বয়সের তুলনায় অনেক পরিণত, মাঝমাঠে সুর বেঁধে দেওয়া, শারীরিক শক্তি ও গতির সঙ্গে অসাধারণ কৌশল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার সামর্থ্য- এই বিষয়গুলো খুব ভালোভাবেই যায় জুড বেলিংহ্যামের নামের সঙ্গে। সময়ের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন এই তারকা ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ ও জাতীয় দল ইংল্যান্ডের জন্য খুবই অপরিহার্য। হয়ে উঠেছেন বড় ম্যাচের খেলোয়াড়।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম।
জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের সময় ২৩ বছর পূর্ণ হবে বেলিংহ্যামের। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অর্ধশত ম্যাচ খেলার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। সব কিছু ঠিক থাকলে ইংল্যান্ডের জার্সিতে তার ম্যাচ খেলার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে বিশ্বকাপের মঞ্চেই।
ফুটবলের আঙিনায় বেলিংহ্যামের অর্জন
পেশাদার ফুটবলে বেলিংহ্যামের অভিষেক হয় ১৬ বছর ৩৮ দিন বয়সে, বার্মিংহাম সিটির হয়ে। তার আগে থেকেই অবশ্য তাকে নিয়ে আলোচনা ছিল অনেক। দারুণ প্রতিভা, অসাধারণ দক্ষতা মিলিয়ে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত একজন হিসেবে নজর কাড়েন তিনি।
সেই প্রতিভা এখন আরও প্রস্ফুটিত হয়েছে। বার্মিংহামের হয়ে অভিষেকের পর সাত বছরে ফুটবল বিশ্বের বড় নামগুলির একটিতে পরিণত হয়েছেন বেলিংহ্যাম।
বার্মিংহামের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর, মূল দলে এক মৌসুম কাটিয়ে নিজ দেশ ছেড়ে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন বেলিংহ্যাম। অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন জার্মান দলটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আলোড়ন ফেলে দেন বুন্ডেসলিগায়। স্রেফ ১৯ বছর বয়সেই ডর্টমুন্ডের নেতৃত্ব পেয়ে জন্ম দেন নতুন ইতিহাসের।
সব মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে ১৩২ ম্যাচে ২৪ গোল করেন তিনি। আরও অবদান রাখেন ২৫টিতে।
২০২৩ সালের জুনে ছয় বছরের চুক্তিতে তিনি যোগ দেন রেয়াল মাদ্রিদে। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়েও দ্রুত মানিয়ে নেন নিজেকে। দলটির জার্সিতে লা লিগায় প্রথমবার খেলতে নেমে করেন নান্দনিক এক গোল। দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করেন দুটি। দুই ম্যাচেই পান সেরার স্বীকৃতি।
বেলিংহ্যামের অনেক গুণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই নিজের সেরাটা তিনি দেন। ক্লাব ও দেশের হয়ে বড় বড় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত তিনি তৈরি করেছেন। স্পেনের দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ক্লাসিকোতে যোগ করা সময়ে তার জয়সূচক গোল আছে দুটি। ইংল্যান্ডের হয়েও বড় মঞ্চে গোল করেছেন তিনি।
রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে এখন পর্যন্ত একটি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছেন বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ডের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার রানার্সআপ পদক পেয়েছেন তিনি।
কোচ, সতীর্থ ও পূর্বসূরির চোখে বেলিংহ্যাম
অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড় সে। তার খেলার ধরন, যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে খেলে এবং যেভাবে খেলায় প্রভাব ফেলে, অসাধারণ। এই পজিশনে খেলা ফুটবলারদের জন্য গোল ও অ্যাসিস্ট করাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ঠিক সেটাই করে সে।
- হ্যারি কেইন, ইংল্যান্ড অধিনায়ক
এত অল্প বয়সে সে যতটা পরিণত, তা অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয়, দেশের বাইরে খেলাটা এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করেছে। জুডের ক্ষেত্রে বিষয়টা শুধু তার প্রতিভা নয়, বরং তার ব্যক্তিত্বও (ভূমিকা রেখেছে) এবং তার নিজেকে সামলানোর ধরনটাও গুরুত্বপূর্ণ। সে একজন আদর্শ পেশাদার, জানে তাকে কী করতে হবে।
- ডেভিড বেকহ্যাম, ইংল্যান্ডের গ্রেট ফুটবলার
বেলিংহ্যাম ফুটবলের জন্য এক উপহার। এমন সম্ভাবনাময় ও ইতিবাচক ভাবমূর্তির একজন খেলোয়াড়কে দেখে গোটা ফুটবল দুনিয়া উচ্ছ্বসিত।
- কার্লো আনচেলত্তি, রেয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ ও বর্তমানে ব্রাজিলের কোচ
পরিসংখ্যানের আলোয় বেলিংহ্যাম
• ইংল্যান্ডের ইতিহাসে তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলে অভিষেক হয় বেলিংহ্যামের, ১৭ বছর ১৩৬ দিন বয়সে। তার চেয়ে কম বয়সে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়েছে শুধু থিও ওয়ালকট ও ওয়েইন রুনির।
• রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে অভিষেক মৌসুমে (২০২৩-২৪) লা লিগার মৌসুম সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন বেলিংহ্যাম। ওই মৌসুমে তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন এবং ২০২৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারের ভোটিংয়ে তৃতীয় হন।
