বাজারে আসছে ৫০০ টাকার নতুন নোট। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে নতুন নকশার নোট বাজারে ছাড়া হবে। নতুন এই ৫০০ টাকার নোট প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় এবং পরবর্তী সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য কার্যালয় থেকে ছাড়া হবে। নতুন এই নোটের নকশাতেও পরিবর্তন আসছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।
বর্তমানে প্রচলিত ৫০০ টাকার নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি আছে। নতুন নোটে তা নেই। নতুন নোটের নকশায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি আছে। নতুন নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সই আছে।
নতুন নোটে কী আছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বাক্ষরিত ৫০০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫২ মিমি x ৬৫ মিমি। নোটের সম্মুখভাগের বাঁ পাশে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ও মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা, কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি।
অন্যদিকে নোটের পেছন ভাগে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি মুদ্রিত আছে। নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’–এর মুখ, এর নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপে ‘500’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে সবুজ রঙের আধিক্য রয়েছে।
নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কী কী
নোটটিতে মোট ১০ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে। নোটের সম্মুখভাগের ডান দিকের কোনায় মুদ্রিত মূল্যমান ‘500’ রং পরিবর্তনশীল উন্নতমানের নিরাপত্তা কালি দ্বারা মুদ্রিত। এ ছাড়া নোটটি নাড়াচাড়া করলে এর রং সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয় এবং মূল্যমানের ভেতরে কোনাকুনিভাবে মুদ্রিত ‘৫০০’ লেখাটি দৃশ্যমান হয়।
নোটটির সম্মুখভাগের বাঁ পাশে ৪ মিমি চওড়া লাল রং এবং উজ্জ্বল স্বর্ণালি বারের সমন্বয়ে প্যাঁচানো নিরাপত্তা সুতা রয়েছে।
নোটটি নাড়াচাড়া করলে লাল অংশ সবুজ রঙে পরিবর্তিত হবে, যাতে ‘৫০০ টাকা’ খচিত রয়েছে, যা আলোর বিপরীতে ধরলে দৃশ্যমান হবে এবং স্বর্ণালি বার অংশ একটি উজ্জ্বল রংধনুর রঙের বারে রূপান্তরিত হয়ে ওপর থেকে নিচে চলতে দেখা যাবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য নোটের সম্মুখভাগের ডান দিকে নিচে পাঁচটি ছোট বৃত্ত রয়েছে, যা হাতের স্পর্শে অসমতল অনুভূত হয়।
এর আগে বাজারে ২০, ৫০, ১০০ ও ১০০০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়। এসব নোটের নতুন নকশা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকা: দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সরকারি ও বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে ধাপে ধাপে বিনিয়োগনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং জনগণের রায়ে সমর্থিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ দেশের সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সরকারের সব কল্যাণমূলক সুবিধা এই একক কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে সরকারি সেবা ও সহায়তা পেতে পারেন। তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতি বিরোধী দলের সমর্থন সরকারকে আরও উৎসাহিত করছে। সংসদে একজন বিরোধী দলীয় সদস্য তাঁর এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম কবে শুরু হবে—এ প্রশ্ন তুলেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হওয়া উচিত। শিক্ষায় বড় সংস্কারের ঘোষণা শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, বিতর্কিত পাঠ্যক্রম সংশোধন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ‘মতভিন্নতা থাকবে, শত্রুতা নয়’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবেই। তবে সেই মতপার্থক্য যেন কখনো শত্রুতায় রূপ না নেয়। তিনি বলেন, “প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নয়, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়পরায়ণতা। এই দেশ যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার কিংবা বিদেশি তাঁবেদারির শিকার না হয়—সেই লক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে।” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও বিরোধী দলকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ১০ শিল্পগোষ্ঠীর দেশ-বিদেশে ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন এ তথ্য জানান। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বিএফআইইউয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বিএফআইইউ-এর বার্ষিক রিপোর্ট ২০২৪-২০২৫-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেন, শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর কাছে থাকা সম্পদের মধ্যে দেশের মধ্যে জব্দ করা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিদেশে জব্দ করা হয়েছে। তবে কার কত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, সেই তথ্য আলাদা করে জানাতে চাননি তিনি। বিএফআইইউর প্রধান বলেন, দেশ থেকে যে সম্পদ চুরি হয়ে গেছে, তা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি, এ বছরের শেষে সম্পদ উদ্ধারের বিষয়ে সুখবর দিতে পারব। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও ১০ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, মুদ্রা পাচার, কর ও শুল্ক ফাঁকি এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু হয়। ১০ শিল্পগোষ্ঠী হলো এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ। এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এবং ১০টি গ্রুপকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত শুরু করে সংস্থাগুলো। গঠন করা হয় ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটি। এই ১১টি ঘটনার তদন্তে এখন পর্যন্ত ৯৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে তুলে ধরে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, ‘এসব মামলা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। শেখ হাসিনার পরিবারের কত সদস্য রয়েছেন?’ জবাবে ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘সুর্নিদিষ্ট করে বলা সম্ভব না কতজন হবে। আমরা তো কারো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় দেখে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করি না। অভিযোগ আসলেই তদন্ত করা হয়। এখানে কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে এলে আমরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করছি না।’ বিএফআইইউয়ের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা জানতে চান, দেশে কোনো সরকার ক্ষমতা থেকে চলে গেলেই তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান হয়, সম্পদ জব্দ হয়, এটি কেন হয়। আর অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্ত করা হবে কি না। এ বিষয়ে বিএফআইইউয়ের প্রধান বলেন, ‘আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে দলমত ও ব্যক্তির দিকে তাকাব না। আমরা দেখব কাজের দিকে। সন্দেহজনক লেনদেন হলেই ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সন্দেহজনক লেনদেন যিনি করে থাকেন না কেন, এখানে সেই ব্যক্তির পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কেউ করে থাকলে, সেটাও সামনে আসবে।’ এক বছরে সন্দেহজনক লেনদেন রিপোটিং বাড়ল ৭৪ শতাংশ : দেশে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা পড়েছে। এর ৯৫ শতাংশই এসেছে ব্যাংক খাত থেকে। অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২০ হাজার ৫২৪টি ছিল সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন (এসটিআর) ও ৯ হাজার ৬৭৫টি ছিল সন্দেহজনক কার্যক্রমের (এসএআর) প্রতিবেদন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৪ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল। অনুষ্ঠানে বিএফআইইউয়ের প্রধান বলেন, সরকার পতনের পর সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং বেশি হয়েছে। এবার সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্টিং ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি পাওয়া গেছে। আগে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাঠাতে ব্যাংকগুলো ভয় পেত। এখন তাদের মধ্যে সেই ভয় নেই। তাই ব্যাংকগুলোর রিপোর্ট বেশি হচ্ছে। বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ১৭ হাজার ৩৪৫টি সন্দেহজনক প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে মাত্র ৫ হাজার ২৮০টি প্রতিবেদন জমা পড়েছিল। সেখানে চার বছরের ব্যবধানে সন্দেহজনক লেনদনের সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, যা ২০১৫ সালে সংশোধিত হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো (রিপোর্টিং সংস্থা) সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিতে আইনগতভাবে বাধ্য। কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন কিংবা কার্যক্রম শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বিলম্ব না করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন বেড়েছে : অনলাইন জুয়া ও বাজি, বৈদেশিক মুদ্রা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও ডিজিটাল হুন্ডির মতো সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে বিএফআইইউ। এজন্য সংস্থাটি এই ধরনের লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। অনলাইন জুয়া ও গেমিং একটি অংশ। তা প্রতিরোধে প্রস্তুতি কেমন, জানতে চাইলে বিএফআইইউ প্রধান বলেন, ‘প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে মানি লন্ডারিংয়ের ধরনটা পালটে গেছে। সুতরাং আমরা এগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য প্রযুক্তিগতভাবে আমরা সক্ষমতা অর্জন করছি।’ বিএফআইইউয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সন্দেহজনক প্রতিবেদন বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর তদারকি, আইন মেনে চলার বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও সন্দেহজনক আচরণ শনাক্তে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকি সম্পর্কে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা বৃদ্ধি।
২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। জাপান এয়ারলাইন্স (জেএএল) এবং এয়ার কানাডার সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত কোডশেয়ার অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই পুনরুজ্জীবিত রুটটিকে উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র নন-স্টপ বিমান সংযোগটি পুনরায় চালু করার জন্য জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রাথমিকভাবে, বিমান সংস্থাটি তাদের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান দিয়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। যাত্রীর চাহিদা ও বিমানের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে। মূলত ৩০ জুন পুনরায় চালুর কথা থাকলেও, জাপান সিভিল অ্যাভিয়েশন ব্যুরো (জেসিএবি) চূড়ান্ত পরিচালন অনুমোদন দেওয়ার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিরীক্ষা চাওয়ায় তা বিলম্বিত হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা—বাসসকে এ ব্যাপারে জানান। তিনি বলেন, ‘নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য বিমান সব প্রস্তুতি নিয়েছে।’ জাপানে বিপুল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী থাকার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থী ও কর্মীসহ ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এখন জাপানে বসবাস করছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সহ জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।’ এই রুটের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পরিষেবাটি স্থগিত করার আগেই লাভজনক হয়ে উঠেছিল। ’ তিনি বলেন, ‘শুরুতে লোকসান হলেও তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি লাভ-লোকসান সমান করে লাভজনক হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছিল।’ লাভজনক হওয়ার পরও এই রুট বন্ধ করার ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করে মো. রশিদুজ্জামান বলেন, ‘এটা আশ্চর্যজনক যে, পূর্ববর্তী সরকার একটি লাভজনক রুট চালু রাখেনি। আমরা এখন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’ বিমানের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) আশরাফুল আলম বলেন, ‘যাত্রীদের সাড়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। সব আসন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। বিশেষ করে নারিতা থেকে ঢাকা ফিরতি ফ্লাইটের।’ বিমানের ঘাটতি, পরিচালন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক বিবেচনার কথা উল্লেখ করে বিমান ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা-নরিতা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমান সংস্থাটিকে এই পরিষেবা পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনরুজ্জীবিত এই রুটটি বিমানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে একটি কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা করা হচ্ছে। বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান সংস্থাটি জেএএল এবং এয়ার কানাডার সঙ্গে একটি কোডশেয়ার অংশীদারত্ব চালুর জন্য কাজ করছে, যার মাধ্যমে যাত্রীরা একটিমাত্র টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ব্যাগেজ চেক-থ্রু ব্যবহার করে নারিতা হয়ে ঢাকা থেকে ভ্যাঙ্কুভার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রস্তাবিত এই চুক্তির অধীনে, নারিতাগামী বিমানের ফ্লাইটে ভ্রমণকারী যাত্রীরা আলাদা টিকিট না কিনেই জেএএল এবং এয়ার কানাডার কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াগামী ফ্লাইটে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন। বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেন, এই ব্যবস্থাটি কানাডার পশ্চিম উপকূল এবং পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী যাত্রীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে নারিতা রুটকে উলে¬খযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে, যেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী বসবাস করেন। গত বছর জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে জেএএল-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট আবে মোতোহিসা বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ৭০,০০০ যাত্রী কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে টোকিও ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করেন, যা সরাসরি পরিষেবার জন্য শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। ’ বিমান ১৭ বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট চালু করে।