সারাদেশ

‘সরকারকে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’, মত প্রকাশে সরকার ‘উদার’: তথ্য উপদেষ্টা

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মত প্রকাশের ব্যাপারে সরকার ‘খুব উদার’ বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

 

গেল ছয় মাসে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারকে ‘পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’।

 

রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিষ্ঠান একটা ডেটা আমাদের সামনে এনেছে। সেটা হল-১৮০ দিনে আমাদের বিরুদ্ধে অপতথ্য প্রচারিত হয়েছে বড় ধরনের ৪৬৪টা। এর মধ্যে এর মধ্যে ১৫৭টা হয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে।

 

“মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের এবং উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যতগুলো হয়েছে এর মধ্যে বেশ ওপরের দিকে আমার অবস্থানও আছে।”

 

তিনি বলেন, “ঘটনাচক্রে আমি তথ্য উপদেষ্টা, মানে কেউ কিছু আর পাত্তাটাত্তা দিচ্ছে না। সরকারকে পাত্তা দেয়ার দরকার নেই, ‘আই লাইক ইট’। আমি এটা বলতে চাইছি সরকার মত প্রকাশের ব্যাপারে আসলে খুব উদার আছে, উদার থাকবে।

 

“একটা গণতান্ত্রিক সরকারের মত প্রকাশের ব্যাপারে উদার থাকাটারই কথা আসলে। মত প্রকাশ বন্ধ করে দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার, যেটা ভবিষ্যতে আরেকটা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে চায়, তার কোনো লাভ নাই। জাহেদ উর রহমান বলেন, “আমি এভাবেই যদি বলি, খুব ক্রুডলি যদি বলি, একটু পার্সোনাল, তারপরও বলি যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সম্পাদকদের সাথে যখন বসেছেন, তিনি এই কথাটা আসলে বলেছিলেন যে, মানে সংবাদপত্র বা মিডিয়ার সাথে সংঘাতে গিয়ে সরকারের কোনো বেনিফিট নেই।”

 

সাংবাদিকতা বিষয়ে গবেষণা, প্রকাশনা ও প্রশিক্ষণের জাতীয় প্রতিষ্ঠান পিআইবির প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তথ্য উপদেষ্টা।

 

তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকীর্ণ করে স্বৈরাচারী সরকার, যা সাংবাদিক সালামের জীবনীতে পাওয়া যায় এবং তাকে এক ধরনের ‘অ্যাক্টিভিজম’ করতে হয়েছে।

 

সাংবাদিকতার মাধ্যমে ‘অ্যাক্টিভিজম’ হতে পারে বলেও মনে করেন জাহেদ উর রহমান। সাংবাদিকতায় ‘অ্যাক্টিভিজম’ করে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

 

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহবায়ক আবদুল হাই সিদ্দিক, সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ রাজধানী, ভোগান্তিতে নগরবাসী

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ভিজেছে রাজধানী। রোববার (২০) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। এসময় বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে।   বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমেছে। ঢাকার পুরানা পল্টন, খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টারের সামনে, মালিবাগ রেলগেট বাজার, মৌচাক মোড়, মগবাজার সেঞ্চুরি মোড়, দক্ষিণ মণিপুর মোল্লাপাড়া ও পশ্চিম শ্যাওড়াপাড়া বর্ডার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।   কোথাও কোথাও সড়কে হাঁটুসমান পানি জমেছে। সেই পানি পেরিয়েই স্কুল-কলেজ ও কর্মস্থলের উদ্দেশে যেতে দেখা গেছে মানুষকে।   এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।   সংস্থাটি আরও জানায়, লঘুচাপটি পরে গভীর নিম্নচাপ, এমনকি ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে। তবে এর সম্ভাব্য প্রভাব ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে বেশি পড়তে পারে।   আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলা হয়, আজ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আগুন আতঙ্ক, হুড়োহুড়িতে আহত বেশ কয়েকজন

ছবি: সংগৃহীত

শাহবাগে তিন নেতার মাজারের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ

আটক ফাহিম, আনাস ও তুহিন। ছবি : সংগৃহীত

অপ্রতীম হত্যা: তিন আটক ব্যক্তির সঙ্গে উদ্ধার সেই আইফোনও

আটক শাহরিয়া আনাস (ইনসেটে তার ফেসবুক পোস্ট)। ছবি: সংগৃহীত
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটকের আগে আনাসের দেওয়া পোস্ট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় আটকের আগে ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তার পরিচয় ও কথোপকথনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।   এদিকে অপ্রতীম হত্যার ঘটনায় আনাসসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   আটকের আগে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবরসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ফেসবুকে পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। বাচ্চাদের কাছে দামী জিনিস, তার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। আল্লাহ তার মা, বাবাকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক।’   পোস্টে অপ্রতীমের সঙ্গে নিজের কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেন আনাস। তিনি লেখেন, ‘মাঝেমধ্যে ছেলেটা আমাকে মেসেজ দিয়ে বলতো যে ভাই কই আছো ছবি তুলবো কয়েকটা। আসলে এগুলো ভেবে এখন খারাপই লাগতেছে।’   এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।   পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।   অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে।   অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা তার মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি। ফোনটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।   অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।   এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তারা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।   পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।   কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জানান, অপ্রতীমের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আটকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
সচিবালয়ের পুরোনো ছবি ও ইনসেটে বিস্ফোরণের পর পাওয়া ককটেলের খোঁসা। ছবি : সংগৃহীত

এবার সচিবালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

অপ্রতীম হত্যা: ফাহিমসহ আরও দুইজন আটক

ছবি: সংগৃহীত

এবার কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত
এবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে পিকআপে আগুন

রাজধানীর মিরপুর ও বাড্ডার পর এবার ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে জব্দ করে রাখা একটি পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।   শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।   দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলী বলেন, আগুনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।   এর আগে সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে দুটি যাত্রীবাহী বাস এবং মধ্য বাড্ডায় একটি স্টাফ বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে চলন্ত শিকড় পরিবহনের বাসে আগুন

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম

মাদক চক্রের ক্ষোভ নাকি আইফোন ছিনতাই, অপ্রতীম হত্যায় তোলপাড়

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

কুবি শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক ক্লু উদ্ধার

0 Comments