হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এক মাস আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা এখনও বহাল আছে।
বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এ গুলি বিনিময় হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে কে প্রথম হামলা করেছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড তাদের অভিযোগে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে আসা একটি ইরানি তেলের ট্যাংকার ও অন্য নৌযানকে নিশানা বানিয়েছিল এবং আকাশপথে একাধিক উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলার’ মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ইরানি হামলার জবাব দিয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আজ আমাদের উত্যক্ত করেছে।
দুই পক্ষের মধ্যে এ হামলা, পাল্টা হামলার আগের দিনই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, তারা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছে।
বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমই প্রথম হরমুজ প্রণালিতে ‘বিস্ফোরণের’ খবর দিয়ে ‘শত্রুর সঙ্গে গুলিবিনিময়’ হয়েছে বলে জানায়। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে নিশ্চিত করে।
এর কিছুক্ষণ পর ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড বলে, যুক্তরাষ্ট্র বন্দর খামির, সিরিক ও কেশম দ্বীপে আকাশপথে হামলা চালিয়ে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ করেছে এবং এর পাল্টায় তারাও মার্কিন সামরিক নৌযানে হামলা করে সেগুলোর ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ সাধন করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরান ‘বিনা উসকানিতে’ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে জানায়, ইরানি সেনারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ‘অনেক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা’ পাঠিয়েছিল।
এসবের প্রতিক্রিয়ায় তারা ‘ধেয়ে আসা হুমকি নির্মূল এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় দায়ী স্থাপনাগুলো, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল স্থান এবং গোয়েন্দা তথ্য, নজরদারি ও রেকি কেন্দ্রগুলোকে’ নিশানা বানিয়েছে।
সেন্টকম উত্তেজনা বাড়াতে চায় না তবে মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষায় প্রস্তুত ও অবস্থান নিয়ে রেখেছে, বিবৃতিতে বলেছে তারা।
এদিকে ট্রুথ সোশালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে, যেগুলো খুব সুন্দরভাবে সমুদ্রে নেমে এসেছিল, অনেকটা প্রজাপতি যেমন তার কবরে নেমে আসে।
ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ‘ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি’ হতে হয়েছে, বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি ফের তেহরানকে দ্রুত চুক্তিতে আসার তাগাদা দিয়ে বলেন, আজকে আমরা যেমন তাদেরকে ফের উড়িয়ে দিয়েছি, তেমনই আমরা ভবিষ্যতে তাদেরকে আরও শক্তভাবে, আরও সহিংসভাবে উড়িয়ে দেবো, যদি না তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
ইসরায়েলি একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলায় ‘ইসরায়েল কোনোভাবেই জড়িত’ ছিল না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘দ্রুত শেষ হবে’ বলে মন্তব্য করে যাচ্ছেন, তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে এমন সংঘর্ষের খবর মিলল।
দিনকয়েক আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরান ১৪ দফা সম্বলিত একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি আছে বলে হোয়াইট হাউস বিশ্বাস করছে। ওই স্মারকেই পরবর্তীতে বিস্তৃত পরমাণু আলোচনার রূপরেখা থাকবে।
বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছেন। এরপর তারা এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের জানাবেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশ চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিতে রূপান্তরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে’।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের এক ঊর্ধ্বতন সদস্য ১৪ দফা সম্বলিত সমঝোতা স্মারকের খবরকে ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই শান্তি চুক্তিতে তাদের চাওয়া পূরণ না হলে ফের যুদ্ধে ফেরার হুমকি দিয়ে রেখেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানের সঙ্গে পরমাণু ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই কঠোর বার্তা দিল ট্রাম্প প্রশাসন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেছেন হেগসেথ। হেগসেথ বলেন, ‘প্রয়োজন হলে পুনরায় (হামলা) শুরু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকবিলার জন্য আমাদের যথেষ্ট অস্ত্রের মজুত আছে, সেটা মধ্যপ্রাচ্যে হোক কিংবা বিশ্বজুড়ে। সব মিলিয়ে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।’ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপর থেকে তাদের নজর সরিয়ে নেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারি। আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে শক্তিশালী করছি, যার ফলে খুব শিগগিরই আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই, তিন বা চার গুণ বেশি গোলাবারুদ তৈরি করব, যাতে বিশ্বজুড়ে আমাদের সমস্ত সামরিক পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।’ পেন্টাগন প্রধান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত নমনীয়। তিনি একটি ভালো চুক্তি করতে চান, যা নিশ্চিত করবে ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’ এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠকে বসবেন। ওই প্রস্তাবে গত এপ্রিলের শুরুতে নেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার—যিনি একদিন ঘোষণা করেছিলেন, 'আমি জোরে ও স্পষ্টভাবে বলেছি—এবং আমি এটা বলতে চেয়েছি—যে আমি শর্তহীনভাবে সিয়নবাদকে সমর্থন করি'—এখন কখনোই এত দুর্বল অবস্থানে ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট স্বনির্মিত সংকট থেকে এখনো কাতর, এবং ৭ মে তার লেবার পার্টি স্থানীয় নির্বাচনে প্রায় ১,৫০০ আসন হারানোর পর, তাঁর অনেক মন্ত্রীই তাঁর বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, স্বীকার করে যে: 'একটি অনুভূতি রয়েছে যে এটা শেষ।' এটি সেই ব্যক্তির জন্য এক অবিশ্বাস্য পতন, যিনি দুই বছরেরও কম সময় আগে সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলেন। তবে টনি ব্লেয়ারের মতোই—যিনি শেষ লেবার নেতা হিসেবে দলকে বিপুল বিজয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন—স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে গেছে—আংশিকভাবে কারণ তিনি নিরন্তর ইসরায়েলি রাষ্ট্রের কার্যকলাপকে সমর্থন করেছেন। ইতোমধ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবরে, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে, স্টারমার মুসলিম ভোটারদের বিচ্ছিন্ন করেছিলেন গাজার সমগ্র জনগণের খাদ্য ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার ইসরায়েলের 'অধিকার' সমর্থন করে—যদিও পরে তিনি সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যখন কেউ কেউ সতর্ক করেছিলেন যে মুসলিম ভোটাররা এর ফলে লেবার ছেড়ে চলে যাবেন, একজন সিনিয়র দলীয় সূত্র বিখ্যাতভাবে একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের সমর্থন হারানোর সম্ভাবনাকে 'উকুন ঝাড়া' হিসেবে চিত্রিত করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান আক্রমণের প্রতি স্টারমারের প্রতিক্রিয়া তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের দুর্বলতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ব্রিটেনের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক যুদ্ধে অংশগ্রহণকে 'আত্মরক্ষামূলক' বলে বিক্রি করার হতাশ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র লোড করার ফাঁস হওয়া ছবি যেকোনো এমন ভ্রম ভেঙে দেয়। স্টারমারের জন্য আরও খারাপ বিষয় হলো, তাঁর প্রাথমিক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই—যে ট্রাম্পকে 'আত্মরক্ষামূলক আক্রমণের' জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে—সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি একটি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত, একই ঘাঁটি থেকে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী গাজার আকাশ পর্যবেক্ষণে ৫০০-এরও বেশি গুপ্তচর ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। ধারণা করা