কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের বহু ফিলিস্তিনি নাগরিক ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে ছিলেন। তাঁরা এমন একটি ব্যবস্থাকে বৈধতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন; যা তাঁদের জনগণকে নিপীড়ন করেছে, তাঁদের উদ্বেগগুলোকে একপাশে সরিয়ে রেখেছে এবং তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করতে ব্যর্থ হয়েছে।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। বৈষম্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে ভোটকেই অস্ত্র এবার তারা দলে দলে ভোট কেন্দ্রে গেছেন।
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমঅধিকার নিয়ে কাজ করা নাগরিক সংগঠন ‘মোসাওয়া সেন্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের আরবরা রেকর্ড সংখ্যক; প্রায় ৮০ ভাগ; ভোট দিয়েছেন। যেখানে গত নির্বাচনে এই হার ছিল মাত্র ৫৩ ভাগ।
ভোটারদের এই জোয়ার ১২০ আসনের সংসদে ইসরায়েলের আরব দলগুলোকে ১৯টি আসন এনে দিয়ে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী করেছে।
এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে বেশ কিছু আন্তঃসম্পর্কিত কারণ ছিল। প্রথমত, পুলিশি অবহেলার কারণে আরব সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা সহিংস অপরাধ। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার এবং ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের মতো কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত তাঁর ডানপন্থী জোটের অবসান ঘটানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
বিশেষ করে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী বেন-গভিরের প্রতি আরবদের ক্ষোভের তীব্রতা নিয়ে মঙ্গলবার রাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না। প্রধান আরব রাজনৈতিক জোট 'জয়েন্ট লিস্ট'-এর নির্বাচনী সদর দপ্তরে যখন দলটির দুর্দান্ত ফলাফলের চিত্র স্পষ্ট হচ্ছিল, তখন সেখানে সমস্বরে স্লোগান উঠছিল—‘বেন-গভির, দূর হটো’।
নেতানিয়াহুর জোট ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলের তিন বছরব্যাপী বিধ্বংসী যুদ্ধ পরিচালনা করেছে, যাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। একই সাথে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বছরের পর বছর ধরে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংস অভিযানও তদারকি করেছে এই সরকার।
জয়েন্ট লিস্ট-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. আহমদ তিবি বলেন, ‘আমাদের সম্প্রদায় এই অপরাধী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছিল; যাতে নেতানিয়াহু, স্মোট্রিচ এবং বেন-গভিরের নীতির কারণে তৈরি হওয়া এই মারাত্মক বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটানো যায়।
’ তিবি গত প্রায় তিন দশক ধরে আরব সম্প্রদায়কে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের এই উচ্চ উপস্থিতি ইতিমধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে এবং নেতানিয়াহুকে আরেকটি ডানপন্থী সরকার গঠন করা থেকে আটকে দিয়েছে।
ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার সময় বহিষ্কৃত হননি বা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হননি এমন ফিলিস্তিনিদের উত্তরসূরি এরা। তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলেও ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তাঁরা সামরিক শাসনের অধীনে বসবাস করেছিলেন। তবে তাঁদের অনেকেরই ধারণা যে ইসরায়েলি সমাজে তাঁদের প্রতি এই বৈষম্য আজও বিদ্যমান। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১৯৪৮ সালের আগে জন্মগ্রহণ করা ফিলিস্তিনিরাও রয়েছেন, যেমন মোহাম্মদ আবদেলহাইয়ের ৮০ বছর বয়সী খালা। গত মঙ্গলবার, ভাগ্নের অনুরোধে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের তিরা শহরে জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেন তিনি। আবদেলহাই বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছিলাম আমাদের ভোট দিতেই হবে। গত সরকার আমাদের সাথে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করেছে, তাই এবার আমাদের প্রতিটি ভোটের প্রয়োজন ছিল।’ তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কোনটি জানতে চাইলে তিনি বলেন—ইসরায়েলে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে বিদ্যমান বর্ণবাদ এবং সমঅধিকারের অভাব। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি একটি পরিবর্তন আনতে পারি, তবে কেন তা করব না? কেন আমরা একই জায়গায় আটকে থাকব?’
