সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রসিকিউশন। বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।
মোজাফফরের সরাসরি মেসেঞ্জারে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার তথ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে মেটার কাছে এসব তথ্য চাওয়া হয়। এছাড়াও তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন। তার মুছে ফেলা কথোপকথন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তানভীর হাসান জোহা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য চাওয়া হয়।
মেটার কাছে চাওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে আছে, গ্রাহকের তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের বিবরণ, সব নিবন্ধিত এবং আগের ইমেল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর, টাইমস্ট্যাম্প সহ সম্পূর্ণ লগইন ইতিহাস, অ্যাকাউন্টটি অ্যাক্সেস করতে ব্যবহৃত আইপি অ্যাড্রেস এবং ডিভাইস, ব্রাউজারের তথ্য, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মুছে ফেলা যেসব কথোপকথন আছে সেগুলোসহ সব তথ্য মেটার কাছে চাওয়া হয়েছে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে এক সেনা বিদ্রোহে নিহত হয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার লাশ গায়েব করার পেছনে ভূমিকা ছিল সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেনের। সে সময় তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদ মর্যাদার কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর ২৩ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসুদ ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তৎকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী যে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন, সেই একই মামলায় মোজাফফরকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সেনা আইনে তার বিচার হবে। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের তদন্ত চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধের। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেটিই আমরা দেখবো। অর্থাৎ আমাদের বিচারের কার্যক্রম পুরোপুরি আলাদা। তবে তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবেন। আমাদের প্রয়োজনমতো সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আর অক্টোবর থেকে পিছিয়ে এখন নভেম্বর ধরে এ নির্বাচন শুরু করার নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগের মতোই ধাপে ধাপে হবে এ নির্বাচন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি এতদিন বলে এসেছে- অক্টোবর থেকেই এই নির্বাচন শুরু করতে চায়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে কথা হলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা সবসময়ই বলে আসছি নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাস—এগুলো হলো নির্বাচনের জন্য আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে সহায়ক মাস। এ মাসগুলোর মধ্যে এপ্রিল ধরা যেতে পারে। এখন এর মধ্যে দুর্গাপূজা আছে কি না, রমজান আছে কি না, পরীক্ষা-বার্ষিক পরীক্ষা আছে কি না, যদি থাকে, এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি। আমরা আগে অক্টোবর ধরে পরিকল্পনা করে এসেছি। এখনো আমরা সব পরিকল্পনা অক্টোবরের মধ্যে শেষ করব। কিন্তু ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা আমাদের এখন নভেম্বরে। যেদিন ভোট গ্রহণ হবে, তার ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে। ইসি এতদিন বলেছে, অক্টোবরের শুরুতে ভোট এবং আগস্টের শেষার্ধে তপশিল ঘোষণা হতে পারে। এখন নভেম্বর কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখন অক্টোবর ধরে কাজ করছি। ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে নির্বাচন শুরু হবে জানিয়ে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এর সঙ্গে পৌরসভা হয়তো হতেও পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো স্থানীয় নির্বাচনের আচরণবিধি এসে পড়েছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাটি ও আইন সংস্কারের জন্য ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। ‘আমাদের হাতে বিদ্যমান যেসব আইন-বিধি থাকবে সেগুলো ধরেই আমরা আগাব’, বলেন তিনি। এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোন কোন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন উপযোগী, তার তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল কমিশন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তালিকা ইসিতে পৌঁছেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচ ধরনের (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি গতকাল ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বলেন, এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের তপশিল ও ভোটের তারিখ নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে। ইসির সঙ্গে আলোচনার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্রিফ করা হবে। সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সেরে রাখছে কমিশন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও খোঁজ নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আইজিপি, বিজিবি মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে গত সোমবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ইসির প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকারের অন্য সংস্থা, বাহিনীর প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কোন নির্বাচন কবে হবে দিণক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। বিদ্যমান আবহাওয়া, বর্ষাকাল, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা, স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র থাকবে—যথাসম্ভব সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। দিনক্ষণ এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না। আমাদের কিছু আইনকানুন, বিধি-বিধান সংশোধন