প্রবাসী

ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ে নতুন মাইলফলক, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সদ্যবিদায়ী ডিসেম্বর মাসে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত মার্চ মাসে, সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এ ছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডিসেম্বরের বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের রেমিট্যান্স এসেছে। ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসেছে ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর এসেছে ৫৭ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বর এসেছে ৬৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার। ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর এসেছে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর মাসের প্রথম ছয় দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

এর আগে নভেম্বর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর আগস্ট ও জুলাই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
কোরিয়ার বিমানবন্দরে আটকা তিন শতাধিক বাংলাদেশি, বাড়ছে উদ্বেগ

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার পরও সিউল-ঢাকা রুটে অবৈধ ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেয় দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক চার্টার্ড এয়ারলাইন্স ‘এয়ার প্রিমিয়া’। অবৈধ নন-শিডিউল চার্টার্ড ফ্লাইটের কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এখন আটকা পড়েছেন প্রায় তিন শতাধিক যাত্রী। দেশে পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দ এখন পরিণত হয়েছে মহাদুর্ভোগে। যাত্রীদের এই জিম্মি দশাকে পুঁজি করে মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) ব্ল্যাকমেইল করে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নেওয়ার চেষ্টা করছে এয়ার প্রিমিয়া। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেবিচক বলছে, মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এয়ার প্রিমিয়ার কোনো উড়োজাহাজ অবতরণ করতে দেওয়া হবে না ঢাকায়।   জানা গেছে, টিকিট বিক্রি ও অর্থ লেনদেনে স্বচ্ছতার অভাব এবং টাকা পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যেকার ঢাকা-সিউল রুটে পরিচালিত নন-শিডিউল চার্টার ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল এয়ার প্রিমিয়া এবং টাওয়ে এয়ার। অপারেটর দুটি চার্টার্ড বিমানের আড়ালে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল। অথচ সংস্থাগুলোর ঢাকায় কোনো অফিস বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নেই। বাংলাদেশে কোনো যাত্রীর কাছে টিকিট বিক্রির অনুমতিও নেই অপারেটরগুলোর। কিন্তু দেদার টিকিট বিক্রি করছিল এয়ার প্রিমিয়া এবং টাওয়ে এয়ার। টিকিট বিক্রির টাকা কীভাবে হস্তান্তর হয়, তার তথ্য দিতে পারেনি এয়ারলাইনসগুলো।   সম্প্রতি এই দুই অপারেটরের বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করে সিভিল এভিয়েশন। সভায় চার্টার ফ্লাইটে টিকিট বিক্রির পদ্ধতি, বাংলাদেশ থেকে কোরিয়ায় টিকিটের অর্থ স্থানান্তর এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু অপারেটরদের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় গত ৯ মার্চ থেকে এই রুটে কোনো কোরিও এয়ারলাইন্সের নন-শিডিউল চার্টার ফ্লাইট পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দেয় মন্ত্রণালয়। এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে বলেও নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়।   সোমবার (১৬ মার্চ) বেবিচকের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবত আছে। সে হিসেবে কোরিয়ার সিউল থেকে ঢাকার হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে কোনো ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ নেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সিউলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে টিকিট বিক্রি করেছে এয়ার প্রিমিয়া। কোরিয়া থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে আজ (সোমবার) সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পূর্ব ঘোষণা দেয় এয়ারলাইন্সটি। একই ঘোষণায় বাংলাদেশ থেকে সিউলের উদ্দেশে আগামী ৩০ মার্চ এবং ১৩ এপ্রিল বা ২৭ এপ্রিল ফ্লাইট চলাচল করবে বলে উল্লেখ করা হয়।   তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ সোমবার সিউলের ইনচিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিজেদের উড়োজাহাজে যাত্রীদের বোর্ডিং করেছে এয়ার প্রিমিয়া। অথচ তখনও বাংলাদেশে অবতরণের অনুমতি পায়নি এয়ারলাইন্সটি।   এ বিষয়ে বেবিচকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এয়ার প্রিমিয়াকে ফ্লাইট পরিচালনার এখনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত ৯ মার্চ তাদের শেষবারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং সেই অনুমতিতে বলা ছিল, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল স্থগিত থাকবে এবং ৯ তারিখের অনুমোদনকে দৃষ্টান্ত হিসেবে আগামীতে কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে না। এই নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবত আছে। তারা যদি কোরিয়া থেকে উড়োজাহাজ উড্ডয়নও করে, ঢাকায় অবতরণ করতে পারবে না।   ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, চার্টার ফ্লাইটে টিকিট বিক্রির কথাই না, তারপরও যদি এয়ার প্রিমিয়া টিকিট বিক্রি করে, সেটা সম্পূর্ণ নিজেদের দায়িত্বে করছে। ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতির কোনো আশ্বাস বা আশাও দেইনি। কাজেই যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করে থাকলে এর দায়িত্ব এয়ার প্রিমিয়াকেই নিতে হবে।   এদিকে সিউলের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইটটির বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসার কথা ছিল। প্রায় তিন শতাধিক যাত্রীর বোর্ডিং পাসও দিয়েছে এয়ার প্রিমিয়া। কিন্তু সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সিউলের স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত ফ্লাইটটি আকাশে উড্ডয়ন করেনি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে দেশমুখী প্রবাসী যাত্রীরা। প্রতিবার এক ঘণ্টা দেরি করে যাত্রীদের সময় জানানো হচ্ছে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।   সাদ সোহেল নামের এক যাত্রী লেখেন, ৫টা ২৫ মিনিটে ফ্লাইট হওয়ার কথা ছিল। ফ্লাইট লেইট ৬টা ২৫ কিন্তু এখনো কোন খবর নেই। ইমার্জেন্সি প্রয়োজনে যাচ্ছিলাম। জবান আর ঠিক রাখতে পারলাম না।   সেই পোস্টে আবার একাধিক যাত্রী কমেন্ট করেছেন, ফ্লাইট ছাড়ার সবশেষ সময় (স্থানীয়) সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট। তবে এশিয়া পোস্টের স্থানীয় সূত্র বলছে, এখনও সেই ফ্লাইট উড্ডয়ন করেনি।   পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এভিয়েশন খাতের এক বিশেষজ্ঞ এশিয়া পোস্টকে বলেন, এয়ার প্রিমিয়া আগেও এমন কাজ করেছে। অনুমোদন ছাড়াই যাত্রী অন-বোর্ড করে বাংলাদেশ সরকার তথা মন্ত্রণালয় এবং বেবিচককে যাত্রীদের নামে ব্ল্যাকমেইল করে। যাত্রীদের ভোগান্তি বিবেচনায় মন্ত্রণালয় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, এমন ঘটনা আগেও হয়েছে। আর একেবারেই অনুমতি না পেলে, ফ্লাইট ক্যান্সেল করে দেয় এয়ার প্রিমিয়া। এরপর রিফান্ড পেতে যাত্রীদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস।   এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য এয়ার প্রিমিয়ার বাংলাদেশি প্রতিনিধির কারও সঙ্গে এ মুহূর্ত পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বাহরাইন প্রবাসীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট, চলছে নিবন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি ইয়ুথ কমিউনিটির উদ্যোগে কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতা

ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জন আটক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগে বাংলাদেশিসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানী আবুধাবিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।   রোববার (১৫ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামসি তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ সংক্রান্ত ভুয়া ফুটেজ ছড়ানোর প্রমাণ মেলায় আসামিদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে।   গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান এবং নেপালের নাগরিকরা আছেন।   বিবৃতিতে আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দিন ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে কড়া নজরদারির পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়া এবং সাধারণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এ কাজ করছিলেন তারা।   এ ধরনের কাজ দেশটিতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য এবং শাস্তি হিসেবে কমপক্ষে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লাখ দিরহাম জরিমানার বিধান রয়েছে।   শামসি বলেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন বানোয়াট তথ্য এবং কৃত্রিম কন্টেন্ট ছড়ানো রোধ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তদন্ত ও ইলেকট্রনিক মনিটরিংয়ে দেখা গেছে আসামিরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব ক্লিপ প্রকাশ করা, এআই ব্যবহার করে বানোয়াট ক্লিপ তৈরি করা এবং সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে এমন একটি রাষ্ট্র ও তাদের নেতৃত্বের প্রশংসা করা।’   ইউএইর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, প্রথম গ্রুপে তারা রয়েছেন যারা দেশের আকাশসীমা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাওয়া বা সেগুলো প্রতিহত করার প্রকৃত ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছেন। তারা বিভিন্ন স্থানের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখিয়েছেন এবং এমন মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন যা জনসাধারণের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।   দ্বিতীয় গ্রুপে রয়েছেন তারা যারা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বানোয়াট দৃশ্য তৈরি করেছেন অথবা অন্য কোনো স্থানে ঘটা ঘটনার ফুটেজ শেয়ার করে সেটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘটনা বলে দাবি করেছেন। এই কৃত্রিম ভিডিওগুলোকে সত্য প্রমাণ করতে বিস্ফোরণের সঙ্গে জাতীয় পতাকা বা নির্দিষ্ট তারিখ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।   তৃতীয় গ্রুপে রয়েছেন তারা, যারা তাদের পোস্টে একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের আঞ্চলিক সামরিক পদক্ষেপকে ‘সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে সমর্থন জানিয়েছেন। তারা সেই রাষ্ট্রের নেতাদের প্রশংসা এবং প্রোপাগান্ডা বা প্রচারণামূলক কন্টেন্ট শেয়ার করেছেন। এই ক্যাটাগরিতে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনই ভারতীয় এবং একজন পাকিস্তানি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ডজনের বেশি প্রার্থী

