অর্থনীতি

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরানোর উদ্যোগ তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।

 

সম্প্রতি এক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার একটি সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করে তোলা।

 

তিনি জানান, ব্যাংকগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কার্যক্রম চালু করার কথাও বলেন তিনি।

 

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার কাজ চলছে।

 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরানোর উদ্যোগ তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী

ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী।   সম্প্রতি এক বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং খাতে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার একটি সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর লক্ষ্য হলো আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী, নিরাপদ ও আস্থাশীল করে তোলা।   তিনি জানান, ব্যাংকগুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কার্যক্রম চালু করার কথাও বলেন তিনি।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার কাজ চলছে।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সিগারেট ফিল্টারের কাঁচামাল ও নিকোটিনে বসছে ৩০০% শুল্ক

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক কোনো রাজনৈতিক দলের হবে না

সংগৃহীত ছবি

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক দুপুরে

পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত
এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দুই এমপির কনসোর্টিয়ামের, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও চলছে আলোচনা

চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি সচল কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটিই সবচেয়ে বড়। গত বছর বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।    দুই সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থানীয় কনসোর্টিয়াম চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে।     গত ২৮ এপ্রিল 'সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস কনসোর্টিয়াম' নামে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে টার্মিনালটি পরিচালনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। এর এক মাসেরও বেশি সময় পর বিষয়টি প্রকাশ্যে এল। একই দিনে স্থানীয় আরেক বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এমজিএইচ গ্রুপও এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছিল।   সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আলোচনার মধ্যেই দেশীয় এই কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাব এনসিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ডিপি ওয়ার্ল্ড দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এনসিটি পরিচালনার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে।    নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া প্রস্তাবের বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন।   চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি সচল কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটিই সবচেয়ে বড়। গত বছর বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে।    রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও কনসোর্টিয়ামের পরিচয় নবগঠিত এই কনসোর্টিয়ামে রয়েছে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) বর্তমান অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড এবং দুই অভিজ্ঞ বার্থ অপারেটর কসমস এন্টারপ্রাইজ ও এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড। কনসোর্টিয়ামের তিন অংশীদারেরই বন্দরে কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বহু বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।   কনসোর্টিয়ামের দুটি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সাথে দুই সংসদ সদস্যদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কসমস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকার দলীয় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। অন্যদিকে, এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য।   ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ে ভিন্ন মডেলের প্রস্তাব ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং এমজিএইচ গ্রুপ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এনসিটি পরিচালনার প্রস্তাব দিলেও দেশীয় এই কনসোর্টিয়াম 'সার্ভিস-বেজড' বা সেবা-ভিত্তিক অপারেটিং মডেলের প্রস্তাব দিয়েছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, টার্মিনালের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায় পুরোপুরি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) হাতে থাকবে। কনসোর্টিয়ামটি ১৫ বছরের জন্য শুধুমাত্র অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল নিয়োগ এবং জ্বালানি খরচ বহন করবে। এর বিনিময়ে তারা প্রতি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৬৯ ডলার 'অপারেশনাল ফি' দাবি করেছে।   কনসোর্টিয়ামের দাবি, এই ব্যবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে জনবল বা রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না, ফলে আয়ের বড় অংশ বন্দরের হাতেই থাকবে। প্রস্তাবনায় সিবিএ অডিট রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, বর্তমানে বন্দর প্রতি কনটেইনারে ১৬১.৮২ ডলার আয় করে এবং ৫৬.১৫ ডলার ব্যয় করে। ফলে নিট আয় থাকে ১০৫.৬৭ ডলার। কনসোর্টিয়ামের মডেলে কোনো বাড়তি বিনিয়োগ ছাড়াই বন্দরের নিট আয় থাকবে প্রায় ৯২ ডলার।   দেশীয় অপারেটররা কতটুকু সফল প্রস্তাবটিতে স্থানীয় অপারেটরদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, জার্মান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'হামবুর্গ পোর্ট কনসাল্টিং' এনসিটির বার্ষিক সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউএস নির্ধারণ করলেও স্থানীয় অপারেটররা বর্তমানে বছরে প্রায় ১৩.৩ লাখ টিইইউএস হ্যান্ডলিং করছে।   সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, 'কনসোর্টিয়ামের তিনটি কোম্পানির চট্টগ্রাম বন্দরে দুই থেকে সাড়ে তিন দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশীয় কোম্পানি টার্মিনাল পরিচালনা করলে টাকা দেশেই থাকবে। জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় অপারেটরদের সুযোগ দেওয়া উচিত।'    তিনি আরও দাবি করেন, এনসিটির সক্ষমতা বছরে ১৭ লাখ টিইইউএস-এ উন্নীত করা সম্ভব। সাইফ পাওয়ারটেক ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত এনসিটি পরিচালনা করেছে এবং বর্তমানে সিসিটি পরিচালনা করছে।    প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, এনসিটিতে থাকাকালীন তারা ২৩ মিলিয়ন কনটেইনার এবং ১৫ হাজারেরও বেশি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে।    কসমস এন্টারপ্রাইজ ১৯৮৯ সাল থেকে এবং এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস ১৯৮৮ সাল থেকে স্টিভিডোরিং ও বার্থ অপারেশনে নিযুক্ত।    এ বিষয়ে জানতে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম ও কসমস এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সরকারের অবস্থান একাধিক দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব জমা পড়লেও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেগুলো বর্তমানে বিবেচনাধীন নেই। এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে শ্রমিক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে গত ৯ ফেব্রুয়ারি প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়। সম্প্রতি একটি নতুন মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে সরকার।   নৌপরিবহন সচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, 'বর্তমানে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে আলোচনা আমাদের অগ্রাধিকার। যেহেতু তাদের সাথে আলোচনা চলছে, তাই এই পর্যায়ে নতুন কোনো প্রস্তাব বিবেচনার সুযোগ নেই। যদি আলোচনা সফল না হয়, তবে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে, যেখানে দেশি-বিদেশি সব অপারেটরদের প্রস্তাব মূল্যায়ন করা হবে।'      

