ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় এ কর্মসূচিকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লির এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সদস্যদের ‘ঝড়ের জন্য প্রস্তুত’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযম প্রদর্শন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার (সেন্ট্রাল রেঞ্জ) মধুর ভর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ঝড়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে সহনশীলতাও বজায় রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের প্রকৃত শক্তি শুধু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শৃঙ্খলা, সম্মান এবং সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগের মধ্যেও এর পরিচয় রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের কথাও বলা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার বিষয়ে আদালত আপত্তি জানিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ পার্টি ও ভারতের বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের প্রভাবের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন না। এ কারণে তাঁর অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দাবি বিরোধীদের।
প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়া এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনেককে আবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধীদের ধারণা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ট্রেন বাতিল, মেট্রো চলাচল বন্ধ বা সীমিত করা, বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন এবং আদালতের আপত্তিসংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলোতে ভারতের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর চার বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ৮৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি করেছে ভারত। আগের চার বছরে এ রপ্তানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪ কোটি ৯২ লাখ ডলার। ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের এই অগ্রগতির পেছনে ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের চাহিদা বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর নিজেদের সামরিক মজুত বাড়াতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে ইউরোপের দেশগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ বাড়িয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্লুমবার্গের প্রকাশিত বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্যের বরাতে ডিফেন্স নিউজ এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে। পূর্ব ও মধ্য ইউরোপে বড় সরবরাহকারী ভারত ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের ১৩টি দেশে গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার পরই ভারতের অবস্থান। ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির এই সম্প্রসারণ ইউরোপের অস্ত্র বাজারে দেশটির উপস্থিতি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর পর ইউরোপের দেশগুলো সামরিক প্রস্তুতি জোরদারে মনোযোগ দেয়। এতে কামানের গোলা ও অন্যান্য গোলাবারুদের চাহিদা বেড়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের মজুত পুনর্গঠন এবং ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজনও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘রিআর্ম ইউরোপ’ উদ্যোগ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে আরো গতি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরি হয়েছে। প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে ভারতের রেকর্ড ভারতের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা রপ্তানিও বেড়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি বেড়ে রেকর্ড ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি রুপি হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি। বর্তমানে ৮০টির বেশি দেশে প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানি করে ভারত। দেশটির নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে এই সম্প্রসারণের সম্পর্ক রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় রপ্তানি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই বাজারে ভারতের অবস্থান কতটা শক্ত হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহের ধারাবাহিকতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা ধরে রাখার ওপর।
ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ফলাফল এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্যের মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে। ভোটের চূড়ান্ত হিসাব এখনো সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার করতে পারেনি। তবে বড় কোনো পরিবর্তন না ঘটলে নেতানিয়াহু অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় থাকতে পারেন। বিরোধী ও ক্ষমতাসীন কোনো পক্ষেরই সরকার গঠনের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। ফলে একাধিক দফা নির্বাচন হলেও আপাতত ক্ষমতায় থাকতে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। গত চার বছরে যুদ্ধ, বিপর্যয় ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাওয়া নেতানিয়াহুর জন্য এটিকে এক ধরনের জয় হিসেবে দেখা সম্ভব। কিন্তু তার আচরণে বিজয়ের আত্মবিশ্বাসের চেয়ে উদ্বেগই বেশি প্রকাশ পাচ্ছে। নিজের দল সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও নেতানিয়াহু ভালো করেই জানেন, এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হওয়া মানেই আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত নয়। নির্বাচনের রাতে দেওয়া ভাষণে তিনি ইহুদি-আরব বিরোধী জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, প্রতিপক্ষ দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকলেও তাদের সম্মিলিত আসনসংখ্যা বেশি। নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ভোট চুরি হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রতিপক্ষদের আক্রমণ করেছেন। সাধারণত নির্বাচনে জয়ী কোনো প্রার্থী ভোট চুরির অভিযোগ তোলেন না কিংবা নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না। অথচ নেতানিয়াহু এখনো ক্ষমতায় আছেন এবং সম্ভবত তা ধরে রাখবেন। তাহলে তার এমন আচরণের কারণ কী? একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, প্রতিপক্ষকে শত্রু হিসেবে তুলে ধরে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছেন নেতানিয়াহু। নতুন নির্বাচনে আসনসংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যও থাকতে পারে তার। আবার এটিও হতে পারে, নিজের জোটের ভাঙন সম্পর্কে তিনি সচেতন। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলেও কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনার সক্ষমতা হয়তো ক্রমেই হারাচ্ছেন তিনি। নেতানিয়াহুর নিরন্তর নির্বাচনি প্রচার ইসরায়েলের রাজনীতিতে কৌশল নির্ধারণে নেতানিয়াহুকে অন্যতম দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাকে নির্বাচনি প্রচারের মধ্যেই থাকতে দেখা যাচ্ছে। বিদেশি হস্তক্ষেপের তদন্তের ভিত্তিতে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগের মূল লক্ষ্য আরব দলগুলো, যারা মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৯টি আসন পেয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিদেশি নেতাদের অভিনন্দনের জন্য ধন্যবাদ জানানো বাদ দিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেতানিয়াহুর প্রতিটি পোস্টেই আরব দলগুলোকে আক্রমণ করা হয়েছে অথবা তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন, ইসরায়েলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপ হয়ে থাকলেও তা সীমিত ছিল। নির্বাচন চুরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু নেতানিয়াহুর ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক বক্তব্যের উদ্দেশ্য হতে পারে যে, ইহুদি ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী জোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনাকে রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলা। শুরু থেকেই এমন সরকারের সম্ভাবনা কম ছিল। কারণ, ইহুদিপ্রধান বিরোধী দলগুলোর অধিকাংশই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে রাজি নয়। কিন্তু নেতানিয়াহু যদি বিরোধী শিবিরের ভোটারদের একাংশকে বোঝাতে পারেন যে আরব দলগুলো বৈধভাবেই আসন পায়নি, তাহলে ইহুদি-আরব জোট গঠন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এতে নতুন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর সুবিধা হতে পারে। ভোট চুরির অভিযোগ আরব ভোটারদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করতে পারে, একই সঙ্গে তার সমর্থকদের আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে। অন্যদিকে ইহুদিপ্রধান বিরোধী দলগুলোও কঠিন অবস্থায় পড়বে। নেতানিয়াহুর অভিযোগের সমালোচনা করতে গিয়ে তাদের এমনভাবে কথা বলতে হবে, যাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ না ওঠে। কারণ, অনেক ইহুদি ভোটারের মধ্যেই এসব দলের প্রতি অবিশ্বাস রয়েছে। বর্তমান নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি, অর্থাৎ আরও আটটি আসন দরকার। ভোট চুরির প্রচারণার মাধ্যমে নতুন নির্বাচনে আসনসংখ্যা ৫৭ বা ৫৮-তে নিতে পারলে রাজনৈতিক কৌশল কাজে লাগিয়ে আবারও জোট সরকার গঠন করতে পারেন তিনি; এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে বিশ্লেষণে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী? আরও গভীরভাবে দেখলে নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর আচরণ থেকে ভিন্ন একটি ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন, আপাতত প্রধানমন্ত্রীর পদ ধরে রাখতে পারলেও কার্যকর সরকার পরিচালনার রাজনৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছেন। নির্বাচনের ফলের