ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যক্তিগত পরিচয়, মত প্রকাশ, ব্যবসা কিংবা পেশাগত ব্র্যান্ড—সবকিছুর বড় অংশ জুড়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়া। সেই তালিকায় দিন দিন গুরুত্ব বাড়ছে এক্সের (সাবেক টুইটার)। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্ম নিয়ে যেমন আলোচনা-সমালোচনা থামে না, তেমনি ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি ধারণাও তৈরি হয়েছে; ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের তুলনায় এক্স নাকি বেশি নিরাপদ, হ্যাকারদের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এক্সও হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। মাঝেমধ্যেই শোনা যাচ্ছে এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার খবর। কখনো কোনো তারকা, কখনো রাজনীতিক, আবার কখনো একেবারেই সাধারণ ব্যবহারকারী। ডিজিটাল যোগাযোগের এই যুগে যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া অনেকের জন্য জীবিকা, ব্যবসা কিংবা পরিচয়ের বড় মাধ্যম, সেখানে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া মানেই বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির আশঙ্কা।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এক্স কি আদৌ হ্যাক করা যায়? গেলে কত সময় লাগে অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নিজের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে ব্যবহারকারীর করণীয় কী? বিশেষজ্ঞদের তথ্য ও এক্স হেল্প সেন্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
কেন এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্সের নিজস্ব সার্ভার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অসচেতনতার সুযোগ নিয়েই হ্যাকাররা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দুর্বল পাসওয়ার্ড, ফিশিং লিংক, ভুয়া ই-মেইল কিংবা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের মাধ্যমেই ঘটে এসব ঘটনা।
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সাধারণ কারণগুলো হলো—
১. একই পাসওয়ার্ড একাধিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা
২. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু না রাখা
৩. ভুয়া ই-মেইল বা ডাইরেক্ট মেসেজের লিংকে ক্লিক করা
৪. অচেনা থার্ড-পার্টি অ্যাপকে অ্যাক্সেসের অনুমতি দেওয়া
৫. পাবলিক বা অসুরক্ষিত ওয়াই-ফাই ব্যবহার করা
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বুঝবেন যেভাবে
অনেক সময় ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে তার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। তবে কিছু লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হওয়া জরুরি—
১. আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে এমন পোস্ট দেখা যাচ্ছে, যা আপনি নিজে দেননি
২. আপনার অজান্তেই অন্য কাউকে ডাইরেক্ট মেসেজ পাঠানো হয়েছে
৩. অনুমতি ছাড়াই কাউকে ফলো, আনফলো কিংবা ব্লক করা হয়েছে
৪. এক্স থেকে নোটিফিকেশন এসেছে যে আপনার অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে রয়েছে
৫. এক্স জানিয়েছে আপনার অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে, অথচ আপনি তা করেননি
৬. হঠাৎ করে পাসওয়ার্ড কাজ করছে না এবং নতুন পাসওয়ার্ড সেট করতে বলা হচ্ছে
এ ধরনের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই ধরে নিতে হবে অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে রয়েছে।
হ্যাক হলে কত সময় লাগে অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করতে?
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তা পুনরুদ্ধারে সময় নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। দ্রুত রিপোর্ট করা হলে এবং অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ই-মেইল ও ফোন নম্বরে প্রবেশাধিকার থাকলে সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফেরত পাওয়া যায়। তবে হ্যাকার যদি ই-মেইল, পাসওয়ার্ড বা নিরাপত্তা সেটিংস বদলে ফেলে, তাহলে ৩ থেকে ৭ দিন বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এক্সের সাপোর্ট সিস্টেম ধীরগতির হওয়ায় ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষাও করতে হয়।
এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়
হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি—
১. লগইন সম্ভব হলে সঙ্গে সঙ্গে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন
২. নিশ্চিত করুন, আপনার ই-মেইল অ্যাকাউন্টটি নিরাপদ এবং শুধু আপনারই এতে প্রবেশাধিকার আছে
৩. এক্সের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট রিকভারি ফর্ম পূরণ করুন
৪. এক্সের সঙ্গে যুক্ত ই-মেইল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদার করুন
৫. সন্দেহজনক পোস্ট বা ডিএম পাঠানো হয়ে থাকলে ফলোয়ারদের সতর্ক করুন
৬. সব ধরনের থার্ড-পার্টি অ্যাপের অ্যাক্সেস বাতিল করুন
এক্স অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে করণীয়
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৯০ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটে ব্যবহারকারীর অসচেতনতার কারণে। একটু সচেতনতা ও সঠিক নিরাপত্তা অভ্যাসই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমাতে যা করবেন
১. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
২. অন্তত ১২–১৬ অক্ষরের পাসওয়ার্ড নির্বাচন করুন
৩. বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের সমন্বয় রাখুন
৪. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন
৫. এসএমএসের পরিবর্তে অথেন্টিকেটর অ্যাপ ব্যবহার করুন
৬. ফিশিং লিংক থেকে সতর্ক থাকুন
৭. ‘অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হবে’ বা ‘ভেরিফিকেশন প্রয়োজন’—এ ধরনের বার্তায় হুট করে ক্লিক করবেন না
৮. থার্ড-পার্টি অ্যাপ নিয়মিত যাচাই করুন (Settings → Security → Apps and Sessions)
৯. অপ্রয়োজনীয় বা অচেনা অ্যাপের অ্যাক্সেস বাতিল করুন
১০. ডিভাইস ও ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
১১. ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও ব্রাউজার নিয়মিত আপডেট রাখুন
১২. পাবলিক কম্পিউটার বা উন্মুক্ত ওয়াই-ফাইয়ে এক্সে লগইন এড়িয়ে চলুন
সূত্র : এক্স হেল্প সেন্টার
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
আজ ১৭ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “ডিজিটাল লাইফলাইন: একটি সংযুক্ত বিশ্বে স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী করা”। প্রতিপাদ্যে সংযুক্ত বিশ্বের সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, সেবার ধারাবাহিকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। দিবসটির মূল বার্তায় বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা বা অন্য যেকোনো সংকটের মধ্যেও ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তি অবকাঠামো সচল রাখতে হবে, যাতে কেউ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে। দিবসটি উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রাজধানীতে বিটিআরসি ভবনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে সেখানে একটি টেলিযোগাযোগ মেলাও অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ফকির মাহবুব আনাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেবেন এমদাদুল বারী। উল্লেখ্য, ১৮৬৫ সালের ১৭ মে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করা হয়।
ভ্যালেনটাইনস ডে সামনে এলেই অনলাইন প্রতারকদের তৎপরতা বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই অপরিচিত নম্বর থেকে হঠাৎ করে ফ্লার্টি বা বন্ধুসুলভ টেক্সট মেসেজ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোর বেশিরভাগই রোমান্স স্ক্যাম— যার লক্ষ্য হলো আপনাকে কথোপকথনে জড়িয়ে ফিশিং লিংকে ক্লিক করানো বা ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা। কিভাবে শুরু হয় ‘রং নাম্বার’ স্ক্যাম? এই ধরনের প্রতারণা সাধারণত একটি নিরীহ বা বন্ধুসুলভ বার্তা দিয়ে শুরু হয়, যা দেখে মনে হয় ভুল করে অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছে। বার্তায় থাকতে পারে জরুরি কোনও বিষয়— যেমন চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পুরনো প্রেমের স্মৃতি, কিংবা অফিস সংক্রান্ত সমস্যা। উদ্দেশ্য একটাই: প্রাপক যেন সহানুভূতি বা কৌতূহলবশত উত্তর দেন। আপনি একবার উত্তর দিলেই প্রতারক ক্ষমা চেয়ে কথোপকথন চালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আলাপ গড়ায় ব্যক্তিগত ও রোমান্টিক দিকে। কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর শুরু হয় আসল ফাঁদ— নগদ অর্থ চাওয়া, ভুয়া ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব, কিংবা অনুদানের লিংক পাঠানো। এরপর একসময় প্রতারক উধাও হয়ে যায়। ভুক্তভোগীর হাতে থাকে শুধু কিছু টেক্সট মেসেজ, আর হারিয়ে যায় অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য। উত্তর দিলেই ঝুঁকি সব ‘ভুল নম্বর’ মেসেজ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শেষ না হলেও, উত্তর দিলেই আপনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারণ এতে আপনার নম্বরটি সক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেটি পরবর্তীতে অন্য প্রতারকদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এখন হাজার হাজার বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে। ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাগুলো ব্যক্তিগতকৃতও হতে পারে। সন্দেহজনক মেসেজ পেলে কী করবেন? ১. উত্তর দেওয়ার আগে নম্বর যাচাই করুন গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে নম্বরটি খুঁজে দেখুন। অনেক সময় স্প্যাম রিপোর্টিং সাইটে নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। ২. ব্লক, ডিলিট ও রিপোর্ট করুন যদি নিশ্চিত হন এটি প্রতারণা, তাহলে নম্বরটি ব্লক করুন, মেসেজ মুছে ফেলুন এবং মোবাইল অপারেটরকে স্প্যাম হিসেবে রিপোর্ট করুন। এতে ভবিষ্যতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা হয়। ৩. অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলো ফিশিং সাইট হতে পারে, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। ৪. মেসেজ ফিল্টার চালু করুন আইফোন ব্যবহারকারীরা মেসেজ ফিল্টার চালু করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েডেও অপরিচিত প্রেরকের মেসেজ আলাদা ফোল্ডারে চলে যায়। ৫. ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলুন ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইট থেকে নিজের নাম ও নম্বর সরানোর উদ্যোগ নিন, অথবা ডাটা রিমুভাল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা বার্তায় উত্তর না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। প্রতারকদের সঙ্গে বুদ্ধির লড়াইয়ে নামা আকর্ষণীয় মনে হলেও, তারা অনেক বেশি সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই মনে রাখুন— রিপ্লাই নয়, ক্লিক নয়, শেয়ার নয়।
এআইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যত গভীর হচ্ছে, ততই প্রযুক্তি ঢুকে পড়ছে ব্যক্তিগত জীবনের অন্দরমহলে। তবে সেই প্রযুক্তিই যে কখনো কখনো অজান্তেই বড় সত্য সামনে এনে দিতে পারে, তারই এক চাঞ্চল্যকর উদাহরণ সামনে এসেছে সম্প্রতি। ২৭ বছর বয়সী এক তরুণীর প্রেমিক যে বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা—এই গোপন তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে চ্যাটজিপিটি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন একজন ডেটিং কোচ, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেটিং কোচ ব্লেন অ্যান্ডারসন জানান, ওই তরুণীর প্রেমিক ছিলেন চল্লিশের শেষ কোঠার একজন পুরুষ। তিনি চ্যাটজিপিটির প্রতি এতটাই আসক্ত ছিলেন যে, বলা যায় এআই-নির্ভর জীবনযাপন করতেন। আর সেই আসক্তিই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ডেটে বেরিয়েও প্রেমিকার সঙ্গে সময় কাটানোর বদলে তিনি বারবার চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথোপকথনে মগ্ন থাকতেন। ককটেলের ইতিহাস থেকে শুরু করে নানা অজানা তথ্য জানতে চাইতেন এআইয়ের কাছে। শুধু তাই নয়, পাওয়া উত্তরগুলো জোরে জোরে পড়ে শোনাতেন প্রেমিকাকে। একপর্যায়ে রাত গভীর হলে বিরক্ত হয়ে প্রেমিকা তাকে ফোন সরিয়ে রেখে তার দিকে মনোযোগ দিতে অনুরোধ করেন। জবাবে প্রেমিক মজা করে বলেন, ‘চ্যাটজিপিটি আর আমি খুব ভালো বন্ধু। তুমি বরং আমার সম্পর্কে যা খুশি জিজ্ঞেস করো।’ প্রেমিকের কথামতোই প্রেমিকা চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেন, ‘আমাকে এমন কিছু বলো, যা তুমি অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবে না। আর আমার কোন বিষয়টা তোমার সত্যিই ভালো লাগে?’ চ্যাটজিপিটির উত্তর শুনেই মুহূর্তে সব পরিষ্কার হয়ে যায়। এআই জানায়, ‘আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, আপনি আপনার স্ত্রীর প্রতি এত যত্নশীল একজন স্বামী এবং আপনার সন্তানদের কাছে একজন স্নেহশীল বাবা।’ এই এক উত্তরেই প্রেমিকার সামনে সম্পূর্ণভাবে ফাঁস হয়ে যায় প্রেমিকের গোপন জীবন। বিবাহিত হওয়া এবং সন্তানের বাবা হওয়ার সত্য প্রকাশ পেতেই চরম বেকায়দায় পড়েন ওই ব্যক্তি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় পোস্টটি। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ওই ব্যক্তি কতটা একা হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের জীবনের সব তথ্য চ্যাটজিপিটির কাছে বলে রেখেছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতারণামূলক সম্পর্কের মুখোশ খুলে দিতে চ্যাটজিপিটি ভবিষ্যতে এক ধরনের কার্যকর ‘হাতিয়ার’ হয়ে উঠতে পারে।