হয় যে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলি গণহত্যাকারীদের জন্য গোয়েন্দা সংগ্রহ করতে এই ফ্লাইট ব্যবহার করেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আক্রোতিরি সফরকালে স্টারমার প্রকাশ্যে সংকোচ প্রকাশ করেছিলেন: 'আমরা অবশ্যই বিশ্বকে বলতে পারি না যে আপনারা এখানে কী করছেন।' এখন, স্টারমার ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছিলেন—যেসব আক্রমণ মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের কারণে চালানো হয়েছিল। অর্থদাতা ও প্রভাব ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আক্রমণ স্টারমারের জন্য তাঁর রাজনৈতিক গুরু, ইরাক আক্রমণকারী টনি ব্লেয়ারকে অনুকরণ করার সুযোগ ছিল। স্টারমার স্বীকার করেছিলেন যে ২০২৪ সালের নির্বাচনী জয়ের পূর্বে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে 'অনেক' পরামর্শ করেছিলেন, এবং ব্লেয়ারের বর্তমান সরকারের ওপর প্রভাব 'নীতি থেকে কর্মী... সর্বত্র' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। লেবার পার্টির কেউ কেউ এই প্রভাব উদযাপন করেছেন। স্টারমারের ব্যবসা সচিব পিটার কাইল—যিনি লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং ব্লেয়ার যুগে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন—বলেছেন যে স্টারমার 'বিশ্বজুড়ে যাকে লোকজন চেনে ও বিশ্বাস করে এমন একজন প্রবীণ রাষ্ট্রনায়কের' সুবিধা পাবেন। তবে ব্লেয়ারের 'নেতানিয়াহু প্রশাসনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক' এবং জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনোনীত গাজার জন্য ট্রাম্পের ঔপনিবেশিক 'শান্তি বোর্ড'-এ তাঁর অংশগ্রহণ কোনো নিরপেক্ষতা বা নিষ্ঠার ভান ভেঙে দেয়। ব্লেয়ারের সাম্প্রতিক 'তিরস্কার'—যে স্টারমার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি ইরান আক্রমণকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন করেননি—এটি একটি ধোঁয়াসা। দুজন একই কাপড়ের, এবং স্টারমার ও ব্লেয়ার উভয়েরই ব্রিটেনে ইসরায়েল লবিকে সমর্থন ও শক্তিশালী করার সুদীর্ঘ প্রমাণিত ইতিহাস রয়েছে। ৩ মে, ব্লেয়ারের জীবনীকার অ্যান্থনি সেলডন অদ্ভুতভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে স্টারমার তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতে ব্লেয়ারকে পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগ দেওয়া উচিত। কিন্তু প্রথমে ব্লেয়ারকে রাজনৈতিক দৃশ্যে নিয়ে আসা অর্থ তাঁর প্রকৃত অনুগত্যকে প্রকাশ করে। ব্লেয়ারের ক্ষমতায় আরোহণের পেছনে অর্থদাতা ছিলেন মাইকেল লেভি—যাকে একসময় তাঁর 'একক এটিএম' বলা হতো এবং যিনি লেবার পার্টির জন্য ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। লন্ডনে একজন সিনিয়র ইসরায়েলি কূটনীতিক গিডিয়ন মেইর আয়োজিত এক সমাবেশে তাঁরা প্রথম দেখা করেন। সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট একবার ব্লেয়ারকে 'ইসরায়েল রাষ্ট্রের একজন সত্যিকারের বন্ধু' বলেছিলেন। ১৯৮৩ সালে সংসদে প্রবেশের পর ব্লেয়ারের প্রথম কাজগুলোর একটি ছিল লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল লবি গ্রুপে যোগদান। কিন্তু এই চাপ গ্রুপের লেবার নীতির ওপর প্রকৃত প্রভাবের পরিবর্তন ঘটে একবার ব্লেয়ার দলের নেতা হওয়ার পর। ইসরায়েলপন্থী লবিস্ট জন মেন্ডেলসন ব্যাখ্যা করেছিলেন: 'নিউ লেবারে সিয়নবাদ সর্বব্যাপী। এটি স্বয়ংক্রিয় যে ব্লেয়ার এলএফআই সভায় আসবেন।' লেভি অন্য ইসরায়েলপন্থী কোটিপতিদেরও লেবারকে সমর্থন করতে উৎসাহিত করেছিলেন: কেই এন্টারপ্রাইজের ইমানুয়েল কেই—যিনি লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক; ওয়েস্টফিল্ডের চেয়ারম্যান ফ্রাঙ্ক লোয়ি—যিনি পূর্বে সন্ত্রাসী হাগানাহ সংগঠনের সদস্য ছিলেন; এবং ট্রেভর চিন—যিনি পরে মরগান ম্যাকসুইনির লেবার টুগেদার সংগঠনের পরিচালক ও প্রধান অর্থদাতা হন। চিন স্টারমারের ২০২০ সালের লেবার নেতৃত্ব প্রচারাভিযানেও প্রায় ৭০,০০০ ডলার দান করেছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে চিনকে 'ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বার্থে দক্ষতা ও কাজের' জন্য ইসরায়েলি প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব অনার প্রদান করা হয়। লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল লবি গ্রুপ তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লোয়িকেও একই পুরস্কার দেওয়া হয়, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজগ তাঁকে 'বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের জন্য চমৎকার সংযোগ গঠনের' জন্য ধন্যবাদ জানান। ২০১৩ সালে চিন এক লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল সভায় বলেছিলেন: 'আমি আমার পুরো জীবন ইসরায়েলের জন্য, ইসরায়েলের উন্নত ভাবমূর্তির জন্য, ইসরায়েলের সাফল্যের জন্য কাজ করেছি।' ম্যাকসুইন reportedly ট্রেভরকে 'রক্ষা করতে' লেবার টুগেদারে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অনুদান গোপন করেছিলেন। অস্ত্র বিক্রি লেবারে যোগদানের আগে, ম্যাকসুইনি কিছু সময় দখলকৃত ফিলিস্তিনের সারিদে একটি ইহুদি উপনিবেশে বসবাস করেছিলেন। ইসরায়েল লবিস্ট থেকে লেবার এমপি লুক অ্যাকহার্স্ট ম্যাকসুইনিকে 'মূল ব্যক্তিত্ব' ও 'ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক' বলে অভিহিত করেছিলেন, এবং তাঁকে সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবং পছন্দের প্রার্থী কিয়ার স্টারমারকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করতে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া হয়। স্টারমারকে ক্লাইভ হলিকও অর্থায়ন করেছিলেন, যিনি ম্যাকসুইনির লেবার টুগেদারের আরেক অর্থদাতা এবং তাঁর 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু' পিটার ম্যান্ডেলসনের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী স্টারমারের প্রচারাভিযানে প্রায় ৭০,০০০ ডলার দিয়েছিলেন, 'লর্ড হলিকের কাছে এটি খুব বেশি নয়, মাত্র এক মুঠো খুচরা টাকা।' হলিক হানিওয়েল ইন্টারন্যাশনাল ইনক.-এর একজন নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালক, যা দাবি করে 'বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য যুদ্ধ-পরীক্ষিত প্রযুক্তি' সরবরাহ করে। তিনি পূর্বে ব্রিটিশ অস্ত্র কোম্পানি বিএই সিস্টেমসের পরিচালক ছিলেন, যা বর্তমানে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচির প্রধান অংশীদার। যুক্তরাজ্য তথ্যানুসারে গাজায় ২,০০০ পাউন্ড বোমা ফেলতে ব্যবহৃত ইসরায়েলি এফ-৩৫-এর ১৫ শতাংশ উৎপাদন করে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবারের আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থেকে এফ-৩৫ লাইসেন্স ছাড় পেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, টনি ব্লেয়ার বিদেশি সরকারগুলোকে বিএই-এর কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে লবি করতেন, এবং ব্লেয়ারের অধীনে পররাষ্ট্র সচিব রবিন কুক একবার বলেছিলেন: 'আমি জানতে পারলাম যে বিএই-এর চেয়ারম্যানের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাগানের দরজার চাবি ছিল।' কুক হলিকের ব্লেয়ারের ওপর প্রভাবকেও দায়ী করেছিলেন যে কারণে তিনি সরকারকে অস্ত্র রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। অতীতে, স্টারমার মিশকন ডে রেয়া নামক একটি আইনি সংস্থার হয়ে হাজার হাজার ডলার উপার্জন করেছিলেন, যা পূর্বে অ্যারিয়েল শ্যারন ও লন্ডনে ইসরায়েলি দূতাবাসের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। মিশকন ডে রেয়া বর্তমানে এপস্টেইন-সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনের প্রতিনিধিত্ব করছে, যাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া প্রায় স্টারমারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এবং যিনি ফেব্রুয়ারিতে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ম্যান্ডেলসন কুখ্যাত পেডোফাইলকেও সংবেদনশীল সরকারি তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। ২০১৭ সালের ফাঁস হওয়া বার্তায় দেখা যায় যে স্টারমার মিশকন ডে রেয়ার সঙ্গে একটি পরামর্শক পদ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে তৎকালীন লেবার নেতা জেরেমি করবিন তাঁকে বাধা দিয়েছিলেন। আরও জোরদার এটি একমাত্র সময় ছিল না যখন স্টারমার করবিনকে তাঁর সংসদীয় কার্যক্রমের বাইরে কাজ সম্পর্কে অন্ধকারে রেখেছিলেন। ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে কোনো এক সময়, স্টারমার ট্রিলেটারাল কমিশনে যোগ দেন, যা ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন কোটিপতি ডেভিড রকফেলার 'নির্বাচিতদের জন্য একটি নেটওয়ার্কিং গ্রুপ' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্টারমার পরে কমিশন ছেড়েছেন, এবং আমরা জানি না কে তাঁর আমন্ত্রণের সুপারিশ করেছিলেন, তবে জেফ্রি এপস্টেইন ও পিটার ম্যান্ডেলসন উভয়েই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমপি হওয়ার আগে, কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের অন্যতম সিনিয়র প্রসিকিউটর পদ পাবলিক প্রসিকিউশন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১১ সালের জুনে, স্টারমার যে একমাত্র বিদেশি রাষ্ট্রীয় অ্যাটর্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তার রেকর্ড রয়েছে: ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর মোশে লাডোর। লাডোর স্টারমারকে 'ইসরায়েলের স্থান ও ইতিহাসের ওপর একটি বই' উপহার দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তী তথ্যের স্বাধীনতা অনুরোধের জবাবে সিপিএস দাবি করেছিল যে তাদের কাছে 'পরিকল্পনা নথি, ব্রিফিং নোট, সাক্ষাৎ সম্পর্কিত যোগাযোগ' বা সাক্ষাৎ মিনিটের কোনো রেকর্ড নেই। লাডোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কয়েক মাস পরেই, স্টারমার সাবেক ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তজিপি লিভনির জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্লক করেছিলেন, যিনি যুক্তরাজ্য সফর করছিলেন। স্টারমারের লিভনি মামলা সম্পর্কিত ইমেইলগুলো সংশোধিত করা হয়েছিল, কিন্তু এর জবাবে ব্রিটিশ সরকার আইন পরিবর্তন করেছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, স্টারমার নীরবে ইসরায়েল লবির সঙ্গে সংযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। রুথ অ্যান্ডারসন—পূর্বে রুথ স্মিথ নামে পরিচিত—যুক্তরাজ্যের নির্বাচিত নয় এমন উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে সরকারি চাবুক নিয়োগ পান। গিলিয়ান মেরন—যিনি পূর্বে যুক্তরাজ্যের প্রধান ইহুদি সম্প্রদায় প্রতিনিধি সংস্থা বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউজের প্রধান নির্বাহী ছিলেন—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ পান। ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক তারবার্তায় অ্যান্ডারসনকে লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের 'কঠোরভাবে রক্ষা' করার মতো গোপন সূত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি পূর্বে ব্রিটেন ইসরায়েল কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (বিকম)-এর জনসংযোগ পরিচালক ছিলেন। লেবার পার্টি একটি অস্তিত্বগত সংকটের মুখোমুখি হওয়ায়, স্টারমার টনি ব্লেয়ারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁর অবস্থান আরও জোরদার করেছেন, শেষ মুহূর্তে নিজের ত্বক বাঁচাতে নিউ লেবারের প্রবীণরা গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যানকে সরকারে ফিরিয়ে আনছেন। কিন্তু লেখা দেয়ালে, এবং এই দুর্বল প্রধানমন্ত্রীর মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে ইতিহাস জনমতের আদালতে তাঁকে বাঁচাতে পারবে না।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারীরা একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) একমত হয়েছেন।তবে এতে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন এমন তথ্য উঠে এসেছে। মধ্যস্থতার সঙ্গে যুক্ত দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ইরানও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা স্মারক মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। এই সমঝোতা স্মারক সই হলে তা হবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। তবে ট্রাম্পের পরমাণু শর্ত মেনে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনার দরকার হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি সবাইকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি চুক্তি মাত্র। চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো আমরা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করব। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত চুক্তির প্রায় সব শর্তেই দু’পক্ষ একমত হয়েছিল। তবে উভয় পক্ষেরই নিজ নিজ শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানিরা পরে ফিরে এসে জানায় যে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে এবং তারা চুক্তি সই করতে প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে মার্কিন আলোচকেরা চূড়ান্ত চুক্তির বিস্তারিত ট্রাম্পকে জানালেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই করেননি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন যে, তিনি এটি নিয়ে ভাবতে আরও কয়েক দিন সময় চান। এর আগে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প এবং তার উপদেষ্টারা বেশ কয়েকবার ভেবেছিলেন যে তারা চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন, কিন্তু বারবারই আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। কী আছে এই সমঝোতা স্মারকে? মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৬০ দিনের এই এমওইউতে স্পষ্ট বলা থাকবে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে 'কোনো বাধা থাকবে না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এর মানে হলো প্রণালি পার হতে কোনো টোল বা ফি লাগবে না এবং কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না। এ ছাড়া ইরানকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে সব মাইন অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধও তুলে নেওয়া হবে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার হারের ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে এই অবরোধ উঠবে বলে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা। এ ছাড়া ইরানকে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করবে। কর্মকর্তারা জানান, এই এমওইউতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। ৬০ দিনের এই সময়সীমার মধ্যে সবার আগে আলোচনা হবে—কীভাবে ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হবে। এমওইউতে ইরানে পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর একটি মেকানিজম বা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা থাকবে। এ ছাড়া লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টিও এই স্মারকে থাকবে। এই ইস্যুটি নিয়ে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এর আগে অন্তত একবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। তবে এসব আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার মুহূর্তেও গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুবার ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামনে এখন তাদের অর্থনীতিকে শৃঙ্খলমুক্ত করার সুযোগ এসেছে। তিনি বলেন, 'তাদের (ইরান) ব্যবস্থার ভেতরেও এমন মানুষ আছেন, যারা বোঝেন যে এটি ভিন্ন পথে হাঁটার একটি দারুণ সুযোগ। ৬০ দিনের এই আলোচনাতেই আমরা বুঝতে পারব যে আসলেই তারা এমনটা চায় কি না।' মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা ইরানকে তহবিল দেওয়ার বিষয়ে কোনো 'গোপন চুক্তি' থাকবে না। এক কর্মকর্তা বলেন, 'ইরানিরা যত বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে, তারা তত বেশি সুবিধা পাবে।' দুই মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেন, আলোচনা চলাকালে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ইরানিরা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা বলেন, 'আমরা যতক্ষণ না এক ঘরে বসে আলোচনা করছি, ততক্ষণ কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। আর এ জন্যই আমরা এই এমওইউ করতে চাই। এর মাধ্যমে দুই পক্ষই সরাসরি এক ঘরে বসে আলোচনা করার সুযোগ পাবে। এমওইউতে আঞ্চলিক শান্তির বিষয়েও কথাও বলা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই সুযোগে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি বা ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের বিষয়েও আলোচনা করতে চায়। তারা বলেন, আলোচনার সময় যদি এটা স্পষ্ট হয় যে ইরান পারমাণবিক বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারছে না, তবে ট্রাম্পের হাতে অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব ধরনের বিকল্পই খোলা থাকবে। তেহরান এখনো এই এমওইউ মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে ট্রাম্পও বুধবার জানিয়েছেন, চুক্তি সই করার ক্ষেত্রে তার কোনো তাড়া নেই।