কলম্বোয় আগে ব্যাট করে ২ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। জবাবে অজিরা ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায়।
প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে বসেছে অস্ট্রেলিয়া। কলম্বোয় আগে ব্যাট করে ২ উইকেটে ১৬৯ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। জবাবে অজিরা ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের হয়ে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে এদিন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি। তিনি ১৭ রানে ৪ উইকেট নেন। এর আগের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটা ছিল লুক জঙ্গোইর। ২০২১ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তার বীরত্বে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয়বার হারাল তারা। রেকর্ড ২-০। সেই সঙ্গে ২০২৪ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পারা জিম্বাবুয়ের জন্য এটা দারুণ প্রত্যাবর্তনই বটে।
ব্রায়ান বেনেট (৫৬ বলে ৬৪), তাদিওয়ানাশে মারুমানি (২১ বলে ৩৫), রায়ান বার্ল (৩০ বলে ৩৫) ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজার (১৩ বলে ২৫*) ব্যাটে ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭০ রান টার্গেট দিতে সমর্থ হয় জিম্বাবুয়ে। মার্কাস স্টয়নিস ও ক্যামেরন গ্রিন উভয়ই একটি করে উইকেট নেন।
এরপর দুর্দান্ত সফলতা দেখান জিম্বাবুয়ের বোলাররা। বিশেষ করে পেসার মুজারাবানি (৪/১৭) ও ব্র্যাড ইভানসের (৩/২৩) কোনো জবাব অজিদের কাছে ছিল না। দুজন শুরুতেই লণ্ডভণ্ড করেন অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার। ২৯ রানে ৪ উইকেট হারায় অজিরা।
এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৩২ বলে ৩১) ও ম্যাট রেনশ (৪৪ বলে ৬৫) পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৫৯ বলে ৭৭ রান যোগ করে স্থিতি আনলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। বোর্ডে একশ রান তোলার পর আবার নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
ওমানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে খাতা খোলা জিম্বাবুয়ের এটা টানা দ্বিতীয় জয়। শ্রীলংকার সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করছে জিম্বাবুয়ে। তিনে অস্ট্রেলিয়া। আয়ারল্যান্ড ও ওমানের কোনো পয়েন্ট নেই।
মঙ্গলবার পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে নিজেদের পরের ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ২০ ওভারে ১৬৯/২। অস্ট্রেলিয়া: ১৯.৩ ওভারে ১৪৬। ফল: জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: ব্লেসিং মুজারাবানি (জিম্বাবুয়ে)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের আরও এক ঝলক দেখাল স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে শেষ বত্রিশের ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ৩–০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের দখলে। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের ধার এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে অস্ট্রিয়ার চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল তারা। প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ মিনিট পর্যন্ত। এর আগে কর্নার থেকে আসা বলে মার্ক কুকুরেয়ার জোরালো শট জালে জড়ালেও গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কর্নারের সময় স্পেনের এক খেলোয়াড় অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে স্পেনকে বেশিক্ষণ আটকে রাখা যায়নি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে কুকুরেয়ার পাস থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন, কিন্তু শ্লাগারের দুর্দান্ত গোলরক্ষণ এবং একবার পোস্ট তাদের ব্যবধান বাড়াতে দেয়নি। বিরতির পরও আক্রমণের গতি কমায়নি স্পেন। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। বাঁ প্রান্ত থেকে আলেক্স বায়েনার নিখুঁত ক্রসে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠান এই ডিফেন্ডার। দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও আক্রমণ চালিয়ে যায় স্পেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। দলীয় আক্রমণ থেকে আবারও অ্যাসিস্ট করেন কুকুরেয়া। তাঁর বাড়ানো বল বক্সের ভেতরে পেয়ে সহজেই জালে জড়ান ওইয়ারসাবাল। বিশ্বকাপে এটি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডের চতুর্থ গোল। বাকি সময়ে আর কোনো নাটক না ঘটলে ৩–০ গোলের স্বচ্ছন্দ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন। দাপুটে এই জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করল ইউরোপের পরাশক্তিরা, আর বিশ্বকাপ শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থানও আরও জোরালো করল তারা।
নিশ্চিত বিদায়ের শঙ্কা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে সমতা ফেরানোর পর, অতিরিক্ত সময়ের অন্তিম ক্ষণে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল সেনেগাল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তারা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকুর গোলে ব্যবধান কমে, আর ৮৯ মিনিটে ইউরি টিলেমান্স সমতাসূচক গোল করে ম্যাচকে নতুন মাত্রা দেন। ফলে নির্ধারিত সময় শেষ হয় ২-২ সমতায়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে পারেনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী ঘটনা ঘটে। ডান প্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তানিয়ের নিচু ক্রস আটকাতে গিয়ে সেনেগালের লামিনে কামারা টিলেমান্সকে ফাউল করেন বলে দাবি ওঠে। ভিএআরের সহায়তায় ঘটনাটি পর্যালোচনা করার পর রেফারি বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এর আগে অবশ্য জয়ের দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন ডোডি লুকেবাকিও। গোলের খুব কাছ থেকে নেওয়া তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় বেলজিয়াম হতাশ হয়। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১২৫ মিনিটে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে এসে ইউরি টিলেমান্স কোনো ভুল করেননি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় দলের রোমাঞ্চকর জয় এবং শেষ ষোলোর টিকিট।
চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টও খেলতে পারেননি লিটন দাস। দলের অন্যতম সেরা তারকাকে পাওয়া যাবে না প্রথম ওয়ানডেতেও। যদিও দ্বিতীয় ওয়ানডে থেকে লিটনের খেলার কথা রয়েছে। তবে ওয়ানডে সিরিজের পর হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে আবার থাকছেন না তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। ঘোষিত স্কোয়াডে নেই লিটন। অবশ্য এলপিএলের জন্য তাকে জাতীয় দল থেকে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি শোনা গিয়েছিল আগেই। তাই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো এই সিরিজেও দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে, যিনি অধিনায়ক হিসেবে এখনও নিজের প্রথম জয়ের খোঁজে রয়েছেন। লিটনের মতো বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদকেও। জাতীয় দলে 'বিশ্রাম' পাওয়া তাসকিনও অবশ্য এলপিএলে খেলবেন। দলে নেই শামীম হোসেন পাটোয়ারি। তবে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। জায়গা ধরে রেখেছেন আরেক অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ওয়ানডে দলের পর টি-টোয়েন্টি দলেও প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার সাথে ফিরেছেন ইয়াসির আলী চৌধুরীও। প্রসঙ্গত, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে আগামী ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায়। একনজরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।