জাতীয়

আসছে শৈত্যপ্রবাহ, হতে পারে বজ্র ও শিলাবৃষ্টি

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬ 0
শৈত্যপ্রবাহ ও বজ্রঝড়। ছবি: সংগৃহীত
শৈত্যপ্রবাহ ও বজ্রঝড়। ছবি: সংগৃহীত


কনকনে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা বিরাজ করছে। বর্তমানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকলেও চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে তা আবারও ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি এ মাসে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে এ মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এদিকে মাসের শেষের দিকে অন্তত দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি কিংবা শিলাবৃষ্টি হতে পারে। তবে সার্বিকভাবে ফেব্রুয়ারি জুড়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে এবং তা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে।

এ ছাড়া চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ থেকে ৪ মিলিমিটার এবং গড় সূর্যকিরণকাল ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা থাকতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
নতুন আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পেলেন আলী হোসেন ফকির

পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান মো. আলী হোসেন ফকিরকে পদোন্নতি দিয়ে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। মো. আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। তার নিজ জেলা বাগেরহাট। রাজনৈতিক বিবেচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রথম দফায় চাকরি হারান আলী হোসেন ফকির। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি পুনরায় চাকরিতে ফেরার সুযোগ পান। এসপি পদমর্যাদায় দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার পর সুপার নিউমারারি হিসেবে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে। এরপর গত বছরের ১১ আগস্ট তিনি অতিরিক্ত আইজিপি (দ্বিতীয় গ্রেড) পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন প্রায় ৩৯ লাখ করদাতা

ফাইল ছবি

পিলখানা হত্যা মামলায় প্রথমবার আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা

সংগৃহীত ছবি

সংসদে প্রথম অধিবেশনে এবার স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে যেভাবে

সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, মনিটরিং না থাকায় ঠকছেন ভোক্তা

সিন্ডিকেটের কবলে খেজুর। রমজান শুরুর পর আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে খেজুরের দাম। মানভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। শুল্ক হ্রাসের পর খেজুরের দাম কমার কথা ছিল। কিন্তু উল্টো দাম বেড়েছে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে গত বছরের মতো এবারও শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। তবুও খুচরা বাজারে দাম কমেনি। বরং বেশির ভাগ জনপ্রিয় খেজুরের দামই বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে সরকার বিভিন্ন খেজুরের দাম নির্ধারণ করে দিত। এ বছর সরকার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের নাম নির্ধারণ করে দেয়নি। ফলে আমদানিকারক থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দাম আদায় করছেন। ভোক্তারা বলছেন, সরকার কোনো পণ্যের দাম বাড়ালে তা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়। আর কমালে তা কার্যকর হতে সময় লেগে যায় বেশ কয়েক দিন। অনেক সময় সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খেজুরের দাম নির্ধারণ না করে দেওয়ায় এ বছর আরও লাগামহীন। মর্জিমাফিক দাম আদায় করছেন ব্যবসায়ীরা। সঠিক দামে পণ্যটি বিক্রি করছেন কী-না তা যাচাই-বাছাই করারও যেন কেউ নেই। সাধারণ মানুষ অসহায় অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে। জানা যায়, দেশে রমজানে খেজুরের মোট চাহিদা থাকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে অর্ধেক চাহিদা থাকে শুধু রমজানে। তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে ১০ হাজার মেট্রিক টন খেজুর আমদানি হয়েছে, ডিসেম্বরে আমদানি হয়েছে ৫৬ হাজার টন এবং জানুয়ারিতে ৪ হাজার টন। এ ছাড়া আগের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। সব মিলিয়ে বাজারে চাহিদার পুরোটা অর্থাৎ ৮০ হাজার মেট্রিক টন খেজুরই মজুত রয়েছে। গত এক মাসে খুচরা বাজারে জাতভেদে খেজুরের দাম কেজিতে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খেজুরের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এসব খেজুরের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আমদানি করেছে ২৫টি প্রতিষ্ঠান। ফলে দেশে খেজুরের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র দুই ডজন ব্যবসায়ী। তাদের হাতেই জিম্মি ভোক্তারা। কিন্তু কাস্টমসে প্রদর্শিত আমদানিমূল্য, শুল্ক এবং পরিবহণ খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি খেজুরের গড় মূল্য দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। একাধিক বাজার ঘুরে দেখা যায়- রমজানের আগে দাবাস খেজুরের দাম ছিল কেজি ৪৯০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। প্রথম রমজানে বিক্রি হয়েছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা। সোমবার বিক্রি হয়েছে ৬০০ টাকার বেশি দামে। রমজানের শুরুর দিকে বড়ই খেজুর ছিল ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা। এই খেজুর এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৪০ টাকা থেকে ৫৬০ টাকায়। কালমি খেজুরের দাম ছিল ৭০০ টাকা। সোমবার বিক্রি হয়েছে ৭৬০ টাকার বেশি দামে। সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম খেজুর ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও আগের তুলনায় কেজিতে ১০০ টাকা বা তারও বেশি বেড়েছে। রিয়াজউদ্দিন বাজারের খেজুর ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, আমদানিকারকরা খেজুরের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখানে খুচরা ব্যবসায়ীদের করার কিছু নেই। রমজানের পর হয়তো দাম কমতে পারে।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু কবে

ছবি : সংগৃহীত

যেখানে মেয়াদ শেষ, সেখানে আগে সিটি নির্বাচন : মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব আলোচনায় চার প্রার্থী

ছবি : সংগৃহীত
আ.লীগ সরকার পতনের দিন বঙ্গভবনে কী ঘটেছিল, জানালেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সেদিন কেউই আঁচ করতে পারেনি যে কী হতে চলেছে। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সেই দিনের স্মৃতিচারণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি। তিনি আরও বলেন, সেখানে থাকা সিকিউরিটি সবাই পজিশন নিয়ে নিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানা যায়, না, উনি আসছেন না। কিছুক্ষণ পরই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। রাষ্ট্রপতি জানান, বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও অবস্থা জানানো হয়। পরে সেনাপ্রধান সাংবাদিকদের সামনে পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং দেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। এরপর সেনাপ্রধান আমাকে জানালেন যে তারা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হলো সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। সেনাবাহিনীর একটি টিম দায়িত্বে ছিল। এরপর রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বঙ্গভবনে আসেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গভবনের বৈঠকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয় সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। কীভাবে এবং কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেনাপ্রধান পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, সেই বৈঠকে তিনটি মূল প্রস্তাব আসে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সব ক্ষেত্রেই অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। নানা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হয়, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা উচিত। এই সিদ্ধান্তের পর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ে জাতিকে ভাষণ দিয়ে আশ্বস্ত করার। সরকারের গঠন প্রক্রিয়া রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমন্বয় করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান মামলায় মৃত্যুদণ্ড বাড়ানোর আপিল শুনানি আজ

ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি চাইলে দায়িত্ব পালন করব, না চাইলে সম্মানজনকভাবে সরে যাবো : রাষ্ট্রপতি

ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ

0 Comments