বিশ্ব

ইইউতে যোগদানের প্রায় ২০ বছর পর ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুত বুলগেরিয়া

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫

বুলগেরিয়া আজ বুধবার রাতে ইউরো চালুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দেশটি ২১তম ইউরোজোন সদস্য হওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই পদক্ষেপের ফলে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বলকান দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আজ বুধবার মধ্যরাতে বুলগেরিয়া ২০২৫ সাল এবং তার লেভ মুদ্রা উভয়কেই বিদায় জানাবে। লেভ মুদ্রা ১৯ শতকের শেষের দিক থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৬৪ লাখ জনসংখ্যার দেশটির একাধিক সরকার ইউরো মুদ্রায় যোগদানের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আসছে এই আশায় যে, এটি ইইউর সবচেয়ে দরিদ্র সদস্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে, পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করবে এবং রাশিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করবে, কেউ কেউ এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন।

গত ২০০৭ সালে ইইউতে যোগদানকারী বুলগেরিয়া অন্যান্য চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ, যা সম্প্রতি একটি রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে, যার ফলে দেশটি পাঁচ বছরের মধ্যে অষ্টম নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী রোসেন জেলিয়াজকভ গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, তিনি মনে করেন তার মন্ত্রিসভা একটি মাইলফলক অর্জন করেছে।

তিনি একটি সরকারি সভার আগে বলেন, ‘বুলগেরিয়া বছর শেষ করছে ১১৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন ডলার) মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং তিন শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে, যা আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষ্ণসাগর উপকূলবর্তী দেশটির প্রায় ৩.৬ শতাংশের কাছাকাছি মুদ্রাস্ফীতি, যা, ‘বাড়তি ক্রয়ক্ষমতা’ এবং কম দুর্নীতিগ্রস্ত অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত

এবং এটি ইউরোর প্রবর্তনের সাথে কোনোভাবে সম্পর্কিত নয়।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধের ধাক্কা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।   রোববার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে আয়োজিত কাতার অর্থনৈতিক ফোরামের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তিনি একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন।   শেখ মোহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা প্রয়োজন। কোনো দেশ যেন অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে।   তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সংকটের সময় নিরাপত্তা ও উত্তেজনা কমানোর আলোচনা থেকে শুরু করে জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ ও বিনিয়োগ—সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।   কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের নিরাপত্তা যদি অন্য দেশের নিরাপত্তাহীনতার ওপর নির্ভর করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।   তিনি বলেন, চলমান সংঘাত কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ভিত্তিকেও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তবে দেশটি এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলেও জানান তিনি।   এদিকে আগামী পাঁচ বছরে কাতারের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শেখ মোহাম্মদ।   কাতারের কর্মকর্তাদের মতে, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং দেশটির অর্থনীতি যে সংকট মোকাবিলায় সক্ষম, সেই বার্তা দেওয়া হবে।   কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু করার জন্য কাতারের মধ্যস্থতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই আলোচনার লক্ষ্য ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটানো।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সোমবার শুরু হয়ে শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা। অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।   তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

কেন বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম?

মঙ্গলবার থেকে বিদেশি ফ্লাইট বন্ধ রাখতে পারে ইরান

এআই ব্যবস্থাকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে বেইজিং

মস্কোয় ইউক্রেনের হামলায় তেল শোধনাগারে আগুন

রাশিয়ার মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। রোববার রুশ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।   মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন বলেছেন, শনিবার থেকে রাশিয়া ১ হাজার ৬০০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি মস্কোর দিকে যাচ্ছিল।   তিনি জানান, কয়েকটি ড্রোন মস্কোর তেল শোধনাগার এলাকায় পৌঁছায়। একটি ড্রোন একটি আবাসিক ভবনেও আঘাত করে। তবে মস্কো শহরে কেউ হতাহত হননি।   রয়টার্সের সাংবাদিকরা মস্কোতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তারা তেল শোধনাগার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখেছেন। শোধনাগারটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   সোবিয়ানিন দাবি করেন, হামলাটি বড় ধরনের এবং নজিরবিহীন। তার ভাষ্য, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যেই হামলাটি চালানো হয়েছে। তবে হামলাকারীরা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।   মস্কোর তেল শোধনাগারটি এর আগেও কয়েকবার ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালে সেখানে ১ কোটি ১৬ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল। একই বছরে ২৯ লাখ টন পেট্রোল ও ৩২ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করা হয়।   ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট, দাম বৃদ্ধি এবং পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষার ঘটনা ঘটেছে।   মস্কোর বাইরের অঞ্চলেও হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানিয়েছেন, রামেনস্কোয়ে এলাকায় একটি ২১ তলা আবাসিক ভবন থেকে ৪০০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জন শিশু রয়েছে।   এ ছাড়া কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলে দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গভর্নর।   সূত্র: রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে পাকিস্তানের জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি

ইসরায়েলকে ৫৪ হাজার টন মারণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ মার্কিন রাজনীতিবিদেরা

মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদির সামরিক চাহিদা পূরণে প্রস্তুত তুরস্ক

ছবি: সংগৃহীত
রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে অগ্নিকাণ্ড, ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের আশঙ্কা

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঠিক কাছাকাছি হঠাৎ করেই বিকট আগুনে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ভাসতে দেখা গেছে।      শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই আশপাশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনেক দূর থেকেও সেই আগুনের তীব্র শিখা আর ঘন কালো ধোঁয়া স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছিল।     এতে বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান ট্র্যাকিং বিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪। এতে বলা হয়েছে, রিয়াদের বিমানবন্দরে বড় ইস্যু তৈরি হয়েছে, যার কারণে এমন বিঘ্ন ঘটেছে।     ফ্লাইটরাডার২৪ কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে তাদের ওয়েবসাইটে ফ্লাইট ডিসরাপশন ইনডেস্ক ৫.০-তে রেখেছে। যার অর্থ বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে।       হঠাৎ কেন এই অগ্নিকাণ্ড কিংবা ঠিক কোন জায়গাটিতে এটি ঘটেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। ঘটনাটির পরপরই সৌদি সরকারি তথ্য দপ্তরের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে তাদের তরফ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।     আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কোনো হামলা নাকি সাধারণ দুর্ঘটনা—কিসের থেকে এই আগুন, তা জানতে সবাই এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

বাইরের শক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের টেকসই নিরাপত্তা অর্জন অসম্ভব: আরাগচি

সংগৃহীত ছবি

অবৈধ অভিবাসন ও চোরাচালান রোধে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়াল বিএসএফ

আন্তোনিও গুতেরেস ও মাহমুদ আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাসের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের বাধা

0 Comments