২০২৭ সালের হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন সেরেছেন ১ হাজার ২১৭ জন। ফলে বাংলাদেশ থেকে এবারও হজে যাওয়ার নির্ধারিত সংখ্যা বা কোটা অপূর্ণ থেকে যেতে পারে।
এই আশঙ্কার কারণ হিসেবে ওমরাহ হজের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া ও হজের খরচ বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের তথ্যানুযায়ী, রোববার পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ৫২৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৬৯৩ জন প্রাথমিক নিবন্ধন সেরেছেন।
একই সময়ে সরকারি মাধ্যমে হজে যেতে প্রাক নিবন্ধন সেরেছেন ৩ হাজার ৫৯৩ জন, আর বেসরকারি মাধ্যমে প্রাক নিবন্ধন করেছেন ৬০ হাজার ১২৯ জন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ২০২৭ সালের গাইডলাইন অনুযায়ী, হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট দিয়ে ৩০ হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সারতে হয়। এই প্রাক-নিবন্ধনের সিরিয়াল অনুযায়ী জাতীয় ডেটাবেজে স্থান নির্ধারণ করা হয়।
সৌদি রোডম্যাপ অনুসরণ করে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের কার্যক্রম ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যদিও প্রতিবছর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়।
প্রাক ও প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিতদের আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হজের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার সময় বেঁধে দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রাক-নিবন্ধিতদের মধ্য থেকে নির্ধারিত ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। এরপর নির্ধারিত প্যাকেজের অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি বা বেসরকারি (অনুমোদিত হজ এজেন্সি) যেকোনো দুটি মাধ্যমের একটি বেছে নিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
বেড়েছে হজ প্যাকেজের মূল্য
গেল ২১ জুলাই সচিবালয়ে সরকারি মাধ্যমে হজের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এবার হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা, যা গতবারের চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি।
২০২৬ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকার। সে হিসাবে এবার হজের খরচ ৩৮ হাজার ৫১১ টাকা বেড়েছে।
তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দাবি, সার্বিক সেবা ও আনুষঙ্গিক খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আসল চিত্র উল্টো।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৭’ এবং প্রকাশিত ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে সরকার ঘোষিত ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকার প্যাকেজে হজযাত্রীদের প্রতিদিনের খাবারের খরচ যুক্ত ছিল না। হাজিদের সেই টাকা নিজ উদ্যোগে খরচ করতে হত।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সরকারি হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) এর খরচ ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজাত ৫৯৭ টাকা। ২০২৭ সালে তা কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে খরচ কমেছে ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা।
এছাড়া বেসরকারি এজেন্সির জন্য সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
হজের প্যাকেজ ঘোষণার একদিন পর ২২ জুলাই বেসরকারি মাধ্যমে ৩টি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এবার সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
দ্বিতীয় প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা এবং বিশেষ হজ প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।
গত বছর বিশেষ হজ প্যাকেজের খরচ ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাধারণ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। সে হিসাবে এবার সাশ্রয়ী প্যাকেজের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ৫৪৫ টাকা।
আর সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টাকা বেশি।
কোটা পূরণ হচ্ছে না ৩ বছর ধরে
২০২৫ ও ২০২৬ সালের মতো ২০২৭ সালেও বাংলাদেশের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর কোটা বহাল রেখেছে সৌদি আরব। তবে গেল তিন বারের হজযাত্রায় কোটা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের কোটার বিপরীতে হজে গিয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য, হজ গাইডসহ সব মিলিয়ে ৭৯ হাজার ১০০ জন সৌদি আরব থেকে হজ পালন শেষে দেশে ফেরেন।
২০২৫ সালে হজ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যসহ ৮৭ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশ থেকে হজ পালন করেন। আর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৬৫৫।
কেন পূরণ হচ্ছে না কোটা?
