বিশ্ব

দুই দশকের নির্বাসন শেষে অবশেষে কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন

মারিয়া রহমান জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুই দশকের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ফিরছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও অধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকার গঠনের পর তসলিমার এই প্রত্যাবর্তনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বড় জয় হিসেবে দেখছেন বিশিষ্টজনেরা।


মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে কলকাতায় ফেরার এই খবর নিশ্চিত করেছেন তসলিমা নাসরিন নিজেই। সেখানে তিনি লেখেন, ‘২০ বছর পর এক মুক্ত বাংলায় প্রত্যাবর্তন’।

 

জানা গেছে, ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস বিয়ন্ড ফ্রন্টিয়ার্স’ (এইচআরবিএফ) নামের কয়েকটি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ নিয়েছে। মুক্তচিন্তার সপক্ষে ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে তাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। ওই অনুষ্ঠানে তসলিমার লেখা কবিতা আবৃত্তি, তার সৃষ্টিকর্ম নির্ভর গান এবং নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।

 

 

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রখ্যাত প্রবীণ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

 

 

আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য আইনজীবী ওসমান মল্লিক ও মোহিত রায় জানান, তসলিমা নাসরিনের পশ্চিমবঙ্গে আসার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা কখনই ছিল না। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারগুলো ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে কট্টরপন্থীদের চাপে তাকে কলকাতায় ঢুকতে দেয়নি। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তসলিমার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং তার এই প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন।

 

ভারতে তসলিমা নাসরিনের বসবাসের অনুমতি বা ভিসা নবায়ন নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে একদফা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপে সেই জটিলতার অবসান হয়। এরপর ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিজেপির সংসদ সদস্য শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভায় তসলিমার কলকাতায় ফেরার সপক্ষে জোরালো দাবি উত্থাপন করেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বিতর্কিত ‘লজ্জা’ উপন্যাস প্রকাশের পর কট্টরপন্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। ইউরোপ-আমেরিকায় কয়েক বছর কাটানোর পর ২০০৪ সালে তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির টানে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ২০০৭ সালে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশের পর মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো সহিংস আন্দোলন শুরু করে।

 

তখন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তিতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে এবং তসলিমা নাসরিনকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলেও তার ফেরার সব চেষ্টা অলিখিতভাবে আটকে দেওয়া হয়, এমনকি থিয়েটার উৎসব থেকেও তার লেখা নাটক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রিয় পাঠকদের মাঝে ফিরছেন এই আলোচিত লেখিকা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে মক্কা চুক্তি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও সংশয় বাড়ছে।   শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তিন দেশের মধ্যে এই প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। এর মূল লক্ষ্য, কোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবিলা করা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করা।   চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো: তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও নির্ভরতার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেনের মতে, প্রায় এক দশক ধরেই আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে মার্কিন অংশীদারিত্ব কতটা নির্ভরযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সংঘাত নিরসনে ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা সেই উদ্বেগকে আরো বাড়িয়েছে।   তবে উলরিচসেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মক্কা চুক্তির উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণভাবে পাশ কাটানো নয়। বরং ওয়াশিংটনের সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত কৌশলগত ও নীতিগত বিকল্প তৈরি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।   সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তোসিও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ যে বদলাচ্ছে, মক্কা চুক্তি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও রিয়াদ এখন শুধু ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর না করে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পথ বেছে নিচ্ছে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন আঞ্চলিক মিত্রদের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রভাব যথেষ্ট বিবেচনায় না নিয়েই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি মার্কিন মিত্র রাষ্ট্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর পর ইরানি বাহিনী অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। জ্বালানি ও তেল পরিশোধন স্থাপনাসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোও এসব হামলার আওতায় আসে।   পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায়। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যাপক বিমান হামলা সত্ত্বেও ইরান প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ বজায় রাখতে সক্ষম হয়। একই সময়ে মিত্র দেশগুলোকে পর্যাপ্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করতেও ওয়াশিংটনকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।   এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা কাঠামো নতুন করে পরীক্ষার মুখে পড়ে। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক ইয়াসমিন ফারুক মনে করেন, মক্কা চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সরাসরি বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   কারণ চুক্তিতে থাকা তিন দেশই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার এবং তারা নিজেরাও স্বীকার করে যে মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমপর্যায়ের কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে চুক্তিটিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান উত্তেজনা কমানো এবং মধ্যস্থতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।   সব মিলিয়ে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বরং তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমন্বয় এবং সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রকে একেবারে বাদ দেওয়ার বদলে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরো বহুমুখী অংশীদারিত্ব ও ‘নর্মেটিভ ডিটারেন্স’ বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তুলতে চাইছে মক্কার এই চুক্তি সেই পরিবর্তনশীল বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।   সূত্র: আল জাজিরা

