জাতীয়

ভূমিকম্প নিয়ে জাপানের কাছ থেকে যা শিখতে পারে বাংলাদেশ

খবর৭১ ডেস্ক, ডিসেম্বর ০৩, ২০২৫ 0

গত ২১ নভেম্বর সকালে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে গোটা বাংলাদেশে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে সপ্তাহ পেরিয়েও তা থেকে বের হতে পারেননি অনেকে। এক সপ্তাহের মধ্যে ছয়বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় বলতে গেলে আতঙ্ক ফিরে ফিরে এসেছে। ফলে ভূমিকম্প নিয়ে নানা প্রশ্ন জানতে চাইছে মানুষ।

তবে বাংলাদেশের কাছাকাছিই এমন দেশ রয়েছে, যেখানে ভূমিকম্প প্রায় নিত্যদিনের ব্যাপার। দেশটি বাংলাদেশের পূর্বদিকের একটু দূরবর্তী প্রতিবেশী জাপান। সে দেশে বছরে প্রায় দেড় হাজারের মতো ভূমিকম্প হয়, সুনামির সতর্কতাও দেওয়া হয় বিভিন্ন সময়।

তাহলে জাপান কীভাবে ভূমিকম্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে?

দেশটিতে অসংখ্য বহুতল ভবনও রয়েছে। নিয়মিত ভূমিকম্পের মধ্যে থাকা একটি দেশ আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিংবা কোন বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখে? এবং এক সপ্তাহের মধ্যে কয়েকটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে কী শিখতে পারে?

তার আগে জেনে নেওয়া যাক, জাপানে এত ভূমিকম্প কেন হয়।

জাপানি দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরের 'রিং অব ফায়ার'-এর ওপর অবস্থিত। যেখানে ইউরেশিয়ান, ফিলিপাইন ও প্যাসিফিক টেকটোনিক প্লেট মিলিত হয়েছে। অর্থাৎ জাপান তিনটি মিলিত টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থান করছে। এটিকে পৃথিবীতে ভূতাত্ত্বিকভাবে সবচেয়ে সক্রিয় অঞ্চল বলা হয়।

এই ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার কারণেই জাপানে এত ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

এর মধ্যে অনেক ছোট ভূমিকম্প সাধারণ মানুষ হয়তো টেরই পায় না, আর মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প দেশটিতে একরকম স্বাভাবিক ঘটনা। তবে, অনেকবার বড় ভূমিকম্পের সাক্ষীও হয়েছে জাপান।

জাপান থেকে শেখার যা আছে

বাংলাদেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায় প্রতিবছরই আবির্ভূত হয়। আর তা হয় এখানকার আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে। দুর্যোগ হিসেবে ভূমিকম্প এখানে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো নিয়মিত নয়।

দেশটিতে সরকারি ও নাগরিক পর্যায়ে বন্যা বা ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যতটুকু প্রস্তুতি থাকে, ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ততটুকুও নেই। বাংলাদেশে ভূমিকম্পে ঝাঁকুনির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা ছাড়া এ নিয়ে আর কোনো ধারণা পাওয়া যায় না সাধারণ আলাপচারিতায়।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভূমিকম্পের বিষয়ে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু শেখার আছে।

জাপানের সঙ্গে আর্থসামাজিক পার্থক্যকে বিবেচনায় রেখেও তারা বলছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করার মতো কিছু বিষয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটিকে অনুসরণ করতে পারে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের একজন ভূতত্ত্ববিদ ও ভূমিকম্প বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সৈয়দ হুমায়ূন আখতার বলেন, গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প বাংলাদেশে যেভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, জাপানের নাগরিকরা সাধারণত সেভাবে ভয় পান না।

তার জন্য, প্রতিনিয়ত ভূমিকম্পের মুখোমুখি হওয়াকেই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের এই অধ্যাপক। বরং 'সচেতনতা ও প্রস্তুতি'র কারণেই সেটি সম্ভব হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক আখতার যে ‘প্রস্তুতি’র কথা বলছিলেন, একেবারে অল্প বয়স থেকেই প্রত্যেক জাপানি নাগরিক তার মধ্য দিয়ে যায় বলে জানান বাংলাদেশি স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব।

তিনি বলেন, ‘জাপানে একটা বাচ্চা জন্মের পর থেকেই ভূমিকম্পের বিষয়ে শেখা শুরু হয়। নিয়মিত মহড়ার মধ্য দিয়ে তারা জানে তাৎক্ষণিক কী করতে হবে।’

