চট্টগ্রামের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ভেঙে পড়ল শুরুতেই। একের পর এক ব্যাটারের ফিরতি আর ড্রেসিংরুমের লালবাতি—সব মিলিয়ে ম্যাচের রূপটা যেন প্রথম পাওয়ার প্লেতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাওহীদ হৃদয় একাই লড়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত, করেছেন ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ঝলমলে ৮৩ রান। কিন্তু বাংলাদেশকে বাঁচানোর মতো দৃঢ়তা আর কোথাও পাওয়া গেল না। ফল—১ম টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানের বড় হার।
১৮২ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশ ইনিংসের প্রথম ৬ ওভারে হারায় ৪ উইকেট, রান মাত্র ২০। তানজিদ, লিটন, পারভেজ ও সাইফ ফিরেছেন তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ার আগেই। দুই প্রান্তে আয়ারল্যান্ডের পেস–স্পিনের বৈচিত্র্যে ব্যাটাররা একে একে ভুল শট খেলেছেন, ম্যাচের গতিপথও পাল্টে গেছে সেখানেই।
মাঝে জাকের আলী ও তাওহীদ হৃদয় পঞ্চম উইকেটে ৪৮ রানের জুটি গড়ে খানিকটা সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। হৃদয়ের ব্যাটে আসে দুটি ছক্কা, জাকের মারেন একটি। কিন্তু সেটাও স্থায়ী হলো না। ১২তম ওভারেই জাকের ফিরলে ধস আবার শুরু।
সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ১৩তম ওভারে—বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিস এক ওভারে নেন তিন উইকেট (তানজিম, রিশাদ, নাসুম)। তাতে বাংলাদেশ ৭৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পুরোপুরি ম্যাচের বাইরে চলে যায়।
শেষদিকে শরীফুলের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা থাকলেও তাতে ব্যবধান কমেছে শুধু সামান্য। ১২ বল বাকি থাকতে নবম উইকেটও হারায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে অপরাজিত হৃদয় একাই লড়ে শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু তার এই পরিণত পারফরম্যান্সও ১২৮ রানের বেশি তুলতে পারেনি দলকে।
এর আগে আইরিশদের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হ্যারি টেক্টর। ৫টি ছক্কায় ৪৫ বলে অপরাজিত ৬৯ রানে দলের ইনিংসকে টেনে তুলেছেন তিনি। বড় ভাই টিম টেক্টরের ৩২, ক্যাম্ফারের ২৪ ও স্টার্লিংয়ের ২১ রানে আয়ারল্যান্ড সহজেই পৌঁছে যায় ১৮১–এ। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তানজিম নিয়েছেন ২ উইকেট, তবে দিয়েছেন ৪১ রান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হতেই বিদায় নিয়েছে আরও ১৬টি দল। গ্রুপ পর্বের ১৬ দল সহ মোট ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩২টি দলের বিশ্বকাপ মিশন এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ। টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে বিদায় নেওয়া এই ৩২টি দলের পারফরম্যান্স, পয়েন্ট, গোল ব্যবধান এবং ফেয়ার প্লে পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে ১৭ থেকে ৪৮তম স্থানের চূড়ান্ত অফিশিয়াল তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হতেই বাড়ি ফিরে গেছে আরও ১৬টি দল। গ্রুপ পর্বের ১৬ দল সহ মোট ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩২টি দলের বিশ্বকাপ মিশন এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ। টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে বিদায় নেওয়া এই ৩২টি দলের পারফরম্যান্স, পয়েন্ট ও গোল ব্যবধানের ওপর ভিত্তি করে ১৭ থেকে ৪৮তম স্থানের চূড়ান্ত অফিশিয়াল তালিকা বা র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। বিদায় নেওয়া দলগুলোর মধ্যে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত খেলা নেদারল্যান্ডস ১৭তম স্থান অর্জন করে বিদায়ী দলগুলোর তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে। আর টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি শেষ করেছে ১৮তম স্থানে থেকে। ১৯তম ও ২০তম স্থানে অবস্থান আইভরি কোস্ট ও ক্রোয়েশিয়া। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়া মহাদেশের কোনো দলই শেষ রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা করে নিতে পারেনি। বেশির ভাগ দল গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়েছিল, কেবল জাপান ও অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে সক্ষম হয়। ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া জাপান অবস্থান করছে ২১ নম্বরে। মিশরের কাছে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া ঠিক জাপানের পরেই ২২তম স্থানটি পেয়েছে। তালিকায় সবচেয়ে নিখুঁত ও রোমাঞ্চকর টাইব্রেকার দেখা গেছে ইকুয়েডর ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে ২৫তম স্থানটি দখলে নেয় ইকুয়েডর, আর দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ করে ২৬ নম্বরে। তালিকায় দ্বিতীয় রাউন্ডে বাদ পড়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিচে ৩২তম স্থানে রয়েছে এবারের আসরের অন্যতম চমক ও নবাগত দল কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ইরান। তারা আসর শেষ করেছে ৩৩ নম্বরে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ৩৪তম এবং উরুগুয়ে শেষ করেছে ৩৭ নম্বরে। পুরো টুর্নামেন্টে ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে এবং মাইনাস ১১ গোল ব্যবধান নিয়ে টুর্নামেন্টের তলানিতে অর্থাৎ ৪৮তম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেছে ইরাক।