সারাদেশ

ধলতার নামে ৪২ কেজিতে মণ, ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬
বিক্রির জন্য আনা ফসল। ছবি: সংগৃহীত
বিক্রির জন্য আনা ফসল। ছবি: সংগৃহীত

চল্লিশ কেজিতে এক মণ। দেশের প্রচলিত ওজন পদ্ধতিতে এটাই নিয়ম। অথচ নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রির সময় কৃষকদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত দুই কেজি। স্থানীয়ভাবে ‘ধলতা’ নামে পরিচিত এই প্রথার কারণে এক মণ পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে ৪২ কেজি। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এ অনিয়মে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।

 

কৃষকদের অভিযোগ, শুধু ৪০ কেজিতেই নয়, ৫০ কেজি পণ্য বিক্রি করলেও দাম দেওয়া হয় ৪৭ কেজির। আর ৬০ কেজির বেশি হলে বাদ যায় আরও বেশি। ধলতার নামে এমন অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া এখন উপজেলার প্রায় সব হাট-বাজারেই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। একই অবস্থা ধান, ভুট্টা, পাট, আলুসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও। প্রতিবাদ করলে কৃষকদের অপমান, দুর্ব্যবহার এমনকি পণ্য না কেনার হুমকির মুখেও পড়তে হয়।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের খগার হাট ও টুনির হাট, বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ হাট, নাউতারা ইউনিয়নের নাউতারা বাজার, গয়াবাড়ী ইউনিয়নের শুটিবাড়ির হাট, টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের একতা বাজার, খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ডালিয়া নতুন বাজার ও গোডাউনের বাজার, ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের চাপানী হাট, পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি বাজারসহ ডিমলা উপজেলার প্রায় সব বাজারেই একই চিত্র।

 

মঙ্গলবার সাপ্তাহিক উপজেলার শুটিবাড়ির পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। তবে সেই মণের সঙ্গে অতিরিক্ত দুই কেজি পেঁয়াজ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। এর বাইরে প্রতিমণে ১০ টাকা করে খাজনাও আদায় করা হচ্ছে। বাজারের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও কৃষকদের বস্তা থেকে ইচ্ছেমতো পেঁয়াজ তুলে নিতে দেখা যায়।

 

ব্যবসায়ীদের গুদামে গিয়ে দেখা যায়, একটি বস্তায় ৪২ কেজি ৯০০ গ্রাম পেঁয়াজ থাকলেও কৃষকদের মূল্য দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজির। এ নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলেও শেষ পর্যন্ত কম দামে পণ্য বিক্রি করেই ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের।

 

কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার-সেচের উচ্চমূল্য ও বাজারে ফসলের কম দামের কারণে এমনিতেই তারা সংকটে রয়েছেন। তার ওপর ধলতার নামে অতিরিক্ত পণ্য দিতে গিয়ে প্রতিমণে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে অনেক কৃষকের পক্ষে উৎপাদন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

কৃষক আরমান হোসেন বলেন, পেঁয়াজ, ধান, পাট যা-ই বিক্রি করি না কেন, ৪২ কেজিতে মণ ধরতে হয়। প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যবহার করে, মারতে আসে। ফসলের দাম কম, তার ওপর এই জুলুম। আমরা বাঁচব কীভাবে?

 

আরেক কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, যে হাটেই যাই, একই অবস্থা। আমরা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। প্রশাসন চাইলে এসব বন্ধ করতে পারে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

 

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, অনেক বাজারে এখনো পুরোনো দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল ওজন ব্যবস্থা না থাকায় ওজন কারচুপির সুযোগও থেকে যাচ্ছে।

 

ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতি মণে দুই কেজি ধলতা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলার প্রায় সব হাট-বাজারেই একই নিয়ম চলে আসছে।

 

তবে শুটিবাড়ি বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে ধলতা নেওয়ার কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই ঝামেলা হয়। আমরাও চাই এই প্রথা বন্ধ হোক। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, ধলতার নামে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি সম্পূর্ণ অনিয়ম এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হাট-বাজারে মনিটরিং জোরদার এবং সঠিক ওজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

 