মারিয়া রহমান জুন ০৯, ২০২৬
নাসের এজাজ বিজয়

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইওর পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের আঁচে তেলের দামে নতুন উল্লম্ফন

ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি কমাতে বিএনপি সরকারের ‘ওষুধ’ কী?

ছবি: সংগৃহীত
রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরে দেশের রপ্তানি খাতের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   এ বিষয়ে রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট পণ্য ও বাজারকেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোর বিকাশে সহায়তা করতেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে এবং এটি একটি ঘূর্ণায়মান (রিভলভিং) তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (পিএফআই) কাছে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে। আর রপ্তানিকারকরা সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে অর্থায়ন পাবেন।   এ সুবিধার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সুদ কমতি স্থিতি (রিডিউসিং ব্যালেন্স) পদ্ধতিতে হিসাব করা হবে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ স্কিমের মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো, বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন এবং অপ্রচলিত রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।   রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ ও ‘বিশেষ উন্নয়ন’ খাতভুক্ত শিল্পগুলো এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন সুবিধা পাবে।   স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাট ও চামড়া খাতকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত রপ্তানিকারক, রপ্তানি আয় দেশে আনতে বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং ঋণ অবলোপনের (রাইট-অফ) ইতিহাস রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার জন্য যোগ্য হবে না।   স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করতে হবে।   ইসলামী ব্যাংকগুলোও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে স্কিমের সুদহার ও মেয়াদসংক্রান্ত শর্ত মেনে চলতে হবে।   পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে প্রতিটি অর্থ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট, লেটার অব কন্টিনিউটি, ডেবিট অথরিটি লেটার এবং হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন।   এ স্কিমের আওতায় অর্থায়নকৃত সব বিনিয়োগে ন্যূনতম ঋণ-ইকুইটি অনুপাত ৭০:৩০ বজায় রাখতে হবে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি ব্যবস্থাও চালু করেছে। অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।   প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিলে বা তহবিলের অপব্যবহার করলে পুনঃঅর্থায়নের স্বাভাবিক সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ হারে জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে।   জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি আদায় করা হবে।   আরও বলা হয়েছে, কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।   এ ধরনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এককালীন কর্তনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সম্পূর্ণ বকেয়া পুনঃঅর্থায়নের অর্থ আদায় করতে পারবে।   ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন (২০২৩ সালে সংশোধিত) এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ স্কিম চালু করা হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে বাড়তি সময় দিল এনবিআর

ছবি: সংগৃহীত

বাজেট ২০২৬-২৭: অর্থনৈতিক সংস্কার, বিনিয়োগ ও কৃষি খাতের পুনর্গঠনের আহ্বান

ছবি : সংগৃহীত

এডিপিতে পাঁচ খাতে অগ্রাধিকার, বাস্তবায়ন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

0 Comments