শৈশবে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য স্কুলগুলোতেও নিয়মিত মহড়া হয়। শিশুরা মহড়ায় ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়ার অনুশীলন করে। ভূমিকম্পের পরপর তার নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান কোথায় হবে তা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয় তাদের। সাধারণত ১৫ দিন পরপর এ ধরনের অনুশীলন হয় বলে জানা যায়।

নিয়মিত ড্রিল (মহড়া) করতে বিশেষ অর্থের প্রয়োজন নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য জায়গায় সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা যেতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক হুমায়ূন আখতার।

জাপানে নিকটতম আশ্রয়কেন্দ্র যেমন পার্ক বা খেলার মাঠ কোথায় অবস্থিত, সে সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা থাকে, যাতে তারা ভবন থেকে নিরাপদ জায়গায় সরে আসতে পারে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ অন্য বড় শহরগুলোতে তেমন নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা ও সেটি সম্পর্কে সবাইকে অবগত করার কথা বলছেন স্থপতি ইকবাল হাবিব।

জাপানে অবকাঠামোগত নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বড় শহরের উঁচু ভবনগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে ভূমিকম্পের সময় সেগুলো কাঁপে না, বরং দুলতে থাকে, যা এগুলোকে নিরাপদ করে তোলে।

বাংলাদেশে তেমন সুউচ্চ ভবন অপেক্ষাকৃত কম।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, বাংলাদেশেও সাধারণত সুউচ্চ ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু, অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনগুলোর ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মানা হয় না এবং ভূমিকম্পের আঘাত সামলানোর মতো নির্মাণশেলী প্রয়োগ করা হয় না।

এই ভবনগুলোই অপেক্ষাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রেও জাপানকে অনুসরণ করে 'অবকাঠামোগত নিরাপত্তা কার্যকর' করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ ছাড়া রেজিলিয়েন্স প্ল্যান বা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা কার্যকর করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জাপানে আকাশচুম্বী ভবনগুলো কীভাবে ভূমিকম্পে টিকে থাকে

বছরজুড়ে শত শত কম্পন সহ্য করার পরও জাপান কী করে বিশ্বের সবচেয়ে 'স্থিতিস্থাপক' ভবনগুলোর আবাসস্থল, তা একটি কৌতূহলের বিষয়।

স্থিতিস্থাপকতার মানে হলো, কোনো আঘাত বা চাপের ফলে কিছুটা সরে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসার ক্ষমতা। জাপানের ভবনগুলোর স্থিতিস্থাপকতার রহস্য লুকিয়ে আছে মূলত মাটির নিচে 'নেচে ওঠার' ক্ষমতায়।

টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ও সহযোগী অধ্যাপক জুন সাতো বলেন, ‘জাপানের টাওয়ার ব্লকগুলো সাধারণ ভবন নয়। দেশটিতে সব ভবন, ছোট বা অস্থায়ী হলেও, ভূমিকম্প-সহনশীল হতে হয়।’

প্রকৌশলীরা দুটি প্রধান পর্যায়ে স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে কাজ করেন বলে জানা যায়—প্রথম পর্যায় হলো স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প সহ্য করা। তেমন ভূমিকম্পে মেরামত করার মতো কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। ভবনের নকশা এমনভাবে করা হয়, যাতে এসব ভূমিকম্পে কোনো ক্ষতি না হয়। দ্বিতীয় পর্যায় হলো, ভয়াবহ ভূমিকম্প সহ্য করা, যা অপেক্ষাকৃত বিরল।

এ ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয় জাপানের ইতিহাসে অন্যতম প্রলয়ংকরী গ্রেট কান্তো ভূমিকম্পকে। ১৯২৩ সালের ৭ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পে টোকিও ও ইয়োকোহামা বিধ্বস্ত হয় এবং এক লাখ ৪০ হাজারের এর বেশি মানুষ নিহত হয়।

এই মাত্রা বা তার চেয়ে বড় ভূমিকম্পে ভবনকে সম্পূর্ণ অক্ষত রাখা আর লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় না। প্রাণহানি এড়ানোই মূল লক্ষ্য।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ জিগি লুবকোভস্কি বলেন, ‘আপনি ভবনগুলো মানুষের জীবন রক্ষার জন্য নকশা করেন। এটাই এক্ষেত্রে ন্যূনতম শর্ত।’

