ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে জেরুজালেম পোস্ট। সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-এর বরাত দিয়ে তারা এ দাবি করে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জেরুজালেম পোস্ট জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের বড় অংশই ঘটেছে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার—মাত্র দুই রাতের মধ্যে। ঘটনাটিকে দেশটির ‘সমসাময়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে এসব সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত মাসে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য তারা নিশ্চিত করতে পেরেছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট আরও জানায়, তাদের এই হিসাবের সূত্রের মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা, প্রেসিডেন্টের দপ্তরের দুটি সূত্র এবং মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানে কর্মরত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর সদস্যরা। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের পরিবারের সদস্য, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন, চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য এবং বিভিন্ন শহরের চিকিৎসক ও নার্সদের বিবরণ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এইচআরএএনএ জানায়, রোববার পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া ৬৪৬ নিহতের মধ্যে ৫০৫ জন সক্রিয় বিক্ষোভকারী, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ১৩৩ জন সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, একজন কৌঁসুলি এবং সাতজন বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আরও ৫৭৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। সরকারি বা সরকারপন্থী গণমাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের ৯৭টি জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির ঘটনা প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সরকারি অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরানি কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া বয়ান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, সহিংসতার জন্য দায়ী ‘বিদেশি শক্তি’, ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘দাঙ্গাকারীরা’। একই সঙ্গে বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী সমাবেশের খবরও পাওয়া গেছে।
ইউরোপের একাধিক দেশ বিক্ষোভ দমনের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং ইন্টারনেট সেবা পুনর্বহালের দাবি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নিজেদের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইরানি কূটনৈতিক কর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফ্রান্স ও সুইডেন তাদের দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে বা নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন, তবে কূটনৈতিক পথকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, যোগাযোগব্যবস্থায় কড়াকড়ির কারণে ঘটনাগুলোর স্বাধীন যাচাই সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রকাশিত সব সংখ্যা ন্যূনতম নিশ্চিত হিসাবমাত্র।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। তুরস্ক এই কৌশলকে ‘অবিশ্বাস্য ভুল কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, আরব দেশগুলোতে আক্রমণ চালানোর কারণে ইরান এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তুর্কি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিআরটি হার্বারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের এসব স্থানে নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করা একেবারেই ভুল কৌশল। তেহরান এমন এক কৌশল নিচ্ছে—‘আমি যদি ডুবি, তবে পুরো অঞ্চলকেও সঙ্গে ডুবাব।’ ফিদান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের হামলার শিকার দেশগুলোতে যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তাহলে তারা নীরব থাকতে নাও পারে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি উদ্বেগজনক। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসানে একটি সুযোগের জানালা তৈরি করতে পারে। ফিদান বলেন, যে কোনো প্রয়োজনীয় সমঝোতা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেয়ে ভালো। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব সংঘাত শেষ করতে ‘প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা’ প্রদর্শন করবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, অপারেশন ‘ট্রু প্রমিস ৪-এর’ প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা হতাহত হন। মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নাঈনি বলেন, ইরানি বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও নৌসম্পদ লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানের উপকূলীয় জলসীমা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। নাঈনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। আমেরিকানদের জন্য হতাহতের তথ্য অস্বীকার বা গোপন করা স্বাভাবিক, তবে আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ও যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিবেদনে এই সংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এক হামলায় ১৬০ মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর একটি এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্রের জানান, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এরপর রণতরীটি দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের দিকে সরে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া নিরপেক্ষভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এবং তেহরানের পাল্টা জবাবের সবশেষ তথ্য দেখে নেব একনজরে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানী তেহরান ও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব হামলায় 'সামরিক লক্ষ্যবস্তু' টার্গেট করা হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, লেবাননে তাদের স্থলবাহিনী আরও এগিয়ে গিয়ে 'কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা' দখল করবে, যাতে ইসরায়েল সীমান্তবর্তী বসতিগুলোর ওপর হামলা প্রতিরোধ করা যায়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে বলে জানা গেছে। হামলার ফলে সীমিত আকারে আগুন লাগে এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, বাহরাইনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির কমান্ড ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। ইরানের ইসলামিক রেভিলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠিন আঘাত এখনও আসেনি। তিনি সতর্ক করে দেন, সামনের দিনগুলোতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা