খেলাধুলা

আরবেলোয়ার প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয় বিভাগের দলের কাছে হার, রিয়ালের কোপা দেল রে বিদায়

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১৫, ২০২৬

রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার দায়িত্বে অভিষেকটা ভালো হলো না। তার প্রথম ম্যাচেই কোপা দেল রে থেকে বিদায় নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তাও আবার দ্বিতীয় বিভাগের তলানীতে থাকা আলবাসেতের কাছে ৩-২ গোলে হেরে।


কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহাম খেলতে না নামলেও প্রথম ৪২ মিনিটে বলের দখল ছিল রিয়ালের প্রায় ৮০ শতাংশ। পাঁচটি শট নিলেও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এগিয়ে যায় আলবাসেতে। হোসে লাজোর কর্নার থেকে জাভি ভিয়ার হেডে গোল করেন, বল যায় আন্দ্রেই লুনিনের পাশ দিয়ে।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ১৮ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো মাসতান্তুয়োনো সমতা ফিরিয়ে আনেন রিয়ালের হয়ে। তিনি রাউল লিজোয়াইনের ভুল সুযোগ কাজে লাগান।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই তীব্র লড়াই চালায়। রিয়াল জয়ের জন্য চাপ বাড়ায় এবং আরবেলোয়া একের পর এক বদলি আনে। মাঠে নামেন ডেভিড আলাবা, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও দানি কারভাহাল।

শেষ আট মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বদলি জেফতে বেন্তানকো ৮২ মিনিটে আলবাসেতকে এগিয়ে দেন। যোগ করা সময়ে রিয়াল সমতা ফিরিয়ে আনে গনসালো গার্সিয়ার গোলে। কিন্তু মাত্র দুই মিনিট পর আবার গোল করে জেফতে, শেষ হাসি হাসে আলবাসেতের। এই জয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। রিয়ালের বিপক্ষে এটি আলবাসেতের প্রথম জয়।
রিয়ালের এই হার আসে বার্সেলোনার কাছে স্প্যানিশ সুপার কাপ হারের কয়েক দিনের মধ্যেই। ফলে দলের দুঃসময় আরও ঘনীভূত হলো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ফুটবল লিগ পেছাল প্রায় এক মাস

দিনক্ষণ বদলের ‘রেওয়াজ’ বহাল থাকল। আগামী মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ আয়োজনের আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারল না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দেশের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর শুরুর নতুন দিনক্ষণ জানিয়েছে বাফুফে। প্রায় এক মাস পর, ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে লড়াই।   বাফুফের নির্বাহী কমিটি শনিবার বৈঠকে বসেছিল। সেখানে ফেডারেশন কাপ, বাংলাদেশ ফুটবল লিগ আয়োজন নিয়ে নিয়ে নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেমন, ফেডারেশন কাপ শুরুর কথা ছিল ২৮ অগাস্ট, সেটি এক ঝটকায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর।   বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স-শুরুতে এই তিন দল ফিফার নিষেধাজ্ঞায় থাকার কারণে তারা দলবদল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছিল না। ইতোমধ্যে আবাহনী নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়ে দল গুছিয়ে নিয়েছে অনেকটাই। দলবদলের সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।   প্রতিযোগিতাগুলো পিছিয়ে দেওয়া হলেও তা ফিফার গাইডলাইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হচ্ছে, দাবি করেছেন বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু। সবগুলো দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিকে জোর দেওয়ার কথাও বললেন তিনি।   “না, না। আমি আপনাকে বলি, আমাদের যে একটা গাইডলাইন দেওয়া, এই তারিখের মধ্যে... আমি যদি ইচ্ছা করি, আমরা যে তারিখ এখন দিয়েছি, তার একটা দিন পরে যদি কেউ দলবদল করে, আমি ইচ্ছা করলেও তাকে ঢোকাতে পারব না। সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে। এটা ফিফা, এএফসির সাথে সংযুক্ত সবকিছু এবং এই তারিখটাই আমাদের শেষ তারিখ থাকবে।   “আমরা আসলে চাই প্রত্যেকটা দল আসুক। মোহামেডান ক্লাব দলবদল করেছে, আজকে আবাহনীও দলবদল করবে, বসুন্ধরা দলবদল করুক, ব্রাদার্স ইউনিয়ন দলবদল করুক, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব দলবদল করুক, আমাদের আরামবাগ দলবদল করুক, যে দলগুলি আছে, প্রত্যেকটা দল নিয়ে আমাদের লিগটা যাতে অনেক সুন্দরভাবে, পরিপূর্ণভাবে শেষ করতে পারি এবং লিগটা যাতে সুন্দরভাবে হয়, সেটাই থাকবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য।   লিগ শুরু হলে তা চলমান রাখা নিয়েও অবশ্য থাকছে প্রশ্ন। কেননা, আগামী সেপ্টেম্বরের উইন্ডোতে শুরু হতে যাওয়া আশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতার প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচগুলো শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর।   এশিয়ান চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বের খেলা আছে ফর্টিস এফসির। প্রিলিমিনারি রাউন্ড পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া ফর্টিসের খেলাগুলো শুরু হবে ১৭ অক্টোবর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আসিয়ান কাপে ভারতের পরিবর্তে খেলবে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

