বিশ্ব

দুই দশকের নির্বাসন শেষে অবশেষে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশকের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ফিরছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও অধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বড় জয় হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।


মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে কলকাতায় ফেরার এই খবর নিশ্চিত করেছেন তসলিমা নাসরিন নিজেই। সেখানে তিনি লেখেন, ‘২০ বছর পর এক মুক্ত বাংলায় প্রত্যাবর্তন’।

 

জানা গেছে, ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স’ (এইচআরবিএফ) নামের কয়েকটি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ নিয়েছে। মুক্তচিন্তার সপক্ষে ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ওই অনুষ্ঠানে তসলিমার লেখা কবিতা আবৃত্তি, তার সৃষ্টিকর্ম নির্ভর গান এবং নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

 

 

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রখ্যাত প্রবীণ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

 

 

আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আইনজীবী ওসমান মল্লিক ও মোহিত রায় জানান, তসলিমা নাসরিনের পশ্চিমবঙ্গে আসার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা কখনই ছিল না। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারগুলো ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে কট্টরপন্থীদের চাপে তাকে কলকাতায় ঢুকতে দেয়নি। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তসলিমার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং তার এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

ভারতে তসলিমা নাসরিনের বসবাসের অনুমতি বা ভিসা নবায়ন নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একদফা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপে সেই জটিলতার অবসান হয়। এরপর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিজেপির সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় তসলিমার কলকাতায় ফেরার সপক্ষে জোরালো দাবি উত্থাপন করেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বিতর্কিত ‘লজ্জা’ উপন্যাস প্রকাশের পর কট্টরপন্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। ইউরোপ-আমেরিকায় কয়েক বছর কাটানোর পর ২০০৪ সালে তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির টানে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ২০০৭ সালে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশের পর মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো সহিংস আন্দোলন শুরু করে।

 

তখন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তসলিমা নাসরিনকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও তার ফেরার সব চেষ্টা অলিখিতভাবে আটকে দেওয়া হয়, এমনকি থিয়েটার উৎসব থেকেও তার লেখা নাটক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় পাঠকদের মাঝে ফিরছেন এই আলোচিত লেখিকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

লিউবিশা কারোভিচ ও তার স্ত্রী স্বেতলানা গ্রকোভিচ।
জানলা ভেঙে ঝুলছিলেন স্বামী, পা ধরে বাঁচালেন স্ত্রী

গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজে মাঝআকাশে জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে এক যাত্রী আংশিকভাবে বাইরে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে তার দুই পা শক্ত করে ধরে ফেলেন পাশের আসনে বসে থাকা স্ত্রী।   পরে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাকে বিমানের ভেতরে টেনে আনা সম্ভব হয়। সার্বিয়ার সংবাদমাধ্যম নোভাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সভেতলানা গ্রকোভিচ বলেন, তার স্বামী লিউবিশা কারোভিচ ইঞ্জিন বিকলের পর জানালার অ্যাক্রিলিক অংশ ভেঙে গেলে মাথার দিক থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন।   তখন তার শরীরের অর্ধেক অংশ বিমানের বাইরে ঝুলছিল। তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে তার দুই পা ধরে ফেলি।   প্রায় দুই মিনিট তার বুক পর্যন্ত অংশ বিমানের বাইরে ছিল।’ পরে আরও দুই যাত্রীর সহায়তায় অচেতন হয়ে পড়া স্বামীকে বিমানের ভেতরে টেনে আনতে সক্ষম হন তিনি।   সভেতলানা জানান, সেই মুহূর্তে তার মনে একটাই চিন্তা এসেছিল-‘যদি মরতে হয়, তাহলে একসঙ্গেই মরব।’   ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনগামী মাল্টা এয়ার পরিচালিত রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে। উড্ডয়নের প্রায় ১০ মিনিট পর বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। কেবিনের চাপ কমে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক যাত্রী নিজেদের আসন ছেড়ে বিমানের অন্য অংশে চলে যান।   সহযাত্রীরা জানান, ৬১ বছর বয়সী লিউবিশা কারোভিচ সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় পুরোপুরি বিমানের বাইরে ছিটকে পড়েননি। তবে তিনি কয়েকবার জ্ঞান হারান।   সভেতলানা বলেন, তার স্বামী এখনো গ্রিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার হাত গুরুতরভাবে আহত হয়েছে, শরীরে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি এখনো পুরো ঘটনার কিছুই মনে করতে পারছেন না।   তিনি আরও জানান, এক নারী ও এক পুরুষ যাত্রী তাকে সহায়তা করেছিলেন। বিশেষ করে আলবেনীয় বংশোদ্ভূত এক যাত্রী স্বামীকে উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।   ঘটনার পর রায়ানএয়ার জানায়, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর এক যাত্রীর পাশের জানালার অংশ খুলে গেলে বিমানটি নিরাপদে থেসালোনিকি বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে যাত্রীদের জন্য বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারা একই দিন জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা সম্পন্ন করেন।   ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি করিডর বন্ধের হুমকি আইআরজিসির, বিশ্ববাজারে তেল সংকটের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ১০ দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা জোট

