চট্টগ্রামের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ভেঙে পড়ল শুরুতেই। একের পর এক ব্যাটারের ফিরতি আর ড্রেসিংরুমের লালবাতি—সব মিলিয়ে ম্যাচের রূপটা যেন প্রথম পাওয়ার প্লেতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাওহীদ হৃদয় একাই লড়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত, করেছেন ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ঝলমলে ৮৩ রান। কিন্তু বাংলাদেশকে বাঁচানোর মতো দৃঢ়তা আর কোথাও পাওয়া গেল না। ফল—১ম টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানের বড় হার।
১৮২ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশ ইনিংসের প্রথম ৬ ওভারে হারায় ৪ উইকেট, রান মাত্র ২০। তানজিদ, লিটন, পারভেজ ও সাইফ ফিরেছেন তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ার আগেই। দুই প্রান্তে আয়ারল্যান্ডের পেস–স্পিনের বৈচিত্র্যে ব্যাটাররা একে একে ভুল শট খেলেছেন, ম্যাচের গতিপথও পাল্টে গেছে সেখানেই।
মাঝে জাকের আলী ও তাওহীদ হৃদয় পঞ্চম উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়ে খানিকটা সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। হৃদয়ের ব্যাটে আসে দুটি ছক্কা, জাকের মারেন একটি। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হলো না। ১২তম ওভারেই জাকের ফিরলে ধস আবার শুরু।
সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ১৩তম ওভারে—বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিস এক ওভারে নেন তিন উইকেট (তানজিম, রিশাদ, নাসুম)। তাতে বাংলাদেশ ৭৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পুরোপুরি ম্যাচের বাইরে চলে যায়।
শেষদিকে শরীফুলের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা থাকলেও তাতে ব্যবধান কমেছে শুধু সামান্য। ১২ বল বাকি থাকতে নবম উইকেটও হারায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে অপরাজিত হৃদয় একাই লড়ে শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু তার এই পরিণত পারফরম্যান্সও ১২৮ রানের বেশি তুলতে পারেনি দলকে।
এর আগে আইরিশদের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হ্যারি টেক্টর। ৫টি ছক্কায় ৪৫ বলে অপরাজিত ৬৯ রানে দলের ইনিংসকে টেনে তুলেছেন তিনি। বড় ভাই টিম টেক্টরের ৩২, ক্যাম্ফারের ২৪ ও স্টার্লিংয়ের ২১ রানে আয়ারল্যান্ড সহজেই পৌঁছে যায় ১৮১–এ। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তানজিম নিয়েছেন ২ উইকেট, তবে দিয়েছেন ৪১ রান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চলতি আসরে চমৎকার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে আর্সেনাল। ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই লড়াইয়ে তারা নিজেদের ইতিহাসে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করেছে। স্পেনের মাঠে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ড্র করার ফলে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েছে আর্সেনাল। পরিসংখ্যানভিত্তিক সংস্থা অপটা জানিয়েছে, ক্লাবটির ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবারই এমন সাফল্য দেখা গিয়েছিল। ২০০৫ সালের মার্চ থেকে ২০০৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালে আর্সেনাল একই রেকর্ড গড়েছিল, যে মৌসুমে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও উঠেছিল। ফলে বর্তমান পারফরম্যান্স ঘিরে আবারও বড় কিছুর আশা দেখছেন সমর্থকেরা। চলতি মৌসুমে শক্তিশালী রক্ষণভাগ, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর আক্রমণ—এই তিনের সমন্বয়ে আর্সেনাল ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দলে পরিণত হয়েছে। বড় ম্যাচে চাপ সামলে কাঙ্ক্ষিত ফল বের করে আনার সক্ষমতাই এখন তাদের মূল শক্তি। ইতিহাস ছুঁয়ে এখন আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আর্সেনাল—সেটি হলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ট্রফিটি ঘরে তুলে নিতে মরিয়া মিকেল আর্তেতার শিষ্যরা।
