতারে হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ারের অভিযোগে ৩১৩ জন গ্রেপ্তার

0 Comments