আর সাতোর মতে, ‘যখন কোনো কাঠামো ভূমিকম্পের সব শক্তি সহ্য করতে বা শুষে নিতে পারে, তখনই আর এটি ধসে পড়বে না।’

সিসমিক আইসোলেশন নামে একটি প্রক্রিয়া এ ক্ষেত্রে কাজ করে।

ভবনগুলোকে এমন একধরনের বিয়ারিং বা শক অ্যাবজরবার (আঘাত সহনীয় বস্তু) এর ওপর বসানো হয়, যা ভূমিকম্পের প্রভাবে নড়াচড়া প্রতিরোধ করে।

কখনো কখনো ৩০ থেকে ৫০ সেমি পুরু রাবারের ব্লক ব্যবহার করা হয়। যেখানে ভবনের কলাম ফাউন্ডেশন বা ভিত্তির সঙ্গে জুড়ে থাকে, সেখানে এই রাবার প্যাড বসানো হয়।

এ ছাড়া মোশন ড্যাম্পার ও মেশ স্ট্রাকচারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তিও প্রয়োগ করা হয় ভূমিকম্প সহনশীলতা বাড়াতে। মোশন ড্যাম্পারগুলো দেখতে অনেকটা সাইকেলের পাম্পের মতো, তবে এতে বাতাসের বদলে তরল থাকে।

লুবকোভস্কি বলেন, ‘একটি উঁচু ভবন হয়তো দেড় মিটার বা পাঁচ ফুট নড়তে পারে। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট স্তরে, প্রতি দ্বিতীয় তলায় ড্যাম্পার বসানো হয়, তবে সেই নড়াচড়া অনেক কমে যায়। ফলে সুপারস্ট্রাকচারের (ওপরের কাঠামোর) ক্ষতি রোধ হয়।’

আর মেশ স্ট্রাকচার ব্যবহার ভবনের সাপোর্টগুলোকে বাঁকানো থেকে রক্ষা করে। যদি একটি অংশ বাঁকতে শুরু করে, কাছাকাছি থাকা অন্য অংশ তা ঠেকায়। এসব প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের কাজে লাগিয়েই দিনের পর দিন ভূমিকম্পের সঙ্গে বসবাস করে আসছে জাপানিরা।

যদিও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব প্রযুক্তির চেয়ে প্রস্তুতিমূলক মহড়া ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

একই সঙ্গে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যাতে সবাই মেনে চলেন তা নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত, এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধে গিয়ে বেঁচে ফেরা তরুণদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে কেনিয়ার তরুণদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে যোগ করানোর অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে গিয়ে প্রাণে বেঁচে ফেরা চার কেনিয়ান বার্তা সংস্থা এএফপিকে তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তারা জানান, নাইরোবিভিত্তিক একটি নিয়োগ সংস্থা তাদের রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখায়। কেউ ভেবেছিলেন বিক্রয়কর্মী হবেন, কেউ নিরাপত্তারক্ষী, আবার কেউ ক্রীড়া পেশায় সুযোগ পাবেন। মাসে ১ থেকে ৩ হাজার ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের সামরিক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা হয়। সই না করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তারা। তাদের অনেককে বলা হয়েছিল মোটা অঙ্কের টাকা দিলে দেশে ফিরতে পারবেন, যা তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব ছিল না। ফলে বাধ্য হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হয়। কেউ খুব কম টাকা পেয়েছেন, কেউ আবার কোনো অর্থই পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে ‘গ্লোবাল ফেস হিউম্যান রিসোর্সেস’ নামের একটি নিয়োগ সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার এক কর্মীর বিরুদ্ধে মানব পাচারের মামলা চলছে। কেনিয়া সরকার জানিয়েছে, প্রায় ২০০ কেনিয়ানকে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২৩ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা আফ্রিকার আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের দেখেছেন বলেও জানিয়েছেন। ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনেক সহযোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশে ফিরে এলেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনেকে। নিহতদের পরিবারও গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এ ঘটনা বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিআইবির আপত্তি

ছবি : সংগৃহীত

সব প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে : ইসি

সংগৃহীত ছবি

আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন নেই, তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী

বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য হটলাইন চালু

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশে আসা বিদেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি ‘মিডিয়া সেন্টার’ ও হটলাইন সেবা চালু করেছে সরকার।  সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। তথ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ মিডিয়া সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ সফররত বিদেশি সাংবাদিকরা মিডিয়া সেন্টার থেকে তথ্য ও লজিস্টিক সেবা পাবেন। ৯ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টারের কার্যক্রম চালু থাকবে। এ ছাড়া বিদেশি সাংবাদিকদের নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুটি হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। হটলাইন নম্বর দুটি হলো: ৪৮৩২২৩৪৪ এবং ৪৮৩২২৪৩৫।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0

ভারতের কাছে বাংলাদেশের নির্বাচন যেসব কারণে গুরুত্বপূর্ণ

ছবি : সংগৃহীত

বিটিসিএল এমভিএনও সিম ও ট্রিপল প্লে সেবার উদ্বোধন

ছবি : সংগৃহীত

জাপানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে এলডিপির ভূমিধস জয় : প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন

ছবি : সংগৃহীত
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি: তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই— যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে চাকরি ও ব্যবসা করবে এবং রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে।’ আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দুর্নীতি থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছিলেন, ভবিষ্যতেও সেভাবেই দুর্নীতি দমনে কাজ করবে বিএনপি। এই ব্যাপারে আইন নিজের গতিতে চলবে, কারো সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।’ একটি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনা করতে হলে দেশের মানুষের জন্য তাদের পরিকল্পনা নেই, কিন্তু বড় বড় কথা আছে। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনেকেই বড় বড় কথা বলতে পারেন, হাততালি পাওয়ার জন্য অনেকেই সুন্দর কথা বলেন। কিন্তু দেশ চালানো এত সহজ কোনো কাজ নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশ চালাতে হলে দেশের মানুষের জন্য পরিকল্পনা দরকার, কোথায় তাদের পরিকল্পনা? শুধু বড় বড় কথা আছে। দেশ চালানোর জন্য দরকার কর্মসূচি, কোথায় তাদের কর্মসূচি? দেশ চালানোর জন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। তাদেরই বন্ধু-বান্ধব গত এক দেড় বছর যাবৎ দেখেছি সরকারের অংশ ছিল, তাহলে আজকে এই দুর্গতি কেন?’ তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আজ প্রমাণিত— যদি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কেউ পরিবর্তন করতে পারে, দেশে যদি দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়, তাহলে কে পারবে? পারবে ধানের শীষ।’ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নারীদের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে সরকার প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, যাতে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।’ কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় কৃষকদের জন্য সুদ মওকুফ ও কৃষি জমির খাজনা মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’ দেশের তরুণ যুবক সমাজের সদস্য যারা— ছেলে হোক মেয়ে হোক, কীভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, আইসিটিসহ ভোকেশনাল বিভিন্ন টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গঠনের মাধ্যমে করব। দল-মত নির্বিশেষে, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সেই পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে যে লুটপাট হয়েছে, তা দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। জনগণের করের টাকা ব্যবহার করে বড় বড় প্রকল্প করা হলেও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত থেকেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের নামে লুটপাট নয়, জনগণের বাস্তব প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের সঠিক মানুষ বেছে নিতে হবে। যে মানুষটি এই এলাকার, তাকেই বাছাই করতে হবে। কারণ, এলাকার সমস্যা সমাধানে বাইরের কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। মনে রাখবেন, বাইরের মানুষ কখনো ঘরের মানুষকে চিনতে পারে না।’ জনসভায় ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যে মানুষটির বেড়ে ওঠা এই এলাকায়, তিনি হচ্ছেন মির্জা আব্বাস। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা তাকে দেখে রাখুন। তার পাশে থাকুন। এরপর থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মির্জা আব্বাস বিপদে আপদে আপনাদের পাশে থাকবে।’ বক্তব্যের শেষে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, আমি আমার পরিকল্পনার কথা আপনাদের বললাম, এবার আপমারা বলুন— ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী? উত্তরে উপস্থিত জনতা একসঙ্গে উচ্চস্বরে বলে ওঠেন— ১২ তারিখ সারাদিন, ধানের শীষ ভোট দিন; ১২ তারিখ সারাদিন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই : ইসি সচিব

ছবি : সংগৃহীত

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জিতলে দেশ পাল্টে যাবে, আর অপশাসন ফিরবে না: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার ও হটলাইন সেবা চালু

0 Comments