জাতীয়

এনসিটি-সিসিটি বিদেশিদের ইজারা দিলে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির আশঙ্কা

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক, নাগরিক ও বিশ্লেষকরা।

 

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন’ এবং ‘বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম’।

 

বক্তারা বলেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। শিল্প, কর্মসংস্থান, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও বন্দরের কার্যক্রম সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেশন বা দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য দেওয়া হলে সেটিকে কেবল বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

 

আলোচনায় বক্তারা দাবি করেন, এনসিটি ইজারার প্রক্রিয়া নতুন নয়। আগের সরকারের সময়ে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠন, বন্দর শ্রমিক, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন পক্ষের আপত্তির কারণে এক পর্যায়ে প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। তাদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারও বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা না করে আগের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছে।

 

তাদের মতে, দেশের অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্প খাতের মতো বিষয়গুলোতে সরকারের অগ্রাধিকার থাকা উচিত। এর মধ্যে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

 

বক্তারা আরও বলেন, এনসিটি ও সিসিটি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামো এবং এসব টার্মিনাল দেশীয় জনবল দিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যমান অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের ভেতর থেকেই পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব কি না, সেটি আগে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

আলোচনায় দাবি করা হয়, চূড়ান্ত ইজারা চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের চার্জ প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়তে পারে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বক্তারা জানান।

 

রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। তাদের বক্তব্য, বর্তমানে টার্মিনাল পরিচালনা থেকে যে রাজস্ব ও উদ্বৃত্ত আয় হচ্ছে, তা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদেশি অপারেটর দায়িত্ব নিলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনার কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে। চুক্তির আর্থিক শর্ত অনুকূলে না হলে সরকারের নিট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

 

বিদেশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেলেই দুর্নীতি কমবে বা দক্ষতা বাড়বে—এমন ধারণার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করতে পারলে দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেও বন্দরের কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

 

বন্দরে কনটেইনার জট ও ধীরগতির জন্য শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করাও ঠিক নয় বলে মত দেন বক্তারা। তাদের মতে, কাস্টমসের পণ্য ছাড়করণ ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া, সড়ক যোগাযোগ, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাও এতে ভূমিকা রাখে।

 

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারা বলেন, বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করলেই নতুন বিনিয়োগ বা বন্দরের সক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং চুক্তির শর্ত, বিনিয়োগ বাস্তবায়ন এবং সরকারের কার্যকর তদারকিই প্রকৃত ফলাফল নির্ধারণ করবে।

 

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর আশপাশে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে। বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে জাহাজ চলাচল, বাণিজ্যিক তথ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা জড়িত।

 

তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা চুক্তি করার আগে জাতীয় নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তাদের আশঙ্কা, কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো চুক্তি ভবিষ্যতে পরিবর্তন বা বাতিল করতে গেলে রাষ্ট্রকে আইনি, আর্থিক ও কূটনৈতিক জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

 

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লা বাহার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তমলিম হোসেন সেলিম এবং লেখক, বিশ্লেষক ও গবেষক আবু তাহের খানসহ অন্যরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
লঞ্চের ভাড়া বাড়ল ৮ শতাংশ, প্রজ্ঞাপন জারি

বাসের পর এবার বাড়লো লঞ্চ ভাড়াও। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে লঞ্চ ভাড়া বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।   নতুন ভাড়া বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একজন যাত্রীর লঞ্চ ভাড়া কম দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২২ পয়সা ও বেশি দূরত্বে ১৯ পয়সা বেড়েছে। যার অর্থ আগের তুলনায় কম দূরত্বের লঞ্চের ভাড়া ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ল।   লঞ্চ ভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ২২ পয়সা বেড়ে ৩ টাকা ১৭ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে ভাড়া ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।   জনপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে।   এ ভাড়ার হার সকল নদী বন্দরের টার্মিনাল এবং নৌযানের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (নৌরুট, পারমিট, সময়সূচি ও ভাড়া নির্ধারণ) বিধিমালা, ২০১৯’ এর বিধি ২৭ অনুযায়ী সরকার নৌযানে যাত্রী পরিবহনের জন্য জনপ্রতি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সভাপতির দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার জাইমা রহমান

ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষমতা পেলেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ৩ কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত
ইবির প্রধান ফটক ও মসজিদের সামনে কালেমা সংবলিত ফলক স্থাপন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটক এবং কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে কালেমা সংবলিত ফলক স্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এসব ফলক স্থাপন করা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ফলক স্থাপনের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে প্রধান ফটকের মনোগ্রাম ও সামগ্রিক স্থাপত্যশৈলীর মধ্যে আরও সমন্বয় আনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও কেউ কেউ মত দিয়েছেন।   হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মানিক রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে কালেমা সংবলিত ফলক স্থাপন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।   ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জোহা বলেন, প্রশাসনের উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে প্রধান ফটকের মনোগ্রামটি প্রবেশপথের সামগ্রিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়নি। গেট বা প্রবেশপথের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে এটি আরও পরিকল্পিত ও নান্দনিকভাবে স্থাপন করা হলে সৌন্দর্য বাড়ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।   অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ত্বকী ওয়াসিফ বলেন, প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে কালেমা সংবলিত স্থাপনা স্থাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পবিত্র কালেমার মর্যাদা ও পবিত্রতা যথাযথভাবে রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রশাসনের বিশেষ নজর থাকা প্রয়োজন।   এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন-হাদিসসহ ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের লক্ষ্যেই ১৯৭৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয়, আদর্শ ও ঐতিহ্য তুলে ধরার অংশ হিসেবে প্রধান ফটক ও কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে পবিত্র কালেমা স্থাপন করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি, ট্রাম্পের প্রশংসা

জাইমা রহমান (ফাইল ছবি)

জাতিসংঘে খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হলেন জাইমা রহমান

সংগৃহীত ছবি

সন্তানকে বিপথগামী হওয়া থেকে রুখতে অভিভাবকদের নজরদারির আহ্বান: গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতকে অযোগ্য বললেন রাশেদ খান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে হঠকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা একটি রাজনৈতিক দল আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন বলেছেন, দলটি বাংলাদেশে রাজনীতি করার উপযোগী নয়।     বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহ শিশু কুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক পরিচিতি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   রাশেদ খাঁন বলেন, ‘জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল। তারা সিদ্ধান্তহীনতায় সবসময় ভোগে। একাত্তরের সময় জামায়াত ইসলাম সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল—জনগণের পক্ষে অবস্থান করবে, নাকি সেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে অবস্থান করবে? সেক্ষেত্রে একাত্তরে জামায়াত ইসলাম সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেছে। ঠিক এর পরবর্তীতে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে জামায়াত ইসলাম আসলে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে।’   ‘যেমন, যে সময় স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায় ছিল, ৮৬-র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে হাত মিলিয়ে জামায়াত এরশাদের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য তারা ক্ষমতায় চলে... মানে বলা যায় নির্বাচনে চলে গেল এবং এরশাদের ক্ষমতা কিন্তু আসলে টিকে গেল। এরপরে দেখবেন যে ৯৬-তে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে জামায়াত আন্দোলন গড়ে তুলল। তো আমার কাছে মনে হয় যে আসলে ইতিহাসের কোনো সঠিক জায়গায় জামায়াতের অবস্থান নাই। জামায়াত ইতিহাসের সবচেয়ে ধিক্কারজনক জায়গায় রয়েছে। এমনকি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের যে সিদ্ধান্তহীনতা, যৌথ জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে কি করবে না। অর্থাৎ প্রত্যেকটা জায়গায় দেখবেন যে জামায়াতের নেতারা সকালে একটা বলে, রাতে একটা বলে, ফজরের পরে আসলে আরেকটা বলে। এরকম আসলে জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতা সবসময় ছিল।’   তিনি বলেন, ‘জামায়াত ইসলাম বর্তমানে যে ধরনের রাজনীতি করছে, আমি মনে করি বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোনো উপযোগী দল জামায়াত না। জামায়াত একটি হঠকারী রাজনৈতিক দল এবং তাদের প্রত্যেকটা আন্দোলন জনগণকে সবসময় ক্ষতিই করেছে। এই মুহূর্তে যে আন্দোলন তারা আসলে শুরু করেছে, তারা আসলে ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার যে পথ, সেই পথ খুলে দিয়েছে।   ‘দেখবেন যে আওয়ামী লীগ কিন্তু সেই ইন্টারিমের সময় এমনকি এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরে, আওয়ামী লীগ এভাবে জোরদার ছিল না। যে সময় জামায়াত মাঠে নেমেছে, আওয়ামী লীগও মাঠে নেমেছে। এটা আসলে কাকতালীয় না। অবশ্যই আমার কাছে মনে হচ্ছে যে আওয়ামী লীগ মাঠে নামুক এটি আসলে জামায়াত চায়। সেই জায়গা থেকে এইভাবে আসলে দেখবেন যে আওয়ামী লীগের বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য নাই। আওয়ামী লীগের প্রশ্নে জামায়াত নীরব ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ জামায়াতের চাওয়া-পাওয়া হলো ৯৬-তে যেভাবে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে তারা বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল, ঠিক আরেকটি চক্রান্তের গন্ধ আমি দেখছি। শেখ হাসিনার ভাষা আর জামায়াতের আমিরের ভাষার মধ্যে চক্রান্ত এদেশের জনগণ লক্ষ্য করছে।’

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আটক ৪৫১ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

0 Comments