জাতীয়

বুধবার টঙ্গী সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (২০ মে) গাজীপুরের টঙ্গীতে যাচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এদিন তিনি ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে এটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি এবং সভাপতিত্ব করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদ হাবিব দুলু এমপি।

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত উপস্থাপনা পরিদর্শন এবং দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন।

এরপর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে শুরু হবে সুধী সমাবেশ। এতে স্বাগত বক্তব্য, বিশেষ অতিথির বক্তব্য, সভাপতির বক্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করার কথা রয়েছে। সবশেষে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্য টঙ্গীর সাতাইশ মৌজার ধরপাড়ায় যে সরকারি জমি নির্বাচন করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন অবৈধ দখলে ছিল। পরবর্তীতে প্রশাসনিক তৎপরতা, পুরোনো সরকারি নথিপত্র যাচাই এবং স্থানীয় পর্যায়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে জমিটি পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম শুরু হয়।

জানা যায়, পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকে রিফিউজি পুনর্বাসনের জন্য টঙ্গীর সাতাইশ, গুশুলিয়া ও গাছা মৌজায় বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এসব জমির বড় একটি অংশ বেদখলে চলে যাওয়ায় এর ইতিহাসও প্রায় বিস্মৃত হয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সাতাইশ মৌজার গুরুত্বপূর্ণ অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে এখনো মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কিছু জমি পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠান সফল করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (ত্রাণ) রাসেল সাবরিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানস্থলের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা, অবকাঠামো, অতিথি আপ্যায়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, এখান থেকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও প্রশিক্ষণার্থী ও গবেষকরা ভবিষ্যতে এই ইনস্টিটিউটে এসে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষ জনবল তৈরির জন্য এ ধরনের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বাস্তবায়িত হলে শুধু দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে না বরং গাজীপুর ও টঙ্গী অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যোগাযোগও বৃদ্ধি পাবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ১০ কোটি টাকার বেশি ফেরত আনল সরকার

২০২৬ সালের হজ মৌসুমে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সৌদি আরবে সংরক্ষিত ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার। হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।   রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেইন কায়কোবাদ।   ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল সংরক্ষিত ছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।   তিনি বলেন, সংরক্ষিত অর্থের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া ৩১০ জনের জন্য ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৩০ জনের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল রাখা হয়েছিল।   বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই, নথিপত্র উপস্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   ধর্মমন্ত্রী জানান, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার ‘নুসুক’ সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে।   উদ্বৃত্ত অর্থও ফেরত পেয়েছেন হজযাত্রীরা হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের ব্যাংক হিসাবে এ অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী।   ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া কমেছে হজযাত্রীদের ব্যয় কমানোর ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২০২৬ সালের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনায় বিমানভাড়াসহ ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজের সামগ্রিক ব্যয় কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এ সাফল্যের জন্য সৌদি সরকার, বিশেষ করে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো হজযাত্রীর আর্থিক স্বার্থ ও ন্যায্য অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে। হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও জনবান্ধব, সাশ্রয়ী ও সুশৃঙ্খল করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।   সূত্র: বাসস

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০২, ২০২৬
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ইন্ধন দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ: ৩৫৭ কর্মকর্তার মামলার তথ্য পাঠাতে হবে মঙ্গলবারে

ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইনের চিফ অব স্টাফের সঙ্গে সেনা সিজিএসের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় বিমানমন্ত্রী মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: সংগৃহীত
উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকারের কোনো অর্থ খরচ হচ্ছে না: বিমানমন্ত্রী

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকারের সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।     তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের নিজস্ব আয় থেকেই পর্যায়ক্রমে এই অর্থ পরিশোধ করবে, সরকার কেবল গ্যারান্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।’      রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।     সভায় মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, গত ২০ বছরে জবাবদিহিতার ধারাবাহিকতা বজায় না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।     বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন ও উড়োজাহাজ ক্রয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এখনি ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন না করলে আগামী কয়েক বছর পর বিমান তীব্র উড়োজাহাজ সংকটে পড়বে। কারণ নতুন ক্রয় করা উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে গ্রাউন্ডেড হতে থাকবে।’     বিগত সরকারের আমলের অনিয়ম প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অতীতে যেসব অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা হয়েছে, তার সঠিক তদন্ত করা হবে। যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে।     বগুড়া বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য প্রায় ২০০০ একর জায়গার প্রয়োজন। ওয়াইড বডি এয়ারক্রাফট উড্ডয়নের উপযুক্ত রানওয়ে প্রস্তুতের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসময় মন্ত্রী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান। 

মারিয়া রহমান নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজনীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক ‘বিজনেস মডেল’, দলগুলোতে সুশাসনের ঘাটতি: টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত

মজুরির দাবিতে কর্মবিরতি: গাজীপুর ও সাভারে ৩১৮ পোশাক কারখানা বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন, প্রকাশ হলো গেজেট

ফাইল ছবি
এলডিসি উত্তরণ পেছানো বাংলাদেশের বড় কূটনৈতিক অর্জন: হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে নেওয়াকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।   তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে সরকার গঠনের মাত্র আট মাসের মধ্যে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।’   হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমরা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সফলভাবে বোঝাতে পেরেছি।’   অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকে (সিএইচওজিএম) যোগ দিতে যাওয়ার আগে রবিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।   মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে হুমায়ুন কবির ১ থেকে ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় চার দিনব্যাপী কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   গত ২৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।   এ সিদ্ধান্তের ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকালের মেয়াদ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ল। এর ফলে অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদার, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সুসংহত এবং মসৃণ উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পাবে।   অধিবেশনের শুরুতে জি-৭৭-এর পক্ষে উরুগুয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাবসংবলিত একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কোনো সদস্যরাষ্ট্রের আপত্তি ছাড়াই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।   এ সময় ফ্রান্স, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশের নির্ধারিত এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে।   আবেদনে বাংলাদেশ যুক্তি তুলে ধরে যে, সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম সুসংহত করা এবং মসৃণ উত্তরণ কৌশলের (এসটিএস) আওতায় অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ তৈরি করতে অতিরিক্ত সময় অপরিহার্য।   সরকার আরও বলেছে, মূল পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল ধারাবাহিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংকটে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে উত্তরণ-সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সময় বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতা মোকাবিলা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি মর্যাদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থাগুলো ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   এর আগে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদনটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার সুপারিশ করে।   জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) পর্যালোচনার পর এ সুপারিশ করা হয়। কমিটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, বাংলাদেশ ও নেপালের আবেদন দুটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার যৌক্তিকতা রয়েছে।   সিডিপির মূল্যায়নের ভিত্তিতে ইকোসক পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠায়।   জাতিসংঘের অনুমোদন বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং টেকসইভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ অতিরিক্ত সময় পেল।

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ০১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ফাইল ছবি

কারখানা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, জানমালের নিরাপত্তায় জোর

ছবি: সংগৃহীত

৭ নভেম্বর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ, মানতে হবে যেসব প্রতিষ্ঠানকে

ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক নীতির ওপর জোর দিলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

0 Comments