৬৪-তে অলআউট হয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাকাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনের টিকিটও শেষ, গ্যালারি ভরবে দর্শকে

মেসিকে জরিমানা, সুখবর পেলেন কাভান

ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসি ও সতীর্থ ইয়ান ফ্রেকে জরিমানা করেছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ডিসিপ্লিনারি কমিটি। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মুখ, মাথা বা ঘাড়ে হাত দেয়ার নীতি লঙ্ঘনের দায়ে দুজনকেই অপ্রকাশিত অঙ্কের অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে শুক্রবার (২১ আগস্ট) জানিয়েছে এমএলএস।   ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে মায়ামির ২-২ গোলের ড্র ম্যাচে। পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১০১তম মিনিটে ছড়ায় উত্তেজনা। এক পর্যায়েমায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।   তবে সুলিভানের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। তার লাল কার্ডের কারণে দেয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা বাতিল করেছে স্বাধীন রিভিউ প্যানেল। যুক্তরাষ্ট্রের সকার ফেডারেশন, কানাডা সকার এবং প্রফেশনাল রেফারি অর্গানাইজেশনের মনোনীত একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত প্যানেলটি সর্বসম্মতভাবে সুলিভানের পক্ষে রায় দেয়।   ফলে রোববার অস্টিন এফসির বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন সুলিভান। ২০২৬ মৌসুমে প্রতিটি এমএলএস ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুটি ব্যর্থ আপিলের সুযোগ রয়েছে। সুলিভানের ঘটনায় সফল হওয়ায় ফিলাডেলফিয়ার ব্যর্থ আপিলের সংখ্যা এখনও শূন্য।   এদিকে বুধবারের আরও দুটি ম্যাচের ঘটনায় জরিমানার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এমএলএস। ৫৬তম মিনিটে লাল কার্ড দেখানোর পর দ্রুত মাঠ না ছাড়ায় টরন্টো এফসির ডিফেন্ডার ওয়াকার জিমারম্যানকে জরিমানা করা হয়েছে। একই দিনে আটলান্টা ইউনাইটেডের কাছে মিনেসোটা ইউনাইটেডের ২-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে অভিনয় করে ফাউল আদায়ের চেষ্টা বা ‘সিমুলেশন/এম্বেলিশমেন্ট’-এর দায়ে জরিমানা করা হয়েছে মিনেসোটার ডিফেন্ডার অ্যান্থনি মার্কানিচকেও।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি- এএফপি

স্টার্ক-শরিফুলের ঝড়ে ১৮ উইকেটের রোমাঞ্চকর প্রথম দিন

ছবি: সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট সিরিজের ভেন্যু ঘোষণা বিসিবির

ছবি: সংগৃহীত

বিপিএলে এক বছরের বিরতি, বিকল্প টুর্নামেন্ট চান ক্রিকেটাররা

ছবি- এএফপি
অস্ট্রেলিয়ার ৩ উইকেট তুলে চা বিরতিতে বাংলাদেশ

মাত্র ৬৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নেমেও স্বস্তিতে নেই অস্ট্রেলিয়া। চা বিরতির আগেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকরা। ৩ উইকেটে ৫০ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশনের খেলা শেষ করেছে তারা। বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ১৪ রানে পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই ম্যাট রেনশকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন শরিফুল ইসলাম। একই ওভারে মার্নাস লাবুশেনকেও বোল্ড করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখন ক্রিজে আছেন স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল নিয়েছেন ২ উইকেট, তাসকিনের শিকার ১টি। এর আগে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ১০ ওভারে ৬ মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। প্যাট কামিন্স শিকার করেছেন ৩ উইকেট, জশ হ্যাজলউড নিয়েছেন একটি। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর ম্যাচের প্রথম বলেই আঘাত হানেন স্টার্ক। বল ব্যাটের কানায় লেগে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরতে হয় বাঁহাতি ওপেনারকে। পরের ওভারেই তানজিদ হাসান তামিমকে ফেরান স্টার্ক। বল ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ওয়েবস্টারের হাতে ক্যাচ দেন ডারউইন টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান। ফলে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে ফিরলেন তানজিদ। এরপর বাংলাদেশের বিপর্যয় আরও বাড়ান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্টার্কের বল লেগ স্টাম্পের দিকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় প্যাডে আঘাত হানে। আম্পায়ার আউট দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তবে আম্পায়ার্স কলের কারণে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরতে হয় শান্তকে। স্টার্কের তৃতীয় শিকার হন মুমিনুল হক। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অযথা ব্যাট বাড়িয়ে গালিতে ক্যাচ দেন তিনি। ১৬ বলে ৯ রান করে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। লিটন দাসও স্টার্কের তাণ্ডল থেকে বাঁচতে পারেননি। প্রথমে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। ওয়েবস্টার সহজ ক্যাচটি নিতে পারেননি। পরের বলেই অবশ্য লিটনকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান স্টার্ক। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্পে আঘাত করত। ৪ রানেই ফিরতে হয় লিটনকে। মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে এরপর কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। প্যাট কামিন্সের ভেতরে ঢোকা বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্প ভেঙে যায় মুশফিকের। ৪২ বলে ৫ রান করে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার। লাঞ্চের আগে আর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। মিরাজের সঙ্গে ১৪ রানের জুটি গড়েন হাসান মাহমুদ। বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই আরও দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন মিরাজ। ৫১ বলে ১১ রান করেন তিনি। এরপর জশ হ্যাজেলউডের বলে নাথান লায়নের হাতে ক্যাচ দেন হাসান মাহমুদ। ৩৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ২৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৩৮ রান। তখনই শঙ্কা জাগে, ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের রেকর্ডও বুঝি ভেঙে যাবে। তবে শেষ দুই ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম কিছুটা স্বস্তি দেন বাংলাদেশকে। দশম উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৫ রান। এর মধ্যেই নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা এড়ায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত শরিফুলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন স্টার্ক। কট বিহাইন্ড হন ২৬ বলে ১৪ রান করা শরিফুল। তাইজুল ২৬ বলে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। স্টার্কের ৬ উইকেটের পাশাপাশি কামিন্স নেন ৩টি এবং হ্যাজলউড একটি উইকেট। এই ইনিংসে একাধিক বিরল রেকর্ডও হয়েছে। ম্যাচের প্রথম বলেই সাদমানের উইকেট নিয়ে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার টেস্ট ইতিহাসে প্রথম বলের প্রথম উইকেটের মালিক হয়েছেন স্টার্ক। একই সঙ্গে এই মাঠের প্রথম টেস্টের প্রথম বলেই আউট হওয়া ব্যাটার হিসেবে রেকর্ডে নাম উঠেছে সাদমানের। এদিকে মাত্র ২২ বলে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে কম বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন স্টার্ক। সব মিলিয়ে টেস্টে এটি তার ১৯তম পাঁচ উইকেটের ইনিংস।

মারিয়া রহমান আগস্ট ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্টার্কের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ, লাঞ্চে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৫

ছবি: সংগৃহীত

‘চার হাঁস, তিন জিরাফের ক্যাচ, সিংহ আর আহত বাঘ’—বাংলাদেশের বিপর্যয়ে অজি ধারাভাষ্যকারদের রসিকতা

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাকাইয়ে স্টার্ক-ঝড়, ২৭ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ

0 Comments