জাতীয়

দেশকে এগিয়ে নিতে নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠার আহ্বান : রিজওয়ানা হাসানের

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দেশের জন্য কাজ করতে হলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে। তিনি বলেন, নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কথা ভাবতে হবে এবং সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে নিজেকে অন্যান্য প্রাণ ও প্রকৃতির সেবায় নিয়োজিত করতে হবে।


ঢাকায় বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের ৭৫তম জন্মদিবস উপলক্ষে ‘রুটস টু লিগাসি: প্লাটিনাম জুবিলি সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, তিনি আজ প্রধান অতিথি হিসেবে নয়, বরং স্কুল পরিবারের সদস্য হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি স্কুলের অগণিত যোগ্য ও স্বনামধন্য শিক্ষার্থী তৈরির প্রশংসা করে শিক্ষকদের প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা জানান।

পরিবেশের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমরা কেন প্লাস্টিকের বোতল ছেড়ে কাচের জগ-গ্লাসে ফিরে যাচ্ছি, তা আমাদের মূল্যবোধের বিষয়। যারা এখানে আছেন তারা পরিবারকে প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে আগের মতো চটের ব্যাগ ব্যবহার করতে অনুরোধ করবেন। প্লাস্টিক আমাদের শরীরের রক্তে, ফুসফুসে, মায়ের দুধে পর্যন্ত প্রবেশ করছে, এবং এর জন্য মানুষের অসচেতনতা দায়ী।

কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তার মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উৎস। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্কুলের অন্তর্বর্তী কমিটির সভাপতি মো. আজমল হক এবং অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
‘বর্তমান সংসদকে দেশের ইতিহাসের সেরা দেখতে চাই’ — চিফ হুইপ

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা সংসদ হিসেবে দেখতে চান তিনি। এজন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (বামু) আয়োজিত ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর ব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।   চিফ হুইপ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে আরও কার্যকর এবং গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।   তিনি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকারি হিসাব, অনুমিত হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটিগুলোর কার্যকর ভূমিকা আর্থিক শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।   অনুষ্ঠানের অন্য একটি অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে আলোচনা করেন। ব্রিফিংয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়, মৌলভীবাজারে যুবক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক আরও জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর জন্য নতুন অ্যাসল্ট রাইফেল ‘উগ্রম’, ট্রায়ালে মিলেছে অনুমোদন

ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ‘উগ্রম’ বোর্ড ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ট্রায়ালে ইতিবাচক মূল্যায়নের পর এটি ব্যবহারের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   রাইফেলটির নকশা তৈরি করেছে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। সেই নকশা অনুসারে তেলেঙ্গানাভিত্তিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা দিভিপা ডিফেন্স মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে অস্ত্রটি তৈরি করে।   জানা গেছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল সম্প্রতি রাইফেলটির বোর্ড ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। সফল পরীক্ষার পর এটি সিআরপিএফ, বিএসএফ, এসএসবি, এনএসজি এবং বিভিন্ন রাজ্য পুলিশের কাউন্টার-ইনসারজেন্সি ইউনিটে ব্যবহারের পথ আরও সহজ হয়েছে।   ৭.৬২ মিলিমিটার ক্যালিবারের এই স্বয়ংক্রিয় রাইফেলটি অটো ও সিঙ্গেল-শট—উভয় মোডে পরিচালনা করা যায়। প্রতিটি ম্যাগাজিনে ২০ রাউন্ড গুলি বহন করা সম্ভব এবং এর কার্যকর পাল্লা প্রায় ৫০০ মিটার।   বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত ৫.৫৬ মিলিমিটার ইনসাস রাইফেলের তুলনায় ‘উগ্রম’-এর মারণক্ষমতা ও কার্যকারিতা বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি। দীর্ঘ আড়াই বছরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নতুন এই রাইফেলটি সফলভাবে মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।   সূত্র: এনডিটিভি

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৭, ২০২৬

দেশের আদালতে বিচারাধীন ৪৬ লাখ মামলা, উচ্চ আদালতেই সাড়ে ৫ লাখ

দেশের ইতিহাসের সেরা সংসদ গড়তে চাই: চিফ হুইপ

পাঁচ বছরের বেশি পুরনো মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ-চীনের সমীকরণে চাপে ভারত

  বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চুক্তিকে ঘিরে ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেকের কাছে প্রকল্পটির অবস্থান নয়াদিল্লির জন্য নতুন নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশ তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি চুক্তি সই করে। এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও জোরদার হলেও, প্রকল্পটির অবস্থান ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।   তিস্তা প্রকল্প কী?   ৪১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তঃসীমান্ত তিস্তা নদীর উৎপত্তি পূর্ব হিমালয়ে। এটি ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে।   টিআরসিএমআরপি একটি বৃহৎ নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প। এতে নদী খনন, বাঁধ নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার এবং নদীর গতিপথ স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরজুড়ে সড়ক, সেচব্যবস্থা, নগরকেন্দ্র, পর্যটন সুবিধা ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বন্যার ক্ষতি কমানো, নৌচলাচলের উন্নতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।   প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা   ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চীনের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়নার সঙ্গে প্রকল্পটির মাস্টারপ্ল্যান ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা তৈরির জন্য সমঝোতা স্মারক সই করে। ২০১৯ সালে এটি সরকারি কাঠামো পায় এবং ২০২০ সালে মেগা নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প হিসেবে প্রকাশ করা হয়।   তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করলেও অর্থায়ন নিশ্চিত বা চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। বর্তমান সরকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার নতুন চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটিকে আবারও এগিয়ে নিচ্ছে।   কেন চীনকে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ?   প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থায়ন ও উচ্চ পর্যায়ের প্রকৌশল দক্ষতা প্রয়োজন। নদী থেকে ১৪০ মিলিয়ন ঘনমিটার পলি অপসারণ, ১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার, ৮২টি জেটি নির্মাণ, বাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং ২২৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।   আরেকটি কারণ হলো তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা। ২০২৪ সালে ভারত এক বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেটি এগোয়নি। এরপর চীনের সঙ্গে সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত হয়।   ভারতের উদ্বেগ কোথায়?   বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্প এলাকার অবস্থান ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার লাগোয়া এবং শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি। মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রস্থের এই করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ।   কৌশলগত বিশেষজ্ঞ তারা কার্থার মতে, বাংলাদেশে চীনের এই প্রভাব ভারতের দুই ফ্রন্টের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। পাকিস্তান যখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুর্বলতাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই বেইজিং তার কৌশলগত পরিধি বাড়াচ্ছে।   তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূততিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত কার্থা ‘ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল’-কে বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে বেইজিংয়ের অবস্থান নেওয়ার অর্থ হলো ভারত এখন নিশ্চিতভাবেই দুই ফ্রন্টের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেখানে পাকিস্তানের নজর সব সময়ই চীনের দিকে রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে চীনের উপস্থিতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। চীন অত্যন্ত কার্যকরভাবে তার সফট পাওয়ার প্রদর্শন করছে।   অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) গবেষকদের মতে, চীনের সম্পৃক্ততা তিস্তা ইস্যুকে শুধু পানিবণ্টন বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে না; বরং এটি আরও বড় নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।   ভারতের অবস্থান   গত ৩ জুন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে এএনআই নিউজ এজেন্সিকে জানান, তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিমধ্যে ঢাকাকে জানানো হয়েছে এবং তিস্তা ইস্যুতে ভারতের পদক্ষেপ সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় ও উন্নয়নকে বিবেচনায় নিয়েই নির্ধারিত হবে। আমরা তিস্তা ইস্যুর সামগ্রিক পদক্ষেপে এই সংক্রান্ত সমস্ত উন্নয়নকে বিবেচনায় রাখব।   ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বলেছিলেন, ভারত গঙ্গা ও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তিসহ পানি সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশি সংবাদপত্র দ্য ডেইলি স্টার-এর বরাত দিয়ে মিস্রি বলেন, গঙ্গা পানি চুক্তি এখনও বৈধ রয়েছে এবং আমরা যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোর মধ্যে এ সংক্রান্ত আলোচনা অব্যাহত রাখব।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পূর্ণাঙ্গ প্রকল্পে রূপ নিলে তিস্তা কেবল ভারত-বাংলাদেশের পানিবণ্টন ইস্যু থাকবে না; এটি ভারত ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৭, ২০২৬

মার্কিন বাণিজ্য সমঝোতায় গুরুত্ব পেয়েছে পোশাক খাত: তথ্য উপদেষ্টা

অর্থনীতির গতি বাড়াতে বিমা খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধ: শুধু প্রকৃত অপরাধীদের বিচার করবে সরকার

0 Comments