সচেতন মহলের দাবি, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার তদারকি জোরদার, সঠিক ওজন নিশ্চিত এবং ধলতার নামে অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। না হলে কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ফাইল ছবি
শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে কোটি টাকা বরাদ্দ

জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িঘর ও কবরস্থান উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘোষণার ৫ দিনের মধ্যেই ১ কোটি টাকা ছাড় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও তার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী।   সোমবার (৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জেলা পরিষদ শাখা থেকে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে অর্থ অবমুক্তির চিঠি দেওয়া হয়।    মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সই করা ওই চিঠি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে অর্থ ছাড়পত্রটি চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স অফিসারের কাছে পাঠানো হয়।   মন্ত্রণালয়ের অর্থ অবমুক্তির চিঠি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ‘জেলা পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের ‘বিশেষ বরাদ্দ’ উপখাত থেকে রংপুর জেলা পরিষদের জন্য মোট ১০৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।   এর মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান উন্নয়নে ১০০ লাখ বা ১ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।   বাকি ৯ লাখ টাকার মধ্যে পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সাইকেল সরবরাহে ৫ লাখ টাকা এবং পীরগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পীরগঞ্জ কছিমন নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।   ছাড়পত্রে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জেলা পরিষদের এডিপি বরাদ্দ ব্যবহার নির্দেশিকা-২০২২সহ প্রচলিত আর্থিক ও প্রশাসনিক বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। নির্ধারিত কাজ ছাড়া অন্য কোনো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না।   ঘোষণার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে অর্থ ছাড় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার। তবে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করে শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন, তার বাড়িঘর ও কবরস্থানসহ নির্ধারিত উন্নয়নকাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে পরিবারটি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৭, ২০২৬
জসিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ভোটের লড়াইয়ে হাসনাতের কাছে হার, এবার গেল দলীয় পদ

চট্টগ্রাম কাস্টমসে পচনশীল পণ্য ই-নিলামে বিক্রির নির্দেশ

বংশাল এলাকায় পিচ্চি রাজাকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাই প্রিজন ভ্যান থেকে ছেড়ে দেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

পুলিশের সহায়তায় প্রিজনভ্যান থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
চলন্ত অবস্থায় তিস্তা এক্সপ্রেসের দুই বগি বিচ্ছিন্ন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

ময়মনসিংহে চলন্ত অবস্থায় আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগির সংযোগ হুক ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কাওরাইদ ও মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ওই রেলপথে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি। ট্রেনটি কাওরাইদ ও মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ দুটি বগির সংযোগ হুক ভেঙে যায়। এতে ট্রেনের ‘ন’ ও ‘ত’ নম্বর বগি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিষয়টি চালকের নজরে এলে তিনি দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ওই পথে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনও কিছু সময়ের জন্য আটকা পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাওরাইদ-মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ বগির সংযোগ হুক ভেঙে দুটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চালক বিষয়টি বুঝতে পেরে ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বগিগুলোর সংযোগ হুক মেরামতের জন্য রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। মেরামতের কাজ শেষ হলে ট্রেনটি পুনরায় নির্ধারিত গন্তব্য। দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।’   রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তা। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য আজ

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ ২০ জন আহত

ছবি: সংগৃহীত
মঙ্গলবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকবে যেসব এলাকা

গাছের ডালপালা কর্তনের জন্য নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েকটি এলাকায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।   সোমবার (৫ অক্টোবর) নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৬ নম্বর ফিডারে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।   এ সময় কুমরুল, কামারদহ, কায়েমকোলা, রামাগাড়ি, রামাগাড়ি ঘোষপাড়া, আটঘরিয়াসহ আশপাশের এলাকার গ্রাহকরা বিদ্যুৎবিহীন থাকবেন। ফলে এসব এলাকার গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।   পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, নির্ধারিত কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ বন্ধের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। এ ছাড়া কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে কোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।   বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছেলের মৃত্যুর দেড় মাস না পেরোতেই গুলিতে প্রাণ গেল বাবার

বাউফল উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নান্দাইলে এনআইডি জালিয়াতি চক্রের মূল হোতা আটক, ১৯ সিল উদ্ধার

0 Comments