চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটকের পর এক বিএনপি নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ওই অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সঠিক কারণ উদঘাটনে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, গত ১২ জানুয়ারি (সোমবার) আনুমানিক রাত ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী দিয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ফার্মেসি দোকান থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলুকে (৫০) আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল ওই ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ৯ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।
অভিযান শেষে আটক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে আনুমানিক রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে আইএসপিআর জানায়, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের কমান্ডারসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এর আগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে পৌর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫০) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালান। সে সময় ডাবলু একটি ওষুধের দোকানে অবস্থান করছিলেন। পরে তাকে পাশের নিজস্ব কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে রাখা হয়। রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
ঘটনার পরপরই নিহতের স্বজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে থাকা অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায়। মহিষটির চেহারা ও সোনালি চুলের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিল থাকায় এমন নাম রাখা হয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাস তাদের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে মহিষটির ভিডিও শেয়ার করে মজার প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা লেখে, ‘বেচারা! ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করায় বাংলাদেশি মহিষটি বিরক্ত।’ ভিডিওটি রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির। সেখানে বলা হয়, মহিষটিকে দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় করছেন, এতে নাকি তার খাওয়ার রুচিও কমে গেছে। ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটির মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই মজা করে নামটি রেখেছেন। তিনি বলেন, মহিষটি খুব শান্ত স্বভাবের। বাংলাদেশের এই ‘ট্রাম্প মহিষ’ নিয়ে ইতোমধ্যে রয়টার্স, এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে যখন আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঠিক তখনই নারায়ণগঞ্জের আরেকটি নৃশংস ঘটনা নাড়িয়ে দেয় স্থানীয়দের। সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নে ৬ বছরের একটি শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। শুক্রবার (২২ মে) বিকালে ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দবাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন- একই এলাকার মনির হোসেনের ছেলে হিরো (২২) ও জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল (২১)। তাদের মধ্যে একজন পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও অন্যজন পলাতক রয়েছে। রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাতেই অভিযুক্ত হিরোকে আটক করে পিটুনি দেন স্থানীয় জনতা। গুরুতর অবস্থায় পুলিশ তাকে আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে ঘটনার পর শিশুটির মা বিষয়টি বুঝতে পারলেও লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে কাউকে কিছু জানাননি। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে শিশুটি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাবুব আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। উল্লেখ্য, পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
কুমিল্লার চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘ ১০ বছর পর বড় ধরনের অগ্রগতি ও নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার পর সব আলামত অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা এবং দুই দফা ময়নাতদন্তেও মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটিত না হওয়ায়, ঘাতকদের শনাক্তে এখন একমাত্র ভরসা ডিএনএ পরীক্ষা। স্পর্শকাতর এই মামলাটির তদন্ত দীর্ঘদিন ঝিমিয়ে থাকার পর এবং ৮১ বার তারিখ পেছানোর পর, সম্প্রতি তদন্তে নাটকীয় গতি এসেছে। গত ৬ এপ্রিল মামলার ষষ্ঠ তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা আদালতে একটি বিশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে পূর্বে উদ্ধারকৃত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তিন সাবেক সেনা সদস্য- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সিপাহি শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার অনুমতি চাওয়া হয়। এরমধ্য দিয়ে তনু হত্যাকাণ্ডের এক দশক পর আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট সন্দেহভাজনদের নাম সামনে এলো। এই অগ্রগতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তনু হত্যাকাণ্ডের ১০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কাউকে গ্রেপ্তার করা হলো। বর্তমানে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। এই গ্রেপ্তারের পর তনুর পরিবার ও দেশবাসীর মনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পাওয়ার