কেন হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না জানতে চাইলে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোটা পূরণ না হওয়ার একটি বেসিক কারণ হচ্ছে, আমাদের দেশের অনেক এজেন্সির দালালেরা মানুষকে ফুসলিয়ে ওমরাহ পালনে নিয়ে যায়। তারা ওমরাহ হজের নাম দিয়েছে ছোট হজ। অনেকেই ভাবে, ওমরাহ করলেই হজ পালন হয়ে যায়।
“দুই হজ তো এক নয়। গত বছর ৫ লাখ মানুষ ওমরাহ করেছেন। হয়ত ওমরাহ না করলে এর একটা বড়ো অংশ হজে যেতেন। তাতে আমাদের কোটা পূরণ হওয়ার একটা সম্ভাবনা ছিল। মূলত এ কারণেই হজের কোটা পূরণ হচ্ছে না।”
হজ প্যাকেজের খরচ বাড়াও কোট পূরণে প্রতিবন্ধকতা কিনা জানতে চাইলে ফরিদ বলেন, “খরচের বিষয়টা তো আছেই। এবার খাবারের খরচ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কিছুটা খরচ বেড়েছে। তবে খরচ বাড়লেও ওমরাহ হজ নিয়ে ভুল প্রচারই অন্যতম কারণ।
“আমরা চেষ্টা করছি। সরকার, আলেম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।”
কোটা পূরণ না হওয়ার ‘মূল কারণ’ হিসেবে কোভিড মহামারীর প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দাকে সামনে আনতে চান হাবের সাবেক মহাসচিব ও এয়ার টাচ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “মন্দা পরিস্থিতির কারণে অনেকেই হজে যাওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছেন।
“এছাড়া অনেকে ফরজ হজ না করে নফল ওমরাহ পালনে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন, অথচ ওমরাহ কখনো হজের বিকল্প হতে পারে না।”
তিনি বলেন, “ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে শৈশব থেকেই হজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সঞ্চয়ের সরকারি ব্যবস্থা থাকায় তাদের কোটা সহজে পূরণ হয়, যা আমাদের দেশে নেই।”
এই পরিস্থিতি উত্তরণে হজ যে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য একটি ফরজ ইবাদত, সে বিষয়ে জনগণের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেও মত তার।
হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অর্থনৈতিক যে অবস্থা, মানে মানুষের কাছে তো টাকা নাই, এক নম্বর। দুই নম্বর হলো, মানুষের একটা ধারণা হলো, তিন-চার লাখ টাকা দিয়ে হজ করবে। এখন তো সাড়ে পাঁচ লাখের নিচে হজই করতে পারবে না।
“মানুষের টাকা জোগাড় না হলে কীভাবে যাবে? মানুষের ইনকাম অনেক কমে গেছে। এজন্য হজে যাওয়া কমে গেছে। তারপরও এ বছর প্রাক-নিবন্ধন প্রায় ৬১ হাজার হয়ে গেছে।
এখন সময় আছে, আরও এক মাস সময় আছে না? ৮০ হাজার থাকবে আশা করছি।”
হজে যেতে ইচ্ছুক অনেকেই বাড়তি খরচের কথা সামনে এনেছেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগতির বাসিন্দা আবদুল হান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রত্যেক বছর নানা অজুহাতে হজের খরচ বাড়ে। আমরা হজে যাইতে পাইরতেছি না। আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করমু, ওইখানেও ব্যবসা করার জন্য বসি থাকে। হজের খরচটা যদি আরেকটু কম হইত, আমরা আল্লাহর ঘরটা তাওয়াফ করতে পাইরতাম।”
সরকারের ভাষ্য কী
হজের কোটা পূরণে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না জানতে চাইলে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পূরণ না হলে কোটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে, সেটা ঠিক। তবে আমরা সরকারের তরফ থেকে চেষ্টা করছি কোটা পূরণে কাজ করার। এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে।”
সৌদি সরকার ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা দেওয়া শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল শুরু হবে হজ ফ্লাইট। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে (৯ জিলহজ্ব) হজ হবে।
হজের জন্য সৌদি প্রান্তের খরচের অর্থ নুসুক মাসার প্লাটফর্মের ই-ওয়ালেটে সরাসরি স্থানান্তর কার্যক্রম চলবে এ বছরের ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, নুসুক মাসারের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ (তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনায় হোটেল, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা) নিতে চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হয় ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই। শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।
হজযাত্রীদের ডেটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ২০২৬ সালের ১৪ অগাস্ট থেকে ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি মধ্যে।
আর হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি সই ও নুসুক মাসারে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই হতে ৮ নভেম্বরের মধ্যে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলে কাশিমপুর থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একদল বিক্ষোভকারী কাশিমপুর থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। এ সময় থানার সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানার ভেতর থেকে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা সরে যায়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কাশিমপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলনকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নগরীর নাওজোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে মৌচাকের তেলীরচালা এলাকায়ও সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় চলমান এই আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর মডেল ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) এসব তথ্য জানান। পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা দুই দিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর থানায় একটি মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে তাঁর থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। পুলিশ এসব মামলার বাদী। প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দাবি করেছে, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মী। তাদের একটি অংশ অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিল বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মী রয়েছেন। তাঁরা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন বলে দাবি করছে পুলিশ। শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডিবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। সোমবার সকাল থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়। বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করা হয় বলে জানা গেছে। পরে মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকাতেও শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে সোমবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়। সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টিতে কিছু শিল্পমালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত। তাঁদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ, অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো শ্রমিক সংগঠনের নেতা এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। অন্যদিকে, শ্রমিকদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় আটক কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের সহকারী বেঞ্চ সহকারী কনক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একই আদালতে কিশোরের জামিন আবেদনের শুনানি হয়। ওই সময় তার পক্ষে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খানসহ একাধিক আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালত অধিকতর শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই দিনও জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছিল। এরও আগে ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিশোরের পক্ষে করা জামিন আবেদনে দাবি করা হয়, ঘটনার সময় সে গাড়ির চালকের পাশের আসনে বসা ছিল। নিহত মেহেদী বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী ছিলেন। হর্ন বাজানোর পরও তিনি দ্রুত সরে যেতে না পারায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে বলেও জামিন আবেদনে দাবি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফীন ইসলাম এর আগে কিশোরকে আদালতে হাজির করে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কারের চালকের আসনের দরজা খুলে অভিযুক্ত কিশোর বের হয়ে আসে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর থেকে সে আটক ছিল। মেহেদী হাসান মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গত ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে প্রাইভেট কারটির চালক হিসেবে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আদালত কিশোরের জামিন মঞ্জুর করলেও মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।