বিশ্ব

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন পৌঁছালেন পুতিন

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছেছেন। বেইজিং বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

 

আগামীকাল বুধবার, পুতিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উদ্বেগের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

পুতিনের আগমনের আগে, মঙ্গলবার বেইজিংয়ে সফররত রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মানতুরভের সঙ্গে আলোচনা করেন চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডিং শুয়েশিয়াং।

এর আগে, মস্কো-বেইজিং সম্পর্ককে বিশ্বে একটি স্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।

দুই দিনের চীন সফরের আগে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেন, রাশিয়া ও চীন অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোট গড়তে চায় না। এ দুই দেশ ‘শান্তি ও সর্বজনীন সমৃদ্ধির’ জন্য একসঙ্গে কাজ করছে।

তিনি বলেন, এই চেতনা থেকেই মস্কো ও বেইজিং আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে রক্ষার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ব্রিকস এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের আওতায় সহযোগিতা জোরদার করছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সূত্র : সিজিটিএন

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিমানের ভাঙা জানালার কাচ। ছবি : সংগৃহীত
মাঝ আকাশে বিমানের জানালার কাচ ভাঙলেন যাত্রী!

ভারতের চণ্ডীগড় থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে উড়ন্ত অবস্থায় বিমানের জানালার ভেতরের কাচ ভাঙার অভিযোগ উঠেছে এক যাত্রীর বিরুদ্ধে। কেবিন ক্রুর একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তিনি ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ঘটনার পর ওই যাত্রীকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং এখন তাকে ‘অশৃঙ্খল যাত্রী’ হিসেবে চিহ্নিত করে নো-ফ্লাই তালিকাভুক্ত করা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ কমিটি।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৭ জুন দিল্লিতে অবতরণের প্রস্তুতিকালে ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেবিন ক্রুর বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ওই যাত্রী বিমানের জানালার ভেতরের কাচ ভাঙেন।   এক কর্মকর্তা বলেন, কেবিন ক্রুর পক্ষ থেকে একাধিক মৌখিক ও লিখিত সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও যাত্রীটি জানালার ভেতরের কাচ ভেঙে ফেলেছেন।   ঘটনার পর ককপিট ক্রুরা নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করে অবতরণের আগেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অবহিত করেন। বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণের পর ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।   ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র বলেন, ৭ জুন চণ্ডীগড় থেকে দিল্লিগামী ফ্লাইট এআই১৮৭৯-তে এক অশৃঙ্খল যাত্রীকে ঘিরে একটি ঘটনা ঘটে। তবে বিমানটি নিরাপদেই দিল্লিতে অবতরণ করেছে। ককপিট ক্রুরা নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেছেন এবং যাত্রীকে সতর্ক করার পর বিষয়টি দিল্লি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দলের কাছে জানানো হয়। পুরো ফ্লাইটে কোনো সময়ই যাত্রী, ক্রু কিংবা বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি।   এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ঘটনাটি দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, বিমানে বিশৃঙ্খল আচরণের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে।   মুখপাত্র আরও বলেন, যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন আচরণের ক্ষেত্রে এয়ার ইন্ডিয়া শূন্য-সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণ করে।   এক বিমানবন্দর কর্মকর্তা জানান, যাত্রীটি কেবিন ক্রুদের বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের পর তিনি বারবার ক্ষমা চাইতে শুরু করেন।   বর্তমানে বিষয়টি এয়ার ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিটি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, যাত্রীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অশৃঙ্খল যাত্রী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে কি না এবং তার বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ভারতের ২০১৭ সালের সিভিল এভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস (CAR) অনুযায়ী, এ ধরনের প্রতিটি ঘটনা সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের অভ্যন্তরীণ কমিটি পর্যালোচনা করে। অভিযোগের ধরন এবং সম্ভাব্য উড়োজাহাজ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নির্ধারণে কমিটিকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন চাইলে যাত্রীর ওপর সর্বোচ্চ ৩০ দিনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করতে পারে।   সূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১০, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের স্পিডবোট ড্রোন। ছবি : সংগৃহীত

উদ্ধার অভিযানে প্রথমবার ড্রোন স্পিডবোটের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ। ছবি : সংগৃহীত

গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত

হিজবুল্লাহর রকেট বৃষ্টিতে পিছু হটল ইসরায়েলি সেনারা

ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেল দুই ইরানি সেনার

ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি।   নিহত ওই দুই সেনার নাম বাহমান হোসেইনি এবং আলিরেজা আবিরি। মঙ্গলবার (৯ জুন) তেহরানে তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের আকাশসীমা রক্ষার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তারা নিহত হন। সোমবার নতুন করে হামলা চালানোর পর ইরানি সামরিক বাহিনীর হতাহতের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এর আগে রোববার ভোরে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ছুড়লে পাল্টা জবাবে রাজধানী বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। তবে লেবাননে হামলা না করতে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। আইআরজিসি বলেছিল, বৈরুতে হামলা হলে ইসরায়েল জবাব পাবে। সে অনুযায়ী, রোববার রাতে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী। পরে ট্রাম্প ইসরায়েলকে প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকতে বলেন। কয়েক ঘণ্টা নিরব থাকার পর সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে তেহরান, তাবরিজসহ একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ। এরপর সোমবার সকাল পর্যন্ত দুপক্ষে দফায় দফায় হামলা পাল্টা হামলা চলতে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই হামলা বন্ধ ঘোষণা করে। সূত্র : বিবিসি ও সিবিএস নিউজ

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১০, ২০২৬
ইরানের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও হুথিদের পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা হিজবুল্লাহর

ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতির কঠিন সমীকরণে কোণঠাসা মমতা?

ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপ। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

৪৭ বছর পর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ লাক্ষাদ্বীপে মদ বিক্রির অনুমতি

ইলন মাস্ক। ছবি : সংগৃহীত
ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হচ্ছেন মাস্ক, কত এই বিপুল অর্থ?

বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা ১ লাখ কোটি ডলারের মালিক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন ইলন মাস্ক। ইতিহাসে এর আগে ব্যবসা করে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক কাউকে হতে দেখা যায়নি। টেসলার প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে মাস্কের ইতোমধ্যেই ২৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের শেয়ার ও অপশন রয়েছে। এর পাশাপাশি, আগামী সপ্তাহে তার রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’-এর প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, তবে তার সম্পদে আরো ৮৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার যুক্ত হতে পারে। আইপিওতে স্পেসএক্সের মোট বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার, যার প্রায় অর্ধেক শেয়ারেরই মালিক মাস্ক। সব মিলিয়ে, কেবল এই দুটি পাবলিক কোম্পানি থেকেই মাস্কের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি ডলারে। তবে মাস্কের এই সম্পদ মূলত কাগজি সম্পদ (শেয়ারের মূল্য), কোনো ব্যাংকে জমিয়ে রাখা নগদ টাকা নয়। ফলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা তার কোম্পানিগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, তার ওপরই এই সম্পদের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে। ১ লাখ কোটি বা ১ ট্রিলিয়ন ডলার হলো ১০ লাখের ১০ লাখ গুণ ডলার। সাধারণ কোনো উপায়ে এক জীবনকালে এই পরিমাণ টাকা খরচ করা অসম্ভব। কেউ যদি প্রতিদিন প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করেও খরচ করেন, তাও ১ ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে তার এক শতাব্দীরও বেশি সময় লেগে যাবে। ইলন মাস্কের এই সম্ভাব্য সম্পদের বিশালত্ব বোঝাতে নিচে এমন ছয়টি ক্ষেত্রের তুলনা দেওয়া হলো, যার প্রতিটির মূল্য মাস্কের চেয়ে কম হতে যাচ্ছে। অধিকাংশ দেশের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ২০টি দেশের অর্থনীতি ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বড়। অর্থাৎ, বিশ্বের সিংহভাগ দেশের অর্থনীতিই মাস্কের চেয়ে ছোট। যার মধ্যে রয়েছে তাইওয়ান (৯৭৭ বিলিয়ন ডলার), আয়ারল্যান্ড (৭৭৯ বিলিয়ন ডলার), সুইডেন (৭৬০ বিলিয়ন ডলার), সিঙ্গাপুর (৬৬০ বিলিয়ন ডলার) এবং মাস্কের নিজের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৮০ বিলিয়ন ডলার)। ম্যানহাটনের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের ২০২৪ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওয়াল স্ট্রিটসহ আমেরিকার বড় বড় আর্থিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রস্থল ম্যানহাটন দ্বীপের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ছিল ১ লাখ কোটি ডলারের সামান্য বেশি।   হিউস্টনের সব সম্পত্তি নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসের পর হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং তেল-গ্যাস শিল্পের প্রধান কেন্দ্র। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই শহরের আবাসিক ও বাণিজ্যিকসহ সমস্ত সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার ৯০০ কোটি (৮৭৯ বিলিয়ন) ডলার।   যুক্তরাষ্ট্রে কেনা সব নতুন গাড়ি ২০২৫ সালে মার্কিন নাগরিকেরা রেকর্ড গড়ে গড়ে ৪৮ হাজার ৪০২ ডলার মূল্যে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ নতুন গাড়ি কিনেছেন। এই বিপুল পরিমাণ গাড়ির মোট বাজারমূল্য ছিল ৭৮ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।   অন্যান্য প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার মাস্কের পরের অবস্থানে থাকা বিশ্বের শীর্ষ চার প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার হলেন- আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন এবং গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনের মোট সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৯ হাজার কোটি ডলার, যা মাস্কের একার সম্পদের চেয়েও কম।   বিশ্বের সব পেশাদার ক্রীড়া দল ফোর্বসের তথ্যমতে, বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান শীর্ষ ৫০টি ক্রীড়া দলের সম্মিলিত মূল্য মাত্র ৩৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান দল এনএফএল-এর ‘ডালাস কাউবয়েজ’ (১৩ বিলিয়ন ডলার) থেকে শুরু করে ৫০তম স্থানে থাকা এনবিএ-এর ‘টরন্টো র‍্যাপ্টরস’ (৫ বিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত সব দলই অন্তর্ভুক্ত। সূত্র: সিএনএন

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
টহলের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে ওড়ে দুটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। ছবি: এএফপি

হরমুজে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত

সংগৃহীত ছবি

কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ৭০-এর বেশি

সংগৃহীত ছবি

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর কমেছে তেলের দাম

0 Comments