আরব ভোটারদের এই শক্তিশালী উপস্থিতির অর্থ হলো—নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোট কিংবা বিরোধী জোট, কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। বর্তমানে তিবির 'জয়েন্ট লিস্ট' এবং অপর একটি আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ দল 'রাআম' যৌথভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে হচ্ছে। তিবি জানান যে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনে বিরোধী দলকে সাহায্য করতে জয়েন্ট লিস্ট প্রস্তুত রয়েছে। তবে জয়েন্ট লিস্ট সরকারে যোগ দেবে না এবং এর বিনিময়ে কোনো মন্ত্রিত্বও দাবি করবে না। তাদের একমাত্র শর্ত হলো আরব সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং বেদুইনদের বাড়িঘর উচ্ছেদ বন্ধ করা, যা নেতানিয়াহু সরকারের অধীনে বহুগুণ বেড়েছে। তিবি বলেন, ‘তারা যদি আমাদের সাহায্য চায়, তবে সাহায্য করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা বিরোধী দলের প্রার্থীকে সমর্থন করতে চাই।’
তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি বাস্তবায়ন করতে হলে আইজেনকোট এবং তাঁর জোটকে সাহসী হতে হবে। কারণ ইসরায়েলের আরব দলগুলোর সহায়তায় সরকার গঠনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা জারি রেখেছেন। এর কারণ হলো, আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের ধারণাটি ইসরায়েলে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নেতিবাচক হিসেবে দেখা হয়, যার বিরুদ্ধে অধিকাংশ ইহুদি ভোটারের অবস্থান রয়েছে। এমনকি বেশ কয়েকটি বিরোধী দলও এর আগে এ ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল।
আইজেনকোট সমর্থনের জন্য আরব দলগুলোর ওপর কতটা নির্ভর করতে রাজি হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র ইয়ার গোলানের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী ‘ডেমোক্র্যাটস পার্টি’ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। গোলান গত বুধবার বলেন, ‘ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি পরিবর্তনপন্থী সরকার গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। এখন আমাদের সাহসের প্রয়োজন। আমাদের নেতৃত্বের প্রয়োজন। আমাদের ভয় পাওয়া বন্ধ করে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করতে হবে।’
তবে তিবির মতে, কিছু রাজনৈতিক নেতাকে কেবল ভয়ই আটকে রাখছে না, এর পেছনে আরও গভীর কারণ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি হলো মোট জনসংখ্যার ২০ ভাগ আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে থাকা এক চরম বর্ণবাদ। আমরা সংসদের একটি বৈধ অংশ। আমরা এই দেশের নাগরিকদেরও একটি বৈধ অংশ।’
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমাগতভাবে আরব ভোটারদের বৈধতা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। আরব সম্প্রদায়ের আইনপ্রণেতারা সরকারে বসতে পারেন—এমন শঙ্কা তৈরি করে তিনি বারবার তাঁর নিজের ভোটব্যাংককে ভোটকেন্দ্রে আসতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি নির্বাচনে আরব দলগুলোর অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল; যা পরবর্তীতে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।
গত বুধবার যখন আরব দলগুলোর দুর্দান্ত ফলাফলের চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করে, তখন নেতানিয়াহুর ‘লিকুদ পার্টি’ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন চুরির অভিযোগ তোলে। পরদিন বৃহস্পতিবার, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা 'শিন বেট'-এর প্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি আরব ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ কাজ করেছে কি না, তা তদন্ত করার অনুরোধ জানান।
তবে চিঠিতে সিইসি চেয়ারপারসন নোয়াম সোলবার্গ স্বীকার করেছেন যে এই সন্দেহের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দিতে পারবেন না; এবং ইসরায়েলি পুলিশও জানিয়েছে যে এই দাবিগুলোর সপক্ষে তারা কোনো প্রমাণ পায়নি।
আরব দলের নেতারা বলছেন যে লিকুদ পার্টির এই আক্রমণগুলো মূলত উসকানির শামিল এবং তাঁরা নির্বাচনের ফলাফল রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাআম দলের নেতা মনসুর আব্বাস বলেন যে তিনি যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করবেন এবং জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহু পরাজিত হয়েছেন এবং তিনি ভোটারদের রায় মেনে নিতে অস্বীকার করছেন।
ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করা অনেক নীতি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের অধীনে কার্যকর করা হয়েছে, যিনি এর আগে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন এবং আরব-বিরোধী বর্ণবাদে উসকানি দেওয়ার জন্য আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার, আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ শহরের কিছু বাসিন্দা সিএনএন-কে জানিয়েছেন যে, বেন-গভিরের মতো উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলি দলগুলোর সমর্থক পুরুষদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে তাঁরা ভোট না দিয়েই ভোটকেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছেন।
তিবির দৃষ্টিকোণ থেকে, ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠদের তুলনায় আরব ভোটারদের এই উচ্চ উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা ইসরায়েলি রাজনীতিতে প্রভাব রাখতে এবং অংশ নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ডানপন্থীরা এবং কখনো কখনো বিরোধী দলগুলোও বাধা দিচ্ছে। এটি কোনো গণতন্ত্র নয়। এটি একটি জাতিগত গণতন্ত্র। এটি কেবল ইহুদিদের জন্য গণতন্ত্র।’ এই বঞ্চনার অনুভূতি আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যেও অনুরণিত হয়েছে; তাঁদের অনেকের মতেই, এই ক্ষোভই এবার তাঁদের ভোটকেন্দ্রে টেনে এনেছে।