আশা নতুন করে জেগে উঠেছে। ৪ অজ্ঞাতনামাকে ঘিরে তদন্তের আবর্তন ২০১৭ সালের মে মাসে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি জানিয়েছিল, তনুর পোশাক থেকে নেওয়া আলামত পরীক্ষা করে ৩ অজ্ঞাত পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া গেছে। তবে অতি সম্প্রতি পিবিআই-এর বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ল্যাব থেকে নতুন তথ্য পেয়েছেন যে, ৩ পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও তনুর পোশাকে আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির রক্তের উপস্থিতি মিলেছে। ফলে সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা ঘাতকের সংখ্যা এখন ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ৪ জনের ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গেই সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএনএ পরীক্ষার তালিকায় থাকা অন্য দুই সন্দেহভাজন বর্তমানে পলাতক। তাদের মধ্যে সাবেক সিপাহি শাহিনুল আলম (ঘটনার সময় ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নের সৈনিক ছিলেন এবং ঘটনার পরপরই চাকরি থেকে অবসর নেন) বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলা সচল হওয়ার খবরে দেশ ছেড়ে কুয়েতে পালিয়েছেন। পিবিআই-এর বিশ্বস্ত সূত্র তার দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনই মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ (যিনি ঘটনার সময় ১২ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন এবং তনু তার দুই মেয়েকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াতেন) বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন। তিনি দেশত্যাগ না করলেও বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। পিবিআই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। তনুর বাবা-মা শুরু থেকেই এই সার্জেন্ট জাহিদ ও সিপাহি জাহিদকে (শাহিনুল আলম) জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমে তনু হত্যা মামলার স্থবিরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আইনমন্ত্রীর কাছে মামলার অগ্রগতি জানতে চান। এর পরপরই পিবিআই সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর আদালতের অনুমতি নেয় এবং হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি গ্রেপ্তারকৃত হাফিজুর রহমানকে আদালতে শনাক্ত করেছেন। ঘটনার সময় হাফিজুর রহমান ৫ সিগন্যাল ইউনিটে কর্মরত ছিলেন এবং প্রায়ই সেনানিবাসের ভেতরের অনুষ্ঠানে তনুকে জিপে করে নিয়ে যেতেন। তনু সেনানিবাসের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাইতেন ও উপস্থাপনা করতেন। ইয়ার হোসেন আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর দুদিন আগে (১৮ মার্চ, ২০১৬) সেনা কল্যাণ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের বন্ধুদের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে পিকনিকে গিয়েছিলেন তনু। এ নিয়ে সেনানিবাসের ভেতর তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, যা তনু তার বাবাকে কাঁদতে কাঁদতে জানিয়েছিলেন। সেনানিবাসের একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী হওয়ায় ইয়ার হোসেন তখন মুখ খোলার সাহস পাননি। আলামত ধ্বংস ও ময়নাতদন্ত নিয়ে বিতর্ক ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছের একটি ঝোপ থেকে নাট্যকর্মী ও ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল অনুযায়ী, তনুর লম্বা চুল কেটে ফেলা হয়েছিল এবং মাথার পেছনে থেঁতলানোসহ নাক ও মুখে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর ময়নাতদন্ত ও আলামত সংগ্রহ নিয়ে চরম জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. শারমিন সুলতানা ‘ফরমায়েশি’ প্রতিবেদন দিয়ে কানের ক্ষতকে পোকার কামড় বলে উল্লেখ করেন। ৩০ মার্চ লাশ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করেন কুমেক ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ (কেপি) সাহার নেতৃত্বাধীন বোর্ড। তারা লাশ পচে যাওয়ার অজুহাতে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করেননি। উল্টো তৎকালীন র্যাবের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল থেকে মাটি সরিয়ে হেলিকপ্টারে করে আলামত নষ্ট করার এবং কুমেকের এক নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের আলামত গোপন করার অভিযোগ তোলেন তনুর পরিবার ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। পরবর্তীতে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ পরীক্ষাতেই তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণের বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়। বিগত ১০ বছরে তনু হত্যা মামলায় তদন্তের দায়িত্ব মোট ৫ বার হাতবদল হয়েছে এবং ৬ জন তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছেন। প্রথমে কোতোয়ালি থানার এসআই সাইফুল ইসলাম, এরপর ডিবির ওসি এ কে এম মনজুর আলম, সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং এএসপি জালাল উদ্দিন আহম্মদ মামলাটি তদন্ত করেন। বর্তমানে পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার পরিচালনা করছেন। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, নতুন করে একজনের রক্তের সন্ধান পাওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও সুনির্দিষ্ট হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মামলাটি তদারকি করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার প্রক্রিয়া এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারের অভিযান একসঙ্গেই চালানো হচ্ছে।