করছি। আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সিইসি বলেন, সরকার নয়, ভোটের তারিখ আমরা ঠিক করব। তবে বিজিবি, এসআরবি—সবাই সরকারের লোক। শুধু ইসির একার প্রস্তুতি নয়; এসব বাহিনী যারা নির্বাচনে কাজ করবে, তাদের প্রস্তুতিরও দরকার আছে। স্থানীয় নির্বাচনে একটু সহিংসতা বেশি হয়। আশা করি সবাইকে নিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। সেটি কমিশনের মাথায় আছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হয়েছে। এর মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা। সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলোর সেই সদিচ্ছা কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি অনন্য নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সহিংসতা চায় না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় এ বিষয়ে কমিশন বিশেষভাবে সতর্ক থাকবে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইন-বিধি ছাড়া স্থানীয় সরকারের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা আছে। মাঠপর্যায়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটকেন্দ্রের সম্ভাব্য চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ভোটের ২৫ দিন আগে প্রতি স্তরের চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। আর এখন পর্যন্ত এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই তারিখ কিছুটা পরিবর্তন হলেও হতে পারে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৩ সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০ উপজেলা, তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।
তথ্য অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থকে প্রশ্ন করার সময় এক সাংবাদিক তাকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় হিসেবে উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তথ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন এক সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে দেশের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করতে গিয়ে এ কথা বলেন। তবে এর জবাবে সাংবাদিক ‘প্রফেশনাল ওয়েতে’ প্রশ্ন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন নতুন তথ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকের প্রশ্নটি ছিল, ‘পলাতক শেখ হাসিনাকে ফেরত পেতে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাদির খুনিদেরও ফেরত দেওয়ার জন্য বলেছে। কোনও আপডেট আছে কিনা? কবে নাগাদ ফেরত পাচ্ছেন আপনার আত্মীয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে?’ এর জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘আমি আশা করছিলাম আপনার প্রশ্নটা আরও প্রফেশনাল হবে। আমি এখানে বসা তথ্যমন্ত্রী হিসেবে, কারও আত্মীয় হিসেবে নয়। আশা করি আরও প্রফেশনাল ওয়েতে প্রশ্ন করবেন।’ একই প্রশ্নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘জবাব দেওয়ার আগে আমি একটু যোগ করি, উনি (পার্থ) বহু বছর ধরে কার সঙ্গে ছিলেন? উনি কী করেছেন? এটা পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে।’ এরপর তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে আছেন—এটা আমরা জানি। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত আনার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও অনুরোধ ভারতের কাছে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জানা মতে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ভারতীয় পক্ষ আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবেচনা করতে পারে। আমার মনে হয় রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি যদি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি তার জন্য খুব একটা সুখবর হবে না।’ আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘শুধু শেখ হাসিনা নন, বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, আমরা তাদের সবাইকে দেশে ফেরত চাই।’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে জাপানি প্রতিষ্ঠান Sub Working Group আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বেলা ২টায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তরে তাদের প্রস্তাব দাখিল করে। জাপানি প্রতিষ্ঠান Sub Working Group-এর পক্ষ থেকে মাসাহিরু হিরাই বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক, বিএসপি, জিইউপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, এসিএসসি, পিএসসি-এর নিকট এই প্রস্তাব জমা দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের অন্যান্য সদস্য এবং জাপানি প্রতিনিধি দলের সদস্যবৃন্দ। প্রস্তাব দাখিলের সময় জাপানি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কারিগরি (Technical) ও আর্থিক (Financial) প্রস্তাবসংবলিত পৃথক ডকুমেন্ট জমা দেওয়া হয়। দাখিলকৃত প্রস্তাবসমূহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত RFP Evaluation Committee-এর মাধ্যমে নির্ধারিত পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে। উক্ত মূল্যায়ন কমিটিতে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন), সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা), অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ রয়েছেন। মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমে কারিগরি প্রস্তাব (Technical Proposal) এবং পরবর্তী সময়ে আর্থিক প্রস্তাব (Financial Proposal) মূল্যায়ন করা হবে। মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও সমঝোতা (Negotiation) কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সফলভাবে Negotiation সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তির তারিখ চূড়ান্ত করা হবে হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের বিমান খাতের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা এবং দক্ষ অপারেশনাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আরও শক্তিশালী ও বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।