প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর বর্তমান ডানপন্থি ও অতি-ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। ইহুদিপ্রধান বা জায়নবাদী বিরোধী দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি। নেতানিয়াহুবিরোধী আরব দলগুলোর আসন ১৯টি। তবে ফলাফল বিশ্লেষণের আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে। নির্বাচনি আলোচনায় দলগুলো জায়নবাদী কি না, তা নিয়ে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণভাবে জায়নবাদী বলতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও তা রক্ষায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক অবস্থানকে বোঝানো হয়। এই মানদণ্ডে আসনগুলো ভাগ করলে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন হয়। ইহুদিপ্রধান বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা ৪৮ থাকলেও নেতানিয়াহুর জোটের মধ্যে প্রকাশ্যে জায়নবাদী দলগুলোর আসন মাত্র ৪০টি। এর মধ্যে রয়েছে লিকুদ, উগ্র ডানপন্থি রিলিজিয়াস জায়নিজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত। অন্যদিকে নেসেটের বাকি ৩২টি আসন অতি-ধর্মীয় ইহুদি ও আরব দলগুলোর। এসব দলের সবাই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে (আইডিএফ) বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিরোধিতা করে। ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা নিয়েও তাদের অনেকের অবস্থান দ্বিধাপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে আশকেনাজি অতি-ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম। দলটির জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা একবার আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন যে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন আরবদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই হিসাব অনুযায়ী, নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮৮টি আসন স্পষ্টভাবে জায়নবাদী দলগুলোর। এর বেশির ভাগই নেতানিয়াহুর বিরোধীদের দখলে। এমনকি সেফারদি অতি-ধর্মীয় দল শাসকেও নেতানিয়াহুর জোটে যুক্ত করা হলেও তাদের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৪৬। সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়ে শাস দল নিজেদের তুলনামূলক মধ্যপন্থি বলে দাবি করে। তবু এই হিসাবেও তারা নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি শিবিরের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকবে। এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি অনেক বেশি থাকায় ফলাফলকে ইসরায়েলি সমাজের তুলনামূলক নির্ভুল প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা যায় বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে নিয়োগ নিয়ে জোটে বিরোধ এখন প্রশ্ন হলো, এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াচ্ছে? এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ডানপন্থি ও অতি-ধর্মীয় ভোটারদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় রয়েছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু তার সেই রাজনৈতিক জোট এখন সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। বিরোধের মূল বিষয় ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান অতি-ধর্মীয় ইহুদি জনগোষ্ঠীকে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তাদের নিয়োগ-ছাড়ের সুবিধা আইনে স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। অধিকাংশ ইহুদি ইসরায়েলি নাগরিক চান, সবাই সেনাবাহিনীতে যোগ দিক। কিন্তু অতি-ধর্মীয় দলগুলো তাদের জন্য বিদ্যমান ছাড় বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলেও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া তাকে সরকার চালাতে হতে পারে। ফলে অতি-ধর্মীয় শরিকদের দাবি অনুযায়ী সেনাবাহিনীতে নিয়োগ থেকে অব্যাহতির আইন পাস করাও তার পক্ষে কঠিন হবে। এমন পরিস্থিতিতে এসব দল কত দিন তার সঙ্গে থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অবশ্য নেতানিয়াহুর বিরোধীরাও নিয়োগ-অব্যাহতির আইন পাস করবে না। অতি-ধর্মীয় দলগুলোকে নিজেদের শিবিরে টেনে নেওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় নেই। ফলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলতে থাকলে নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে পারবেন না। গুরুত্বপূর্ণ শরিকদের ধরে রাখার মতো আইন পাস করার সক্ষমতাও থাকবে না তার। এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর বয়স এখন ৭৭ বছর। আগামী এক বা দুই বছরের মধ্যে কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করতে না পারলে ভবিষ্যতে আর কখনো তা পারবেন কি না, সে প্রশ্নও সামনে আসছে। নির্বাচনের ফলের পর নেতানিয়াহুর আচরণকে বিশ্লেষকেরা এ কারণেই একজন বিজয়ীর বদলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া যোদ্ধার প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ভোটের বর্তমান হিসাবকে অবৈধ বলে দাবি করার পেছনেও এমন উদ্বেগ কাজ করতে পারে। সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল
আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনে ক্ষমতার বদল হবে না, তবে মেয়াদের বাকি দুই বছর ট্রাম্প কীভাবে দেশ শাসন করবেন, তার অনেকটাই নির্ভর করছে এ নির্বাচনের ওপর। ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়, তবে ট্রাম্পের জন্য সামনে খারাপ দিন অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের সকল প্রস্তুতিই শেষ। তবে আবহাওয়া তাতে বাগড়া দিতে চাইছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, নির্বাচনের দিনে একটি বৃষ্টিবহুল ঝড় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের ওপর দিয়ে ধেয়ে যেতে পারে, যা ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী মঙ্গলবার গ্রেট লেকস এবং আপার মিডওয়েস্টের কিছু অংশ থেকে শুরু করে পশ্চিম উপসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে; তবে ঠিক কোন কোন এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিঘ্নসৃষ্টিকারী ভারি বৃষ্টিপাত হবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। আবহাওয়া বদলেও যেতে পারে, তবে আপাতত মনে হচ্ছে আইওয়া, কানসাস, মিশিগান, টেক্সাস এবং এমনকি ওহাইওর কিছু অংশকেও এই ভেজা আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে। মিডওয়েস্ট এবং সমভূমি অঞ্চলে বৃষ্টির সাথে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। ঝড়ের দক্ষিণ প্রান্তে; টেক্সাস থেকে শুরু করে লোয়ার-মিসিসিপি উপত্যকা পর্যন্ত; তীব্র বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই আবহাওয়া উক্ত রাজ্যগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যগুলোর ভোটারদের উপস্থিতির ক্ষেত্রে একটি বড় ফ্যাক্টর বা নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। ঝড়ের প্রভাবের বাইরে থাকা পূর্ব উপকূল এবং পশ্চিমাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর একমাত্র ব্যতিক্রম হতে পারে দক্ষিণ-পূর্বের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো, যেখানে হালকা বা ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনাকে এখনই পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত গরম কাপড় বা জ্যাকেট জড়িয়ে বের হওয়ার প্রয়োজন হবে না। দেশের পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম বা শীতল থাকতে পারে। গবেষণা এবং অতীতের নির্বাচনের ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্বাচনের দিনে বৃষ্টি, ঝড় বা তীব্র শীতের মতো প্রতিকূল আবহাওয়া মূলত ভোটারদের উপস্থিতি কমিয়ে দেয়, যা পরোক্ষভাবে নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কট্টর দলীয় সমর্থকেরা আবহাওয়া যতই খারাপ হোক না কেন ভোট দিতে আসেন। কিন্তু যারা নির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থক নন বা শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা খারাপ আবহাওয়ায় ঘরের বাইরে বের হতে চান না। ফলে মিশিগান বা টেক্সাসের মত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের রাজ্যগুলোতে এই ধরনের ভোটারদের অনুপস্থিতি পুরো ফলাফল বদলে দিতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়া সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের কিছুটা সুবিধা দেয়। এর কারণ হলো—ডেমোক্র্যাটদের বড় একটি ভোটার গোষ্ঠী হলো তরুণ, কম আয়ের মানুষ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যাদের নিজস্ব গাড়ি বা যাতায়াতের সহজ সুবিধা কম থাকে। ফলে বৃষ্টি হলে তাদের ভোটকেন্দ্রে আসার হার কমে যায়। অন্যদিকে, রিপাবলিকান ভোটারদের একটি বড় অংশ গ্রামীণ ও বয়স্ক মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভোট দেওয়ার প্রবণতা ও নিজস্ব যাতায়াত ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। তবে নানা জরিপে দেখা গেছে, এবার রিপাবলিকানদের মধ্যে ভোট দেয়ার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। সে তুলনায় কংগ্রেসের দখল নিতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা ভোট দিতে বেশি আগ্রহী। তবে যেসব রাজ্যে ইতোমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ আগাম ভোট দিয়ে দিয়েছেন সেখানে নির্বাচনের দিনের ঝড়ের প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে। তবে যারা নির্বাচনের দিন সশরীরে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন, তাদের ওপর এটি সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ভারী বৃষ্টি বা বজ্রঝড়ের কারণে ভোটগ্রহণের গতি ধীর হয়ে যায় এবং ভোটকেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি অনেক ভোটারকে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করে। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যেখানে অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যে (যেমন- কানসাস, আইওয়া, মেইন) প্রার্থীদের জয়ের ব্যবধান খুবই সামান্য হতে পারে, সেখানে নির্বাচনের দিনের এক পশলা ভারি বৃষ্টিও জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।