সাকিব আল হাসানের মতে, তামিম ইকবাল দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট উপকৃত হবে। সাকিব আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ সম্প্রতি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর নতুনভাবে গঠিত এডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান সাবেক এই অধিনায়ক। তামিমকে বিসিবির দায়িত্বে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সাকিব। বর্তমান কমিটি তিন মাসের মধ্যে একটি নির্বাচনের আয়োজন করবে। গুঞ্জন রয়েছে, দায়িত্ব ত্যাগ করে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন তামিম। সেখানেও তিনি সভাপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সাকিব মনে করেন, তামিম যদি নির্বাচিত হয়ে বোর্ডে আসেন এবং দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব নেন, তাহলে তা দেশের ক্রিকেটের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, "আমি বলতে চাই, তিনি (তামিম ইকবাল) তো নির্বাচিত হয়ে আসেননি। তিনি নির্বাচন আয়োজনের জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন। আশা করি, তিনি যদি সভাপতি হন, তাঁর একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকবে এবং নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ ক্রিকেট তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হবে।" বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সাকিব বলেন, "বাংলাদেশ দল এই মুহূর্তে সত্যিই ভালো খেলছে। তারা মাত্রই নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিও জিতেছে।" "বাংলাদেশের এখনকার দলটা ভালো আছে। আপনি জানেন, আগে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করত, কিন্তু এখন পুরোটা দলকেন্দ্রিক। আমি মনে করি এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই উত্তম পথ।"—যোগ করেন তিনি।
ক্রিকেটে ছয় বলে ছয় ছক্কার ঘটনা এখন আর অচেনা নয়। কিন্তু ছয় বলে ছয় উইকেট—এমন কীর্তি এখনো রীতিমতো অবিশ্বাস্য। আর সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ইংল্যান্ডের পেসার মাইলস ডেভিস। তার এই কীর্তি ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেট ইতিহাসের বিশেষ অধ্যায়ে। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ এপ্রিল, সাউথ স্ট্যাফোর্ডশায়ার কাউন্টি লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনের এক ম্যাচে। সেখানে পেনক্রিজ ক্রিকেট ক্লাব মুখোমুখি হয় পেলসাল ক্রিকেট ক্লাবের। প্রথমে ব্যাট করে পেনক্রিজ ৪৫.৩ ওভারে তোলে ১৬৮ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পেলসাল শুরুতে কিছুটা লড়াই করলেও ৮ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৪৯ রান।সেখান থেকেই শুরু হয় ডেভিসের ধ্বংসযজ্ঞ। এর আগে নিজের তৃতীয় ওভারে একটি উইকেট নেওয়া ডেভিস নবম ওভারে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ওভারের শুরুতে একটি ওয়াইড বল করলেও দ্রুত ছন্দে ফিরে এসে শেষ দুই বলে পরপর দুই ব্যাটারকে বোল্ড করেন তিনি। পরের ওভারের প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। এরপর আর থামেননি, পরের তিন বলেও টানা উইকেট তুলে নিয়ে সম্পন্ন করেন অবিশ্বাস্য ডাবল হ্যাটট্রিক, অর্থাৎ টানা ছয় বলে ছয় উইকেট! এই ভয়ংকর স্পেলে মুহূর্তেই ধসে পড়ে পেলসালের ইনিংস। তারা অলআউট হয়ে যায় মাত্র ৫২ রানে। ফলে ১১৬ রানের বিশাল জয় তুলে নেয় পেনক্রিজ ক্রিকেট ক্লাব। ম্যাচ শেষে ডেভিসের বোলিং ফিগার দাঁড়ায়, ৬ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট, যা ক্লাব ক্রিকেটে এক অসাধারণ রেকর্ড। নিজের এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স নিয়ে ডেভিস বলেন, ‘এখনো বিষয়টা অবাস্তব মনে হচ্ছে। চতুর্থ উইকেট পাওয়ার পরই আমি অবাক হয়ে যাই, এরপর সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো ঘটেছে।’ জানা গেছে, বিশ্ব ক্রিকেটে এমন ঘটনা খুবই বিরল, মাত্র কয়েকবারই দেখা গেছে। আর যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ক্রিকেটে এই কীর্তি গড়া প্রথম বোলার এখন ডেভিস। পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান এই ক্রিকেটার প্রায় ম্যাচটি মিস করতে বসেছিলেন। তবে সহকর্মী তার শিফট কভার করায় মাঠে নামতে পেরেছিলেন, আর সেই সুযোগেই লিখেছেন ইতিহাস।