ছবি: সংগৃহীত

স্বীকৃতি নয়, আফগানদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে তালেবানের সঙ্গে ইইউর বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি প্রত্যাখ্যান আহমাদিনেজাদের

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগের মুখে তা প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তার কার্যালয় নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে দাবি করেছে।   আহমাদিনেজাদের কার্যালয় জানায়, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাকে গৃহবন্দি করেছে এমন প্রতিবেদন ভিত্তিহীন। দাবির বিপরীতে তারা সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করা আহমাদিনেজাদের কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।   নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ক্ষমতায় ফেরার জন্য ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আহমাদিনেজাদ। বিনিময়ে তিনি ইসরায়েলকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে মোসাদের এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এছাড়া ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে তাকে তেহরান থেকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। পরে ইসরায়েলের সঙ্গে কথিত যোগাযোগের তথ্য জানার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে গৃহবন্দি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ইরানের ক্ষমতায় আহমাদিনেজাদকে বসাতে ইসরায়েলের গোপন মিশন, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্যইরানের ক্ষমতায় আহমাদিনেজাদকে বসাতে ইসরায়েলের গোপন মিশন, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য   আহমাদিনেজাদের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পত্রিকাটির বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব এবং সেখানে উপস্থাপিত হাস্যকর কাহিনি এমন যে এর জবাব দেওয়ারও প্রয়োজন ছিল না। তবে দেশের বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সব অভিযোগ ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।     বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হলিউডধর্মী এসব দাবি অস্বীকার করারও প্রয়োজন নেই বলে আমরা মনে করি। তারপরও ইরানের শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে পত্রিকাটির সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।   এর আগে আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও এবারই প্রথম তার বিরুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ বা ইসরায়েল-সমর্থিত রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হওয়ার অভিযোগ সামনে এলো।   ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আহমাদিনেজাদ। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত করার মতো নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করেন এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই দশকের নির্বাসন শেষে অবশেষে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজে টোল প্রত্যাহারের ঘোষণা ট্রাম্পের, নজরদারিতে থাকবে ইরানের জাহাজ

ছবি : সংগৃহীত

যৌন নিপীড়ন মামলায় লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত
বিষাক্ত আগাছানাশক প্যারাকুয়াট নিষিদ্ধ করছে ভারত

ভারত সরকার দেশের কৃষিজমিতে বহুল ব্যবহৃত আগাছানাশক প্যারাকুয়াট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। এ জন্য কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয় আমদানি, উৎপাদন, বিক্রি, পরিবহন ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।   চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মতামত নেওয়া হবে।   প্যারাকুয়াট বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত আগাছানাশক হিসেবে পরিচিত। চিকিৎসকদের মতে, এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। সামান্য পরিমাণ শরীরে প্রবেশ করলেও এটি ফুসফুস, কিডনি, লিভার, ত্বক ও চোখের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এর বিষক্রিয়ায় মৃত্যু ঘটে।   বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে এই রাসায়নিক ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ হলেও ভারতে এতদিন এটি বৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।   ভারতে এটি চা, আলু, তুলা, রাবার, কফি, ধান, ভুট্টা, গম ও আঙুরসহ নয়টি ফসলে ব্যবহারের অনুমতি ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু এলাকায় ফসল দ্রুত শুকিয়ে কাটার সুবিধার জন্য অনুমোদন ছাড়াই এটি মুগ ডালের ক্ষেতে ব্যবহার করা হতো। এতে বিষাক্ত রাসায়নিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়।   সরকার জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে প্যারাকুয়াটের সব লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাতিল হবে। ব্যবসায়ীদের তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ জমা দিতে হবে।   বর্তমানে গ্লাইফোসেট, ২,৪-ডি, ডাইমেথোয়েট ও অ্যাসিফেটের মতো আরও কিছু বিতর্কিত রাসায়নিক ভারতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেগুলো অনেক দেশে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে নিষিদ্ধ।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৭ সেনা হারাল ইরান

২৩ বছরের অধ্যায় শেষে ইরাক ছাড়ছে সব মার্কিন সেনা

সমঝোতায় না এলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে বড় হামলার হুমকি ট্রাম্পের

0 Comments