তিরা শহরের ৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা মুনথের মনসুর এর আগেও ভোট দিয়েছেন, তবে এবার তিনি তাঁর ভোটের কার্যকারিতার একটি বাস্তব সুযোগ দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে কখনো নির্বাচনে আগ্রহ দেখাইনি। কিন্তু বর্ণবাদের মাত্রা এবং আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আসা পরিবর্তনগুলো মানুষকে বাইরে এসে তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধ্য করেছে। আমরা এই দেশেরই অংশ; আমরা দেশেরই একটি অঙ্গ। তাই আমাদের অবশ্যই এই অধিকার প্রয়োগ করতে হবে।’
সূত্র : সিএনএন
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপুল মুনাফা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। গত ছয় মাসে দেশটির ৫০টির বেশি বড় জ্বালানি কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৩ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মুনাফা করেছে। অথচ একই সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলের বাড়তি দামে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এসব মার্কিন কোম্পানির মোট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তাদের সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও কম। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট বড় কোম্পানিগুলোর আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ তেল আগে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল, শেভরন, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি), শেল ও টোটালএনার্জিস এই পাঁচ কোম্পানি তৃতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত নিট মুনাফা করেছে ৫ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেকটিই বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে এক্সনমোবিলের পরিশোধন ব্যবসায় মুনাফা হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ। অন্যদিকে শেভরন পরিশোধন, জ্বালানি বিপণন ও সংশ্লিষ্ট খাত থেকে আয় করেছে ৪৯৩ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটির এই আয় বিভাগটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা। জ্বালানির বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ গ্রাহকদের ওপরও। এএএর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ছিল ২.৯৮ ডলার। তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.২০ ডলারে। ডিজেলের দামও প্রতি গ্যালন ৩.৬৮ ডলার থেকে বেড়ে ৬.৩২ ডলারে পৌঁছেছে। এদিকে, মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত আগস্টে এক্সনমোবিল ও শেভরনকে মুনাফার একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার এবং খুচরা জ্বালানির দাম কমানোর আহ্বান জানান তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে জর্জিয়ায় এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস খাতের বিপুল আয়ের প্রশংসাও করেন। তথ্যসূত্র : নিউ ইয়র্ক পোস্ট
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বর্নো ও ইয়োবে রাজ্যে সামরিক অবস্থানে হামলা চালানো ইসলামপন্থী যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেনাবাহিনীর দাবি, বিমানবাহিনীর সহায়তায় সেনারা বিদ্রোহীদের হামলা প্রতিহত করেন। বর্নো রাজ্যের বিট্টা এবং ইয়োবে রাজ্যের বুনি ইয়াদিতে একটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রাতভর হামলা চালায় জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারাম ও তাদের বিচ্ছিন্ন অংশ ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের (আইএসডব্লিউএপি) সদস্যরা। সামরিক মুখপাত্র ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ গনি জানান, বিট্টায় সেনারা রাতের হামলা প্রতিহত করার পর বুনি ইয়াদির সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হামলাকারী আইএসডব্লিউএপি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সেখানে সংঘর্ষ চলে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৭ বছর ধরে চলা বিদ্রোহ দমনে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সরকার। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপির সেনা অবস্থানে হামলার ঘটনা বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে টানা চার মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে। এতে শুক্রবারও বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দেড়টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৭১ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ১১৬ ডলার ৫৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জানুয়ারির চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম বেড়ে হয়েছে ১১২ ডলার ৫১ সেন্ট। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৪৫ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলার ৪৫ সেন্টে পৌঁছেছে। চলতি মাসে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়তে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে একটি ছোট নৌকা থেকে বিস্ফোরক লাগিয়ে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। তবে কারা এ হামলার পেছনে রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হরমুজ প্রণালি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ফলে এ পথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ বিষয়ে এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান শল কাভোনিক বলেন, হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। এ আশঙ্কায় তেলের দাম চড়া অবস্থানে রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের একাধিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে। এর মধ্যে দেশটির বৃহত্তম তেল শোধনাগার রাস তানুরা, রাবিগ শোধনাগার এবং সৌদি আরামকোর আবকাইক উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে হুথিদের ছোড়া একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানোর বিষয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তেহরানে চিঠিও পাঠিয়েছেন ভ্যান্স। তবে ইরান এখনো চিঠির জবাব দেয়নি। সাক্সো ব্যাংকের পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ওলে হ্যানসেনের মতে, ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন ঘিরেও আগামী কয়েক সপ্তাহে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।