শিক্ষা

মানসম্মত পাঠ্যবই ও গবেষণা প্রকাশে তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই তৈরি এবং গবেষণা, একাডেমিক ও অনুবাদধর্মী প্রকাশনা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

 

প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—বাংলা একাডেমি, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পৃথক অনুষ্ঠানে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

 

দুপুরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আজম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

 

এর আগে রাজধানীর ফার্মগেটে ইউপিএলের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং ইউপিএলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাহরুখ মহিউদ্দীন স্বাক্ষর করেন।

 

এ ছাড়া সার্কিট হাউস রোডে পিআইবির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর এবং পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

 

সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় চার হাজার কোর্স চালু থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবইয়ের ঘাটতি রয়েছে। ভালো মানের মৌলিক পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

 

তিনি বলেন, প্রতিটি কোর্সের জন্য একটি করে মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরি করতে হলে প্রায় চার হাজার বই প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট শিক্ষণপদ্ধতি বা প্যাডাগোজিও আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।

 

ভাইস-চ্যান্সেলরের ভাষ্য, বাজারে নিম্নমানের গাইড বইয়ের আধিক্যের কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় মূল পাঠ্যবই থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই তৈরির কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের ওপর নির্ভর করে না। মানসম্মত পাঠ্যবই, গবেষণা এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনাও শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ও বিপণন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফারুক আহম্মেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

শিক্ষা

আরও দেখুন
সুপ্রিম কোর্ট
২০২৭ সালে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২৭ সালে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেছে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন।  সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ বুধবার (৭ অক্টোবর) এই রিট দায়ের করেন। রিটে শিক্ষা সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনের পর রিটকারীর আইনজীবী জাহিদ তালুকদার জানান, ২০২১ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের সরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য পরীক্ষা না নিয়ে ডিজিটাল লটারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার লটারি পদ্ধতি বাতিল করে স্কুলগুলোতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৬ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান। ওইদিনই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লটারি বাতিল করে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়। পরে সংশোধিত আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। শুধু প্রথম শ্রেণিতে লটারিতে ভর্তি নেওয়া হবে। আইনজীবী জাহিদ তালুকদার বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক দেখা দেয়। পাশাপাশি শিক্ষাবিদরা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থার ফলে কোচিং বাণিজ্য মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এ ছাড়া খুদে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার নামে চাপের মুখে পড়বে।  তিনি আরও বলেন, সরকার লটারি বাতিল করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পর্যাপ্ত গবেষণা, তথ্য উপাত্ত  ও সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে হয়নি। সরকার অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কুল পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম সমাজে অসমতা তৈরি করবে। সমাজের দরিদ্র শ্রেণির শিশুরা কোচিং ও টিউটরের ব্যয় বহন করতে পারবে না। ফলে তারা পিছিয়ে পড়বে। আশঙ্কা প্রকাশ করে এই আইনজীবী আরও বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতি, স্বজন-প্রীতি ও বৈষম্য বাড়বে। আমরা চাই না, কোমলমতি শিশুরা প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার বোঝা নিয়ে বেড়ে উঠুক। এ সব বিবেচনায় আমরা স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল চেয়েছি। আগামী সপ্তাহে এস. এম মনিরুজ্জামান ও এস. এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী জাহিদ তালুকদার।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ফাইল ছবি

প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডের বেতন চালুর নির্দেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের

ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষার হালচাল দেখতে মাঠে নামছেন ১৮০ কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত

টানা তিন বছর শিক্ষার্থীশূন্য, ৮৬ কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত
একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ, নিশ্চায়ন ৮ অক্টোবর পর্যন্ত

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নির্ধারিত ভর্তি ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হচ্ছে।   দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ৮ অক্টোবর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি-সংক্রান্ত নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।   যেভাবে ফল জানা যাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে ফলাফল দেখতে পারবেন। এ জন্য ওয়েবসাইটের হোম পেজে থাকা ‘ফলাফল’ অপশনে প্রবেশ করে রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ড, পাসের বছর এবং নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে। এরপর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কোড পূরণ করে ‘ফলাফল দেখুন’ অপশনে ক্লিক করলে নির্বাচিত কলেজ ও বিষয়সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে। এ ছাড়া আবেদনের সময় ব্যবহৃত বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেও নির্বাচিত কলেজের তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।   পরবর্তী কার্যক্রমের সময়সূচি ভর্তি কার্যক্রমের সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্বাচন নিশ্চায়নের সুযোগ থাকবে ৫ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ৮ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত। এরপর পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ৯ অক্টোবর রাত ৮টায়।   দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপে অনলাইন আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ১ অক্টোবর। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি দ্বিতীয় ধাপের আবেদন, ফল প্রকাশ, নির্বাচন নিশ্চায়ন ও ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৫, ২০২৬

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা শুরু ২১ জানুয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

আগারগাঁওয়ে ইউজিসির নতুন শাখা কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু

ছবি: সংগৃহীত
জাবিপ্রবিতে অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা নিয়ে সেমিনার

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) অ্যাকাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।   শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন চত্বরে ‘দ্য রোল অব অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশন: রিসার্চ এক্সেলেন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।   সেমিনারে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনের বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রভিত্তিক দক্ষতা এবং যৌথ গবেষণার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব সমস্যা ও চাহিদাকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে গবেষণার ফলাফল আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।   তিনি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার পাশাপাশি নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জাবিপ্রবির পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস স্থাপন, জনবল সংকট নিরসন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র ও টিএসসি নির্মাণ এবং শিক্ষা-গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।   অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। এ ধরনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব।   জাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি অংশীদারত্বের ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম আরও প্রয়োগমুখী হবে।   অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্প এবং সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।   পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা সেমিনারে জাবিপ্রবির সঙ্গে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বায়োজিন কসমেসিউটিক্যালস, রুপল ইন্টিগ্রেট (ইন্টিগ্রেটেড অ্যাকুয়াকালচার ফার্ম), ডাটা সফট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলি (ডিএমএ) ইনক. লিমিটেড, ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া। এ সমঝোতার আওতায় যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং শিল্পসম্পৃক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।   অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক তোহফা মাহানূর ও বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক বেলাল হোসেন। পরে ‘তারুণ্যের ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী নতুন বিভাগ চালু, ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতে নিয়মিত সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণ ছিল।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৩, ২০২৬

ডিএসসিসির উদ্যোগে ঢাবিতে ২০০ ডাস্টবিন স্থাপন

সংগৃহীত ছবি

নিয়োগে অনিয়ম, যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে নতুন দুটি বিভাগ

0 Comments