বিশ্ব মঞ্চে বেলিংহ্যাম
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে অভিষেক বেলিংহ্যামের। তখন টিনএজার হলেও ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। বৈশ্বিক আসরে নিজের ছাপ ফেলতে বেশি সময় লাগেনি তার। প্রথম ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ৬-২ গোলের জয়ে তিনিই করেন ইংল্যান্ডের প্রথম গোল।
ওই আসরে ইংল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন বেলিংহ্যাম। শেষ ষোলোয় সেনেগালের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জর্ডান হেন্ডারসনের গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। নাটকীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় ইংল্যান্ডের।
২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে বেলিংহ্যাম ও ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা
কোচ টমাস টুখেলের হাতে যত প্রতিভা আছে, তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে যেমন তার দল, তাতে ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামবে ইংল্যান্ড।
আর সেখানে বেলিংহ্যাম হতে পারেন ইংল্যান্ডের চালিকাশক্তি, সেটা তিনি মাঝমাঠের নিচে নেমে খেলুন কিংবা আক্রমণভাগে থেকে ‘গোলমেশিন’ নাম্বার নাইন হ্যারি কেইনকে গোলের জোগান দিন।
যে পজিশনেই তাকে খেলানো হোক না কেন, বেলিংহ্যাম বারবার প্রমাণ করেছেন, তিনি বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মেলার পালা- ৬০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে পারবেন বেলিংহ্যাম?
আগামী ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৯৬৬ সালের শিরোপা জয়ীরা। ‘এল’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ঘানা ও পানামা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সদ্যই ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে হারিয়ে ট্রফির উল্লাসে মেতে ওঠে স্পেন। বিশ্বকাপ মিশন শেষে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজের সূচি ইতোমধ্যে চুড়ান্ত করেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। আগামী সেপ্টেম্বরে ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে মাঠে ফিরবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে হতাশাজনক বিদায় নেয় ব্রাজিল। দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়র আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি তরুণদের নিয়ে নতুনভাবে দল গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছেন। বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের প্রথম আন্তর্জাতিক সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হবে। আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিল ও ব্রিসবেনে হবে ম্যাচ দুটি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেলেসাওদের দুই ম্যাচই বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে। ফিফার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক বিরতির কারণে আরও একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলেও, সেই প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত করেনি ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)। বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের সূচি নির্ধারিত হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে মেক্সিকোর বিপক্ষে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর টেক্সাসে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে লে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ দুটি বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ কানাডায় ছুটি ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে রিও ডি জেনেইরোতে ফিরেছেন কোচ আনচেলত্তি। নতুন করে দল নিয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। ব্রাজিলের ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সদর দপ্তরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন তিনি। গ্লোবো স্পোর্ত জানিয়েছে, বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্নকে পেছনে ফেলে আনচেলত্তির মূল লক্ষ্য এখন বছরের দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচগুলোর জন্য দল গোছানো। সেইসঙ্গে একটি শক্তিশালী নতুন প্রজন্ম তৈরি করা। সিবিএফের প্রধান কার্যালয়ে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের কো-অর্ডিনেটর রদ্রিগো কায়েতানো, জেনারেল ম্যানেজার সিসেরো সুজা, টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর জুয়ানসহ কোচিং স্টাফ ও পারফরম্যান্স অ্যানালিস্টরা। বৈঠকে মূলত বিশ্বকাপের সার্বিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, লজিস্টিকস এবং প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ২০২৭ সালের শেষভাগে শুরু হতে যাওয়া ২০৩০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা সামনে রেখে এখন থেকেই সুদূরপ্রসারী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সেলেসাও ম্যানেজমেন্ট। বৈঠক শেষে সিবিএফের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা একটি নতুন দল গড়ার কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। তরুণ খেলোয়াড়দের পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করা হবে, তবে বিশ্বকাপে আমাদের সঙ্গে থাকা এবং দলের জন্য অবদান রাখার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও আমরা পুরোপুরি বাদ দিচ্ছি না।’ আগামী সেপ্টেম্বরের ২৫ ও ২৯ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার টাউন্সভিল এবং ব্রিসবেনে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হতে আর মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় বাকি আছে। এর মধ্যেও বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার এখনো কোনো ক্লাব পাননি। এই খেলোয়াড়দের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা স্ব স্ব ক্লাবে কাপ জিতেছেন। মাল্টি-মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফারে যুক্ত ছিলেন। কিংবা মহাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবগুলোর মূল খেলোয়াড় ছিলেন। তারা সবাই এখন এমন একটি প্রস্তাবের অপেক্ষায় আছেন, যা তাদেরকে নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে অনুপ্রাণিত করবে। মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রান্সফারমার্কেটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দশজন ফুটবলার হলেন সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ফ্রি এজেন্ট। জুভেন্টাসের সাথে চুক্তি নবায়ন না করায় বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামের ফ্রি এজেন্ট সার্বিয়ান স্ট্রাইকার দুসান ভ্লাহোভিচ। ২৬ বছর বয়সী এই তারকার মার্কেট ভ্যালু ৩৫ মিলিয়ন ইউরো। এই তালিকায় মোহাম্মদ সালাহ এবং জ্যাডন সানচোর মতো তারকা খেলোয়াড়রাও রয়েছেন, যারা বর্তমানে ক্লাবহীন। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে মোহাম্মদ সালাহ মার্কেট ভ্যালু ২২ মিলিয়ন। এই মিশরীয় তারকা লিভারপুলের সম্ভাব্য সব শিরোপা জিতেছেন। ক্লাবটির হয়ে ২৫০ গোলের মাইলফলক অতিক্রম করে সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তিতে পরিণত হন। ১৮ মিলিয়ন ইউরোতে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে অবিক্রিত এখনো ইংলিশ উইঙ্গার জাডন সানচো। ২০২১ সালে ৮৫ মিলিয়ন ইউরোতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয় এই ইংলিশ তারকা। ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল সাইনিং হলেও ধারাবাহিকতার অভাব এবং কোচদের সাথে দ্বন্দ্বে ক্যারিয়ারে স্থবিরতা নেমে আসে। ডর্টমুন্ডে ফিরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেললেও চেলসি ও অ্যাস্টন ভিলায় লোনে থাকার সময় তার ক্যারিয়ারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার চিত্রই ফুটে ওঠে। এছাড়া সেনেগালের তারকা স্ট্রাইকার বাম্বা ডিয়েং এবং জার্মান তারকা জুলিয়ান ব্রান্ডট ১৫ মিলিয়ন ইউরো রয়েছেন ফ্রি এজেন্ট হিসেবে। ১২ মিলিয়ন ইউরোতে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে আছেন ইউনিয়ন বার্লিনের হয়ে খেলা পর্তুগিজ ডিফেন্ডার দিয়োগো লেইতে। আল-আহলির হয়ে টানা এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার পর ক্লাব ছাড়া আইভোরিয়ান মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসির মূল্য ১২ মিলিয়ন ইউরো। সাবেক লিভারপুল তারকা এবং ব্রাজিলীয় রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ফ্যাবিনহো তিন মৌসুম কাটানোর পর সৌদি আরবের ক্লাব আল-ইত্তিহাদ ছেড়েছেন। ৩২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বর্তমানে কোনো ক্লাব ছাড়াই মুক্ত এজেন্ট হিসেবে নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় আছেন। ১২ মিলিয়ন ইউরো ৩২ বছর বয়সী ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার জন স্টোন্সও চুক্তি শেষ হওয়ায় ফ্রি এজেন্টের তালিকায় রয়েছেন। রক্ষণভাগ থেকে দারুণভাবে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠার দক্ষতার কারণে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। জার্মানির সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার লিওন গোরেটস্কাও ১২ মিলিয়ন ইউরোতে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে আছেন। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ ও বক্স-টু-বক্স খেলার ক্ষমতার জন্য বিশেষ দক্ষ তিনি। তারকাখচিত এই তালিকা থেকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ না করে ক্লাবগুলো প্রতিভাদের দলে কাজে লাগতে পারে। এছাড়াও কারভাহাল, সেবাইয়োস, পেলেগ্রিনি, মাহরেজ, গেরেইরো, ব্রোজোভিচ, জিনচেঙ্কো বা বিসুমার মতো প্রমাণিত ফুটবলাররাও এখনও দলবিহীন রয়েছেন। এখনও বেশ কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায়, সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে দলবদলের উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে এই নামগুলোর অনেকেই পাদপ্রদীপের আলোয় আসবে।