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে তিন দিনে ২৯ সশস্ত্র সদস্য নিহত

একসঙ্গে নামাজ আদায় করলেন সৌদি যুবরাজ, এরদোয়ান ও শাহবাজ

ছবি: সংগৃহীত

টাইফুনের মধ্যে তাইওয়ান প্রণালিতে চীনের নৌ-নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদ তাইওয়ানের

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে ট্রাম্পকে পরামর্শ শীর্ষ মার্কিন জেনারেলের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল কেইন আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ আরও বাড়ালে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে। বরং ইরানের পাল্টা হামলা আরও বড় আকার নিতে পারে। তিনি মনে করেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা কঠিন হতে পারে।   সিএনএনের তিনটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, জেনারেল কেইন বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়েছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর একটি পরিকল্পনা নিয়েও জেনারেল কেইনসহ কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে পারে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও এমন হামলার আশঙ্কা জানালে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত ওই অভিযান পিছিয়ে দেন।   এদিকে দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র ও নির্ভুল হামলার অস্ত্রের মজুত কমে আসায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।   তবে জেনারেল কেইন একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু এতে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন মার্কিন প্রশাসন এমন একটি সমাধান খুঁজছে, যেটিকে ট্রাম্প রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারেন এবং একই সঙ্গে কূটনীতির পথও খোলা থাকে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তিও রয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্যাট্রিয়টের ঘাটতিতে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইলের সামনে অসহায় ইউক্রেন

বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী নেতাদের আড়াল জীবন ও দলীয় তৎপরতা

ওয়েব সিরিজের দৃশ্য নকল করে স্ত্রীকে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যা, প্রাণহানি প্রায় শতাধিক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারে বন্যার ফলে অনেক গ্রাম কাদার নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   নদ-নদীর পানি বেড়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে। বন্যার পানিতে ১৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি তলিয়ে গেছে; এই আয়তন প্যারিস শহরের আয়তনের প্রায় দেড় গুণ।   এএফপি-র একজন সাংবাদিক সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা শিবসাগরে অর্ধ-নিমজ্জিত বাড়িঘর, উপড়ে পড়া গাছপালা এবং কাদার নিচে চাপা পড়া যানবাহন দেখেছেন। এদিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক ভিডিও বার্তায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়। বন্যার পানি থেকে নিজের পোষা কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি লিখেছেন, কোনো বাবা-মাকেই যেন কখনো তাদের সন্তানকে শেষ বিদায় জানাতে না হয়।   ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বৃহস্পতিবার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এতটাই বিশাল যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে।উপমহাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের মতোই আসামেও জুন-সেপ্টেম্বর মৌসুমি বায়ুর সময় বন্যা একটি সাধারণ ঘটনা। এ সময় ভারতের বৃহত্তম নদী ব্রহ্মপুত্র এবং এর অনেক উপনদীর পানি উপচে পড়ে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে এই দুর্যোগের হার, তীব্রতা ও প্রভাব বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার জন্য প্রতিবেশী রাজ্য নাগাল্যান্ডে অবৈধ কয়লা উত্তোলনকে দায়ী করেছেন। তাদের মতে, এর ফলে এমন সব এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যেখানে আগে কখনো বন্যা হতো না।   মুখ্যমন্ত্রী শর্মা জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ‘ক্লাইমেট ট্রেন্ডস’ নামের একটি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ জানিয়েছে, রাজ্যে বন্যার তীব্রতা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, নদীর গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন এবং মানুষের বসতি ও কার্যক্রমের বিস্তার। যার ফলে বন্যা আরও ঘনঘন, জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।   সূত্র: এএফপি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ দেখে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

হাসপাতালে মিঠুন চক্রবর্তী, কেমন আছেন জানালেন শুভেন্দু

থাইল্যান্ডের দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল।

থাইল্যান্ডের স্কুলে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৭

0 Comments