আন্তর্জাতিক

বিমানে চেপে জার্মানিতে ম্যালেরিয়ার মশা, প্রাণ গেল ২ জনের

মারিয়া রহমান আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির প্রধান বিমানবন্দর ফ্রাঙ্কফুর্টে বিমানে চেপে আসা ক্ষতিকর মশার কামড়ে দুই কর্মীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই বিরল ঘটনায় মোট ছয়জন কর্মী ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।


কর্মকর্তাদের ধারণা, আন্তর্জাতিক কোনো ফ্লাইটে করে এই সংক্রামক মশাগুলো জার্মানিতে ঢুকে পড়েছিল। আক্রান্ত ছয়জন কর্মী বিমানবন্দরের ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে কাজ করতেন। তারা সম্প্রতি দেশের বাইরে কোথাও যাননি। বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস না থাকায় প্রথমে রোগটি চিনতে দেরি হয়, যার ফলে আক্রান্ত দুই কর্মীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় তারা মারা যান।


ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে মশা ধরার জন্য বিশেষ ফাঁদ বসানো হয়েছে। গবেষকরা মশাগুলো নিয়ে পরীক্ষা করছেন, যাতে বোঝা যায় এগুলো কোন দেশ থেকে এসেছে। এর পাশাপাশি কর্মী ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।


জার্মানির জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ ম্যালেরিয়া মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, এটি কেবল মশার কামড়েই ছড়ায়। তাই সাধারণ শহরবাসীর জন্য ঝুঁকি একদমই কম।


সূত্র: বিবিসি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কাছ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ফিলিপাইন

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে ম্যানিলা। প্রস্তাবিত চুক্তিতে প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   ভারতের কাছ থেকে আরও ৬০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরিকল্পনা করছে ফিলিপাইন। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৮০ কোটি মার্কিন ডলার। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে নিজেদের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।   ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে নয়াদিল্লি ও ম্যানিলার মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে ফিলিপাইনের। এতে মোট ৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে।   এটি হবে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ভারত ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিতীয় ক্রয়চুক্তি। এর আগে ২০২২ সালে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে তিনটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি কিনেছিল ফিলিপাইন। একটি ব্যাটারিতে সাধারণত একাধিক লঞ্চার, রাডার ও কমান্ড সেন্টার থাকে।   ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ফিলিপাইন নতুন করে প্রায় পাঁচটি ব্রহ্মোস ব্যবস্থা সংগ্রহে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাঁর ভাষ্য, দেশটি এখন ভারতকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।   নতুন চুক্তি সম্পন্ন হলে ফিলিপাইনের হাতে থাকা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে আঞ্চলিক বিরোধ ও উত্তেজনার মধ্যে সামরিক সক্ষমতা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা অবকাঠামো জোরদারে কাজ করছে ম্যানিলা।   ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্সেনিও আন্দোলোং রয়টার্সকে বলেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্ডিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আরও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের আগ্রহ জানিয়েছেন। তবে নতুন চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।   এদিকে বুধবার ‘দিল্লি ডিফেন্স ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরোও ব্রহ্মোস ব্যবস্থার সংখ্যা বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, আরও ব্রহ্মোস ইউনিট সংগ্রহের আশা করছে ফিলিপাইন। এ জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি চাহিদাপত্রও জমা দিয়েছে ম্যানিলা। এতে দেশটির প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি বিশেষভাবে প্রস্তুত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   ব্রহ্মোস ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়ার সহযোগিতায় এটি তৈরি হয়েছে। ভারতের ব্রহ্মপুত্র ও রাশিয়ার মস্কভা নদীর নামের সমন্বয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম রাখা হয়েছে ব্রহ্মোস।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি গতিতে চলতে পারে। স্থল, নৌ ও আকাশপথ থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এর পাল্লা ও অন্যান্য সক্ষমতা উৎক্ষেপণ পদ্ধতি ও সংস্করণভেদে ভিন্ন হতে পারে।   ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক উত্তেজনার পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে। ওই সময় ভারত প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়াচ্ছে ভারত। গত জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দেয় দেশটি। পাশাপাশি ভিয়েতনামের সঙ্গেও এ বিষয়ে পৃথক চুক্তি করেছে নয়াদিল্লি।   এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলসহ আরও কয়েকটি দেশের কাছে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে।   সূত্র: রয়টার্স ও ফার্স্টপোস্ট।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬

চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বেতন উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করছে যুক্তরাজ্য

গৃহবন্দি হতে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব

এআই দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি ও কণ্ঠ নকল করা হারাম: মক্কার ইমাম

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাত শর্ত, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব

পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ সম্পদ ফেরত ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ সাতটি দাবি পূরণের শর্ত দিয়েছে তেহরান।   পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন তেহরানের সাতটি শর্ত মেনে নিলেই কেবল প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী দেশটি।   বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কাতারের মাধ্যমে ইরান জানতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আরও কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।   ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না এবং কোনো আলোচনাতেও বসবে না ইরান।   ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আরও কয়েকটি বিষয়।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, যেকোনো পর্যায়ের প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সময়ে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।   পরবর্তী সময়ে সংঘাতের পরিধি ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। দেশটি থেকে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।   সূত্র:  আরব নিউজ

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০৬, ২০২৬

পার্কে বসে অফিসের কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছে দুবাই

৮ মাস বেতন না পেয়ে অফিসের বাইরে ভিক্ষার বাটি নিয়ে বসে পড়লেন নারী

ব্যাংক ধসের জেরে পদত্যাগ করছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

সরকার গঠনে আইজেনকোটের সমর্থন বাড়ায় চাপে নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে। তার দীর্ঘদিনের মিত্র অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের একটি দল সরকার গঠনে কাউকেই সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।   নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের সঙ্গে বৈঠক করার কথা। এর আগে তিনি ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকে।   গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে প্রেসিডেন্টের জন্য এমন একজনকে বেছে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, যিনি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবেন।   নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ২৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েছে। তবে তার ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট পেয়েছে মোট ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল পেয়েছে ১৯টি আসন।   বৃহস্পতিবার অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের অন্যতম বড় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো প্রার্থীকেই সরকার গঠনের জন্য সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। দলটি দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর জোটের মিত্র হিসেবে পরিচিত।   অন্যদিকে, আইজেনকোট ও নেতানিয়াহু—দুজনই আগে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও দল দুটি বৃহস্পতিবার আইজেনকোটকে সমর্থন দিয়েছে। এতে সংসদ সদস্যদের মধ্যে তার প্রতি সমর্থন বেড়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০৬, ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকানরা

ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা ডেমোক্র্যাটদের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের পথে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট

0 Comments