রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করা হয়। পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা শরিফ ওসমান হাদির ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া রোধে ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কেউ যদি ইতোমধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়।
এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে জানানো হয়, বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে তার সমর্থকদের উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের প্রতি বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকার পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত প্রত্যর্পণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে, যাতে তারা বাংলাদেশের আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকরের মুখোমুখি হতে পারেন।
এ ছাড়া ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার বিষয়টিও হাইকমিশনারের নজরে আনা হয়। অভিযোগ করা হয়, এসব ব্যক্তি আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠিত ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছেন।
এ ধরনের অপরাধমূলক ও ফ্যাসিবাদী তৎপরতা বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক এটাই ভারতের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চালুর আগেই একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে ৬ হাজার কোটি টাকার ‘রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র’ প্রকল্প। নতুন করে সংযোজিত যন্ত্রাংশেও সমস্যা দেখা দেওয়ায় কমিশনিং প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া চার বছরের এই প্রকল্প গড়িয়েছে প্রায় নয় বছরে, তবুও কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেনি। পরিকল্পনা কমিশনের একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, বায়বীয় ধারণায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অথচ গ্যাস কোথা থেকে আসবে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। টারবাইনের নতুন যন্ত্রাংশেও ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎমন্ত্রীকে ডেকে এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নতুন যন্ত্রাংশে ত্রুটি : প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, প্রথম ইউনিটের কমিশনিং পর্যায়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় গ্যাস টারবাইনের রোটর ঘিরে। প্রথমে ফার্স্ট ফায়ার (প্রথমবার টারবাইনে জ্বালানি দেওয়া) সম্পন্ন করার পর থেকেই টারবাইনে অস্বাভাবিক কম্পন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে রোটর অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়ায় সেটি স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। সমস্যা সমাধানে প্রথমে বিয়ারিং রিয়্যালাইনমেন্ট করা হয়। এরপর তিন দফায় মাস ব্যালান্সিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিন্তু তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় টারবাইনের বিয়ারিং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিদেশ থেকে নতুন বিয়ারিং আমদানি করে প্রতিস্থাপন করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং বিয়ারিং খুলে পরীক্ষা করার সময় রোটরের গায়ে স্ক্র্যাচ (ঘর্ষণ) ধরা পড়ে, যা প্রকৌশলীদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। এরপর রোটর খুলে মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এজন্য গ্যাস টারবাইনের এয়ার ইনটেক চেম্বার ও আপার কেসিং খুলে রোটর সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ধরনের মেরামতের জন্য বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস অতিরিক্ত সময় লাগবে। মেরামতের ফলে রোটরের ব্যাস কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অর্ডার দিয়ে কাস্টমাইজড বিয়ারিং আনতে হবে। এই ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং নির্ধারিত সময়সূচি থেকে একাধিকবার পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ প্রাপ্ত সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে প্রথম ইউনিট চালু করতে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সময়সীমাও আরও পিছিয়ে যেতে পারে। জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আসাদ হালিম যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (ইপিসি) টারবাইনের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। কাজ যেন ভালোভাবে শেষ করতে পারি সে চেষ্টা চলছে। পিছিয়েছে দ্বিতীয় ইউনিটও : প্রথম ইউনিটের সমস্যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দ্বিতীয় ইউনিটে। প্রথম ইউনিট সচল করার প্রয়োজনে দ্বিতীয় ইউনিটের কিছু যন্ত্রাংশ খুলে ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় ইউনিট চালুর জন্য নতুন করে যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হচ্ছে। এতে দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংও বিলম্বিত হচ্ছে এবং সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের আগে চালু হওয়া কঠিন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাস্তবে তা ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা : প্রকল্প বাস্তবায়নে আরেকটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা। পেট্রোবাংলা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিলেও তা কমিশনিং সময়সূচির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। ফলে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা ও চালুকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। গ্যাসের অভাবে বাধ্য হয়ে এইচএসডি ব্যবহার করে কমিশনিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে, যা ব্যয় ও সময়-উভয়ই বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় ওই সময় গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলক সহজ হয়। এ কারণে কমিশনিং কার্যক্রম শীতকালকে কেন্দ্র করে পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে গ্যাস সরবরাহের এই অনিশ্চয়তা পুরো প্রকল্পের সময়সূচিকে অনির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। স্থবির থাকায় ক্ষতির শঙ্কা : দীর্ঘ সময় ধরে টারবাইন স্থির অবস্থায় থাকায় নতুন করে যান্ত্রিক ত্রুটির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রকৌশলীরা বলছেন, দীর্ঘদিন চালু না থাকলে শ্যাফট বেন্ডিং, রোটর ব্লকেজসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা কমিশনিং প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। ইতোমধ্যে এমন কিছু উপসর্গ প্রকল্পে দেখা যাওয়ায় প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে একাধিক বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়নের পরিকল্পনা থাকলেও পরে কিছু ঋণ বাতিল হওয়ায় প্রকল্পের বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ কমে গেছে। তবে এতে বাস্তবায়নের গতি বাড়েনি, বরং কারিগরি ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটই বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে। মেয়াদ বাড়ে কাজ শেষ হয় না : পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। পরে একাধিক দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা প্রথমে ২০২৩, পরে ২০২৫ এবং সর্বশেষ ২০২৭ সাল পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্প ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, যা মূল ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। তবে ব্যয় কমলেও বাস্তবায়ন অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তাঁরা সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের শেষ দিনে শুক্রবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায়, অর্থাৎ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক গ্রেট হলে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরো সুসংহত করার লক্ষ্যে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবেন, ইনশাআল্লাহ। আগামীতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে আরো গভীর হবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, কৌশলগত সহযোগিতা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আমরা মনে করি। ৪ দিনের চীন সফরে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন হুমায়ুন কবির, একেএম শামসুল ইসলাম, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও মাহদী আমিন। গত ২১ জুন প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় যান প্রধানমন্ত্রী। এরপর গত সোমবার রাতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে চীনের দালিয়ানে আসেন তিনি। ২ দিন সেখানে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বুধবার বিকেলে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সাথে গ্রেট হলে সাক্ষাৎ এবং চীনের জাদুঘর পরিদর্শন। বিকেল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রীসহ তাঁর সফরসঙ্গীরা।
বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার চলতি জুন মাসের শুরু থেকে কার্যকর হওয়ায় প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের মিটার আপডেট করার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন ট্যারিফ কার্যকর করতে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের ২০০ বা তার বেশি ডিজিটের টোকেন ব্যবহার করে মিটার আপডেট করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার ওয়েবসাইটে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে সহজেই মিটার আপডেট করতে পারবেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সমস্যা বা সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা নম্বর ১৬৯৯৯ ছাড়াও বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার কল সেন্টার থেকে সহায়তা পাওয়া যাবে। এসব নম্বর হলো বিপিডিবি (১৬২০০), পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (১৬৮৯৯), ডিপিডিসি (১৬১১৬), ডেসকো (১৬১২০), নেসকো (১৬৬০৩) এবং ওজোপাডিকো (১৬১১৭) কল সেন্টারে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন মূল্যহার সঠিকভাবে কার্যকর করতে দ্রুত মিটার আপডেট সম্পন্ন করা প্রয়োজন। গ্রাহকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।