ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে জেরুজালেম পোস্ট। সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর বরাত দিয়ে তারা এ দাবি করে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের বড় অংশই ঘটেছে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার—মাত্র দুই রাতের মধ্যে। ঘটনাটিকে দেশটির ‘সমসাময়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত মাসে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য তারা নিশ্চিত করতে পেরেছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট আরও জানায়, তাদের এই হিসাবের সূত্রের মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের দুটি সূত্র এবং মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানে কর্মরত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর সদস্যরা। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের পরিবারের সদস্য, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য এবং বিভিন্ন শহরের চিকিৎসক ও নার্সদের বিবরণ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এইচআরএএনএ জানায়, রোববার পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া ৬৪৬ নিহতের মধ্যে ৫০৫ জন সক্রিয় বিক্ষোভকারী, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ১৩৩ জন সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, একজন কৌঁসুলি এবং সাতজন বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরও ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি বা সরকারপন্থী গণমাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের ৯৭টি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির ঘটনা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সরকারি অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানি কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া বয়ান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, সহিংসতার জন্য দায়ী ‘বিদেশি শক্তি’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘দাঙ্গাকারীরা’। একই সঙ্গে বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী সমাবেশের খবরও পাওয়া গেছে।
ইউরোপের একাধিক দেশ বিক্ষোভ দমনের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবা পুনর্বহালের দাবি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিজেদের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইরানি কূটনৈতিক কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফ্রান্স ও সুইডেন তাদের দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে বা নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন, তবে কূটনৈতিক পথকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, যোগাযোগব্যবস্থায় কড়াকড়ির কারণে ঘটনাগুলোর স্বাধীন যাচাই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকাশিত সব সংখ্যা ন্যূনতম নিশ্চিত হিসাবমাত্র।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে মার্কিন বিমান বাহিনীর এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার আগে ইজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করে নিরাপদে বিমান থেকে বের হয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন পাইলট। বৃহস্পতিবার মিশিগানের ট্রাভার্সি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত বিমানটি টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের একটি ইউনিটের এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন ছিল। টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মিশিগানে তাদের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই পাইলট ইজেকশনের মাধ্যমে বের হয়ে যান। বিমানটি যে এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। কী কারণে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। এয়ার ন্যাশনাল গার্ড হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি রিজার্ভ উপাদান। দেশটির অভ্যন্তরীণ আকাশসীমার নিরাপত্তা রক্ষাসহ বিভিন্ন সামরিক ও জরুরি কার্যক্রমে এই বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এদিকে মিশিগান থেকে নির্বাচিত মার্কিন সিনেটর গ্রে পিটার্স জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র: এএফপি
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই মুসলিম বিশ্বের জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমারসে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হুথিদের ড্রোন হামলার প্রচেষ্টাকে সামনে এনে সৌদি আরব অন্যান্য মুসলিম দেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মক্কার মতো ইসলামের পবিত্র স্থানের দিকে হামলার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করছে রিয়াদ। অন্যদিকে হুথিরাও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা অবস্থান তুলে ধরছে। তাদের বক্তব্য, ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নিপীড়িত মুসলিমদের পাশে না দাঁড়িয়ে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। অধ্যাপক এলমারসে জানান, হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি বৃহস্পতিবার দেওয়া এক ভাষণে ২০১৫ সালের ঘটনাগুলো স্মরণ করেন। ওই বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে অভিযান শুরু করেছিল। পাশাপাশি গত জুলাইয়ে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। হুথি নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবই আগ্রাসন চালাচ্ছে এবং নিজেদের অবস্থানকে তারা প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে তুলে ধরছে। অধ্যাপক এলমারসে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক চাপের কথাও উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, এশিয়ায় সৌদি আরবের রপ্তানি করা তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। যুদ্ধের কারণে ওই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরে তেল নিয়ে গিয়ে বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করে এশিয়ার বাজারে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে ওই পথও বর্তমানে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে এশিয়ায় যেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। এতে পরিবহন ব্যয় এবং তেলের সামগ্রিক খরচ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন অধ্যাপক এলমারসে। তিনি আরও বলেন, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার কারণে এটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব অন্যান্য দেশের সহযোগিতা চাইছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ থেকে নির্দিষ্ট সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। সূত্র: আলজাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক নিখুঁত হামলায় সহায়তা করতে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে রাশিয়া। সিএনএন মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে জানিয়েছে, রাশিয়ার শক্তিশালী স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর অবস্থান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ইরানি বাহিনীকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সঠিকতা এবং কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষণে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে গত ২৭ মার্চে সংঘটিত ইরানের ভয়াবহ হামলার ঘটনাটির ওপর। ওই হামলায় ১২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হন এবং একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। কক্ষপথের স্যাটেলাইট গতিপথের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, হামলার ঠিক দুই দিন আগে রাশিয়ার 'কসমস ২৫৭৩' নামক একটি প্রধান গোয়েন্দা স্যাটেলাইটসহ মোট ১৪টি রুশ কৃত্রিম উপগ্রহ ওই ঘাঁটিটির ওপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। এসব স্যাটেলাইট যৌথভাবে অত্যন্ত নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সক্ষম ছিল। প্রতিবেদনে গোয়েন্দা প্রযুক্তিগত বিষয়ের বিবরণ দিয়ে বলা হয়, রুশ স্যাটেলাইট বহরে অপটিক্যাল স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চমানের ছবি তোলার পাশাপাশি সিগন্যাল-ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তির সাহায্যে রাডার ও রেডিও তরঙ্গের সংকেত শনাক্ত করা হয়। এছাড়া ইনফ্রারেড প্রযুক্তি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুর তাপীয় উপস্থিতি এবং সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (এসএআর) ব্যবহারের মাধ্যমে রাত কিংবা মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও সূক্ষ্ম পরিবর্তন ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এসব প্রযুক্তির সম্মিলিত সহায়তার কারণেই ইরানি বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন মার্কিন বিশেষজ্ঞরা। কিং'স কলেজ লন্ডনের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ এই ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, রাশিয়া মূলতঃ সুদে-আসলে আমেরিকার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছে, যা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেনি, বরং পুরো আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর