আন্তর্জাতিক

ইরানি সামরিক বিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচাতে ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে জায়গা দেয় পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে নিজেদের সামরিক বিমান পার্কিংয়ের জন্য নিয়ে আসে ইরান। এছাড়া আরেক প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও নিজেদের কিছু বেসামরিক বিমান নিয়ে যায় ইরান। তবে আফগানিস্তানে সামরিক বিমান নেওয়া হয়েছিল কি না সেটি স্পষ্ট নয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তেহরান তাদের বেশকিছু মূল্যবান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রাওয়ালপিন্ডির খানিকটা বাইরে অবস্থিত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নূর খান ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। এতে করে এগুলো ইসরায়েলি ও মার্কিনি হামলা থেকে রক্ষা পায় । পাকিস্তান যখন ইরানকে তাদের সামরিক বিমান রাখার সুযোগ দিয়েছে ঠিক একই সময় মধ্যস্থতাও চালিয়েছে। ইরান পাকিস্তানে যেসব বিমান পাঠিয়েছে তারমধ্যে দেশটির বিমানবাহিনীর আরসি-১৩০ নজরদারি বিমান এবং লকহিডের তৈরি সি-১৩০ বিমান ছিল। এটি কৌশলগত পরিবহন বিমান সি- ১৩০ হারকিউলিসের একটি সংস্করণ যা নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয় ।

 

বিষয়টির সম্বন্ধে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিলের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান ওই আরসি-১৩০ বিমানসহ একাধিক বিমান পাকিস্তানের নূর খান ঘাঁটিতে পাঠায়। সে সময় ইরানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিলেও সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা থেকে বাকি সামরিক ও বিমান বাহিনীর সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তেহরান আফগানিস্তানে বেসামরিক ও পাকিস্তানে সামরিক সম্পদ পাঠিয়েছিল বলে ধারণা ঐ কর্মকর্তাদের। তবে পাকিস্তান অবশ্য পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির এক কর্মকর্তা জানান, নূর খান বিমানঘাঁটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। যদি সেখানে অনেক বেশি বিমান পার্ক করা থাকত তাহলে এগুলো সবার নজরে আসত ।

 

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তান ইরানি যুদ্ধবিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল, এ খবর ওয়াশিংটনে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি করেছে। অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতাই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়া ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রিপাবলিকান সেনেটর 'যুদ্ধবাজ' খ্যাত লিন্ডসে গ্রাহাম ইরান সঙ্কটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করারও দাবি জানিয়েছেন। তবে পাকিস্তানে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ খবরকে ‘ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

 

তিনি বলেছেন, নূর খান ঘাঁটি জনবহুল এক এলাকায় অবস্থিত। সেখানে ইরানি বিমান নামলে তা লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। নূর খান ঘাঁটিটি শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত, যদি অনেকগুলো বিমানের একটি বহর সেখানে পার্ক করা থাকতো, তাকে কোনোভাবেই লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা যেত না, বলে জানান তিনি। তবে আফগানিস্তান বলছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার সময় ইরানের মাহান এয়ারের একটি বেসরকারি বিমান কিছু সময় কাবুল বিমানবন্দরে পার্ক করা ছিল। আফগান বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের কিছুক্ষণ আগে ইরানি ওই বেসামরিক বিমানটি কাবুলে অবতরণ করেছিল।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে ফেলার পর কৌশলগত এই নৌপথের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ এখন খোলা। এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে।’   ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে এখনো মাঝে মাঝে মাইন পেতে রাখা হচ্ছে। তবে মার্কিন বাহিনী সেগুলো শনাক্ত করছে এবং সরিয়ে ফেলছে   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় তিনি ক্ষতিপূরণের দাবি তুলবেন। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর ট্রাম্পও পাল্টা ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।   ট্রাম্প বিশেষ করে ইরানের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানান। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের দাবি করে আসছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১১, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১

ছবি: সংগৃহীত

পাঁচতারকা হোটেলে দুই মেয়েকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২০, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় চোকো অঞ্চলে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা প্রথমে এর মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে উল্লেখ করেছিল। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে, যা রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।   ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, কম্পনটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ভূমিকম্পের পর আফটারশকের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতেও হতাহত ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ চলছে।   কলম্বিয়া ও প্রতিবেশী ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছেন।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর বোগোটার বিভিন্ন বহুতল ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশটির কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়ার ভিডিওও প্রকাশিত হয়েছে।   রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পর্যটন অঞ্চল এহে কাফেতেরোর পেরেইরা শহরে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় মেয়র জানিয়েছেন। এছাড়া মানিজালেস শহরে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।   বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের পর আরও আফটারশক হতে পারে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১০, ২০২৬
ভারত ও চীনের মধ্যকার বিতর্কিত অনুণাচল প্রদেশের একটি সীমান্ত চেকপয়েন্ট। ছবি : সংগৃহীত

অরুণাচলের ২৭ স্থানের নাম নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্তে চীনের তীব্র সমালোচনা

ছবি: সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি আর যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরবে না

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হলেন মোহসেন রেজাই

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, কাউন্সিলের সচিবের পদ থেকে মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর পদত্যাগ করার পর তার জায়গায় রেজাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির প্রধান ছিলেন। এই সময়ের বেশির ভাগ সময় ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলছিল। পরে তিনি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টাও ছিলেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন রেজাই। গত জুলাইয়ে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’। রেজাইয়ের আগে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন জুলঘাদর। তিনিও আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার। গত মার্চে তিনি এই দায়িত্ব নেন। রোববার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় জানিয়েছে, জুলঘাদর এখন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আড়াই বছর পর মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ের অভিযোগ, ভারতে গ্রেপ্তার ২

বৃষ্টিতে দুর্ভোগে স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে বৃষ্টি-ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ল

0 Comments