৩রা জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি। ২০ দিনের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর আজ বাংলাদেশ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল আইসিসিকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলবে না লিটন-মোস্তাফিজরা। ফলে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। বাংলাদেশ কী বিশ্বকাপে খেলতে পারবে নাকী তাদের জায়গায় কপাল খুলবে স্কটল্যান্ডের? এই গল্পের সমাপ্তির আগে একনজরে দেখে নিতে পারেন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানের ইস্যুকে কেন্দ্র করে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায় কীভাবে, কেমন উত্তাপ ছড়িয়েছে গত ২০ দিন।
৩ জানুয়ারি ২০২৬ গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকে অবাক করেই গত ৩রা জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেয়। এ ঘটনা রীতিমতো ঝড় তুলে। এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়? জবাবে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ করেন।
৪ জানুয়ারি ২০২৬ মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার একদিন পর ৪ঠা জানুয়ারি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে বাংলাদেশ। এরপর আসিফ নজরুল জানান, বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরানোর অনুরোধ জানায় আইসিসিকে।
৫ জানুয়ারি ২০২৬ শুধু কথায় নয়? এবার কথার প্রতিফলন দেখা গেল বাস্তবেও। মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়।
৬ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের এমন ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে পড়ে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া। আইসিসির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক হয় বিসিবির। ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়, বৈঠকে আইসিসি বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানো সম্ভব নয়। উত্তাপ আরও বেড়ে যায়।
৭ জানুয়ারি ২০২৬ বিসিবি জানায়, আইসিসি আলটিমেটাম দেয়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, দেশের মর্যাদার প্রশ্নে আপস করে ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা তখন বাংলাদেশের ক্রিকেট ছাপিয়ে হয়ে যায় দেশের মর্যাদা রক্ষার হাতিয়ার।
৮ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসিকে দ্বিতীয় দফায় ইমেইল করে বিসিবি। ৩ তারিখ থেকে ৮ তারিখ টানা ছয়দিন নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে রীতিমতো উত্তাল হয়ে পড়ে ক্রিকেটাঙ্গন।
১২ জানুয়ারি ২০২৬ কয়েকদিন বিরতি দিয়ে ১২ জানুয়ারি ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, আইসিসির নিরাপত্তা দল ভারতে মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশ দলের জন্য তিনটি বড় ঝুঁকির কথা বলেছে। উপদেষ্টা আবারও ভারতে না যাওয়ার অনড় অবস্থানের কথা বলেন।
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তার একদিন পর ১৩ জানুয়ারি বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে আবার অনুরোধ করা হয়েছে।
১৬ জানুয়ারি ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু নিয়ে আলোচনা করতে শনিবার ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধি আসার কথা জানানো হয়। ঢাকায় এসে বিসিবি কর্তাদের পাশাপাশি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বৈঠক করার ঘোষণা আসে আইসিসির প্রতিনিধি দলের।
১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ঘোষণা অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারি শনিবার ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি আবারও বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। গণমাধ্যমগুলো জানায়, ‘বি’ গ্রুপে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের অনুরোধও করেছে বাংলাদেশ।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানায়, বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হলে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে পিসিবি।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ না খেললে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার খবর আসে এবং এটাও শোনা যায়, আইসিসি বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ক্রীড়া উপদেষ্টা আবারও সাফ জানিয়ে দেন, কোনো ‘অযৌক্তিক চাপে’ পড়ে বাংলাদেশ ভারতে খেলতে যাবে না। বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে চিঠি পিসিবির।
২১ জানুয়ারি ২০২৬ আইসিসি বোর্ড সভায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ভোটাভোটিতে বাংলাদেশ কেবলমাত্র পাকিস্তানকে তাদের পাশে পায়। অন্য সকলেই বাংলাদেশের বিকল্প দল চায়। সেইসঙ্গে আইসিসির পক্ষ থেকে বিসিবিকে ভারতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে এক দিন সময় বেধে দেওয়া হয়।
