ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকা আরও সম্প্রসারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পাঁচটি নতুন দেশকে পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
নতুন করে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় যুক্ত হওয়া দেশগুলো হলো বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ১২টি দেশ ছিল।
এছাড়া আংশিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রবেশ সীমাবদ্ধতার আওতায় আনা হয়েছে আরও ১৫টি দেশের নাগরিকদের। দেশগুলো হলো—অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বেনিন, কোট দিভোয়ার, ডমিনিকা, গ্যাবন, গাম্বিয়া, মালাউই, মৌরিতানিয়া, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, টোঙ্গা, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা ভ্রমণ নথি বহনকারীদের ক্ষেত্রেও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদন স্থগিত করে। এসব আবেদনের মধ্যে গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আবেদনও রয়েছে। ওই তালিকায় আফগানিস্তান, ইরান, ইয়েমেন, হাইতি, ভেনিজুয়েলা, সুদান ও সোমালিয়ার মতো দেশ রয়েছে।
নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ও অভিবাসন আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : শাফাক নিউজ
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনকে দ্রুত একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে উভয় পক্ষই বিপুলসংখ্যক মানুষ হারিয়েছে এবং এই সংঘাতের অবসান হওয়া প্রয়োজন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার উচিত একটি চুক্তি করা। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি যা পারি তাই করব’ যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা করার জন্য। ট্রাম্পের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ধরনের ঘটনা আর দেখা যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু গত মাসেই দুই পক্ষ মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার সৈন্য নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে, যাদের অধিকাংশই তরুণ সেনাসদস্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, গত রোববার তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই আলোচনায়ও তিনি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সৈন্য হারাচ্ছে, এবং অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবারই তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ততই বাড়ছে।
ভারতে নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষায় জালিয়াতি ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠেকাতে টেলিগ্রামে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষার আগে সরকারে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের এ সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত কার্যকর বলে উল্লেখ করেছে। এক বিবৃতিতে এনটিএ বলেছে, সংস্থাটির সুপারিশের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণায় আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া সরকার এই প্ল্যাটফর্মটিকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে মেসেজ এডিটিং ফিচারটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সংগঠিত জালিয়াত চক্রকে প্রতিহত করা। ভারতে সুবিধাভোগী গোষ্ঠী টেলিগ্রাম ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁসের মিথ্যা দাবি ছড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টা করে থাকে। এনটিএ বলছে, পরীক্ষার পর বিভ্রান্তিকর ‘প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ’ তৈরিতে টেলিগ্রামের মেসেজ এডিটিং ফিচার ব্যবহার করে সুবিধাভোগীরা। এ ফিচার ব্যবহারের মাধ্যমে চ্যানেলের পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিরা পরীক্ষার পর পুরনো পোস্টে গিয়ে আগের ফাইলগুলো সরিয়ে সেখানে প্রশ্নপত্র আপলোড করে দিতে পারেন। এতে করে পোস্টের সময় অপরিবর্তিত থাকে কিন্তু সেখানে নতুন ফাইল দেখা যায়। এর মাধ্যমে এডিট করা এই পোস্টগুলোকে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন প্রশ্নপত্রটি পরীক্ষার আগেই ফাঁস হয়েছে। টেলিগ্রামভিত্তিক জালিয়াতি এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের অধীনে ‘ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ সমন্বয় করছে। ইতোমধ্যে ভুয়া প্রশ্নপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল, গ্রুপ এবং বট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনটিএ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো এবং মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার যে রাজনৈতিক বাজি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ধরেছিলেন, তা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। নির্বাচনের আগে নিজের অবস্থান সুসংহত করার বদলে ইসরায়েলের এই দীর্ঘকালীন প্রধানমন্ত্রী এখন ট্রাম্পের সঙ্গেই সরাসরি দ্বন্দ্বে জড়ানোর পথে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ থেকে নিষ্কৃতি চাইছেন। লক্ষ্য অর্জনে দুই নেতাই ব্যর্থ হয়েছেন। আর লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানও বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। আপাতত ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাবধানতা অবলম্বন করছেন। তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে চাইছেন না। কারণ, তিনি সমালোচকদের ওপর অত্যন্ত কঠোর বা অসহিষ্ণু হিসেবে পরিচিত। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আলাপচারিতায় হতাশা স্পষ্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি কর্মকর্তা অকপটেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রাথমিক চুক্তিটি ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি এতে ভিন্নমত পোষণ করেন।’ ওয়াশিংটনের দাবি, আগামী ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে তারা চুক্তির এমন সব পূর্ণাঙ্গ শর্ত নিয়ে আলোচনা করবে, যা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব উদ্বেগ নিরসন করবে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের ধারণা এই চুক্তির অধীনে আলোচনার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। এতে ইসরায়েলের উদ্বেগের সমাধান না হলেও তাদের হাত-পা কার্যত বেঁধে ফেলা হবে, যেন তারা কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে না পারে। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করতে ইসরায়েলের অস্বীকৃতি নিয়ে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প বারবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন। যুদ্ধ বন্ধে ইরানের অন্যতম শর্তই ছিল, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধ করতে হবে। চলতি মাসের শুরুতে এক ফোনালাপে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘পুরো পাগল’ বলে আখ্যা দেন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দেন। নেতানিয়াহু সেদিন হামলা বন্ধ রাখলেও এক সপ্তাহ পরে বৈরুতে ঠিকই হামলা চালান। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং ট্রাম্প প্রকাশ্যে উভয় পক্ষকেই কঠোর তিরস্কার করেন। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল আবারও লেবাননের রাজধানীতে হামলা চালায়। লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার পর তারা পাল্টা হামলা চালায়। যদিও ট্রাম্প সেই রকেট হামলাকে ‘অতি সামান্য এবং অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েল বর্তমানে এক ‘শক্তিশালী ও স্থিতিশীল’ অবস্থানে রয়েছে এবং এর নেতৃত্বে রয়েছে এক অবিচল ও বিচক্ষণ সরকার। সোমবার রাতে জেরুজালেমে সংবাদ সম্মেলনে তিনি খোলাখুলিভাবেই ট্রাম্পের সঙ্গে মাঝেমধ্যে তৈরি হওয়া মতপার্থক্যের কথা স্বীকার করেন। নেতানিয়াহু বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আর আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের চিন্তাভাবনার মিল থাকলেও এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হয়। ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়ভার আমার কাঁধেই। আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এখন হয়তো ট্রাম্পের অবাধ্য হতেও দ্বিধা করবেন না। কারণ ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে, ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা আর আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছে না। ওবামা আমলের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও আটলান্টিক কাউন্সিলের সদস্য ড্যান শাপিরোর মতে, এটি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের চরম বৈপরীত্যের একটি মুহূর্ত। শাপিরো আরও বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এড়াতে নেতানিয়াহু হয়তো এই চুক্তির সরাসরি বিরোধিতা করবেন না। তবে তিনি আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেবেন, ইসরায়েল এই চুক্তির শর্ত মেনে চলতে বাধ্য নয় এবং নিজেদের প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে—এই চুক্তিতে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে এখনই সেনা সরাচ্ছে না ইসরায়েল। হিজবুল্লাহর যেকোনো হামলার মোকাবিলায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ‘পদক্ষেপ’ নেওয়ার ক্ষমতা বজায় রাখবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান চেয়েছিল আমরা যেন সেনা প্রত্যাহার করি, কিন্তু আমি আমার অবস্থানে অনড়। আমরা আমাদের অভিযানের স্বাধীনতা বজায় রাখছি এবং ইসরায়েলের উত্তরের নাগরিকদের সুরক্ষায় ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বহাল রাখছি। এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ফলে তেল পরিবহনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে। তবে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভাগ্য ঝুলে থাকছে পরবর্তী ৬০ দিনের আলোচনার ওপর, যার লক্ষ্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প দুটি লক্ষ্যকে অভিযানের মূল যৌক্তিকতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া সমর্থন বন্ধ করা। এ দুটি বিষয় এই আলোচনার আলোচ্যসূচিতেই (এজেন্ডা) নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার মতে, এই ৬০ দিনের চুক্তির মেয়াদ শেষ পর্যন্ত ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই বর্ধিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে এবং ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে। অন্য দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন হঠাৎ করে ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘোষণা দেন, তখন ইসরায়েল কার্যত অপ্রস্তুত ছিল। তারা মেনে নিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল কোনো কার্যকর প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন। বারাক ওবামা কিংবা জো বাইডেনের মতো ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে প্রায়ই দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি জনগণের কাছে তিনি নিজেকে সব সময় এমনভাবে তুলে ধরতেন যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো রিপাবলিকান নেতাদের সামলানোর ক্ষেত্রে তিনিই সবচেয়ে দক্ষ। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বেশ কিছু বড় সুবিধা আদায় করে নেন নেতানিয়াহু। তখন মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ‘আব্রাহাম চুক্তির’ মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে ওবামা আমলের সেই পারমাণবিক চুক্তিটিও বাতিল করেছিলেন ট্রাম্প, যা নিয়ে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের আপত্তি ছিল। ২০১৯ সালের নির্বাচনের সময় নেতানিয়াহু তেল আবিব ও জেরুজালেমে বিশাল সব বিলবোর্ড টানিয়েছিলেন, যেখানে তাকে এবং ট্রাম্পকে হাসিমুখে হাত মেলাতে দেখা গিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্তমান সমঝোতা নেতানিয়াহুর সেই ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলে দিয়েছে। বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোনাথন রাইনহোল্ড বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই তাকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে—নেতানিয়াহুর এই দাবি এখন আর ধোপে টিকছে না। রাইনহোল্ডের মতে, নেতানিয়াহু চুক্তিটি ইসরায়েলি জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পারবেন না। তিনি বড়জোর এই প্রার্থনা করতে পারেন যেন কোনো সমঝোতা না হয় এবং ৬০ দিন শেষে যুদ্ধ যখন আবার শুরু হবে, তখন পরিস্থিতি যেন ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ বলছে, ইসরায়েলিদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও আস্থা কমছে। বর্তমানে মাত্র ৪১ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন যে ট্রাম্প তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অথচ গত মার্চ মাসেও এই হার ছিল ৬৪ শতাংশ। ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আবার শুরু করে, তবে ইসরায়েল একাই ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইরান যদি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হওয়ার চেষ্টা করে, তবে আমরা বসে থাকব না, সরাসরি পদক্ষেপ নেব। যদিও তিনি মনে করেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকাকালীন ইরান এমন ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পাবে না।