ছবি: সংগৃহীত

বিদেশিদের জন্য জোহরে নতুন অভিবাসন ডিপো নির্মাণ করছে মালয়েশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ঈদ উপলক্ষে কর্মীদের ছুটিতে নমনীয় হতে মালয়েশিয়ায় নিয়োগকর্তাদের আহ্বান

ফাইল ছবি।
মালয়েশিয়ায় ৮০ অভিবাসী শ্রমিকের ঈদ আনন্দে ভাটা

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পাসির গুদাং এলাকায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৮০ জন বিদেশি শ্রমিকের জন্য আসন্ন ঈদ উৎসবটি বিষণ্ণ হয়ে উঠতে পারে। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত প্রায় ছয় মাস ধরে তারা বেতন ও অতিরিক্ত সময়ের (ওভারটাইম) পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের এসস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি (ইভিএসবি) নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শ্রমিক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, তারা প্রতিদিন জীবিকা নির্বাহের জন্য কঠিন সংগ্রাম করছেন। তাদের দাবি, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে নিয়োগকর্তা যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি বলেন, তারা বর্তমানে একটি গুরুতর শ্রম ও মানবিক সংকটের মুখোমুখি।তিনি বলেন, আমাদের নিয়োগকর্তা টানা ছয় মাস ধরে বেতন ও ওভারটাইম পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতির সমাধানে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।তিনি আরও জানান, চার মাস অপেক্ষা করার পর তারা চলতি বছরের জানুয়ারিতে শ্রম বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এখনো সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। শ্রম বিভাগ আগামী ১৭ এপ্রিলে নিয়োগকর্তার সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছে। শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তারা তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছেন। নিজেদের মধ্যে সামান্য যা আছে তা একত্র করে এবং কিছু শুভানুধ্যায়ীর সহায়তায় তারা কোনোভাবে দিন পার করছেন। অভিযোগ দায়ের করার পর প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ তাদের হুমকিও দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। তাদের মধ্যে আটজনকে জানানো হয়েছে যে তাদের চাকরির চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না।এছাড়া নিয়োগকর্তার অবহেলার কারণে ছয়জন শ্রমিক তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করতে পারেননি। আরেকজন শ্রমিক গত আট মাস ধরে বৈধ কর্মভিসা ছাড়াই কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তারা ভবিষ্যতে অবৈধ শ্রমিকে পরিণত হওয়ার আশঙ্কায় সবসময় আতঙ্কে রয়েছেন।  শ্রমিক প্রতিনিধি দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং শ্রমিকদের ‘রিলিজ লেটার’ দেওয়া জরুরি, যাতে তারা অন্যত্র চাকরি খুঁজে নিতে পারেন।তিনি বলেন, আমাদের দেশে পরিবার আছে, যাদের ভরণপোষণ করতে হয়। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় আসার জন্য যে ঋণ নিয়েছি, সেটিও পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইভিএসবির মুখপাত্র ল ইয়িক হুই বলেন, কোম্পানি বিদেশি শ্রমিকদের উত্থাপিত উদ্বেগ সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি বর্তমানে শ্রম বিভাগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং তারা বেতন দিতে অস্বীকার করেনি। আইন অনুযায়ী সমস্যার সমাধানে কাজ করা হচ্ছে। ল ইয়িক হুই আরও জানান, এ সময়ের মধ্যে ইভিএসবি শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে এবং নিজেদের খাবার কেনার জন্য কিছু আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোম্পানি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং একটি সমঝোতা কাঠামো প্রস্তাব করেছে। এর আওতায় কয়েকজন শ্রমিক ইতোমধ্যে সমঝোতায় পৌঁছেছেন এবং তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইভিএসবি এই সমস্যার সমাধান করতে এবং কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মারিয়া রহমান মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘এফবিজেএ ইফতার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

ছবি : সংগৃহীত

ইতালির স্পন্সর ভিসা: ‘ক্লিক ডে’ ত্রুটিতে মিলছে না ভিসা, বাড়ছে অবৈধ শ্রমিক

ছবি : সংগৃহীত

মদিনায় শিশুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, অভিযুক্ত প্রবাসী গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

0 Comments