২২ জানুয়ারি ২০২৬ আইসিসির বেধে দেওয়া ২৪ঘণ্টা আলটিমেটামের উত্তর দিতে আজ ক্রিকেটারদের সঙ্গে বিসিবি কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে আজ বৃহস্পতিবার আবারও নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান আসিফ নজরুল। এখন অপেক্ষা আইসিসির চূড়ান্ত ঘোষণার। স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ উপহার দিবে নাকি ‘মিরাকল’ কিছু দেখবে বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার আনন্দ উদযাপন নিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনাল জয়ের পর কয়েকজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত) ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তা সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অফিসিয়াল ম্যাচে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ হওয়ায় এ ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা। রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের ঘটনায় আগেও শাস্তি দিয়েছে ফিফা এ ধরনের ঘটনায় ফিফার শাস্তি দেওয়ার নজির রয়েছে। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে জাপানকে হারানোর পর দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার পার্ক জং-উ বিতর্কিত লিয়াংকোর্ট রকস (কোরিয়ায় ডকদো এবং জাপানে তাকেশিমা নামে পরিচিত) নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার দাবির সমর্থনে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। যদিও ম্যাচটি শেষ হয়ে গিয়েছিল, তার পরও ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাকে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেয়নি। তার ১৭ সতীর্থ ব্রোঞ্জ পদক গ্রহণ করলেও পার্ক মঞ্চে পদক পাননি। পরে তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়। ফিফার নিয়ম কী বলছে? ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোড এবং লজ অব দ্য গেম অনুযায়ী, অফিসিয়াল প্রতিযোগিতায় মাঠে বা স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা ব্যক্তিগত বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ধরনের ঘটনায় এর আগেও শাস্তি পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে ‘Las Malvinas son Argentinas’ (বাংলায়: মালভিনাস বা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা করেছিল ফিফা। ফাইনালে কি নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা? ঘটনাটি নিয়ে ফিফা তদন্ত শুরু করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে সম্ভাব্য শাস্তি হতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা। তবে ব্যানার প্রদর্শনে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে সময় খুবই কম এবং একাধিক খেলোয়াড় এ ঘটনায় জড়িত থাকায় তাদের নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফিফা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বিবৃতি দেয়নি। ফলে আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় ফাইনালে নিষিদ্ধ হবেন কি না, নাকি বিষয়টি কেবল জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে— তা এখনো অনিশ্চিত।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর উল্লাসে মেতে উঠেছে গোটা আর্জেন্টিনা। রাজধানী বুয়েনস আইরেস থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সবচেয়ে নজরকাড়া উদযাপনটি হয়েছে আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ার নিউকুয়েন প্রদেশের কুত্রাল কো শহরে। সেখানে লিওনেল মেসির সদ্য নির্মিত ৮৫ ফুট (২৬ মিটার) উঁচু এক বিশাল মূর্তির পাদদেশে বড় পর্দায় খেলা দেখতে জড়ো হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ২-১ ব্যবধানে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছাতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন সেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষ। আগামী রোববারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দেশ হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার সুযোগ এখন আলবিসেলেস্তেদের সামনে। কুত্রাল কো শহরের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী লুকাস রোমেরো বলেন, এটি ছিল এক চরম কষ্টের জয়, কিন্তু মেসির অবদানের জন্য এই মূর্তি ও জয় আমাদের প্রাপ্য ছিল। স্থানীয় ভাস্কর আলদো বেরোইসার তৈরি মেসির এই বিশাল মূর্তিটি চলতি বছরের জুনে উদ্বোধন করা হয়, যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মেসি ভাস্কর্য। ম্যাচ শেষে মূর্তির মাথার চারপাশে লাল-কমলা আতশবাজির আলোয় পুরো আকাশ রঙিন হয়ে ওঠে। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার এই ম্যাচটি কেবল ফুটবলের লড়াই ছিল না, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল গভীর রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ বিতর্ক, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধ এবং ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের স্মৃতি এই দ্বৈরথকে রূপ দিয়েছিল এক আবেগের যুদ্ধে। ম্যাচ শুরুর আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ইংরেজদের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই অন্য কিছু। এটি মালভিনাসের লড়াই, এটি ডিয়েগোর লড়াই এবং এটি মেসির শেষ বিশ্বকাপ। বুয়েনস আইরেসে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধাদের এক যৌথ প্রদর্শনীতে খেলা দেখার পর ৭৪ বছর বয়সী প্রবীণ যোদ্ধা হুয়ান কার্লোস সালিনাস চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে বলেন, এই জয় আমাদের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি। সূত্র: রয়টার্স
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। বুধবারের এই ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে আলবিসেলেস্তেরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল, যেখানে আগামী রবিবার তারা স্পেনের মুখোমুখি হবে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসি বলেন, তিনি নিশ্চয়ই ওপর থেকে আর্জেন্টিনার এই অর্জন উদযাপন করছেন। এই জয়কে ম্যারাডোনার জন্য একটি বিশেষ উপহার এবং দিনটিকে স্মরণীয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দিয়েগো ওপর থেকে এটি উপভোগ করছেন। এটি তার জন্যও একটি উপহার এবং একটি অত্যন্ত বিশেষ দিন। সূত্র: এনডিটিভি