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শেষ হয়েছে শেষ বত্রিশের রোমাঞ্চকর লড়াই। ৩২ দলের মধ্যে টিকে আছে এখন মাত্র ১৬টি দল। জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো পরাশক্তির বিদায়, প্যারাগুয়ের রূপকথা কিংবা কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শ্বাসরুদ্ধকর জয়, সব মিলিয়ে জমে উঠেছিল নকআউটের লড়াই। এবার শুরু হচ্ছে শেষ ষোলোর মহারণ। এখান থেকেও প্রতিটি ম্যাচই হারলেই বিদায়। আজ রাত থেকে ৮ জুলাই ভোর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে আটটি ম্যাচ। এরপর ৮ জুলাই একদিন বিরতি দিয়ে ৯ জুলাই থেকে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনাল। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী শেষ ষোলোর সূচি: ১. কানাডা বনাম মরক্কো (৪ জুলাই , রাত ১১:০০টা): দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট জয় পেয়েছে কানাডা। এবার তাদের সামনে শক্ত প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করেছে। ২. প্যারাগুয়ে বনাম ফ্রান্স (৪ জুলাই দিবাগত রাত ৩:০০টা): জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চমক দেখানো প্যারাগুয়ের সামনে এবার কিলিয়ান এমবাপ্পের ফর্মে থাকা ফ্রান্স। ৩. ব্রাজিল বনাম নরওয়ে (৫ জুলাই দিবাগত রাত ২:০০টা): জাপানকে হারিয়ে আসা ব্রাজিলের সামনে এবার আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষে নয়, কারণ নরওয়েকে এখনো হারাতে পারেনি সেলেসাওরা। ৪. মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড (৬ জুলাই সকাল ৬:০০টা): স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় নামছে হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টে এখনো কোনো গোল হজম করেনি মেক্সিকো। ৫. পর্তুগাল বনাম স্পেন (৬ জুলাই দিবাগত রাত ১:০০টা): রোনালদোর পর্তুগালের সামনে এবার টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট স্পেন। শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি এটি। ৬. যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম (৭ জুলাই সকাল ৬:০০টা): স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সামনে শক্তিশালী বেলজিয়াম। লাল কার্ডের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান। ৭. আর্জেন্টিনা বনাম মিসর (৭ জুলাই রাত ১০:০০টা): কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে হারিয়ে আসা আর্জেন্টিনার সামনে এবার মোহাম্মদ সালাহর মিসর, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে। ৮. সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া (৭ জুলাই দিবাগত রাত ২:০০টা): আলজেরিয়াকে হারানো সুইজারল্যান্ড ও ঘানাকে বিদায় করা কলম্বিয়ার ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে শেষ ষোলোর লড়াই।
থ্রিলার? তা বললেও বুঝি কম বলা হয়। গোল, পালটা গোল, আক্রমণ, পালটা আক্রমণের ম্যাচে গোল হয়েছে ৫টা; নাটকীয় ম্যাচ রঙ বদলেছে তার চেয়েও বেশি। সেই ম্যাচে কেপ ভার্দে সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে লড়েছে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও তাই করতে বাধ্য করেছে। শেষমেশ আকাশি-সাদারা রুদ্ধশ্বাস এক লড়াই শেষে ৩-২ গোলে জিতেছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৩০ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লংবল থেকে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করেন তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির বিশতম গোল। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। বক্সের ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন দোরি দুয়ার্তে। এরপর দুই দলই আরও কয়েকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল। মেসির দুটি ফ্রি কিক ও একটি শট ঠেকিয়ে দেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসির কর্নার থেকে ফিরতি বলে গোল করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে বেশিক্ষণ এই লিড ধরে রাখতে পারেনি দলটি। সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত শটে আবারও সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ১১১ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। মেসির কর্নার থেকে হেডে বল জালে জড়ান তিনি। এরপর কাবরালের আরেকটি দুর্দান্ত ফ্রি কিক ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত এই লিড ধরে রেখেই ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।